Skip to main content

Posts

Showing posts from July 17, 2016



রথের মেলায় কয়েকটা নতুন মেঘ নিয়ে - শুভঙ্কর দাশ

রথের মেলায়
রথের মেলায় যাব যাব করে
উল্টোরথও চলে গেল।
রঙিন মাছের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকব চুপচাপ
দেখব আমার ছোটবেলাও জুলু জুলু তাকিয়ে রয়েছে
এঞ্জেলের কেরামতির দিকে
আর হাত দিয়ে পকেট টিপে দেখছে কত আছে।
একটা ঘাড় নড়া বুড়ো এবার কিনব ভেবেছিলাম।
এখনও কি এইসব বুড়োবুড়ি পাওয়া যায়?
জলে চক্রাকারে ঘোরা টিনের ভুটভুটি খেলনা লঞ্চ?
কালি ভর্তি কাচের সারস পাখিদের নাচ?
এখন অবশ্য পাঁপড় আর জিলিপির দোকান
দূর থেকে তাকিয়ে দেখার।
খেলে একপাতা জেলুসিলও কিনে নিতে হবে
লোভের কথা বলা তো যায় না।
যদিও আমি বেঁচে থাকি লোভে
লোভ করি বলে।




কয়েকটা নতুন মেঘ
তোর তো কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই
তাই ফিরে এলি আমার বাসায়।
পৃথিবীটা দেখতে গিয়ে দেখলি
সবাই কেমন হাত ছেড়ে দিলো।
ভাগ্যিস আমি কখনো আটকাতে চাইনি
তাই আমার কাছেই ফিরে আসা যায়,
ফিরে আসা সোজা একেবারে কইফিয়তহীন।
একদিন বেল বাজতে দরজা খুলে দেখি
এক বন্ধু দাঁড়িয়ে।
পিঠে দড়াদড়ি দিয়ে বাঁধা বেড-রোল।
কীরে, কী ব্যাপার?
আমি পৃথিবীর পথে বেরিয়ে পড়েছি।
ভাবলাম কোনো সুদূর পথ বুঝি
কোন অন্ধকার গুহায়
ধুনি জ্বেলে সাধুসঙ্গর আশা।
কোথায় যাবি?
আপাতত রবীন্দ্রসদন। 
শুনে হাসি চেপে ভাবি
এটাওতো পৃথিবীর ভেতরেই পড়ে।
যাক কটা দিন পরে ছাদে উ…

দুটো-চারটেঃ গুলশনারা খাতুন

দুটো-চারটে
১. আমাদের গল্পে টাইম জাম্প থাকে না। ফলে, বলিউডি কায়দায় জামা পালটে মুখ দেখালেই পিড়িং করে মানুষ পালটে পানকৌড়ি হয়ে যাবে না মোটেই।  এই যেমন কুয়োপাড়ে মা বাসন নিয়ে বসতেই, মাথার দিকের জানলাটা খুলে দিয়েছে দিব্য। পাঁচ বাড়ির লোকের বাসন বাসন ডাই করে এনে মা এখন ১ ঘন্টা আপন  মনে গজগজ করতে করতে বাসন মাজবে। দিনের এই সময়টা , এই একটা ঘন্টা তাই দিব্যর কাছে আইরিশ কফির মতো দামি। মফঃস্বল শহরে আইরিশ কফির ধোঁয়া ওঠা মুহুর্তে প্রেমিকার চুলে বিলি কেটে দেবার বিলাসিতা ঢুকল এই তো কদিন হল। তার আগে, মানে বছর ৫ আগেও তো সেই পুরনো নোকিয়ার সেট খুটখুটিয়ে একটা মিসড কল মানে ছাদে আয়। আর দুটো মিসড কল মানে তিস্তার পার। অহনা অবশ্য ভীষণ রেগে যেত। …একটা ফোন করতেও গায়ে লাগে তোর। …আমি তো করতেই পারি। পাসে যদি কাকু বা কাকিমা কেউ থাকে? …একদম মিথ্যে কথা বলবি না। কিপ্টে কোথাকার। আর শোন, ওই ভাঙা সাইকেল ঠেঙিয়ে আমার কলেজের সামনে যাবি না তো? লজ্জা করে আমার। …বেশ আর যাব না। …ভীতু, মিথ্যুক। …’এক আকাশ তারায় ভরা আর রাতের গন্ধ মাখা একটা সন্ধ্যে এনে দেব/ কুড়িয়ে নিতে পারবি তো?’ …অসহ্য লাগে আমার কবিতা শুনতে। অহনা কিছু না বলে দুদ্দাড় উঠে চলে গেছি…

দাশবাবুর সুড়ঙ্গঃ শৈবাল সরকার

দাশবাবুর সুড়ঙ্গ
১. সে তার প্রসব ফেলে রেখে গেছে সেই ব্যথার দিন প্রদীপ হয়ে ভেসে যাচ্ছে বহুদিন। বহুদিন তার ঘরে ফেরার গুজব ছিল। পার্বণের দিনে মাদুর পেতে শুকিয়ে রাখা হতো গুজবগুলো। বহু দূর দূর গ্রাম থেকে গ্রহ থেকে কবিতারা আসতো বরফ আর জন্মদিন ভেঙে ভেঙে প্রেমিকার জন্য মানানসই গুজবের সন্ধানে শীতের ময়দানে তারা সাজিয়ে দিত তাদের পথে পথে গড়ে তোলা সংগ্রহশালা সেই সব ঘিরে এত ভিড় আর আলো! যে প্রদীপগুলি আর দেখাও যেত না।


২. এবং পাহারাও ছিল। দাশবাবুর সুড়ঙ্গ পৃথিবীর গভীরতম স্থানে তার গোপন খাতা রেখে গেছে।
আমাদের ছোট মেয়ে কখনও বিধবা হবে না বলে ভেসে যাচ্ছে রাত্রিদিন।
তার হাতের বইগুলি সে রেখে আসবে ঐ খাতার পাশে।
এই অব্দি শুনে -- দাশবাবু বিষণ্ণ ঘোষবাবু সমাহিত শাদা বসুজা মুচকি হেসে পাতা ওলটান।


৩. ঠিকানা গুলিয়ে গেলে প্রতিটি পুরনো মুখের নতুন নতুন নাম জন্মায়, বুকের গঠন অনুযায়ী তিথিনক্ষত্র। আর সমস্ত কোলাহল থেমে গেলে আসবাবে ঠাসা হারিসন রোড একটা সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়ে। যার দুই প্রান্তে প্রাচীন কুয়াশা বিষাদের মত ঘন রহস্যের মতো একা।


৪. যে সব পাখির ডাক শ্যাওলায় ঢাকা তাদের শৈশব ঘিরে মেলা বসেছে এখানে। ভ্রমণ শেষ হলে বহুদূরের নেপথ্য ব্যাপারী এখানে চলে আসে। পুরনো দেশ…

প্রলাপ - ৩১শে জুলাই, সন্ধ্যে ৬টা, জ্ঞান মঞ্চ

নমস্কার, ইডেন উদ্যান থেকে সরাসরি কথা বলছি। একটাও লোক নেই মাঠে, কয়েকটা গরু অল্প অল্প ঘাস খাচ্ছে আর মাঝে “ব্যাকরণ ব্যাকরণ” বলে চিৎকার করছে। যাইহোক, খেলা শুরু হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। হাইকোর্ট প্রান্ত থেকে বল করতে আসছেন মেসি। ব্যাট হাতে মুখ চুন করে ক্লাব হাউসে দাঁড়িয়ে আদিত্য পাঞ্চোলি ভাবছেন, এই বুঝি চোখ বুজে, পিছন উল্টে পড়বেন গিয়ে নন স্ট্রাইকিং এন্ডে দাঁড়িয়ে থাকা দিল্লি পুলিশের ঘাড়ে। তিনটে স্লিপে মা, মাটি , মানুষ হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে একটা ক্যাচের আশায়। দূরে, বাউন্ডারির কাছে, নিশ্চিন্ত হয়ে গরুদুটো “ব্যাকরণ ব্যাকরণ” বলে চিৎকার করে যাচ্ছে। কমেন্ট্রিবক্স থেকে ওদের অনেকটাই চিয়ারগার্লের মতো দেখাচ্ছে। কিন্তু ওরা চিয়ারগার্ল নয়, ওরা গরু। সাইড স্ক্রিনের ওপরে বসে সেই ভোরবেলা থেকে রাম আর লক্ষণ একমনে পাছার লোম ছাড়াচ্ছিল, এবার ওঁরাও অধৈর্য হয়ে পড়ছে। কী করবে, আজ মাঠে একটাও লোক নেই। সবে বাউন্ডারি লাইন থেকে মেসি বলটা মুঠো করে আদিত্য পাঞ্চোলির দিকে একটা দারা-সিং-মার্কা লুক দিয়ে দৌড় শুরু করেছে, এমন সময় হঠাৎ গরুগুলো ঘাড় তুলে তাকালো, “ব্যাকরণ ব্যাকরণ”।
আমরা নাটক পাচ্ছিলাম না। একটা বাজে নাটক অভিনয় করে তখন রাগে ফুঁসছি…

জঙ্গলের পাগলঃ তানিয়া চক্রবর্তী

জঙ্গলের পাগল
১ রক্ত নেশা, শরীর নেশা, নেশার নেশা নেশায় ভরা খোয়ায় ভরা শরীর শরীর জুড়ে তা ধিন ধিন তাল তালের সঙ্গে এসে বাঁধো সুর এখানে খালের মুখে বাঘ আসলে আমরা তাদের আদোর করি খুব বাঘের গায়ে গা লাগিয়ে গরম সুখে মরি, রক্ত নেশা, শরীর নেশা নেশায় এখন ডুবে মরি রোজ

২ হরবোলা বলে যায় ওই শোনো চোখ আরো বড় হোক জিভ আরো লালায়িত স্বপ্নের আগুনে দেখো আলোকিত ঘর স্বপ্নের আগুনেই দেখো ভস্মীভূত ঘর

৩ খিদে, স্বাধিকারের খিদে আহা আগুন তোমার খিদে অঙ্গ থেকে অঙ্গে নামে ধবংস করে, শুষে নেয় তবু যেন জ্বালিয়ে মারে স্বাধিকারের খিদে

৪ আগুন তুমি লালসা পেলে বাতাস তুমি আভাস পেলে এসে দেখো লীলা কেমন পাতাল তুলে আকাশে আসে নেমে এ উল্টোপথে রসের শরীর দপদপিয়ে নাচে নাচন তার এতই ঘন পাপীরা সব পুণ্য ভুলে সুখের জন্য ওড়ে শকুন দেখে ছিবড়ে করা চামড়া কেমন চকমকিয়ে মরে, আহা মৃত্যু যেন জন্ম হয়ে

চারটি লেখাঃ অয়ন ঘোষ

কালোবাজার জল্পিত অক্ষরে বই ঝাপা হলে করমচা প্রত্যাশায় কালসদৃশ নিয়ম মাফিক বৈশাখী চলে গ্যালে এরপর জীবন্ত মশার ডানা ছিড়ে প্রতিশোধ স্পৃহা একটি হোমমেড চিকিৎসা


নিস্তব্ধ ও লোমশ কাউকে সেবারে বেহালা বাজাতে গিয়ে কিছুক্ষণ ট্রেন মিস্ করে গ্যাছিলাম দু'দিন পর শহরে ফিরেছি যখন দেখেছি খালপাড়ের মানচিত্র আবছা হয়ে উল্টে আছে আর ঘাসেরা কবিতা হয়ে স্লোগান দিচ্ছিলো


মুল্যবৃদ্ধি মূলকর্মে দাঁত বসালে পায়খানা কম পায় লাইসেন্সবিহীন ঝুলঝাড়ু নিয়ে পদ্য লিখতে বসি নিজেকে প্রশ্ন করি, 'রান্না কি হলো' ? রেডিওতে সংবাদ শোনা যায়..... 'ভ্রষ্টার ক্লিটোরিসের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি'


প্রিয়তমার প্রিয় সাবান প্রিয়তমা কোনো দূর্বল আত্মার মেডিসিন হতে পারতো যারা ভীত, তারা যত্নে যত্নে আরো ভীত হয়ে ওঠে আমাদের কাগজের রঙ নেই, শুয়ে থাকে হরফবাগান প্রিয়তমা হতে পারে প্রসাধনী সাবান কতদিন সাবান মাখিনি !

একটি সিরিজঃ পূজা নন্দী

পদব্রজেই ১.
এভাবে লেখা হোক সময়
সমস্ত রাত্রি শুষে নেওয়ার পর
গড়িয়ে পড়ুক নাভি
ধরা পরে যাবে কোনো গর্ভের কাছে
একদিন যা কিছু না বলা ছিল
তাও বলে উঠবে
মাঝরাতের স্বপ্নে অবশিষ্টের দুফোঁটায়...

২.
হাঁটতে শিখছি সবে মাত্র
জ্বালা ধরা চোখ নিয়ে
কতটুকু জেনেছে তার ছোবল
আমি ও আমার নীরবতা ঘিরে
যে প্রশ্ন করা যায়
আর একটু এগোলে
সে সবের শব্দ পাবে
রাস্তার কিনারে গাছ যেন
এইমাত্র
তার সাক্ষী হলো...

৩.
যেন আমি জানতাম
এমনটা হবে
যেন আমি চাইলেই লিখে ফেলতে পারি
রাত ও রজনীর কথা
যাতায়াত অর্থে উঠে আসে হাঁটা
চলার বিন্যাস থামিয়ে হাঁটাই সার
এভাবেও চলা যায়
তার কিছু কি জানা ছিল









পূজা নন্দী
Puja Nandi
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS