Skip to main content

Posts

Showing posts from June 26, 2016



তিনটি লেখায়ঃ শাশ্বত মুখোপাধ্যায়

শেফালি
দূর্গের নীচের তলায় বসিয়ে রেখেছিলাম সমস্ত আবাদ জমিন পরবর্তী বর্ষার পূর্বাভাসে। দড়িতে শুকোচ্ছে  পাহারার অগুন্তি মোড়। দোতলায় সাজানো দাবার বোর্ডে মোক্ষম চাল দিয়েছে জানলা ডিঙোনো শেফালির রোদ।  



চাঁদ যখনও পুরো না
নৌকোর মধ্যেই উড়ে যাচ্ছিল অ্যাল্‌বাম। পাতার আওয়াজে বাজনা। জঙ্গল থেকে জঙ্গলে এগিয়ে গেছে দেওয়াল।  বয়েছে নদী, জলপ্রপাত, সুন্দরী গাছেদের ছায়া। এভাবেই বারান্দার গল্পে মজেছে বয়স। 



কমিউনাল
আয়েশা চিরকালই ইসলাম নিয়ে থেকে যাবে এ’কথা বলে উঠবে ভেবেছিলাম কিংবা নিদেন পক্ষে যদি খ্রীষ্টান হয়ে যায় সে’সবও। আয়েশা আমাকে ধর্ম বিষয়ে যে’সব বলেছিল তাও জানিয়ে ফেলি, ওরাও জানত আমি ধর্মান্তরিত হয়ে যেতে পারি। ততদিনে  কয়েকবার মসজিদে গেছি, রকমারি ভালো লেগে গেছে।





শাশ্বত মুখোপাধ্যায় Sashwata Mukhopadhyay

অঙ্গনা কুন্ডুর আঁকা পাঁচটি

Dystopia I

Dystopia II

Eclipse

Narcos

Serenity














অঙ্গনা কুন্ডু
Angana Kundu

চারটি লেখায়ঃ নীলাব্জ চক্রবর্তী

সঙ্কেত
সেতুর দু’পাশে অসমাপ্ত হচ্ছে হরফসভ্যতা। বোকা বোকা বাক্স আর তাদের রূপটান। অনস্তিত্বটুকুই শুধু থেকে গ্যাছে। অবস্থানহীনতাটুকু। তার আয়নায় রেশম রেশম বলে ডাকতে জেনিফার একটা রঙ হয়। এরও পর আঙুল বিনিময় করবে কেউ। ভাষায় ফিরবে কেউ। যোনিতে ফিরবে। অথচ ব্যবহারকে ভাষা করতে করতে ফসিল পুড়িয়ে এই অ্যাতোদূর। এভাবে শহর জুড়তে জুড়তে ঘর। শব্দকে বন্ধ ভাবছো। আর চিমনীর ভেতর দিয়ে নেমে যাচ্ছে গাঢ় হতে চাওয়া সঙ্কেত...


বাই বাই সার্কাস
তুরুপের ম থেকে ম-কার থেকে একটা ফিনফিন উড়িয়ে দেওয়ার কথা। ঘন হয়ে আসা পরবর্তী মিডশট। আপনি আর আপনারা। আয়না ভাবছিলেন। ডাবল রোল। অনুষ্কার গায়ে ছুঁড়ে মারা বালিশ চতুর্থ দৃশ্যে ফিরে আসছে অনুষ্কার অ্যান্টিম্যাটারের গায়ে। ম্যাজেন্টা বাউন্স অত স্বাদু ছিলো? পারদ সরে যাওয়ার পর খুলে পড়ছে গল্পের বিজ্ঞাপনী লুপ আর দ্যাখা যায় নভেম্বরের করিডোর জুড়ে একটার পর একটা বাই বাই। সার্কাসের আস্তিন থেকে গড়িয়ে যাওয়া হাফ-ডে রাস্তা পার হচ্ছে...


অভ্যাস
ঝুঁকে আসা একটা কমলা অভ্যাসের নাম মনীষা। লুপ্ত একটা তন্তুদাগ। আর আমাদের সারা বিকেল ম। লেখার পাতায় মিশে যাওয়া গুঁড়ো গুঁড়ো চাসনালা। হ্যালো।লক্ষ করুন রোদে ভেজানো পঙক্তিগু…

Love will keep us alive: সোমতীর্থ নন্দী

Love will keep us alive

ঠিক তলপেটের কাছে একটা চাপা চাপা স্পার্ক এলে বাবু বুঝতে পারে তার প্রায় হয়ে এসেছে, এমনিতে এখানে এসি তে খুব গরম টরম এর ব্যাপার নেই (চললে পরে, না চললে এঘরে ঢোকার কোন সিন নেই) কিন্তু তাও বাবু ঘামছিল। এরকম কেস রেয়ার। বছরে একটা কি দুটো। ডকুমেন্টে ফিমেল ২৪ দেখেই বাবুর ছোটভাই সাড়া দিতে শুরু করেছিল, তারপর যখন দেখল যে কেস মাত্র দু ঘন্টা আগে এক্সপায়ার্ড, তখন তো উত্তেজনায় বাবুর গায়ে কাঁটা দিচ্ছে, বডি এখনো স্টিফ হয়নি খুব একটা। সই সাবুদ করে লোকজনদের ভাগালো বাবু যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। কাল অটোপ্সি হবে। আজ এই একটা রাতই আছে বাবুর হাতে। অটোপ্সির পর আর কিছু করা সম্ভব হবেনা বাবুর পক্ষে। ইদানিং হোলনাইট ডিউটিগুলো রেগুলার পাওয়ায় বাবুর আগের মত অসুবিধা হয়না। হাসপাতালে ফোন করে নিল বাবু একবার, আর কোন কেস আছে কিনা শুনতে। নেই। নিশ্চিন্ত হয়ে বাবু দরজা খুলে ঘরে ঢুকল এবার। এখনো ড্রয়ারে ঢোকানো হয়নি বডি, মুখের ওপর থেকে ঢাকাটা সরিয়ে বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে গেল বাবু, এতো শুধু সুন্দরী নয় রীতিমতো রূপসী বলা চলে এঁকে, একটু ফ্যাকাশে রক্তহীন লাগছে। মেয়েটির ঠিক গলার নীচে ছুরি বা চপার ঢুকিয়ে কেউ…

তুমি বিশ্বাস করো আর নাই করোঃ উজান

তুমি বিশ্বাস করো আর নাই করো
১ মুহূর্তের সাথে মুহূর্তের সঙ্গম দেখে আমি যার শরীরের কাছে ছুটে যাই - তার শরীর নেই, প্রেম আছে শুধু; তুমি বিশ্বাস করো আর নাই করো, আমার শরীরও তার অশরীর দিয়ে গড়া
২ যে কোন অন্ধকার সময়ে আমি তাঁর অশরীরে হাত রেখে দেখি - আমার গহ্বরগুলি চোখে পরে বসে আছে সে, টান দিলে অন্ধের চোখ থেকে মণি উঠে আসে... হে আঙুল, তুমি বিশ্বাস করো আর নাই করো, এক অনন্ত যুদ্ধের জন্য আমরা দুজন শিখে নিচ্ছি নাগভাষা
৩ আমার অর্ধেক অঙ্গের পরে যে মাটি শুরু হল সে কোন মানুষী নয়, আকাশের মতো শুন্য হতে হতে যে আমাকে দেহদান করে তাকে আমি মা বলে ডাকতে ডাকতে বিবাহ করি, সন্তান বলে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে জুড়ে যাই সঙ্গমে... তুমি বিশ্বাস করো আর নাই করো, একবার মৃত্যুর পর প্রেমিকের পুনর্জন্ম কোন মানুষীর গর্ভে হয় না।










উজান Ujaan

কবিতা তিনটিঃ অভিষেক রায়

বিশল্যকরণী
         শরীরের বিন্দু নিয়ে ভাবি
         অবশেষে সেই কসরৎ          উইলিয়ম-এর সিগারেটের প্যাকেট থেকে টেনে তোলা          আধ-ল্যাঙটো সকালবেলা
         আজ এপ্রিল          অমৃতবাসনা আজ এইসব নিয়ে ভাববো না
         কপাট খোলা কত নিরন্তর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দেয়          ও প্রশ্নের মুখে নাম্বার ওয়ান
         মর্ত্যধাম, তাই অভিমান এতো বন্দ্যোপাধ্যায়
         তাই তো সূচাগ্র          মিসিসিপি ধরণের খাতা সৃষ্টি করে   



মধুমাস
ব্যস্তময় শহরের বালুকারাশি ও গ্রামাফোন         গ্রাম নয়
        অনামিকাটা দেখি         অনির্বাণ নয় এই সমস্ত গৃহশোভা
        লোলুপতা
        আলোদের প্রস্তুত-পর্বের প্রাসঙ্গিক সময় দাও
        তুমি জান না         সমস্ত সকল বানান-ভেদ
        জান না         গিরিডির সুনিশ্চিত বৈশাখী আবহাওয়া




ভূগোল
  কিছু বন্ধু-প্রতিমা নিরুদ্দেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো ভালো!

কন্ডোম…চু, সানি লিওনি…কিতকিত - সাইরুল মিশকিন

কন্ডোম…চু, সানি লিওনি…কিতকিত
কল্যানী স্টেশন। তিন নম্বর প্লার্টফর্ম। এই সন্ধ্যেবেলা এক নম্বরের চেয়ে দুই এবং তিন নম্বর প্লার্টফর্মটা ফাঁকাই থাকে। বসার জায়গাগুলো ছাড়া। ফুটব্রিজ থেকে নেমে তাই বেশ খানিকটা এগোতে হলো। বিলাসী ভঙ্গীতে একটা বেঞ্চ একা একাই বসে আছে। চমক হ্যাপেন্স। তাই এগিয়ে যাওয়া গেলো। শিট হ্যাপেন্স। ব্যবহৃত একটি কন্ডোম সমস্ত ক্লান্তি নিয়ে নির্বিকার ল্যাম্পপোস্ট বদনে বসে আছে। সিম্পলি বেঞ্চটার উল্টোদিকটাতে বসা যেতো এক নম্বরের দিকে মুখ করে। যেভাবে ক্রমশ ফাঁকা হতে থাকা মাথার একপাশের চুলকে বেশি লম্বা রেখে সেটাকে দিয়ে বাকি টাকটা ম্যানেজ করা হয়। তবুও এই মুহুর্তে  দৃষ্টি নিংড়ে নিল বিভিন্ন ফ্লেভারের ভেতর থেকে বেছে নেওয়া সেই ফ্লেভারটি যে বেঞ্চের রোজনামচায় ডেইলি সোপের সি বিচে সানি লিওনির ভঙ্গীতে সামাজিক অস্বস্তিকর ফ্লেভার ছড়াচ্ছে। কলেজ ফেরত একটা ভিড় যেমন হল্লা করতে করতে আসছিল, মুহুর্তখানিক থমকে, দিগুণ হল্লায় সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। হল্লার ভেতর থেকে সচেতন সাজেশন, ছবি তুলে ফেবুতে দিলে কেমন হয়? কিন্তু যথাসম্ভব কারোর ওয়ালেই উপযুক্ত ডাস্টবিন নেই। তাই প্রস্তাবিত বিষয়টি কন্ডোমটির গতরাতে উৎসাহী হলো।…

উজান, শেষ ক্যান্টোঃ কৌস্তভ চক্রবর্তী

উজান ৪


উজান ৫


উজান ৬


উজান ৭








কৌস্তভ চক্রবর্তী Koustav Chakrabarty

দুটি লেখাঃ শুভঙ্কর দাশ

শ্মশান-বন্ধু
কতদিন ধরে বন্ধু হতে চেয়েছি তোমার কত সব চিঠি – যা রোজ লিখি, যা পাঠানো হয়নি, হৃদয়ের টালমাটাল প্রেম অপ্রেম তুমি নজর দিলে না।
তোমার পাশে বসে আমি তো টের পাই আমাদের সেই সব ধুধু দূরত্ব সেইসব পথ যা বলে না - ঘেমে গেছ দেখছি। একটু বসবে কি? জল খাবে?
আজ ভাবছি তোমার সাথে সাথে যাব চুপি চুপি তাকিয়ে দেখব চারিদিকের হট্টগোল কান্না আশা হতাশা এক সাথে ঝাঁক বেঁধে বসে থাকা এই সামান্য মানুষের, আরেকবার তারা এসেছে অগ্নিশুদ্ধ হতে।
তুমি হু হু আগুনের ভেতর চলে গেলে পালিয়ে এসে বাইরের রাস্তায় সিগ্রেট নিয়ে খেলব খানিক। পাছে শ্মশান-বন্ধু হিশেবে ডাক পড়ে ডেকে ফেলে কেউ।  




আজ ছুটি
আরেকটা সকাল মানে নিজেকে বোঝানো সিগারেট খাওয়া ঠিক নয়। চোখ খুলে ফের বুজে ফের খুলে ঠিক করতে পারছি না বিছানা থেকে উঠবো কিনা? কফিটা কি এখন খাব?
কফির আগে ওষুধ খাব না পরে? ভুলে যাব না তো?
যেভাবে ভুলে যাই গাদা গাদা কবিতার লাইন। তখন ভেবেছি মনে থাকবে ঠিক, কিন্তু সকালে চোখ খুলে কিছুই মনে পড়ে না

তিনটি লেখায়ঃ অরূপরতন ঘোষ

কবিতার খাতা
আমার কবিতার খাতা পেয়েছে ঈশ্বরের স্পর্শ
স্পষ্ট অক্ষরে সে লিখে গেছে ৩টি শব্দ
WATER-HOME
রাজা (এবং)
বাঁটু
ছবিও এঁকেছে এক, তবে তা নেহাতই নৈর্ব্যক্তিক,
কয়েকটি রেখার সমাহার মাত্র –
তথ্য বিনিময় অংশত অসম্ভব এখানে
কেবল নির্জনতা নয়
অদূরে জনগন আছে, রাজধানী আছে
ফলতঃ ঈশ্বরের হাতের লেখা আমি দেখাই না আর
সাবধানবাণীর মতই একান্তে রয়েছে তা
জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে কেনা কবিতার খাতায়


গুরাস
অকল্পনীয় সুরায় ভরে গেছে এই ভোর
চাঁদের দুপাশে --
অল্প বিশ্বাস রেখে চলি,
দেখি, হাতের তালুতে ব্রোমিন মিশেছে আজ
পায়রার ওড়া সব মিশেছে আকাশে।
আকস্মিক, মেঘের মধ্যে এক ব্রিজ ভেসে ওঠে --
জলপ্রপাতের ডাক,
চার ঘন্টা হাঁটতে হবে এখন
মধ্যপথে নাকি দেখা যাবে
পাথরের খাঁজে বিশ্রামের মত সুশীলার মুখ
আটকে রয়েছে কোথাও !



ডুয়ার্স
ক. নৈশাহার সেরে ভিন্নতর কিছু নয়,
বৃষ্টির রাতে দুর্গের কথা আলোচনা করি –
শ্বাপদ সংকুল এই জনপদ;
কাছেই কোথাও ক্ষিপ্র চিতাবাঘ পিটিয়ে মারা হয়েছে
ঘুনাক্ষরে আছে তুমুল হর্ষ। যদিও কেউ কেউ
সংশয়াতুর দৃষ্টিভঙ্গী থেকেও বিষয়টি বিচার করছেন

খ. শরীরের কাছেই পূর্বপুরুষদের ফটোগ্রাফ,
এই রাত্রে অক্লেশে
রূপোবাঁধানো ছড়ি হাতে তাদের আর্তনাদ
এব…
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS