Skip to main content

Posts



চারটি মুহূর্ত - পৌলমী গুহ

সাম্য, মৈত্রী ও প্রেম আমি সাম্যের গান গাহি নাই। অর্থাৎ, চায়ের দোকানি বাসের কনডাক্টর ও রিক্সাচালক বলে, ব্যর্থ কাউকে টিজ্ করি। নিজেকে আদর্শবাদী ভাবি, বাকি সব গোরুচোর। ছিক্ করে রাস্তায় থুতু ফেলি, আর নিজের চেয়ে যারা ওপরে থাকে- সর্বনাশ কামনা করি। অনেকটা প্রেমেরই মতো!


নিশীথে বেদনা জাগে ধড় খুলে ফেলি প্রতিরাতে। সান্ত্বনা দিই আর স্রেফ ক’টা দিন, অথবা মাস। বছরও। প্রেমজ বিষাদ নাভিতে চুমু খায়। এতোদিনে মনে পড়ে, তোমার স্খলনে আমার জিত মিশেছিল।


কারা যেন ফিরে এলো টেবিলে খাম খোলা। চিঠিদের গায়ে পুরনো ঠিকানা। ধুলো জমেছে স্মৃতিতে। একটা মস্ত প্রজাপতি বারবার, বারবার উড়ে এসে বসে। মনে পড়ে গেলো, সানাইয়ের ব্যথা তুমি আজও বোঝোনা!


শেষ থেকে আরেকবার ডার্লিং! তোমার সাথে আজ নাহয় কাল, দেখা তো হবেই। ঘোরানো সিঁড়ি বুক চিরে নেমে গেলে, তোমার চিবুক থেকে বিষাদতরল মুছিয়ে দেবো তো?

Recent posts

অলভ্য ঘোষের একটি বাংলা অডিও বুক

তাঁবুঘর.কম সবসময়ই চেয়ে এসেছে, নতুন যারা ভাবছেন, তাঁদের কাজ পাঠক, শ্রোতা বা দর্শকদের সামনে তুলে আনতে, ওয়েবসাইটেও এ জন্যেই এ কথাটাই লেখা আছে, আপনাদের নিজস্ব ভাবনা কোনরকম দ্বিধা না রেখে পাঠিয়ে দিন। সে ওপেন কল-এ সাড়া দিয়ে অনেকেই লেখা পাঠিয়েছেন এর আগে, ছবি পাঠিয়েছেন, নিজেদের ভালো কাজগুলি পাঠিয়েছেন, সেরকমই তাঁবুঘর তুলে ধরছে এই কাজটি। এটি একটি অডিও বুক, এবং, শুধু গড়গড় করে পড়ে যাওয়া অডিও বুকে এই কাজটি আটকে থাকেনি। অলভ্য ঘোষ কে আমি চিনিনা তিনি হয়ত দেখেছেন কোথাও তাঁবুঘর। তাঁবুঘরের ওপেন কল-এ সাড়া দিয়েছেন। তাঁর পাঠানো প্রথম গল্পটি পেয়ে আমি চমকে উঠি। অদ্ভুত এক ভাষায় লেখা সে গল্প। যেন বাংলা ভাষায় লেখা হচ্ছে একটা ডাচ গল্প। অনুবাদ নয় কিন্তু। সে লেখাটি অন্য এক ওয়েব ম্যাগাজিনে আছে। তাই এখানে সে গল্প থাকল না আর কিন্তু আমি এই ভদ্রলোকের কাজ নিয়ে খুবই চমকে ওঠায় খোঁজ করতে শুরু করি। এবং পেয়ে যাই তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল। সে চ্যানেলে তিনি অজস্র গল্প পাঠ করছেন। চমক ততক্ষণে ভালোলাগায় পরিণত হয়েছে। তারই মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে পেয়ে যাই এই কাজটি। ভালোলাগা ট্রান্সফর্ম হয় ভালোবাসায়। বাংলা ভাষায় শুধু নয়, বিশ্বের নিরিখেও এর…

ম্যাড মঙ্ক ~ শুভ আঢ্য

ম্যাড মঙ্ক ২১ সে বেরাদর, আমার দ্বিতীয় সত্তা, আমি বিম্ব আধার সে, এইভাবে যৌনতা ছাড়িয়ে, নেশা ছাড়িয়ে সে আমায় বাঁচিয়ে রাখতে চায়, ঈশ্বরের অধীনে আমাদের কথা হয়, ঈশ্বরের অনুশাসন আমায় শেখায় ব্রাদার ম্যাকারি বলে - ওই যে মাছ, তার প্রাণটুকু দেখো, তার চলাচল জলকে ঘিরে ওঠা, তার কানকোর তলাটুকু দেখো, তার দেহ অলীক, তার নিষ্পলক চাওয়া মিথ্যা, শুধু সে তোমাকেই দেখে না, এ বিশ্বকে দেখে, মৃত্যুর পরও সে তার চোখ খুলে রেখেছে, মিথ্যা সে, শুধু দেখো তার ঝাঁক থেকে সে বেরিয়ে এলো, তার বন্ধন থেকে, অথচ তার তো বন্ধন ছিল, ছিল তো মায়া... সে আমাকে ঘিরে এই গোলগোল কথা শোনায়, আর ভাবে আমার বোধ তা ধরে ফেলছে, আমার বুদ্ধি তা নিলয়ে নিচ্ছে
কথা শুনি ম্যাকারির, তার হাতে ফলের মাঝে দেখি এক বন থেকে আসা অসংখ্য রসস্ফীত ফল আমাদের সামনে, দেখি কারও রঙ কমলা কিছু বা সবুজ, কিছু বেগুনী আর সব আমার চোখে

নবান্নে - দীর্ঘ কবিতা ~ অতনু সিংহ

নবান্নে
(বাংলাদেশের নয়াকৃষি আন্দোলন ও নিখিল বাংলার ভাবান্দোলনের সাধু-গুরু-রসিক ও সহযোদ্ধাদের পদারবিন্দে) ১ ধরো এই অগ্রহায়ণে ভোরবেলা একটা শালিক ব’লে গেল তুমি ফিরে এসেছো পাড়ায় আর রেললাইন উঠোনের পাশ দিয়ে শিল্পবিপ্লবের দেমাক না রেখেই ধনধান্যে আগায়েছে, ধরো আমাদের হাটবাজার জুড়ে তোমার মতো নতুন চালের সুবাস, সোনাগুড়, রূপাচিঁড়ে, দুধের মাহাত্ম্য, আহা কাত্তিক ঠাকুরের নারিকেল বাতাসে ময়ূর নেই তাই অভিমান করে তুমি ফিরে গিয়েছিলে?
অথচ রাজহংসীর পাখা কাহার বাঁশির টানে বাতাসে মিলায় লবন হাওয়ায় ঘোরে হরিণেরা গরান গাছের কাছে লুকোচুরি খেলে চোখ চারুময় রোদ্দুর, ঢেউ আসে ঢেউ ফিরে যায় বাঘিনী শরীরে তার মেখে নেয় বুনোচাঁদ এখানে কবি ও ফকির চন্দ্রাহত আকাশে তাকায়, বাঁশি বাজে সারারাত
ধরো এই রাশপূর্ণিমা আমাদের ছায়ার ভিতরে যে নধরচাঁদের খেলা নিস্তব্ধ শিশিরের মতো, জেগে আছে, সে জানে ময়ূরপ্রাসাদ আর সাতটি সমুন্দর, তেরো নদী পার ক'রে

আংনি আপফা অকতিটি ~ একটি গারো ও আচিক ভাষায় লেখা কবিতা ও তার বাংলা অনুবাদ

মূল ভাষাঃ গারো ও আচিক লিখেছেনঃ পূর্ণিমা নকরেক| বাংলা অনুবাদঃ কবি পরাগ রিছিল
আংনি আপফা অকতিটি নাম্মিন দালনা জাকরা-গা খু-আগাননা-বা থাংরাগা বংগি দাকগো -বাদকমাননারিয়া। চ্রিকনাবা রাগগা-য়া।
আমা আমা ইন্নি গ্রাব জুগুদে আইয়াও আংনি গিসিক বা সাদিকবিয়া খাসিরগগারি আমা! উগামাখো নি-বা দংমাদজা খল্লামনাহা হাসিগারিয়া
আইয়াও আপফা নাংখোদে ফান্তি সকবা খোবা নিগমানজানাজক আংনিদে রিয়াংআনি সাল সকবারিজক আচ্চু আম্বিনি হা'সং চা-হা
দংবো নে আপফা দংবো আমানি চামানগিজাখো গিসিক রাআই মান্দিহংবো নে হবো নাংখো গালমাদিবা রিয়াংমাদজাংআমুংরো দংবো নে আপফা দংবো।

~ বাংলা ~ আমার ছোট্ট সোনা রে- বড় হচ্ছে তাড়াতাড়ি ফোটায় কথার ফুলঝুড়ি দুষ্টুমি করলে অজান্তে রাগ হতে চায় খুব সে পটু চিৎকারে...

মা মা বলে কান্না করলে হৃদয় ভেঙে যায় -ওরে; আদুরে গলায় মা ডাকলে চুপটি থাকতে পারি না কোলে তুলতে ইচ্ছে করে-
তোমার যৌবন দেখে যেতে পারবো না আমার চলে যাবার সময় উপস্থিত! তোমার দাদা-দাদীরা যেথায় দূর নক্ষত্র হয়ে আছে
থাকো সোনা থাকো... মায়ের শূন্যতা অনুভব করে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে হচ্ছিল না সোনা, ছোট্ট বাবু সোনা...

পূর্ণিমা নকরেক

তমিস্রা কবিতাসিরিজ ~ অর্ঘ্যদীপ রায়

তমিস্রা-১ একবুক মৃত্যুসংবাদ নিয়ে বসে আছো একটি শিরীষ ছায়ায় এভাবে সন্ধ্যে এলো যেন পুকুরপাড়ে বসে থাকা একটি কিশোরের শেষ ঢিলে সকাতর জলোচ্ছাস এলো। রান্না হবে বলে খোসা হারালো পটলচেরা ভালোবাসারা। তোমার দিনগুলি বক্ররৈখিক দৈনন্দিন ঘুমের মতো তাদের ভাগ্যে নাইটবাল্ব জোটেনা। বেখেয়ালে বসানো টিপ ছবিতে ব্লার হয়ে যাওয়া মুখ মেসবাড়ির কুঁয়োর পাশে রান্নাঘর থেকে ধোঁয়া আসে ধূলিমাখা তারজালি অপেক্ষা করে কখন বিষাদ মেখে তুমি বসে থাকো ব্যালকনিতে সাইকাস গাছের ছায়ায়। গভীর রাতে ডিটেকটিভের পাতা খোলা থাকে শিয়রে সাধারণ মেয়েটির আজন্মলালিত ঘুম আসে।

তমিস্রা-২ অনভ্যস্ত হাত যখন কর্মধারা খুঁজে নিতে চায় নতুন যখন ভরে ওঠা নদীর কথা ভালো লাগেনা একটি মরুভূমির বর্ষা দেখতে ইচ্ছে করে। যেভাবে কথার মাঝে গৌণ হয়ে ওঠে ভাষা যখন উজ্জ্বলতায় সাধারণী হয়ে ওঠে আলো কয়েকটি রেখা দিয়েছিলাম তোমাকে যা দিয়ে জুড়ে জুড়ে একটি পৃথিবী ভাবা যায়, কয়েকটি শব্দ যা আমার অক্ষরময় হারেমের বিসর্গগুলি। সমস্ত অলংকার খুলে তোমার কাছে আসি বসি ভাবি ভুলে যাওয়া পুকুরের কথা। তুমি আত্মমগ্ন হয়তো হয়তো খুচরো জমানোর কৌটোর শব্দটুকু আমি বেছে নিচ্ছি তোমার আটপৌরে দিনলিপি আমার কাছে উপন্যাস হয়ে উঠছে, তোমার ষাট-সত্তর-আশি-নব্…
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS