Skip to main content

Posts

Showing posts from July 24, 2016



পিপলিকে চিঠি লিখতে গিয়েঃ জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

পিপলিকে চিঠি লিখতে গিয়ে
১| আজকাল মন ভালো রাখার তরিকা পেয়েছি। গাছ লাগাই, জল দি, রোজ দুবেলা নজর রাখি। আগে যে জায়গায় রুদ্রাক্ষ গাছটি ছিলো, এখন যেখানে বেলা কিছু বাড়তেই এই বর্ষা তার হেমলা আলো বিছিয়ে দেয়, সেখানে রিনাদির বাড়ি থেকে এনে গোলাপের ডাল পুঁতেছি। পিপলি, রুদ্রাক্ষ আর গোলাপের অনেক ফারাক বলো। তা হোক, মানুষে মানুষে ফারাক যা বেড়ে চলছে তাতে পাতা লতা ফুল এমনকি কাঁটার পার্থক্যও তেমন কিছু নয়।



২| তোমাকে চিঠি লিখতে গিয়ে পৃষ্ঠার কাছে দুবার পরাস্ত হয়েছি আজ। সে না জানি কেন, শূন্য থাকতে চাইলো। আজ সকাল থেকে বৃষ্টি...
যাক। বৃষ্টিবাদলের ভিতর শব্দেরা এমনিতেও চুপসেই যেত।



৩| আমার জানলার পাশে নিরীহ অন্ধকার থাকে। নিরীহ। বয়স বেড়ে গেছে, আগের সে শার্প, মারমুখি চেহারাটা নেই। আজ থেকে বছর দশেক আগেও যখন পাটকাঠির মশাল জ্বেলে যোগেন্দ্র মাস্টার বাড়ি ফিরতেন, বড়ঘরের বেড়ার সেই খুদে ফাঁকটা দিয়ে দেখতাম  অন্ধকার জোনাকির আলোয় কেমন মিঠিয়ে উঠেছে 
বেলগাছের তলায়, হলুদ ক্ষেতের ঝোপে, গন্ধরাজ লেবুগাছটায়...
সন্ধ্যার পর খোলা উঠোনে পাতা চাটাইতে বসে কবে দেখেছি সেসব।
এখন চূড়ামণি সরকারের দীঘির পারে পা ছড়িয়ে বসে ঘুমচোখে তাকিয়ে থাকে আর দূরান্তে কতো …

মহাজাগতিকঃ শ্রেয়া ঠাকুর

মহাজাগতিক
In the world of mediocrity, geniuses suffer from crisis….
গত দুদিন ধরে সম্পূর্ণ স্পেস প্রিজনটা ঘুরে দেখেছে অর্জুন, মোলায়েম দিনযাপনের ব্যবস্থা, আর একাকীত্ব, নিঃসীম শূন্যতা, শব্দহীন ও বটে। এই খানেই আগামী বছর দশেক তাকে কাটাতে হবে, চিত্তশুদ্ধি বা শাস্তি, যাই বলা হোক না কেন এই ব্যবস্থাকে, মুক্তি নেই, মুক্তি চাওয়ার উপায়ও নেই। দূরের কোনো স্পেসশিপ থেকে প্রিজনটা দেখলে মনে হবে একটা অতিকায় স্বচ্ছ বুদ্বুদ ভেসে চলেছে মসৃণ সর্পিল গতিতে, আরো একটু খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, ওই অতিকায় বুদ্বুদ আসলে ধারণ করে আছে একটা মানুষের শাস্তি স্বরূপ খাঁ খাঁ শূন্যতা। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মানুষ আস্তে আস্তে প্যানজিয়া আর কালচারাল মেল্টিং পটের ধারনায় বিশ্বাস করতে শুরু করে। আমেরিকা আর চিনের তীব্র ধংসাত্মক মনোভাব মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলো, তাই যুদ্ধের শেষে নিজে থেকেই জেন ধর্মমতের অহিংসা জখম পে মরহামের মত ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র গ্লোবাল ভিলেজের কনসেপ্টে। আর তার সর্বপ্রথম প্রভাব এসে পড়ে ক্যাপিটাল এবং কর্পোরাল পানিশমেন্টে। যা আজ অর্জুনকে ভোগ করতে হচ্ছে। আওয়ার আর্থের প্রাথমিক কতগুলো কাজের মধ্যে এটাই ছিলো অন্যতম…

চারটি চর্যাগীতিকোষবৃত্তিঃ অভিজিৎ পাল

অষ্টম চর্যাগীতিকোষবৃত্তি সোনায় ভরে তুলি আমাদের করুণা-নাও। সোনার পাশে রূপো অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠে। পসরা সাজাই। শূন্যতার পসরা। আনন্দ হাতে নিয়ে মহাকাব্যিক সমুদ্রের উদ্দেশে ভেসে যেতে ইচ্ছে হয়। আরও একবার। ভেসে যেতে চাই শুধু। ভাসার আনন্দে। বহুদূর। আরও দূর। যতদূর গেলে ফেরার সব পথ বন্ধ হয়ে আসে। খুঁটি উপড়ে ফেলি। বাঁধন-কাছি ছিঁড়ে খুলে ফেলি। কম্বলাম্বরপাদের পরামর্শ নিয়ে অনাবিল ঘাট পার হই। দিগচক্রবালের দিকে আনত হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখি। কেড়ুয়ালের সঙ্গযাপন শিখি। নৌকা বয়ে বেড়ায় চেনা ক্যানভাসে। নদীপথের মাঝ বরাবর নৌকা ভাসে। মহাসুখের সঙ্গে মিলনমত্ত প্রত্যাশা রাখি। কম্বলাম্বরপাদ আলতো হাতে শিখিয়ে নেয় নির্বিকল্প প্রবাহাভ্যাস চর্যার পাঠ। এক নৌবাহনের উৎপ্রেক্ষা।


নবম চর্যাগীতিকোষবৃত্তি রূপ-অরূপের কড়া এসে স্পর্শ করে বল্কল বাস। একটা একটা করে প্রত্যেক আকাঙ্ক্ষিত বন্ধন শুকনো পাতার মতো খসে আসে। কাহ্নপাদের পা টলমল করে। মদের মতো এক নেশাক্ত প্রতিবেশ সেজে ওঠে সময়। নলিনীবন সমস্বরে ডাক পাঠায়। কাহ্নপাদ কাহিনি বলেন হাতিনীর বিগলিত মদমত্ত টোপ দিয়ে প্রকান্ত হাতি বাঁধার। আদিম পদ্মবনের ভিতর। তথতামদ ঝড়ে পড়তে থাকে ক্যানভাসের আঁচ…
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS