Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu

Friday, July 22, 2016

প্রলাপ - ৩১শে জুলাই, সন্ধ্যে ৬টা, জ্ঞান মঞ্চ

নমস্কার, ইডেন উদ্যান থেকে সরাসরি কথা বলছিএকটাও লোক নেই মাঠে, কয়েকটা গরু অল্প অল্প ঘাস খাচ্ছে আর মাঝে “ব্যাকরণ ব্যাকরণ” বলে চিৎকার করছে। যাইহোক, খেলা শুরু হয়ে গেছে অনেকক্ষণহাইকোর্ট প্রান্ত থেকে বল করতে আসছেন মেসিব্যাট হাতে মুখ চুন করে ক্লাব হাউসে দাঁড়িয়ে আদিত্য পাঞ্চোলি ভাবছেন, এই বুঝি চোখ বুজে, পিছন উল্টে পড়বেন গিয়ে নন স্ট্রাইকিং এন্ডে দাঁড়িয়ে থাকা দিল্লি পুলিশের ঘাড়ে। তিনটে স্লিপে মা, মাটি , মানুষ হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে একটা ক্যাচের আশায়দূরে, বাউন্ডারির কাছে, নিশ্চিন্ত হয়ে গরুদুটো “ব্যাকরণ ব্যাকরণ” বলে চিৎকার করে যাচ্ছে। কমেন্ট্রিবক্স থেকে ওদের অনেকটাই চিয়ারগার্লের মতো দেখাচ্ছে। কিন্তু ওরা চিয়ারগার্ল নয়, ওরা গরু। সাইড স্ক্রিনের ওপরে বসে সেই ভোরবেলা থেকে রাম আর লক্ষণ একমনে পাছার লোম ছাড়াচ্ছিল, এবার ওঁরাও অধৈর্য হয়ে পড়ছেকী করবে, আজ মাঠে একটাও লোক নেই। সবে বাউন্ডারি লাইন থেকে মেসি বলটা মুঠো করে আদিত্য পাঞ্চোলির দিকে একটা দারা-সিং-মার্কা লুক দিয়ে দৌড় শুরু করেছে, এমন সময় হঠাৎ গরুগুলো ঘাড় তুলে তাকালো, “ব্যাকরণ ব্যাকরণ”

আমরা নাটক পাচ্ছিলাম নাএকটা বাজে নাটক অভিনয় করে তখন রাগে ফুঁসছিএকটা বালের প্রেমিকার জন্য দলের একটা বালের ডিরেক্টর একটা গোটা প্রোজেক্ট ঝুলিয়ে দিলোযাই হোক, ভেবেচিন্তে আবোল তাবোল, একটা গীতা, তিনটে লবঙ্গ আর একলাদি পায়খানা নিয়ে আমরা পুজো দিলাম মা ‘মেসি’-র নামে। ব্যাস, কেল্লা ফতে! পরের দিনই আমাদের দলের ডিরেক্টরের বাথরুমের সাবান-কেসে দুটো নাটক রেখে গেলেন সেক্সি দেবীস্নানের সময়ে দুটোর মধ্যে একটা সাবান ভেবে মেখে ফেললেও, পড়ে রইলো আরও একটা নাটক। প্রলাপ। সেই শুরুতারপর থেকে আমরা মুখস্ত না করে, রিহার্সালের সময় মদ খেয়ে, শো-এর সময়ে পানু দেখে এই নাটকটা অভিনয় করে চলেছি। সবাই মিলেকারুর প্যান্ট খুলে যাচ্ছে, কারুর হিসু হচ্ছে না, কারুর মাথায় মাঝেমধ্যেই উটকো বুদ্ধি চাপছে আর নাটক করার বদলে সারা হল জুড়ে “রিভিশানিস্ট রিভিশানিস্ট” বলে চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। তাতে ভীষণ ভয় পেয়ে পাকিস্তানে চলে যাচ্ছে কেউকেউ। গোয়েন্দাদপ্তরের খবর, দু’‌জন নাকি আইএস-এও যোগ দিয়েছেআসলে আমরা একটা গরু খুঁজছি প্রায় তিন মাস ধরে, ঘাম ঝরিয়ে রিহার্সাল করেএকটা গরু। একটাই গরু।

যেই গরুটা ঘাড় তুলে চাইল, অমনি মেসি থেমে গেল, ভাবলো কিছু একটা। ওমা, ওদিকে এত চিৎকার কীসের?‌ কে আসছে ছুটতে ছুটতে? “ওরে আমায় বাঁচারে, গেছিরে”! এ কী, গিরিশ কারনাড আর ক্যাটরিনা কাইফ পিচের দিকে ছুটে আসছে! পুরো ব্যাপারটাই বোঝা যাচ্ছেনা এখনওকী হবে এবার? খেলা কি বন্ধ হয়ে যাবে? দাঁড়ান, দাঁড়ান, কিছু একটা বলতে চাইছেন ক্যাটরিনা। ওর বুকে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছেন গিরিশ। বোঝা মুশকিল, আদৌ ম্যাচটা হবে কিনা। গরুগুলো চুপ করে গেলক্যাটরিনা অনেক ভেবেচিন্তে একটাই কথা বললেন, “খানকির ছেলে”



আমরা গরু চাই
৩১শে জুলাই আবার জ্ঞানমঞ্চে আসছি,
একটা গরুর জন্য।
আর ক্যাটরিনা কাইফ আসছেন এবার।