Skip to main content



তিনটি লেখা নিয়ে এলেন : অর্ঘ্যদীপ রায়

কত বিমর্ষ লোহা

অনেকদিন লেখায় না থাকাটা অনেকটা শীতের না-স্নান বিলাসের মত। অথবা সদ্য বাবা হবার পর পৌরুষত্ব প্রমাণের প্রয়োজনহীনতার মত।সমস্যাটা হয় আকস্মিক লিফট বন্ধ হয়ে যাওয়াতে। তার না থাকে মাথার উপর মানুষের আনাগোনানা থাকে ফানুসের ত্বরণ ও মন্দনের স্বয়ম্বর সভা। আকাশের কোনো এক মন্দাকিনী উচ্চতায় অলকনন্দা সেনাবাহিনী অস্তমিত হয়। ভিসুভিয়াসের পাদদেশে পিঁচুটি চোখে আসে স্নেহের মিসিসিপি। মহম্মদের আদেশনামা নিয়ে উপস্থিত হয় সবুজ সোনাব্যাঙ। বর্ষা আসবে এমন জনশ্রুতি শোনা যায় বীজাণুদের রোয়াকে। কেউ কেউ অতিরিক্ত চোখ ধার দেয় অন্য বীজাণুদের। শ্যাওলা পড়ে প্রকৃতিতে।
কত বিমর্ষ লোহা তরল হবার ভয়ে শীতঘুমে যাবার প্রস্তুতি নেয়। কোনো বিপরীতধর্মী ঋতু উছলে ওঠে আর কেউ তাকে বন্দী করে ফেলে আগুনের ব্যবহার না জানা মানুষের টেস্ট টিউবে। এভাবে এক তেজস্ক্রিয়তা ছেয়ে যায় ঘোমটা জুড়ে। প্রত্যেকসকালে সিঁদুরের জন্ম হয়। প্রত্যেক রাতে কোনো নারী মাথা পেতে বসে থাকে নিচু হ্রদের পাদপ্রান্তে। একটি মাছ এসে সিঁদুর খেয়ে যায়। একটি নারী ও একটি মাছের এহেন সম্পর্কের কথা রাষ্ট্র হয়ে যায় জলপথে। ভারত মহাসাগরের মৎস্যকন্যা প্রজাতি ভাবতে পারেনি দীর্ঘদিনের এইসব অনাবিষ্কৃত পান্ডুলিপির ভেতর থেকে চিনির কৌটো খুঁজে নেবে কোনো বিকারহীন হার্মাদ কোরাল।
যেসব নাজুক শামুক শুয়ে থাকে ডাইনিং টেবিলের নিচে তাদের মানুষ গবাদি পশুর মর্যাদা দিল। গভীর গ্লাসে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয় ভাতের কণাগুলি। ক্যালকুলাস জানা ছেলেটি বই মেখে ফেলে সাবানের সাথে। দেওয়ালে তার নগ্নতা পর্যবেক্ষণ করে কোনো স্থূল আতস কাচ। যে ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ সেগুলো লাগিয়েছিল জনঘনত্বহীন দেওয়ালে তাদের সমাধিস্থ করা হয়েছে। কয়েকটি মানুষ মেরেছিল বলে তাদের নাকি বেহেস্ত জুটবেনা। একটি মটর গাছ চুমু খাচ্ছিল প্রকাশ্যে। তাকে ড্রেন রং করার শাস্তি দেওয়া হলো যাতে দৃশ্যদূষণ না ঘটে।



একটি পায়রা ও একজন মহাপুরুষ

একটি পায়রা ও একজন মহাপুরুষের কথা। একটি পায়রাখয়েরি ছোপের আকাশ আটকে থাকা তার ডানাগুলি। একজন মহাপুরুষ,যিনি দিনের পর দিনকাটিয়ে দিচ্ছেনশহরের একটি অখ্যাত হোটেলে। যিনি যন্ত্রের মত এক্সপেরিমেন্ট করছেন তার অজ্ঞাতনামা ল্যাবেযিনি সমস্ত পৃথিবীতে নিখরচায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবার স্বপ্ন দেখেন। যার রাতঘুমে ভিড় করে একটা ট্রাফিক সিগন্যাল। দুপাশ থেকে হাজারো ইলেক্ট্রনের আনাগোনা। কখনো লাল হয় সিগন্যালতিরিশ সেকেন্ডের জন্য গতিরোধ হয় অসমাপিকা ইলেকট্রনগুলির। পারাপার হয় কিছু উদাসীন নিউট্রন কণা।যাদের না থাকে বাড়ি ফেরার তাড়া,না থাকে নারীর ভালবাসানিস্তড়িত ভাবে ঘুরে বেড়ায় তারাকারো কোনো স্থায়ী ঠিকানা অথবা স্থায়ী ভালবাসা থাকেনা। ভালবাসার স্থায়িত্ব অথবা একমুখীতা তখনো আবিষ্কৃত হয়নি। ভালবাসা ছিল তরল। কখনো কোনো রাতের নিস্তব্ধ নিভে আসা ব্রীজে কোনো পাগলী ভেসে যেত মুখস্থ না করা জ্যোৎস্নাতে। কখনো মৃগেল মাছের পুকুরেরমৎস্যকন্যাএসে কড়া নেড়ে যেত কোনো গৃহস্থের দরজার শেকলে
মহাপুরুষের কথা। একটি মহাপুরুষ। যিনি কখনো কোনো নারীর ব্লাউজে ভালবাসার গন্ধ পাননি। একটি মহাপুরুষ,যিনি হাজারো নগ্ন দেহের ভিতর একটি পিপেট ও একটি ব্যুরেটে মনোনিবেশ করেছেন। যিনি চাইছেন পৃথিবীটাকে বদলে দিতে,উপচিয়মান যৌনথলির ভার যার বেডশিট বহন করেছে আর করেছে ওই আর্দালিরা। এমন বীতকাম পুরুষ তারা কেউই দেখেনি। এর মধ্যে ভাস্মর হয়ে থাকা একটি পায়রা। যাকে মন দিয়ে ডাকলে সে এসে যায় কোনো তুষারাবৃত জানলায়। যার হৃদযন্ত্রে রাখা থাকে তেজস্ক্রিয় কোনো চেতনা। একটি পুরুষ সেখানে প্রবেশ করতে পারে। একটি পুরুষ ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটায় সেই পায়রার সাথে। কেউ কারো ভাষা বোঝেনা,কেউ বোঝেনা কারো অবচেতনের অংশটুকু। রাত বাড়লে পায়রা চলে যায়। পুরুষ বাধা দেয়না। একটি পায়রা একটি পুরুষের প্রেরণা হয়ে আসে। এভাবে ভালবাসার উদাহরণ তৈরী হয়। যে উদাহরণ দিলে পারভার্ট হয়ে ওঠে টেক্সটবুক। যে উদাহরণ দিলে সাইটেশন এর অভাব ঘটে। সেই পায়রার সাথে কোনো চাঁদের আলোয় বিদ্যুতহীন এক ইউটোপিয়ায় মিশে যাবে একটি মহাপুরুষ। কয়েকটি ইলেকট্রন তাদের মৃতদেহ বয়ে নিয়ে যাবে। অবশ্য পায়রার কোনো উইকিপিডিয়া লেখা হবেনা। মহাপুরুষের কফিন দ্রবীভূত হবে কোনো আয়তক্ষেত্রাকার মাটির গহ্বরে।

“I have been feeding pigeons, thousands of them for years. But there was one, a beautiful bird, pure white with light grey tips on its wings; that one was different. It was a female. I had only to wish and call her and she would come flying to me. I loved that pigeon as a man loves a woman, and she loved me. As long as I had her, there was a purpose to my life.”
~Nikola Tesla



একটি রবীন্দ্রসন্ধ্যার কথা

একটি রবীন্দ্রসন্ধ্যার কথা বলা যাক। একটি সন্ধ্যাতেফসলী একঅডিটরিয়াম ও বহুমাত্রিক অডিয়েন্স। পর্ণমোচী উদ্ভিদের পাতা ও পর্ণরুচি মানুষের উপবৃদ্ধি ঝরানোর দিন। জমজমাট ছিল সভাগৃহ। তার ডান অলিন্দে ছিল ছাপোষা পায়রাবাম নিলয়ে ছিল কেচ্ছাপ্রবণ গ্রীনরুম। যেখানে বিদেশ-গিয়ে-ভুলে-গেছ টাইপ প্রেমিকা ও বাদ্যযন্ত্রে-অ্যাসিড-ভরা-থাকে জাতীয় অল্টারনেটিভ রক সঙ্গীতশিল্পীর দৃষ্টি বিনিময় প্রতিবন্ধকতাময় হয়ে ওঠে।
আর থাকে পৌনঃপুনিক প্রবেশ পরমহংসের। যাকে প্রত্যেক প্রহরে পাঞ্জাবী বদলাতে হয়প্রত্যেক নারীতে বদলাতে হয় আতরের ব্র্যান্ড। মুশকিলটা হলোপ্রত্যেক নারীও পরষ্পরের গন্ধ সম্বন্ধে এমনটি অবগত যে স্বrapধন্য ডিরেক্টর কিউ থাকলে অনায়াসে জাবৃস্কি পয়েন্টএর অর্জির দৃশ্যটা রিক্রিয়েট করে ফেলতে পারতেন। অবশ্যই পরমহংসেরসাথে ছিল তার পরিবার। যে পরিবারের ঠাকুরদা স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধীর কোলে শুয়ে রূপার চামচে দুধ খেয়েছেনযে পরিবারের বাবা বৃহল্লাঙ্গুল ছদ্মনামে ফানন্দহাট পত্রিকায় প্রত্যেক বেস্পতিবার কলাম লিখে ডলার দেশে পেনীমাধব হয়েছেনযে পরিবারের মা ৪০ বছর বয়সে সবচেয়ে বেশিবার মাগো-আমায়-ছুটি -দিতে-বল আবৃত্তি করে লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে নাম তুলে ফেলেছেন এমনকি যে পরিবারের ছেলে অর্বাচীন বয়সেই এমন ভিয়োলিন বাজায় যে দর্শক ছ্যার ছ্যার করে কেঁদে ফেলে। অবশ্য সমস্ত দর্শক কাঁদতে পারেনা। তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা ও প্রত্যুত্পতিমন্নতার মাঝামঝি কিছু প্রতিষ্ঠানবিরোধী চেয়ারে বসে মাইরি-অনুষ্ঠান-কখন-শেষ-হবে-হেবি-খিদে-পেয়েছে মূলক হাংরি জেনেরাসনের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ও এ.সি র তাপমাত্রার একটা ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক আছে। মধ্যযুগীয় গিলোটিন যন্ত্র ব্যান হবার পর থেকে এহেন বেশি-ট্যাফো-করলে-পেটে-ঢুকিয়ে-দেব অস্ত্রগুলি প্রতিষ্ঠান বিরোধী লোকজনদের ভয় দেখানোর কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ওদিকে বুদ্ধ আটকে থাকেন ট্র্যাফিক জ্যামে। মাহী গিলের ব্লাউজ ছেঁড়ার দৃশ্য দেখিয়ে বাঙালির প্রাণের ভিলেন বিপ্লব চ্যাটার্জির পুণর্জন্ম ঘটানো হয়। অনড় থাকে রবীন্দ্রজয়ন্তী রবীন্দ্রজয়ন্তীতে। পরবর্তী স্টেশনের ঘোষণার মত স্থবির হতে হতে বাবু-এই-দুমাস-হলো-শিখছেআমরা-সেন্টু-কোটা-নাচের-জন্য-কস্টিউম-লাগে-নাগীতবিতান-থেকে-টুকে-এ ফোর-কাগজে-দেখে-দেখে-গান-করি সন্ধ্যে রাত্রে এসে গড়ায়। বিষণ্ণতা লেগে থাকে আলু পোস্তের নুন-কেন-কম-হলো আক্ষেপে। বেগুনী সার্বজনীন হবার আনন্দে পরের ব্যাচের উদ্বেল স্বাদকোরকে বিলীন হয়। শেষ ব্যাচে এসে শিথিল হয় নিয়ম। যে বৃদ্ধ পরের বছর অবসর নেবেসে বেশি বেশি করে লেগপিস পরিবেশন করে। তার কাছে ছোট-মেয়েটা যার অনেক দূরে বিয়ে হলো তার বরযাত্রীর সাথে এই আমরা-সবাই-রাজা ভলেন্টিয়ারদের কোনো প্রভেদ ছিলনা।



অর্ঘ্যদীপ রায়
Arghyadip Roy
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS