Skip to main content

Posts

Showing posts from July 10, 2016



তিনটি লেখাঃ জয়দীপ মৈত্র

১) তুলোচাষ থেকে কতদূরে থাকে ক্ষত কখনই দোষ দেওয়া যায়না
কোনোকিছু অর্ধেকটা পোড়ার নামই দরজা
অথবা জল যে পাথর আঘাত করতে ভুলে যায় ভাঙা কাচে তাকেই তো খুঁজি


২) আয়না ডুবে গেলে               ক্ষুরধার হয়ে ওঠে গোলাপী পাথর
জল শুকিয়ে এলে দেখি কাচের টুকরোর ওপর মেয়েটি নাচছে রক্ত পড়ছে না, জলপাত্র তাকে এমনিই অন্ধ করেছে


৩) নৌকোর অপেক্ষা করো যতক্ষণ না মাঝি হারিয়ে যাচ্ছে
ঘুম আসলে পাথরের আয়না
মাছের চোখে পাতা নেই বলে বাতিল মশারী ছড়ানো হয়েছিলো বহুদূর    


তিনটি লেখাঃ অনিন্দিতা ভৌমিক

সংলাপ আবহাওয়া গড়িয়ে যাচ্ছে সংলাপের দিকে
সহজ আলোয় চোখ রাখাই যখন অনায়াস হয়ে উঠছে তুমি বই আর জন্মান্তরের ফাঁকা জায়গায় নির্বিকার লিখে যাচ্ছ আলো-ছায়া অক্ষর
পরিধি বরাবর বিচ্যুতি
ভারসাম্যের দিকে ঝুঁকে আসছে নিঝুম/
চোখের পাতায় মানিয়ে নেওয়া এই নিরিবিলি বাতিল না-হওয়া সোহাগ



মাঙ্গলিক    এখানে নেমে আসছি ধানফুলের কাছে আর তুমি মেঘলা ফেলে দিচ্ছ পুরনো হয়ে উঠছ চাবাগানের ভেতর অনেকটা জুড়ে
প্রতিটা মুলতুবীর গায়ে চিহ্ন ঝুলছে না হাঁটছি শুধু বিষন্ন একটা দরজার নামে
ঠান্ডা আয়ুরেখা ছুঁয়ে তোমাকে ভালবাসছি গো ভাতের ফুল
নুন-লংকা সাজিয়ে দিচ্ছি পূর্বজন্ম মেখে ছিটে-ফোঁটা মা গন্ধের পাতে



নববিবাহিত কেউ ক্ষমা হচ্ছে না বাৎসরিক শুধু দু -চারটে ডাকঘর
ওপারে শিকড় নেমে এলে সারারাত মেঘলা জমিয়ে রাখছ দস্তানা থেকে মুছে যাচ্ছে, আঙুল
কিভাবে বেছে নেবে দূরপাল্লা? বুকপকেটে যখন আটকে থাকছে ঘুড়ি আর জলের দিকে ঝলসে উঠছি না...কিছুতেই


দুটি লেখায়ঃ অমিত দে

দোল
সবুজ যখন শরীর হয় হাঁটার ভেতরও সে                      অভিমান খোঁজে
পাখির ডাকেও তো ভোরের বোঝাপড়া আর পুকুরের একাকীত্ব
কয়েকটা কল্পতরু পেরিয়ে এবার দখিনের হাওয়া— বীজ ও পূর্ণিমা জলে ভাসিয়ে যেকোনো মুহূর্তে স্তব্ধ হতে পারি ঘূর্ণনের কাছে


সাদা সুতোর রিল
আপনি বড় ভালো বললে পকেট সুতো গুটিয়ে নেয়। ভালোবাসার বদলে ভালোবাসা বললে আভিজাত্য ঘুমবেলায় পাঁজরের গিঁট খোলে। কে না চায় একটু উড়তে? কখনো একে একটু কাছে বসাও বলা যেতে পারে। ঐ যে একবার দুলিয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের উষ্ণতা আর বোঝাপড়া পাশাপাশি বসেছিল।
হলুদ ঘুড়ি সবুজ ঘুড়ি সবাই মাঝে মাঝে অনুযোগে একাকার— আকাশ আমার হল কবে! এই তো সেদিনও সবুজ ঘুড়ি সুতোতে মাঞ্জা মাখিয়ে নিল।সময়ে সময়ে সবাই... । আপনি বলেছিলেন প্রত্যাশায় প্রত্যাশায় গিঁট পড়েছে, এবার গুটিয়ে রাখাই ভালো। কিন্তু আকাশ আমার হল কবে?
আমি তো পিছলে যেতে যেতে পৌঁছে যাই পাশের ঠিকানায়— শব্দ পেয়েও চেয়ে নিই বর্ণের উল্লাস...






অমিত দে
Amit Dey

চারটি চর্যাগীতিকোষবৃত্তিঃ অভিজিৎ পাল

চতুর্থ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
পুনশ্চ যোগিনীর সঙ্গে তীব্রতর আলিঙ্গন করি। আবদ্ধ হই কমলকুলিশ ঘেঁটে। ক্ষণসময় ব্যাপ্ত হয়ে ওঠে নিকষ মৃত্যুর মতো। ঠোঁটের উপর চুম্বন আঁকি। মোহাতুর হয়ে উঠতে এখনও অনেক পাঠ বাকি আমাদের। মণিমূলের গা বেয়ে উঠে আসে যাপনগুলো। বন্ধ ঘরে এঁটে রাখি একান্তযাপনের তালাচাবি। কেটে ফেলি চাঁদ-সূর্য মাপা বিধিদীপ্ত সময়। গুণ্ডরীপাদ সিদ্ধাসনে বসে আমায় শেখায় সুরতক্রিয়ার রীতিপদ্ধতি। শিখি। অভ্যেস করি। সিদ্ধতায় জেগে উঠি। সমাজবদ্ধ নর-নারীর মাঝে তুলে ধরি আমাদের ব্যতিক্রমী বিজয় পতাকা।


পঞ্চম চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
পুনশ্চ আমার চেনাদিনের নদীটির বুকে যৌবনের বেগ আসে। তীর বেয়ে জমে ওঠেআমার আজানুলম্বিত কদর্যযাপনের ক্লেদ। কবি চাটিলপাদের হাত ধরে হাঁটি ধর্মসাঁকো উপর দ্বৈত পদগমনে। পারাপার করতে শিখি একা একা। নিচ দিয়ে বয়ে যায় আমার বেগবতী। ঘোর কেটে আসে, মোহতরু কাটি। অদ্বয়টাঙ্গী হাতে ধরতে শিখি নিপুণতায়। আঘাত করি। প্রতিটি পদক্ষেপ সাজিয়ে তুলেছি ভোরের গন্ধে। নির্দিষ্ট কথায় মধ্যমার্গে স্থিতধী হই। অগ্রসর হতে শিখি সাঁই চাটিলপাদের হাত পা শরীর ছুঁয়ে। নিকটবর্তী উন্মুক্ত বোধিচিত্ত হাতছানি দিয়ে ডাকে। সন্ধান করে ফিরি...


ষষ্ঠ চর্য…

হাসপাতালঃ স্নেহাশিস ব্যানার্জ্জী

হাসপাতাল সেই যে মেয়েটি, সামনে বসে -
সে শিখে নিয়েছে সবকিছুই আসলে সংখ্যা, অঙ্ক। তেরো নম্বরের অষ্টম গর্ভে আবারও কন্যা ভ্রূণ,
উনিশের দেহ থেকে রক্ত শুষে নিয়েছে কারা,
একুশের দেহ পুড়িয়ে দিয়েছে স্বামী। মেয়েটির গায়ের রঙ ফর্সা,
বাঁ হাতের নখে নখপালিশ পরে,
চোখে হাল্কা কাজলের ছোঁওয়া।
মৃত্যু দেখলে রুমালে চেপে নেয় নাক,
চেঁচিয়ে বলে 'নেক্সট'। সংখ্যারা ভাঙতে থাকে ঘড়ির সাথে সাথে,
মেয়েটির দেহ থেকে গলে গলে পড়ে তেরো, উনিশ, একুশ;
কেউ বা আত্মীয় হয়তো, কেউ মা, কেউ হয়তো অসমাপ্ত কোন কবিতা। রুমালে নাক চাপা, প্রতিধ্বনিত হয় 'নেক্সট'
বাঁ হাত কাঁপছে, চোখে চেপে রাখা জল তবু মুখে হাল্কা হাসি, 'আসুন, তেরো, উনিশ, একুশ খালি আছে।'






স্নেহাশিস ব্যানার্জ্জী
Snehashis Banerjee

দুটি লেখাঃ অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্যাটারি তলের কথা ব্যাটারি তলে যে দেশ পড়ে থাকে আমরা প্রতি নিয়তে তার চার্জার হই একটু দুলে দুলে বসি তার চারপাশে সে কেঁদে উঠবে এই ভয়ে মাঝে মাঝে পাখা বোলাতে থাকি
ক বলে, সকালের ডাল পোড়ার মতো এবেলাও কিছু পোড়া জুটবে নিশ্চই রোদ্দুরের সাথে ছাইপাঁশ পুড়ে গেলে যে গল্প পাওয়া যায় তা দিয়ে আমাদের প্রেমঘটে বটে কিন্তু বেচারা দেশ ওকে কে লাগাম দেয়?
এই শুনে খ বলে ওঠে, ব্যাটারি থেকে বের করে এনে ওকে ফ্রিজেই রাখবো ভাবছি দু কদম হাঁটলেই ওর পা মচকে যায় লড়বড়ে বেচারার চারখানি হাত পা একটু আলতো জুড়াক ফিরিজের সাথে ঠান্ডা হাওয়ায় পুড়াক দেখো যেন ব্যথা ট্যথা না পায়
কেউ তো আবার গ গ করে, এই যে আমরা প্রতিদিন দেশ দেশ খেলি

কবিতার শব্দঃ দুই - শুভ্র চট্টোপাধ্যায়

কবিতার শব্দঃ দুই
 র‍্যাকেটে তোমার উলেনা বাগান প্রতিটি মোমবাতির ওপাড় থেকে ডাক দিচ্ছে বিস্ফোরণ।
এই কবিতাটি উল্লেখ করে আগের পর্বে জানিয়েছিলাম যে, এর রসোদ্ধার বা মর্মোদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে এই ধরনের কবিতা বছরে দু-তিনটের বেশি কোনও কবির লেখা উচিত নয়। কিন্তু বিশ্লেষণের যে রীতি মেনে এই সিদ্ধান্তে এসেছিলাম, সে রীতি এখন তামাদি হয়ে গেছে বলে অনেকে মনে করেন। কবিতাটিকে পড়তে হবে ভিন্ন ধারনা ও রীতিতে। সোজা কথায়, কবিতা সম্পর্কে লালিত সব রকম ধারনাকে ‘মিথজ্ঞানে’ উড়িয়ে দিয়ে পড়তে পারলেই উক্ত কবিতা পড়ামাত্রই তুরীয় আনন্দলাভ সম্ভবপর। কারণ কবিতা হলো ‘বিমূর্ত’।
এবার ‘বিমূর্ত’ শব্দটি নিয়ে ভাবা যাক। এটা ইংরিজি এবস্ট্রাক্ট শব্দের সঙ্গে মেলে। যার মূর্তি বা স্ট্রাকচার হয় না, তাইই বিমূর্ত। প্রেমিকার মূর্তি গড়া যায়, কারণ তাঁকে চোখ দিয়ে দেখা গেছে। অথচ ‘প্রেম’ –এর আকার কেমন, তা বলা যায় না। ভারতীয় দর্শনে অবশ্য ‘রূপ’ শব্দটি জনপ্রিয়। ইংরেজি ‘ফর্ম’ আর ‘রূপ’ একই ব্যাপার। একে ‘আকার’ শব্দ দিয়েও বোঝান যায়। রূপ অথবা মূর্তি হতে পারে এমন সব কিছুই ‘মূর্ত’। বোঝাই যাচ্ছে যে, যা মূর্ত তা চোখ নামক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। আকার নেই এমন জিনিস …
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS