Skip to main content



গুলশনারা খাতুন : ব্যবহারিক চিত্রনাট্য

ব্যবহারিক চিত্রনাট্য

টিস্যু পেপারের বাণ্ডিলটা মা লুকিয়ে রাখবেই। সূর্য বহুবার চুরি করে পড়ার টেবলের ড্রয়ারে রাখে। মা ঠিক ফাঁক বুঝে বের করে নেবে। ধুত্তেরি। আবার সেই খবরের কাগজ দিয়ে মোছো। কী  যে খড়খড় করে। নাহ। পাওয়া গেছে। বাবার কেস ডায়েরির পাতা ছিঁড়ে অন্তত চাদরটা পরিষ্কার করে দেওয়া যাক। উম্মম, অ্যাই অ্যাই হয়ে গেছে। সূর্য মাঝেমধ্যে ভাবে ইজাকুলেশনের পর স্পার্ম জমিয়ে বোতলে পুরে রাখবে। তারপর শক্ত হয়ে গেলে চিনি ছড়িয়ে বাবাকে খেতে দেবে। নে বাল। তোর পয়সাই খাই, তোর মুখেই মুতি। না মানে, ওই আর কি। এখন শালা লালবাজারের কেস ডায়েরি লেখার পাতায় ল্যাটপ্যাট করছে মাল। রুম্পিদি থাকলে ওটাই চেটে চেটে খেত। বাবার কথা ভেবে হেব্বি হাসি পায় সূর্যর। বুড়ো ভাম, ঠিক করে দাঁড়ায় না। ধরে এনেছে ডবকা মাগি। সূর্যরই লাভ। দিনে রুম্পি, আর রাতে মা। হিহি। বেচারা সূর্যর বাবা।

সূর্যদের বাড়িটা একদম ঈশাণ কোন ঘেঁষে বানানো। দাদাই নাকি কোন এক ফ্রেঞ্চ আর্কিটেক্টকে দিয়ে বানিয়েছিল সাধ করে। বুড়ো শেষ বয়সে বীর্য মাথায় উঠে মরে গেছিল। মরার আগে অবধি রান্নার কাজের লোকের সঙ্গে ফস্টিনস্টি। বুড়োর হাত-পা বাতে অকেজো ছিল নাকি। মালতীদি দিনে রান্নাঘরে খুন্তি নাড়ত আর রাতে বুড়োকে নেড়েচেড়ে দিত। জানলার কার্নিশে বসে সূর্য ভাবে, কী চোদনখোর ফ্যামিলি শালা আমার। হ্যাঁ? সব সব কটা শালা এক সে বড় কর এক হারামি। সূর্য মাঝেমধ্যে ভাবে, বড় হয়ে  যখন নভেলটা ফাইনালি লিখে ফেলবে, তখন কোনটা রাখবে, আর কোনটা বাদ দেবে। সব ভুলভাল। যেমন সূর্য নিজেই কি বিশাল একটা ভুলভাল। জন্ম থেকে বড় হওয়া, সব ভুলচুক। আরও একটু ছোটবেলায় সূর্য যখন কথা বলতে শেখেনি, তখন থেকে শিখে গেছিল সে ভুলভাল। নানা, সূর্যর ছোটবেলা মানে খুব বেশি ছোটবেলা নয়। পাশের বাড়ির জিকো, তাতাই, পিকুরা যখন খই ফোটাচ্ছে, তখনও সূর্য ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকত। বু-বু করে কিসব যেন বলে ফেলার চেষ্টা করেই বুঝত, নাহ হচ্ছে না। বাবা রাতে বাড়ি ফিরে মা-কে খিস্তাতো।


 তখনই বলেছিলাম, শালা কাটিয়ে দাও। তা না, উনি মা হবেন।
- তোমাকেও তো বারবার কন্ডোম ইউজ করতে ইনসিস্ট করতাম। একটা প্রাণ এল শরীরে। মেরে       ফেলব?
- চুউউউউপ নেকিচুদি। প্রাণ এল। ডাক্তার পইপই করে বারণ করেছিল সিগারেট না খেতে।
 ভদ্রভাষায় কথা বল।
- এক চড়ে দাঁত ফেলে দেব। শালা মিথ্যুক। হ্যাণ্ডিক্যাপড মালা শালা। প্যাডেড ব্রা পরে বুক নাচিয়ে     ঘুরে বেড়াতে তো দিন রাত। এই ভাস্কর মুখার্জি, রামগান্ডূ বিয়েটা দয়া করে না করলে তোমার মতো   মাইহীন হ্যান্ডিক্যাপডকে কে বিয়ে করত? শালা মাল পয়দা করল তাও অ্যাবনরমাল। বাঁড়া, ৬ বছর   বয়স কথা ফোটেনা। কষ দিয়ে লাল গড়ায়।
- একদম বাজে কথা বলবে না। তোমাদের পরিবারটাই নষ্ট। যেমন তোমার বাবা, তেমনি তুমি।
  অসভ্য, দুশ্চরিত্র।
- উহহহ। উনি এলেন সতী। অফিস পার্টিতে বেলেল্লাবাজির বহর দেব?
- যা করি। আমার বাবার টাকায় করি। রুথলেস ব্রুট। লোভী কোথাকার। বিয়েটা করেছিলে তো টাকা
  দেখেই।

সূর্য আর কিছু শুনত না। শুধু বুঝে গেছিল সে একটা ভুলভাল। বাবা কণ্ডোম কিনে মা-কে লাগালেই এই ভুলটা আর হত না।

তারপর থেকে তো সূর্যর সবটাই ভুলভাল। এই যেমন সূর্যর স্কুলটা।  না না। এটা স্কুলও না। এটাকে সেন্টার বলে। সেন্টার। সূর্যর মতো বু-বু, গ্যাঁজলা বেরনো সব আসে এখানে। সূর্য জানে না,  ওরাও ভুলভাল কি না। রিকি, বিতান, দীপ্তেন্দু সবাই সব ভুলভাল ভেবে সূর্যর খুব মজা পায়।

সেন্টারে আসার পর ঠিকঠাকগুলো সূর্য পড়ে নিতে শিখেছে। এই যেমন দোতলায় আঁকার ক্লাসে যাবার সময় দারোয়ান নটবরদা কাকে হেসে হেসে বলছিল, মাগী বগলকাটা ব্লাউজ পরে ধিংগিপানা করবে আবার সতীচোদানো। সূর্য জানে, বাবা মা-কে যা সব বলে সব ঠিকঠাক। সূর্য মোটমাট বুঝে গেছে, চারপাশে ওর মতো ভুল, বাবার মতো ঠিক সবাই একটা জিনিস নিয়ে কালচার করছে। সে হল চোদানো। সূর্য বেশ টুকটুক ফর্সা কিনা। বেশ লম্বা মতো কিনা। বেশ বুকে-গায়ে লোম নিয়ে মনোহর কিনা। তাই যেদিন সেন্টার থেকে ফিরে মা সূর্যকে ঠিকঠাক শেখাতে শুরু করল ওর সবগুলো মনখারাপ বেমালুম হাওয়া। আগে যেমন তলপেটের নিচটা সুড়সুড় করলে সূর্য কী  যে ভয় পেত। এক একদিন তো সকালে প্যান্টে সাদা সাদা ফেনা, ক্রিম। শীলামাসি একদিন চিৎকার করে বলল,

- বউদি, দামড়া ছেলের এসব কাচবুনি। ম্যাগো কি কেলেংকারি। ছেলের মুখে কথা আসে না। নুলো খ্যাপা। তার ভিমরতি কম না।

শীলা মাসির ব্যাগে সূর্য একদিন আরশোলা ভরে দিয়েছিল।

ওইদিন থেকে অবশ্য সব ভুল-টুল সেরে সূর্য এখন স্মার্ট বয়। একদিন রাতে মা সূর্যর প্যাণ্ট খুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। সেন্টারে সেদিন নাকি কিসব কাউন্সেলিং হয়েছে। নটবর বলছিল, সূর্য শুনেছে। ‘ওই শুরু হল কেলাস। নুলোরা ধন খিচবে, মা-বাপে তাই কেলাস করছে। মা গিয়ে মাল ফেলা শেখাবে বাড়িতে। হি হি।’ সূর্য বাড়ি এসে বুঝেছিল তলপেটের নিচের হিসি যন্ত্রটাকে ধন বলে। সেই রাতেই তো মায়ের হাতে সাদা, সাদা- ফেনা, ফেনা ক্রিম। মা খুব কাদছিল। আর সূর্য প্রাণপনে ‘আহ আহ’ করে চিৎকার করেছিল। না না, বু-বু কান্নার চিৎকার নয়। কি যে এক ভাললাগার চিৎকার। মা না থাকলে রুম্পিদি যখন বাড়ি আসে, তখন বাবার ঘর থেকে ওরম চিৎকার শোনা যায়।

সেসব কোন ছোটবেলা চলে গেছে। সূর্য মাল ফেলা জানে। সূর্য জানে মেয়েদের বুক। সূর্য জানে মা এখন আর কাঁদে না। মা-ও ওর মতো আনন্দের চিৎকার করে। সূর্য জানে, এই যাকে বাবা বলে অ্যাব-নরমাল, যাকে শীলা মাসি বলে নুলো। তাকে সেন্টারে মিসরা বলে অটিজম।

সূর্য এখন পাক্কা ঠিকঠাক। একদিন, সেদিন রুম্পিদি যখন বাবা না থাকতে এসেছিল। সূর্য সেদিন জানলার কাঁচ সরিয়ে আকাশ দেখছিল। ফেনা ফেনা মেঘ ঘুরে বেড়ায়। আর নীলটা বাবাহ। এই নীল একশোটা রং মিক্স করেও আসে না। সূর্য শার্সি সরিয়ে শালিখ আর চড়াই-এর ঝগড়া দেখতে দেখতে ‘সঞ্চয়িতা’-র কবিতা পড়ছিল। রুম্পিদি ঘরে ঢুকেই সূর্যকে জড়িয়ে ধরে একশা। হাঁসফাঁস সূর্য সেদিন কি যেন করতে করতে রুম্পিদির গলায় কামড়ে দেয়। ঘড়ঘড় গলায় রুম্পিদি বলেছিল,

- জানতাম। জানতাম আমি। বাবা শালা ভাম। ছেলে নুলো হলে কী হবে? শালা পুরুষ মানুষের
  চুলকানি? আমাদের ভিতরে আগুন জ্বলে না না? উফফ সূর্য এই দেখ।
- কী ওগুলো?
- এই নে ধরে দেখ। খা খা। খাবি?

সূর্যর মনেই ছিল না শেষ কবে মায়ের দুদু খেয়েছে। রুম্পিদি আর সূর্য অনেকক্ষণ চিৎকার করেছিল ঘরে মধ্যে। সেই ভাললাগার চিৎকারটা। সূর্য এখন সব ঠিকঠাক কিনা। সূর্য এখন সব একা একা পারে কিনা।

তারপরেও মাঝেমধ্যে কান্না-কান্না মনখারাপ হয় সূর্যর। বেশ বুকে চাপ পড়ে। তখন রবি ঠাকুর ভাল্লাগে না। রং-এর প্যালেট উহু। তখন মায়ের গায়ে মুখ ঘেঁষে শুয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। মা এখন আর ওভাবে শোয়ই না। রাতে এলে কিরম যেন একটা করে। মা জানে, সূর্য এখন একা একা হিসির ওটা একা একা নাড়িয়ে ক্রিম বের করতে পারে। সূর্য জানে ওটাকে মাস্টারবেশন বলে। ইজাকুলেট করে টিস্যু দিয়ে মুছরে সূর্য জানে। তবু মা ইচ্ছে করে টিস্যু লুকিয়ে রাখে। সেদিন যেদিন রুম্পিদিকে মা ধরে ফেলে সূর্যর ঘরে সেদিনের পর। সেদিনের পর রাত্তিরবেলা মা-ও কেমন পালটে গেল। রুম্পিদির মতো মা-ও বলে ‘খা-খা’। ‘ধর- ধর’। সূর্যর ইচ্ছা না করলেও মা সূর্যকে জোর করে মায়ের হিসির গন্ধওয়ালা জায়গাটায় জিভ দিয়ে চেটে দিতে বলে। ইশ। কি যে নোংরা। আর রুম্পিদিরটা নোংরা কিন্তু কেমন নোনতা, স্বাদওয়াল। সূর্যর যে একদম ভাল লাগে না।

মনখারাপটা যেন আজ আর  কাটতেই চাইছে না। জিকোর মামাতো দিদি এল না সেদিন? নন্দিনী দি? জিকোর সঙ্গে এসেছিল এ ঘরে। সূর্যর আঁকা ছবি দেখে সারা ঘরে নেচে নেচে ছবি তুলে নিয়ে গেছে। সূর্য শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছিল। কি যে সুন্দর গন্ধে ভরে গেল ঘরে। চুড়ি পরেছে হাতভর্তি। আর সূর্যর মাথার চুল ঘেঁটে দিয়ে বলেছে ‘হ্যাণ্ডসাম ড্যুড’। তারপর মায়ের সঙ্গে জিকোর মায়ের কি ঝগড়া। সূর্যর বাবা আর দাদু কিনা চোদনখোর। সূর্যর মা কিনা এসকর্ট। সূর্য কিনা অ্যাবনরমাল অথচ অসভ্য। তাই সূর্যর ভুলভাল। একটু ঠিকের মধ্যেও ভুলভাল। সূর্য জানলা দিয়ে নিচে দেখছিল। গাড়ির গেট খুলে ওপরের দিকে তাকিয়ে নন্দিনীদি জিকোর মা-কে বলছে,

- একটা অ্যাবনরমাল ছেলে, কেউ বলবে এত পারভার্ট?
- বংশটাই খারাপ। শীলার মুখে শুনি তো। বাবা
   ঘরে মেয়ে ঢোকায়। সে মেয়ে ছেলের ঘরেও ঢোকে।আবার মা-ছেলে মিলেও নাকি…

ইশ, মাগো শব্দ আর গাড়িটা মিলিয়ে যেতেই সূর্য সঞ্চয়িতা খুলে বসেছে। সূর্যর সেদিনও নন্দিনীকে ডেকে বলতে ইচ্ছা করছিল,  ‘নন্দিনী আমার ভাল নাম রঞ্জন।’

রুম্পিদি এসেছে। সূর্য এখন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পড়তে শিখে গেছে।



   গুলশনারা খাতুন

Gulshanara Khatun
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS