Sunday, March 26, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সুমন সাধু

 কাল, কালের গর্ভ

তাকে খুঁজেছি আরামকেদারার ছাদে। খুঁজেছি আরামে বেশ। দশকনামার ফাল্গুনে আঁজলা ভরে স্নান দিয়েছি কয়েক। আমি কি ভুলেছি হিংস্র স্তাবকতা! ভুলেছি কি শিশুমঙ্গল ঘ্রাণ! জীবদ্দশায় আমরা পেলাম শক্তি, ঊর্দ্ধে গাইলেন রামপ্রসাদ।

বিশ্বাসের আঁকাপথে তর্ক করছি রোজ। সংক্ষেপে কথোপকথন সারি। শাড়ি গায়ে রোজ আলতার আলতো ছাপ দেখে ভেবে নিই জোয়ার এল বুঝি। হারতে থাকা তর্কের নিম্নে এসে মধ্যভাগ খুঁজি। একপাশে থেকে যান আবিষ্কর্তা, সন্তান স্নেহে ঘুমোন ভারতচন্দ্র।

নদীর মতোন একটা নদী উপহার দেব বলে কেন্দ্রের ওংকার জুড়ে ঘেমে উঠি। ত্রিলোককর্তা ছদ্দবেশে বেশ আসা যাওয়া করেন। ঘামজলে দুটো নৌকো ছাড়ি। একান্তে উঠে আসে কঠোপণিষদ স্তোত্র। স্তোত্রের আবহ জুড়ে শাঁখ বাজিয়ে প্রমাণ করি নদীর মতো তীব্র হওয়া একটা বিশ্বাস। বিশ্বাসের সীমান্তে এসে নারদ রূপে মজা পাই, আড়ালে নীলকণ্ঠ মুচকি হাসেন।



শোনো...
ধূসর যদি চাও সহজেই হাত রাখতে পারো। এ জ্বালা মেটাবো সহজেই। দু'দিনের এই অপরাহ্নে এসে ভাতঘুম পাড়ে বিছিয়েছিলে বান্ধবনগর। তবু তো চলে যাও এলোমেলো একাটি ফেলে।

ক্রমশ ফুরিয়ে আসছি। কাণ্ড থেকে শেকড় অবদি বৃত্তের জালে ঘুরপাক খাচ্ছি কতটা বছর। আছো কেমন? খেয়েছ? এসব কুড়োনো ক্ষয় অনন্ত বৃক্ষজালে পুড়ে যাচ্ছে রোজ। নিজের ঘরেই আছি। একাটি পুড়ছ সাজানো শ্মশানে।

সেই তো বিকেল, শুধু স্টেশনের ধার। অনন্ত চুল্লির গায়ে জড়িয়ে যাচ্ছো পারস্পরিক ব্যথার মতোন। পুরোনো গাছের গায়ে আমি এঁকেছি করুণ। সব সাজানো কি ঘনত্ব পায়! ভিতরর স্বভাব জুড়ে শৈশব কাঁদে।

আজ শুধু দিঘিজল। নোয়ানো ডালপালা শিয়রে তোমার। শিয়রে কদম্ব গাছ, ছায়া চায়… ছায়া। প্রাণনাথ, দূরদেশের ক্ষতটি নিয়ে ফিরলে, অথচ দেখা করলে না। চলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠি, হাতছানি দিয়ে বলি দু'জনের কথা।











সুমন সাধু
Suman Sadhu

Friday, March 24, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এলেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আমার প্রথম কবিতার বই

আমার প্রথম কবিতার বইটি হয়ত এখনও
তোমার ঘরে

চুপচাপ লক্ষ্য রাখছে তোমার পালতোলা যাপনচিত্রে,
মিলিয়ে নিচ্ছে সরলের বেজন্মা নিয়ম-কানুন,
তোমার সময়নদী বয়ে যাচ্ছে অন্যখাতে...

তুমি খেয়াল করছো না

আমার বইটি, একদিন দেখো, ধুলো ঝেড়ে উঠে পড়বে ঠিক;
ভোরবেলা তোমায় ঘুম থেকে তুলে বলবে - চলি!

আমি ওর কাছ থেকে শুনে নেবো তোমার 
গুহাজীবনের আদিম রহস্য,
তারপর ইতিহাসের পাতা থেকে ছিঁড়ে নেবো
পৌরাণিক কিছু প্রতিশোধ -

কিছু খুদকুঁড়ো ভালোবাসার লোভ,
আদরের মতো মিষ্টি কিছু শব্দবন্ধ...

বন্ধু, ভালো থেকো!



একটি অস্থির বিড়াল

ওইযে বেড়াল,
সারাদিন এবাড়ি, ওবাড়ি, সেবাড়ি;
তোমরা দেখছো -
মাছের কাঁটা, খাম - খেয়াল, নি:শব্দ চলাফেরা...

আসলে বিড়ালটির তিনদিকে তিনটি ভূখন্ড
আরসে থাকে মধ্যবর্তী কোনও এক না-মানুষের রাজ্যে,
যে কোনও সীমান্তে তার প্রবেশ অবাধ!

অথচ, একটা রিফিউজি বেড়াল ষোলো আনা জানে,
'
বিতাড়িত' শব্দের আসল মানে...



Tuesday, March 21, 2017

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং... : অভিজিৎ পাল

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং...

১.
অনেক দিনের পর ফিরে আসি। জটিল আবর্তগুলো আবার মুখ টিপে হাসে। আজানুলম্বিত উদাত্ত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ভেঙে দেওয়ার আনন্দময় বিষাদে সেজে ওঠে ক্যানভাস। রঙ মাখি। রঙ মাখাই। ভালোবাসার লাল রঙ। ধূমল বাতাসে ভেসে আসে স্মৃতি অনেক। আমার ব্যর্থতা হতাশা নৈরাশ্য আসছে এবার। অধ্যাপনার কাজের মধ্যে ডুবে মরতে মরতে জীবনবাদী একটা গল্প লিখতে ইচ্ছে করছে। নিজের গল্প। একান্ত। আত্মসম্পর্কের আত্মজীবনী নয়। আকাশ ছুঁয়ে বাঁচতে চাইছি এবার। নিজের মতো করে। স্বপ্নভঙ্গ হলে জানাবো সবই একদিন অমোঘ ভবিতব্য বলে পুরাধুনিক পাঠের সিলেবাসে লেখা ছিল। সমস্ত জৈবলিপির পাঠোদ্ধার আমার পক্ষে এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি...



২.
ভুল শব্দের মতো কথা বলছেন মহামান্য। ক্ষমতাহীনের মতো চুপ করে মেনে নিচ্ছি দ্বিচারীব্রত। আমার মানসপটে জেগে উঠছে ব্রহ্মবাদ। আমি পাঠ নিচ্ছি। একে একে জেগে উঠছে সম্পর্কের মুখগুলো। আমি বিষাদ আঁকছি। আমার জন্য অপেক্ষা করছে একটা সুবৃহৎ আমি। দৈব ভাষ্যমতে জটিল অদ্বৈতপাঠে ঋদ্ধ হতে হতে সেজে উঠছে দাগ। অম্লমধুর প্রেমের রতিবিলাস শুধু তোমাকেই দেখিয়ে বলে দিচ্ছে। সার্বিক কামানুভব চুষে খাওয়া যেতে পারে মেকানিক্যাল আঙ্গিকে। আমার মানসলোকে হেঁটে আসছেন তিনি। জানু পেতে বসছি। শুনেছি এভাবেই তাঁর কাছে বসতে হয়। ভ্রান্তিপথ হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। কাঙ্খিত শুচিতা পবিত্রতা অর্জন করতে শিখছি মাতৃত্বে। মানের মিথ্যে ভোরাই অন্ধকার কেটে আসছে বারবার...


Thursday, March 16, 2017

ভালোবাসা (দশ দু গুনে কুড়ি) : দীপ শেখর

ভালোবাসা (দশ দু গুনে কুড়ি)

রবিবার ইস্কুল গাছের তলায় বসে থাকে একা যে
জানোনি দেখে তাকে কতদিন তুমি ভালো থেকেছিলে

আমার ভেতর বালক কে না ভালবাসলে কেবল পুরুষ নিয়ে কি করবে?বালিকা তোমাকে ভালোবাসি

আমার ইশকুল জামা আজও যায় তোমার কাছে। আমি তাকে আটকাতে পারি নি...

Tuesday, March 14, 2017

একটি শিকারকাহিনি-র শেষ পর্ব : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি-শেষ পর্ব

কল্কিকথা
প্রথম প্রথম সারাদিন একটা ঘরে নিজেকে আটকে রেখেছে অনিমেষ। আশ্চর্য হয়ে সে অনুভব করেছে, ক্রমশ খিদের ভাব চলে যাচ্ছে তার, চলে যাচ্ছে ঘুম। এমনকি আগুনে তার হাত পুড়ছে না, খোলা তারে হাত দিলে ঝটকা খাচ্ছে না। তার কুঁচকিতে যে প্রচুর চুলকানির দাগড়া দাগড়া ছোপ ছিল, রক্ত গড়াতো আর ইস্কুলে সাদা প্যান্টে সেই দাগ দেখে হেসেছিল আর চাঁটি মেরেছিল ক্লাস ফাইভের কিছু নিষ্পাপ শিশু, সেসব চুলকে আর তার আরাম হয় না। ঘড়ি ধরে একবার দম আটকে রেখেছিল, তিনশো ছাপান্ন ঘন্টা বাহান্ন মিনিট উনতিরিশ সেকেন্ড পর একঘেয়ে লাগায় বিরক্ত হয়ে দম নিতে শুরু করে আবার। এসবের মধ্যে কাজের কথা একটাই, ঘুম না হলেও ঘুম তার পাচ্ছিলই, পেয়েই চলেছিল। যাবতীয় সময় তার কেবল ঘুম পেতে থেকেছে, কিংবা এই গোটাটা, এই যাবতীয় ঘর-ঘুম-আগুন-নিঃশ্বাস সবই এক ঘুমের মধ্যে ভাবতে থাকা যে এবারেরটা অন্তত স্বপ্ন নয়, এইতো যা হচ্ছে সত্যিই হচ্ছে, এরকমই তো হয়...
কেবল এই ঘুম পাওয়ার বিরক্তিতেই বাইরে এসেছিল অনিমেষ। সময়ের হিসেব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে, তার কেবল মনে পড়ে নিজেকে সে শুয়ে থাকতে দেখেছে, প্রবল ঘুমে চোখ বুজে আসতে দেখেছে, অথচ ঘুমোতে দেখেনি। এখানেই মনে পড়ে, সে যেন কীভাবে নিজেকে দেখে চলেছে, যেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, ছোলাভাজা চিবোতে চিবোতে তার মনে হচ্ছে নিজেকে দেখে গাড়ল ও প্রতিভাবান, নিজেকে শুয়োরের বাচ্চা বলে সে গাল দিচ্ছে এবং ভাবছে এই শটটা খানিক অল্প চিপ করে মারতে হতো, কিংবা গাল দেওয়াও আসলে তার ভান, তার আদতে কিছুই যায় আসে না। সুতরাং প্রবল ঘুমের তাড়নায় অনিমেষ মনে করতে পারেনি, সে কীভাবে ভাসতে শিখেছিল বাতাসে, মনে করবার কথাই মনে পড়েনি তার। কেবল বাইরে এসে অনিমেষের মনে হয়েছিল, খানিক সর্ষের তেল পেলে চোখে ডলে দেখতে পারে সে, যদি ঘুম পাওয়া থেমে যায়।
সুতরাং সেসময়ে সারা পৃথিবীর কাজ চলেছিল একেবারেই নিজের নিজের তালে, যা যা চলা থামিয়েছিল সেও কেবল তখন তাদের থামার কথা ছিল বলেই। এককথায়, সবই পূর্বনির্ধারিত বলে অনিমেষ ভেবেছিল, এবং তার ভাবনা দিয়েই এরপর থেকে সব প্যাঁচ খেলা হবে। অনিমেষ ঘুমচোখে চলে গিয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে, আর বাসে উঠে খেয়াল করেছিল এখানে সর্ষের তেল পাওয়া যায় না এবং এখানে বড় ভিড়। 'ঘুম পাচ্ছে', একঘেয়ে গলায় সে বলেছিল। কেউ তার কথা শোনেনি, বরং পাশের মেয়েটি তার দিকে কড়া চোখে তাকিয়েছিল, ঢুলন্ত অনিমেষ তার গায়ে ঢলে পড়েছিল বলে। ঠিক সেইমুহূর্তে অনিমেষ প্রথম রাগতে দ্যাখে নিজেকে। এমনিতেই তার মনে হতো এতদিন ধরে, রাস্তায় যে কোনো পাঁচজন মানুষকে চড় মারলে ষষ্ঠজন তোমায় যেচে এসে পাঁচটাকা দিয়ে যাবে, এভাবে কত রাত সে কেবল ব্যথার হাতে বোরোলিন লাগিয়ে কাটিয়েছে, আর সেসব রাগ তার মাথায় চড়ে গেল মেয়েটিকে কড়া চোখে তাকাতে দেখে। অনিমেষ ভীষণ জোরে চকাস শব্দে মেয়েটির ঠোঁটে চুমু খায়, দুহাতে মেয়েটির মাথা চেপে ধরে, এবং আরেকটি চুমু খাওয়ার আগে যখন মেয়েটি মোচড়ামুচড়ি করছে আর বাসের লোকেরা চকিত হয়ে মজা দেখছে, অনিমেষ বলে, এক্ষুণি চাইলে দুচোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতাম, কিংবা ন্যাংটো করলে তো দেখব সেই এক বিচ্ছিরি দলা দলা মাংস, অতএব জামা পরিয়েই যে চুমু খাচ্ছি এতে খুশি হও মেয়ে। এখন, এতসব কথা অনিমেষ মুখে উচ্চারণ করেনি, বাসের মানুষ তাকে প্রচণ্ড হইহট্টগোলে ঢেকে ফেলছিল বলে তার বিরক্ত লাগতে শুরু করে, সে লহমায় দেখতে পায় ইঞ্জিনের উপর মলয় নামের সাদা বেড়ালটি, এবং অনিমেষ উচ্চারণ করে

Saturday, March 11, 2017

সায়ন ঘোষ-এর কিছু লেখা

সেখানে সকলেরই একটা কম্বলের প্রয়োজন ছিল। নিদ্রাজরিত দূষিত চোখে তারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। একজনের একটি রূপোলি দাঁত রয়েছে লক্ষ্য করা যায়। এবং কিছু শিশির কারপেন্টারের ছায়ায় জলের দ্রাঘিমায় হুবহু দ্রিদিম একঘেয়ে করে তুলেছিল বাড়িটাকে। সেখানকার ঘর, আসবাব, প্রাণ কৌটোবন্দী অবস্থায় শব্দের কড়া নাড়া; কারা য্যানো গুঁড়িয়ে ফেলেছিল তাদের শৈশব। নিজস্ব খনিজ মুঠোয় করে নিয়ে গঙ্গায় অস্হি বিসর্জন এবং সূর্যদেবতার কাছে প্রার্থনা। সকলেরই প্রয়োজন ছিল এখান থেকে বেড়িয়ে আসার। মুক্ত উপত্যকায় চড়ে ব্যাড়ানোর অধিকার সকলেরই ছিল। কেউ কেউ চেয়েছিল, কেউ চায়নি। জীবনকে বিভিন্ন রূপে আবিষ্কার করতে করতে কেউ কেউ পাগল হয়ে গিয়েছিল। কেউ এখনও আবিষ্কারের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণারত। সন্ধ্যের শাঁখ এবং ঘন্টাধ্বনি বাতাসে মিশে যেতে যেতে অলস দ্রাঘিমায় আমরা এখন একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছি ধোঁয়ার বিছানায়।

-      ৬নভেম্বর,২০১৬



ফোলিয়েশন

ঝড়ো অভদ্রতা শরীরের মধ্যে ছুড়ি কাটার কারবার রেশম সমন্বয়ে তৈরী বস্তুর ছেদ, রূপক, গতি, তড়িত্ বিচ্যুতির লোমশ স্ক্যান্ডাল পরিপূর্ণতার ঐশানী সন্ধ্যেতে পাক খাওয়া বিকট পাগনেশাস্ তার ঝিল্লীর অন্তস্হলে চুক্তি ও করমর্দন প্রতিলিপির বৃহত্ পাঠাগারে পাঠরত তরুণীর ঘাগড়ার তলায় আমার শ্রেষ্ঠ পান্ডুলিপি জমা পড়ে গ্যাছে হৃদয়ের তার যন্ত্রবাদক ঐশ্বর্যায় নিপুণ কাঠামো নির্ভর ইন্দ্রিয়প্রসর উচ্চ দ্রাঘিমায় ক্ষমাপ্রার্থী ঈশ্বরীর কণ্ঠে হিন্দিতে কিশোর কুমার
অতএব এগুলি সম্ভাবনার পাকদন্ডী এবং রাশিফল বিষয়ক দাঁড় যা এককভাবে দন্ডায়মান প্রণালীতন্ময় ও কিছু গঠনমূলক ধৈর্যবিচ্যুতি।



Thursday, March 9, 2017

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা : ডাকনামে সমুদ্র

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা

১।
এই বিশ্বাস হয় -
ঈশ্বর আছেন কণায় কণায়
আমাদের ক্লাস সিক্সের ব্যাকরণ বই
সমস্ত সিগারেট কাউন্টার
ভুখা পেট
অফ্রিকা
জলবায়ু
নিভন্ত উনুন
তীব্র বর্ণবিদ্বেষ
অমৃতা গগণের টোলে
ভেনিসের জল। ইরাকের যুদ্ধ। সংবিধান। ছাপাখানা। জিরো জিরো সেভেন। ভ্লাদিমি পুতিন। হীনস্কন্ধ সময়।
এমনকি টুম্পা চাকির প্রথম খাওয়া ধর্ষণেও



২।
“shouting ‘oh god!' at bed isn't equivalent to a prayer"

ক. হরেকৃষ্ণ বলতো একটি উত্তর কোলকাতার টিঁয়া

খ. তিনি ছেলের নাম রেখেছিলেন শ্যাম। শ্যাম চোদ্দবছর বয়সে বাথরুমের ফুটো দিয়ে ভিজে মাকে দেখে হাত মেরেছিলো।

গ. প্রত্যুষা ঋতুমতী হয়েও ঠাকুর ছুঁয়ে ফেলেছে

ঈশ্বর আমার বিশ্বাস পুড়ছে
ওদিকে দৃশ্য তখনও কালো। পর্দা ওঠে নি। আমরা হাত চালান করে দিয়েছি পবিত্র বুকে বুকে। ঘেঁটেছি।


Tuesday, March 7, 2017

পলাতক : সায়ক দত্ত

পলাতক

১.
আকস্মিক চাঁদ ধোয়া জলে কবিতা লিখতে বসে
মালকানগিরিতে আম্বানিরা ফুলদানি সাজালো।
এপাশে, ওপাশে-
পাপোষে, ধপাসে-
আমরা বরং শব্দ সাজাই।

টিলার ওপর মৃতদেহগুলো আসিমোভের নিয়ম মানে না-
মরা ম্যাপলগাছের নস্টালজিয়ায় যেমন গোপালঠাকুর নেই।
ডানে, বামে-
পাঁচমাথায়, আওয়ামে-
চার ওয়াক্ত ফ্যানের গন্ধ বরং ছড়াক।



Saturday, March 4, 2017

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭ - রঙ্গন রায়

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭

"এবং আরো কিছু ভুল করবার জন্য আমাকে আরো কিছুকাল থেকে যেতে হবে!"
-      রতন দাশ

আমি নিজের মত এঁকে নিতে পারবো। ভুল হলে হবে। তবুও তো নিজের মতো। অদ্রিজার আঁকা পোর্ট্রটে আমি শুধু পার্টিকুলার কোন এক জনের মুখের সমস্ত রেখা লক্ষ্য করতে পারবো, কিন্তু নিজের মত নয়। যেভাবে অদ্রিজা দেখাবে ওভাবেই দেখতে বাধ্য। আমি নিজের মত দেখতে চাইছি, হয়তো আমার ইচ্ছা হলো পুজার দীর্ঘ চুল বাঁধার ছবিটাতে চুলগুলো এলোমেলো হোক - ঘাড় ও গলার পাশ দিয়ে নেমে আসুক বা ভেজা চুল পাতলা পিঠে ভারী ভাবে লেপ্টে আছে - চোখের পাতায় তিরতির করছে বৃষ্টির জলনাহ্! এসব আমাকেই আঁকতে হবে। কেউ আমায় সন্তুষ্ট করতে পারলোনা, সম্ভব নয়। ইজেল, ক্যানভাস ভেঙেচুরে এইসব আঁকিবুকি অনিবার্য ভাবে আমারই জন্য

এই সেদিনও আমি 'কালাশনিকভ'এর মানে জানতামনা। যখন জানলাম তখন থেকেই মাথার ভিতর শুধু একটাই ধুন "কালাশনিকভ - কালাশনিকভ"... কি যে এক অদ্ভুত ধূন জানিনা। এরকম হয়। অনেকেরই হয়তো হয়। আমারও আগে হয়েছে। অথচ দ্যাখো AK 47 আমি বাঁটুল দি গ্রেট থেকেই শুনে আসছি। কালাশনিকভ কে আমি আমার মত করে কিছু একটা ভেবে নিয়েছিলাম। সেটাও এখন মনে পড়ছেনা।

Thursday, March 2, 2017

Hello Darkness, My Old Friend : বহ্নিশিখা সরকার

Hello Darkness, My Old Friend

খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা নয় যদিও, অথচ মাঝে মাঝে অকেজো কথাগুলি মাথার ভিতরে ঘুরে বেড়ায় নোঙর করবে বলে। আমি জায়গা দিলাম তাদের। রাস্তা এগিয়ে যায় সামনে আর আমি ভিড় বাসে জানলার ধারে বসার সিট পেয়ে ভাবি জীবনে বুঝি হামেশাই এমন মিরাকেল হয়। মানব সভ্যতার অপ্রাসঙ্গিক কথোপকথনের হাত থেকে বাঁচবো বলে কানে তুলে নেই গান। গান বাজে, চুলে আসে দমকা হাওয়া। গড়িয়া থেকে গড়িয়াহাট যাওয়ার মাঝখানেই কোথাও আছে পৌনে দশ নাম্বার প্ল্যাটফর্ম। যে জগতে এইবার আমি পৌঁছাই সেখানে বয়স বাড়েনা, সময় নড়ে না। একটা পাগল খরগোশ দেখতে পাই। চোখ জুড়িয়ে ঘুম আসে। স্বপ্নে আবার স্বপ্ন আসে তবু চোখ থাকে খোলা। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে গানের কথার অর্থ বুঝে যাই, আগে সুরের কারচুপি আমায় সিন্দুকে রাখা কথাগুলোকে বুঝতে দেয় নি।
রাস্তায় দেখি আমার কানে শোনা গান ইজেলে আঁকা হচ্ছে। গান বেজে চলে, সায়মন অ্যান্ড গারফাঙ্কেল—

Hello darkness, my old friend,
I've come to talk with you again,
Because a vision softly creeping,
Left its seeds while I was sleeping,
And the vision that was planted in my brain
Still remains
Within the sound of silence

Tuesday, February 28, 2017

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue : রাজর্ষি মজুমদার

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue


যে মেয়েটি কাফকা অন দ্য শোর পড়ছিল সে ধানবাদে নেমে গেছে আমাদের কামরার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত চাউনিগুলো আমি ঢুকিয়ে রাখছি একটা বাক্সে চিন্তা হচ্ছে জামাকাপড়ের জন্যআশ্বিন শেষের ভরা একটা রোদ এখন রেলের জানালায়। এই আলো, এই জানালা, নীল রঙ মাখানো হাত সব রেলের। একটা একটা করে দৃশ্যকল্প, একটা একটা করে কথা সরে যাচ্ছে , সরে যাচ্ছে আমার Dissertation শুখা মাঠ, ছিরিছাঁদহীন বাড়ি ঘর দোর পেরোতে পেরোতে প্রশ্ন জাগছেএরা কি সমকামকে স্বীকৃতি দেবে?

একটু পরে সূর্যাস্ত দেখব – কোডারমার ধাপে ধাপে নেমে আসা জঙ্গল, ধূসর পাথুরে খাদের ওপর জেগে থাকা বৌদ্ধ বিহারের ছবি তুলে রাখতেই হবে আমায়। এসব ছবি কাজে লাগবে লেখার সময়, দিন এগারো পরে এ বিকেল পড়ে আসার ঘটনা নিয়ে লিখতে বসে।
মাঝে মাঝে স্বপ্ন আর সিনেমা ছাড়া লেখাতেও আমরা সময়কে সম্প্রসারিত করতে পারি বোধ হয়? এই পারাটা আসলে পাঠকনির্ভর। স্বপ্ন আমরাই তৈরী করি , আমরা সিনেমাও তৈরী করতে পারি। কিন্তু পাঠক ছাড়া বোধহয় লেখা তৈরী হয়না।  
এই যেমন এ লেখা লিখতে লিখে আমার কাছে সময় অনেকগুলি অস্তিত্ব হয়ে ঘোরাফেরা করছে। হয়ত পাঠক বেছে নেবেন তার মধ্যে একটা – লেখাটার একটা নতুন সময় তৈরী করবেন তিনি। এসব ভাবতে লিখতে একটা ফ্লেক ধরাচ্ছি আমি, ধোঁওয়াটুকু ছাড়ছি দশদিন আগের সময়ে  – যেখানে আমি আদিত্য আর শ্রীরাগ টিনের টেবিলটার ওপর পা তুলে দিয়ে সিগারেট টানছি চেয়ারগুলো পেছনের দিকে ঝুঁকে গেছে, বাইরে একটা পাতাও নড়ছেনা এমন গরম। আদিত্য ওর Dissertation এর কাজটা নিয়ে বলছিল – cinema তে  time and space এর ব্যবহার স্বভাবতই আমার কথায় তারকোভস্কি চলে এলেন ... তার ওই হালকা নীল টোনের আকাশে মিশে যাওয়া জনারের ক্ষেত , বেড়ার ওপর সিগারেট ফুঁকতে থাকা মারিয়াকে নিয়েজঙ্গলের সেই গাছগুলোর জ্যামিতি বা বরফের ওপর ডাঁই করে রাখা কাঠের ভিস্যুয়াল থেকে একটা পাপিয়ার ডাক ছুটে চলে এল নদীতীরে। সেখানে নগ্ন প্যাগান মেয়েটি চোখ দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে – “ What sin? Tonight is for lovemaking; is love a sin? ”  
তাকে নিয়ে আমার আজ নদীতে যাবার কথা  

সিগারেটটা ঘুরছিল টেবিলের চারদিকে – হাতে হাতে। ঠিক এইসময়ই আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শ্রীরাগ বলে ওঠে – “ He was a magician. By his works he just said all the Soviet montage movement filmmakers that – “You guys just … just fuck of! Film is not all about theories, technicality, cutting. It’s about playing with time and space.”

Monday, February 20, 2017

অক্ষর পদাবলী : সুমন সাধু

অক্ষর পদাবলী

১)
"
বিজয় নাম বেলাতে ভাদর মাসে।
নিশি আন্ধকার ঘন বারি বরিষে।।"

আমরা দু'জন এক এবং অন্ধ-কার। যেভাবে লিপিকরের মুঠোয় গোটা জানালা অবশিষ্ট পড়ে আছে। তবে জানালা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নই আমরা, আমরা জানি একেকটা ইচ্ছের গায়ে ধুলো লেগে আছে। বেশ আনন্দ করেই উপভোগ করি সেই ধুলো, কিছুটা যৌনসুখ পাই। এ ভরা ভাদ্রে তুমি কাশমেঘ হয়ে ঝরে পড়ছ। পড়শিরা বৃষ্টি ভেবে প্রতিদিন ভুল ভাবছে যাকে। কিছুটা সংশোধন আর বিশ্বাসের জন্ম পার করে এই তো আমাদের ডুবসাঁতার।


২)
"
নীল কুটিল ঘন মৃদু দীর্ঘ কেশ।
তাত ময়ূরের পুছ দিল সুবেশ।।"

মফস্বলে সন্ধে নামতে দেখি রোজ। সন্ধের গা ঘেঁষে বান্ধবীমহল রোজ আমায় পুড়তে দ্যাখে। আমরা সেই পোড়া গন্ধ মেখে নিছক আতর বেশে ফ্ল্যাটের দরজায় হানা দিই। আমি তখন মহান হই, আমরা তখন চুল বাঁধার স্বপ্ন দেখি। খোঁপায় খোঁপায় একটা যুগ শেষ হয়ে আসে।

Saturday, February 18, 2017

জন্মান্তর ও দুপাশের জঙ্গল থেকে : তৃষা চক্রবর্তী

জন্মান্তর
পিসেমশায় পাগল ছিল। মরে গেলে, ওরা বলেছিল - আজ থেকে আর তো কেউ পাগল বলতে পারবে না। মরে গেল একজন পাগল। আমার পিসেমশাই, একজন পরিচয়। বাড়ির সামনে বাতাবী লেবুর গাছে ফুল এলে, পিসির কাছে টাকা ধার করে বিড়ি কিনতে যেত পিশেমশাই। বুকে গলায় কাশির দমক তুলে তুলে কেবলই বিড়ি খেত। আর মন দিয়ে শুনত, পিসি বলছে 'মর মিনসে, মরণ হয় না তোর'! সেই পিসে মরে যেতে খুব করে কেঁদেছিল পিসি। কেবলই বলেছিল, আমায় ছেড়ে কোথায় গেলে গো?

বুঝিনি, কোন সে শব্দ যাতে কান্নার শ্বাসাঘাত পড়ছে প্রলম্বিত হয়ে? কখনো মনে হয়েছে "আমায়", কখনো "কোথায়"।


Thursday, February 16, 2017

বুকঝিম এক ভালবাসা | ১৯শে ফেব্রুয়ারি | তপন থিয়েটার | সন্ধ্যে সাড়ে ছটা

বুকঝিম এক ভালবাসা
১৯শে ফেব্রুয়ারি | তপন থিয়েটার | সন্ধ্যে সাড়ে ছটা

আমাদের যত যুদ্ধপরিস্থিতি, আমাদের যত হিংসা আর অন্ধত্ব, আমাদের যত হত্যা, সবকিছুই আমাদের বিশ্বাসে ঘা দেয়। আমাদের মনে হতে থাকে বিশ্বাস এক দুর্মূল্য শব্দ এই সময়ে, মনে হয় আমাদের যাবতীয় ভালবাসা বিলাসিতা। কাজেই, কবিকে বারবার বলতে হয়, মুখ ফিরিও না। ব্যারিকেডে বারবার চুম্বনের উচ্চারণ শোনা যায়।
'বুকঝিম এক ভালবাসা' আমাদের নিয়ে যেতে চায় পাঁচশো বছর আগে, অথচ একইসাথে নিয়ে যায় সেই আগুনের মধ্যেও, যেখানে ধর্ম দেখে শীলমোহর পড়ে ভালবাসায়। মনসুর-চাঁদের সঙ্গে আমাদের সামনে আসে নূরজাহান, আসে সেইসব প্রজারা --- যারা "বুক টান করে সামনে এসে দাঁড়ায়। বলে, 'কিসের খাজনা! কিসের বাজনা! শ্মশানযাত্রার বাজনা বাজায়ে দিবাম আবার যদি এইখানে আইসেন।" যে মনসুর বয়াতি "গরীব কৃষকের এতিম সন্তান, নাই তার জমি, আছে কর্জ পাহাড়প্রমাণ", তার সাহস দেখে চমকে উঠতে হয় মহব্বত জঙ্গকে, চিরকাল চমকে উঠতে হবে শাসককে এভাবেই; যখনই আমাদের ভালবাসায়, আমাদের বাঁচবার প্রাথমিক স্ফূরণেও বাধা আসবে, আমাদের হাতে কীই বা থাকবে আগামীকে দেওয়ার মতো, আমরা যদি ভালবাসাতেও অন্তত পাশাপাশি না দাঁড়াতে শিখি!




‘বুকঝিম এক ভালবাসা’
সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস

নির্দেশনা ও অভিনয় : শ্রমণ চট্টোপাধ্যায়
সঙ্গীত : শুভদীপ গুহ

সঙ্গতে : সুশ্রুত গোস্বামী, চক্রপাণি দেব, জয়ন্ত সাহা, সুহানিশি চক্রবর্তী, সর্বজিৎ ঘোষ


একুশ শতক                            ছবি : কৌস্তভ চক্রবর্তী 

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

তো এক দেশের মানুষ ভাত খেতে ভালবাসত আকাল পড়ার আগে। আকাল পড়ায় অগত্যা বাধ্য হয়ে মকাই। প্রথম প্রথম গলা দিয়ে নামতে না চাইলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। তারপর এল সেই মোক্ষম দিন। খেতে বসা সন্তানের করুণ মুখের দিকে চেয়ে থাকা এক জর্জরে মা আনমনে বলে উঠল~ বালের ভাত, মকাই ঢের ভাল... আর কি, একজন একজন করে এবার সবাই গুণ গাইতে শুরু করল মকাই এর। ধীরে ধীরে দেশের মানুষ ভুলেই গেল ভাতের স্বাদ। শুধু একজন পারল না কিছুতেই। ডাইনী সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মারার আগে অব্দি পাতে মকাই নিয়ে বসে সে শুধু ভাতের কথা ভাবত।
















ঋপন ফিও
Reepan Fio

Tuesday, February 14, 2017

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার : সুমন মজুমদার

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার

তীর্থ ট্রেনে বাড়ি ফিরছিল। সকালে বেরিয়েছে দুই-তিনটে জায়গা ঘুরে, বেশ অনেকগুলো তামাক খেয়ে বেশ হাবুডুবু হয়েই ট্রেনে উঠেছিল শিয়ালদা থেকে। দশটা তিরিশের বনগাঁ লোকাল, এই নামে একটা সিনেমাও হয়ে গেছে বোধহয়। এসময় ভীড় থাকার কথা নয়, বসার সিট অন্তত পাওয়া যায়, যুদ্ধ না করেই। তীর্থ সিনেমা দেখতে ভালোবাসে, তবে আজকাল বিশেষত ডিসকভারি এবং ট্রেভেল চ্যানেল-ই সে দেখে। কি সুন্দর দেখায় চায়না অথবা ইস্টার্ন এশিয়া। সবুজ ল্যান্ডস্কেপের মধ্যে সুন্দর হাসিমুখের মানুষ তাদের রঙ বেরং এর খাবার, জামাকাপড়। তীর্থ ঠিক করে রেখেছে যে সে এশিয়ার এই দেশগুলোয় একবার অন্তত যাবেই। আজকাল এমনকিছু কঠিন খরচপাতি-ও পড়েনা। দুবার কাসৌল যাবার পয়সা জমাতে পারলেই যাওয়া যায়।

তীর্থর তামাক খেয়ে নেশা হয়ে গেলে চশমাটা ভারি লাগতে থাকে, এসময় তার সন্দেহ হয় চোখের পাওয়ার কমে গেছে কিনা, অথবা তীর্থ মনে মনে ঠিক করে আগামী চশমাটা ফাইবার-এর বানাবে। কাঁচের ওজন ভারি। তীর্থর মনে হয় যেন চশমা পরে থাকার ফলে সে আশেপাশে কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছেনা, এ সময় মাথা ভারি লাগে, চোখ অন্ধকার হয়ে আসে। তীর্থ নিজেকে সামলে ফেলে এই সময়গুলোতে। চশমা খুলে ফেলে, গভীর শ্বাস নেয়। বেশি বাড়াবাড়ি হলে চোখে জল ছেটায়। অনেকদিন আগে ডাক্তার লো-প্রেশারের কথা বলেছিল, সেটাও একবার মনে পড়ে যায়।

Sunday, February 12, 2017

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ : প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ

(১)

এতো পালক এতো ছায়াগাছ কুসুমবিকার এতো সব। এর মধ্যেই ঠাঁই করে নিয়েছে আমার মৃত দাদামশায়ের জ্যান্ত খড়ম। যে সারা বাড়ি উঠোন তুলসী মঞ্চের খড়ির গন্ডি না টপকেই একা একা ঘোরে। আবার দাদামশায় পরে নিলেই চুপ। তখন বুড়ো যেদিকে যায় অতি স্থির তামসিকতায় তাঁকে ফলো করে। দাদামশায়ের মাড়ি থেকে ঝরে পড়ে গল্পমুখর লালা। উৎসমুখ খুলে যায়, আমি ও আমরা কে নিয়ে যে সুবৃহৎ  আমাদের – গোল হয়ে বসি। গল্পের ঢিমে আঁচে, গল্পেরই মৃত মাংস সেঁকা হতে থাকে। আমরা ছিটিয়ে দিই নুন উপাদান , সেইসব কলহ তীব্র লঙ্কার ঝাঁঝ। আর আয়েশে আমাদের মৃত চোখ খুলে যায় জ্যান্ত চোখ বুজে আসে।

পৃথিবীর দাদামশায়েরা আমাদের সাত ও সতেরো জলসংঘর্ষে  উদ্ভূত ফেনাময় বাথটবের কাছে নিয়ে যান। যেখানে উরু ক্যালানো মেয়েরা নাগকেশরের ব্রাশ দিয়ে যোনীগুল্ম পরিষ্কার করে। মৃত শুক্র চাকগুলি কন্ডোম কাছিম ছাল বেয়ে  বেয়ে  অনিবার্য এগিয়ে যায় নির্বাসিত ঝাঁঝরির দিকে। এইভাবে বহুবার আমাদের সুবৃহৎ জন্ম প্রতিক্রিয়া ব্যাহত  হয়েছে। নির্ধারিত প্রহরের আগেই বিসর্জনের ফেউ ডাক ককিয়ে ওঠে – মৃত জন্ম দেয় বিকলাঙ্গ ফোঁপরা করোটি।


Monday, February 6, 2017

একটি শিকারকাহিনি : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি

মলয় নামের সাদা বেড়ালটিকে যখন বসে থাকতে প্রথম দ্যাখে অনিমেষতখন সে ছিল একটা অটোতে।

এখানে এসে প্রথমবারের মতো গল্পটা একটা লাল ঘরে ঢুকে যায়। লাল ঘরের আলো ছিল নরম লালআসলে লাল ঘরটা ছিল গোলাপের দুই পাঁপড়ির ভিতর গভীরে কোন এক বিন্দুতে আলম্বিত। সেই লাল ঘরের মেঝেও হওয়া উচিৎ লালকিন্তু অনিমেষ লাল মেঝের ঘর শেষ দেখেছিল তার মামাবাড়িতেদোতলার পুব দিকের ঘরটায়। সেই লাল ঘরেই মামা মামির ফুলশয্যে হয়অনিমেষ তখন বছর বারোর। মামির ছেলে মেয়ে হয়নিমামি ছিল ভীষণ মোটামামি দুপুরবেলা একা একা ভুল বকতে বকতে কখনো পড়ে যেত সেই লাল ঘরের মেঝে ফুঁড়েগোলাপের দুই পাঁপড়ির মাঝের ঘরটায় এসে পড়তোতার পর আরো আরো গভীরেঠান্ডা বেরঙ অন্ধকারে ভেসে পড়তোযেন নীচ থেকে লক্ষ লক্ষ হাত মামিকে ম্যাজিক করে হাওয়ায় ভাসিয়ে রাখছেম্যাজিশিয়ানদের হাত অল্প অল্প নড়ছেভীষণ লাল একটা কিছু ঢেউয়ের মতো লকলক করছে চারদিকে ঘিরে। মামা রাতে অফিস থেকে ফিরে মামিকে খুঁজে পেত নাচিলছাদে গিয়ে খিদে পেটে ঘুমিয়ে পড়তো। মামির পোষা দুটো বেড়াল ছিলযাদের একটা ছিল সাদার মধ্যে বাদামী ছোপছোপ। সেটা ছিল খুব রোগামানুষ হলে নিমাই বলে আওয়াজ খেতো এমন রোগাসেটা একগাদা বাচ্চা দিয়েছিল একবার। সেসব বেড়ালদের মধ্যে কারো নাম মলয় ছিল না বলেই অনিমেষের ধারণা।

Saturday, February 4, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আভেমারিয়া

তোমার মা এলে
সব দুঃখ কেচে দেবে,
শুকিয়ে রাখবে তোমার ক্ষত,
আয়রন করে দেবে
তোমার এলোমেলো মুহূর্ত।

কাকিমা চলে গেলে
আমিতো মার হাতে-পায়ে
পেরেক ঠুকে দেবো আবার,

আর বলবো -
আয় রে, সখা,
দুজনে মিলে এবার
পিয়েটা মূর্তি ধরি!




আমি কিম্বা অপেক্ষা

তোমাকে দুধ ভাত;
আজকাল আমি আর অপেক্ষা
এক সাথে শপিং-এ, বিকেল হাঁটতে।

অপেক্ষার মধ্যে পটাশিয়াম সায়ানাইড
মিশিয়ে দেখেছি,
একটা নতুন ধরণের ধোঁয়া-
কেমন মহুয়া মহুয়া…

দুজনে দুটো ধারালো ছুরি হাতে,
আমি আর অপেক্ষা
পাশাপাশি শুয়ে খুনসুটি করি!

একদিন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলাম,
আমি মরে গেলেও কি
অপেক্ষা বেঁচে থাকবে?

এসব জিজ্ঞাসায় কিছুটা বোরাক্স মিশিয়ে
তাপ দিলে

দেখবে কেমন খই ফুটছে সোহাগে!



Thursday, February 2, 2017

ফটোগ্রাফি : শাশ্বত মুখোপাধ্যায়

ফটোগ্রাফি

ছবি তোলার জন্য ঘরের জানলাটাকে ব্যবহার করার কথা মাথায় খেলছে সকাল থেকেই। মারিন আসবে সকাল ৯ টা ৩০-এ। হ্যাঁ, মারিন এর ছবি তুলব আজ। ক্যামেরাটা নিয়ে সমুদ্রের দিকে ফোকাস করে আছি, অনেকক্ষণ। সি-বিচের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক কিছুই কিন্তু এই নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকেও  কিছুই তেমন চোখ টানছে না আমার। চোখ টানলেই আমার শাটার ঝটপট লাফিয়ে যায় অবজেক্টের ওপর আর অবজেক্ট কে ওনলি সাবজেক্ট হওয়া থেকে আটকে দিতে চাই প্রথমেই। সমস্ত ছবিতেই অবজেক্ট ছাড়া বাকি কিছু ব্লার করতে ভালোবাসতাম আগে, এখন এইসব থেকে বেরিয়ে আসছি। আমি কোন ছবিতেই থাকতে চাই না আর, নিজেকে আটকাতে চাওয়াও ভালো ক্যামেরায় ধরা থেকে যায়। ডোর বেল বেজে উঠেছে, মারিন একটা ডিপ ব্লু ড্রেস পড়ে এসেছে আজ। ঘরে ঢুকেই ও আমার উডেন ফিনিশের চেয়ারে গা এলিয়ে বসেছে। সমুদ্রের নীলের থেকেও বেশী নীল মারিন। ক্যামেরা নিয়ে অনেকক্ষণ নাড়াচাড়া করছি, এত কাছ থেকে, এই ঘরে, সমুদ্রের মত লাগছে মারিনকে। মারিন আমার দিকে তাকাতেই চুপ করতে বললাম। এই সময় কথাকেই আটকানো দরকার ছিল। মারিনের অন্ধকার দিকটা আমাকে অস্বস্তিতে রেখেছিল আর বেশ টানটান, রিফ্লেক্টর দিয়ে আলোকে ব্যবহার করতে শুরু করি কিন্তু কোনভাবেই মারিনকে ধরতে পারছিলাম না। এমন কোনো আলো তৈরী হচ্ছিল না যা মারিনের সাথে যায়। বিকেল অব্দি এইসব নিয়ে কেটে যায়, মারিন বিরক্ত হচ্ছিল আমার ওপর। অতিরিক্ত টাকা চাইছিল, যদিও তখনও আমি ওকে একবারও তুলে আনতে পারিনি।  

[ পুনঃশ্চ - এরপর সন্ধ্যে নাগাদ, ওর মত আলো খুঁজতে, আমি সি-বিচে যাই কিন্তু ও আমাকে আর বিশ্বাস করেনি। আলোটা ছিল খুবই নরম এটুকুই বলতে পারি। ]







শাশ্বত মুখোপাধ্যায়

Saswata Mukhopadhyay

Tuesday, January 31, 2017

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ

একটা নিরিবিলি ঘরে দাঁড়িয়ে আছি আমি। পাশের হলঘর থেকে কোলাহল আসছে। লোকজনে গমগম করছে ঘরটা। হাসির হররা... ওয়াইন গ্লাসের টুংটাং... মোমের আলো। খাবারদাবার, সুগন্ধি... দামী পোশাকের, ভেলভেটের, সুয়েডের খসখস... আমি ঘরটার দিকে মুখ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি। খুব কম সময়ের জন্য পাচ্ছি বাবাকে। এর মধ্যে যতটা দ্রুত গুছিয়ে নিয়ে দেখাতে হবে আমার কাজ। আমার কাছে ছাপানো কিছু কি আছে? আমি কোনও পোর্টফোলিও করেছি? আমার ক্যামেরা ভর্তি ছবি। প্রচুর ছবি। ডেভেলপ করিনি। ডার্ক রুমে ঢোকা হয়নি বহুদিন। কিন্তু আমি করছি বাবা। অনেক কাজ করছি। তুমি ব্যস্ত তাই... বাবা একবার এঘরে এলেন। উনি আমার সঙ্গে বেশি কথা বলেন না। কারওর সঙ্গেই না। বাবাকে ঘিরে আছেন প্রচুর মানুষ। আর্ট গ্যালারি, ক্রিটিক, ছাত্র অনেকে। এঁদের মাঝে আমার যাওয়ার কথা নয়।

Saturday, January 28, 2017

অমাত্রিক অমাতৃক : জয়দীপ মৈত্র

অমাত্রিক অমাতৃক

১/
এই আলো দিয়ে দেহ ঢুকেছে শরীরে। বহু আগের মৃতদেহ কখনও বাতাস হতে চেয়েছিলো। আনমনে শুনতে চেয়েছিলো ভাটিয়ালী। মাঝির পোশাকে ব্যাধি। যেভাবে অন্ধকারে হারিয়ে যায় বহুবার পরা ঈশ্বরের জামা। আমাদের বুকে ফুটো নাকি নৌকোহীন জলের চিহ্ন? হে অসুখ, হে চিরকালীন ভাঙা ঘড়ি, এই রক্তমাংস দিয়ে তুমি আমাকে খোঁজো। দশচক্রের অসীম সীমায় খুঁজতে খুঁজতে আবার ছায়া হয়ে যাও। হারিয়ে যাও আলোর আগের দেহে। ভেবো অন্ধকার নয় এই দূরত্ব আসলে মৃত নক্ষত্রের আলো।


Friday, January 27, 2017

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন : অমিত দে

শুক্লপক্ষ
বয়েস ভাসছে ক্যানেলের জলে
আকাশ আজ অমর হলেও
তোমার উরুতে গ্রহন লেগেছে
পায়ে পায়ে কাটা ফোটেনি
কুলগাছ পাহারাদার আর ধানশিষ
বারবার কেন মাধবীলতা—
সুতোয় সুতোয় ঘুড়ি হওনি
পাশ কাটিয়ে ভেসে থাকা
ফেটে যাওয়া বেলুন
দিগন্ত খুলে দিয়েছি
অস্ত দেখতে পাচ্ছি না কেউ
জোয়ার ভাটায় মুছে যায়
         আমাদের দিনরাত



Wednesday, January 25, 2017

জ্যোতির লেখা : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

জ্যোতির লেখা

১|
এই জীবনে এযাবৎ একুশটি বছর তো গেলো
অক্ষরগুলি চিনেছি সেই কবে
শব্দগুলির সাথে প্রায় রোজ দেখাশোনা
শুধু বাক্যগুলি চিনে রাখতে ভুল হয়ে যায়, পারিনা


২|
একই সম্পর্কের ভিতর আমরা যাতায়াত করেছি বহুবার
ফলত পায়ের চিহ্নাদি কোনটা যে আসার কোনটা চলে যাবার
আর কোনটা ফেরার, তার কিছু ঠিক নেই

মানুষের বাড়িতে অনেক বিভেদ থাকে
ঈশ্বরের সমুদ্রতীর তাই আমাদের অনেকের বাড়ি
থেকে অনেকটা দূরে।


৩|
গাছেদের সাথে সাথে
গাছের তলারও বয়স বাড়ে
অতল বদলে ফেলে নদী

দু’জনই এ’কথাটি ঠিক বুঝে যাবো
বহুদিন পর একদিন দেখা হয় যদি।