Skip to main content

Posts

Showing posts from August 14, 2016



এক্স রে প্লেট ৪ ও চামড়ার কাছাকাছি - সায়ন ঘোষ

এক্স রে প্লেট ৪
এভাবেই শেষ হয় কিছু কিছু নেশাড়ু রাত যেখানে হাত বাড়িয়ে কিছু খোঁজার অব্যর্থ চেষ্টায় কলঙ্কিত জামার ডিজাইন পকেটে সীমাবদ্ধ যত বাঁধানো বিড়ি আগুনের স্ফুলিঙ্গে ত্বকরন্ধ্র জাগরণ শরীরি ছন্দে শহীদবেদী মনে হয় নিজেকে নিদেনপক্ষে ত্বক থেকে চামড়া থেকে লোম থেকে পুরুষ ও নারী উভয়পক্ষ বায়ুমন্ডলের লাফালাফি ভেদ করে মাংসল ভূগর্ভে হঠাৎ পেচ্ছাপ লজ্জায় আংশিক নিমজ্জিত কোনো লম্বা পুংলিঙ্গে টানটান উত্তেজনা নিয়ে তিন হাত উঁচু পাঁচিল টোপকে খোলা ময়দানে চিৎ হয়ে শুয়ে গড়াগড়ি খাওয়া যেতে পারে কিন্তু কতগুলি কবিতা লিখেছি মনে করতে পারছি না বরং নীচু হয়ে খুঁজছি প্লাস্টিক প্রেমিকা'কে; জাহ্নবী'কে এখনও খুঁজছি বিছানায় পেতে চাইছি সীমাহীন যৌনতা সমেত একগোছা লাল গোলাপ হৃৎপিন্ড ঠাণ্ডা যত রক্ত ধমনীর হিমেল রেফ্রিজারেটার মধ্যে থেকে বেড়িয়ে আসে কবির ন্যারেটিভ কঙ্কাল আর আমার হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক রং বেগুনি।

ডুবুরীভাষ্য ও সান্ধ্যনিবাস নিয়ে শৌভিক দত্ত

ডুবুরীভাষ্য
তীর ফুরিয়ে আসা নোঙর। গাছ ফুঁসলে উঠছে। সহজিয়া এই ছায়ামিতি। ভুল সম্প্রসারন। রাখা আছে ছায়া তৈরীর পদ্ধতি। নির্মিত যত্ন চলে যায়। যেভাবে বস্তুপাঠ চেতনার বাইরে কোনও জীকর, আয়তর সাদাদিঘি। মোম বদলে যাচ্ছে চোখের, বদলে যাচ্ছে মনবদলের ভাগ্যবিচার। পাতার অংশে প্রেম রাখা যাচ্ছে না। ভাবো আহিস্তায় ট্রেন থেমে আছে, গোড়ালির আনাচে রাখা নীল আয়োজন। ভিজতে ভিজতে ঘর যখন নদী, টুকরো টিপ নামছে শহরতলীতে। সমস্ত আঙুল জুড়ে কোনও শিহর কোনও কুয়াশাটপের জুম। ল্যাটিটিউড বদলে যায় তারানার একটা প্রকাণ্ড শীতকাল ভেসে উঠবে বলে।
আজানরহিত এই সান্ধ্যদৃশ্যে সংশোধন আশ্রম হয়ে আসে। রোদ্দুর শেখানো
এই সহবাসে রাস্তা খুলছে দুপুর আর পেটভর্তি নার্সারীরা চলে যাচ্ছে সূর্যের তলানীতে।
বেহাগ সমুদ্রের শেষে নখ ফুটেছে ঘরময়। এখন ছায়া থেকে নিভে আসা প্রয়োজন।


ক্যাট'স আই নিয়ে এলেন ডাকনামে যার সমুদ্র

ক্যাট'স আই
কালী তিক্ষ্ণ চোখে দেখছে। ওর বাচ্চা টাকে নিয়ে হুলোটা চলে গেলো। মেরে ফেলবে,খাবে। কালীর বাঁট টনটন করে। বাকিগুলোকে কয়েকদিন বেশি বেশি করে দিতে হবে মাই। হুলো আবার উঠবে। আবার নেবে ছাদের ঘরে। এবার খুব সামলে সামলে রেখেছিলো। তবুও হলো না। এই গল্পের সবথেকে দূর্বল অংশ হলো, পৌনঃপুনিকতা। এমন কি, হুলো কালীর সন্তান হলেও। বোরিং।
একাদশ ঘরে কেতু বসে।খরচ বেলাগাম।ক্যাট'স আই দিয়েছিলো গণেশ। পরতে পারেনি।সবসময় মনে হতো কেউ তাকিয়ে আছে। অহেতুক খরচ করে ফেলে। ই এম আই- লোন। মাঝে মাঝে শিরদাঁড়াটা টনটন করে।
কালুর বাচ্চাগুলোকে আজ একটা স্যান্ট্রো চাপা দিয়েছে। পেটের ওপর দিয়ে চাকা গেছে। পুঁটিমাছের পেট টিপলে যেমন নাড়িভুঁড়ি বেড়িয়ে যায় সেরকম বেড়িয়ে গেছে। পাড়ার লোক কর্পোরেশনের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। কেউ কেউ বিধান দিলো, কালু পাগোল হয়ে যেতে পারে শোকে।

The Making of 'Fading Clouds' : রঙিন মেঘের গান - ৩

‘Fading Clouds’
একটি ইন্ডি-ফিল্মের গল্প

রঙিন মেঘের গানঃ ৩
ফেডিং ক্লাউডস সিনেমাটির নেপথ্যে এমন অনেক মানুষ জড়িয়ে আছেন যাদের নিস্বার্থ পরিশ্রম ছাড়া এ ছবি সম্ভব হতনা। যেমন অনকুর। অনকুরের সাথে আমার আলাপ বহুবছর আগে। কিন্তু আবার নতুন করে বন্ধুত্ত্ব হল ফেডিং ক্লাউডস এর এক বছর আগে। আমি তখন পাই -এর সাথে ইন্সটলেশন আর্ট বোঝার চেষ্টা করি, এবং পাই একটি পার্ফর্মেন্স আর্ট ফেস্টিভ্যাল করে kipaf সেটি অরগানাইজে সাহায্য করি। ততদিনে আমি বুঝে গেছি যে, খুচরো ফ্রিলান্স করে খরচপাতি বেশ দিব্য চলে যাচ্ছে, কিন্তু কোনও ভবিতব্য দেখছি না। আমি ঠিক করলাম যেভাবেই হোক একটা সিনেমা বানাতে হবে, প্রোডিউসারের জন্য অপেক্ষার কোনও মানে হয়না। কোনও প্রোডিউসার একদিন সকালে ঘুম ভেংে আমাকে ফোন করে এক কোটি টাকা দেবেন না। অনকুরের সাথে এইসব আলোচনা চলছিল, তারপর ২০১৫র ভ্যালেন্টাইন্স ডে, অনকুর আমাকে বলল যে ওর পরিচিত এক ভদ্রলোক ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবি নিয়ে উতসাহী তার সাথে দেখা করার জন্য। সেইমতো আমি আর অনকুর সাউথ সিটিতে গেলাম সৌম্য দার সংে দেখা করতে। সেদিন সাউথ সিটি জুড়ে নবযুগলদের সেলফির হিডিক। খিল্লি করে আমি আর অনকুরও একটা সেলফি তুলে পোস্ট দিলাম। …

অভিজিৎ পাল'এর দশটি চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

দ্বাদশ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
গুরুমুখী পন্থায় ভববল জয় করতে করতে করুণাভা মাখানো ছকে ফেলে ঠিক ঠাক শিখে নিতে থাকি দাবাখেলা। ভাবনারা বাড়তে থাকে। একটা জিতে যাওয়ার প্রচেষ্টা। জিনপুরের পথ পুনশ্চ ক্রমশ পুরাধুনিক ভাবে সুরম্য সুগম্য হয়ে ওঠে কাহ্নপাদের সামনে। অহৈতুকী দু'দান সরাতেই কিস্তিমাৎ হওয়ার কথা ছিল। বিবর্তিত হয়ে ওঠে ভাবনারা। প্রাথমিকী পদাতিক হত্যায় করি জয়সূচনা। গজগমনে আমূল জখম করি পাঁচ বিদ্রোহীকে। হি হি করে হাসি। হি হি হি হি। মন্ত্রণাদাতাকে আগুয়ান করি। স্বয়ং এ খেলায় এবার রাজাধিরাজ অবশ হয়ে আসছেন। সুতো ঘুরে চলে। গুটিয়ে আসে। কাহ্নপাদের জয় নিশ্চয়তা মাপতে বসে। চৌষটি ঘরে একা জয়স্তম্ভ গুনে নিতে থাকে..

ত্রয়োদশ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
ত্রিশরণী নৌকা সাজাই। আট কুঠুরি নয় দরজা এঁটে বসি। সাধনপন্থী শূন্যতা আর করুণাকে সহবৎ করে তুলি কাহ্নপাদের দেখানো পন্থায়। শরীরের দিকে তাকিয়ে দেখি। স্তব্ধ হই। নিস্পৃহ হই। মহাসুখকায় হাতে নিয়ে পার হয়ে আসি অগাধ জলধি। একটা স্বপ্নের ঘোর লেগে থাকে। মাঝগাঙে চিরচেনা নদীর ঊর্মিমালার রকমফের ওঠা নামা। পঞ্চ তথাগত কেড়ুয়াল সাজে। বয়ে বেড়ায় নৌবাহনের দাঁড়। গন্ধ স্পর্শ রসের মতো নিদ্রাহীন এক স্…

পৃথা রায় চৌধুরী'র - আবর্ত

আবর্ত
জেলের উঁচু দেওয়ালের বাইরে ঠাঠা রোদে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে পাশ দিয়ে অল্পবয়েসি ছেলেছোকরাদের বারবার ঘুরে তাকানো, এপাশ ওপাশের বাড়ির মধ্যে বাটি চালাচালির মাঝে, “এ মেয়েটার বাড়ি কোথায় গো?” ক ঘণ্টা হলো মাঝে মাঝে মোবাইলে চোখ রেখে বুঝে নেওয়া।এখান থেকে শ্যেনদৃষ্টিতে দেখতে থাকাতার বৈধ সম্পর্কেরা ফিরে গেল কি না।তারা ফিরলে, তবেই তার একঝলক দেখা হবার সুযোগ, দোষী নির্দোষ চেনে না সে, শুধু জানে গরাদের ওপারে তার ভোর কয়েক মিনিটের... তারপর আবার সপ্তাহব্যাপী রাত।টানা পনেরো দিন হলো তার চোখ বিনিদ্র; হিংসে করে সে আকাশকে।কেমন একটানা মেঘের অজুহাতে কেঁদে চলেছে! চোখ রাঙাবার, গায়ে কালি দেবার কেউ নেই।তার গোঙানোও অপরাধ।তার বৈধ সবের প্রতি সমস্ত কর্তব্য সেরে এই যে ভোর না হতেই ছুটে আসা, এ জানলে ছি ছি করবে না বুঝি কেউ? ছি ছি করুক পরোয়া নেই, কিন্তু পুড়তে থাকা সেই ছোটবেলার সজনে গাছটা আর দেখতে চায় না সে।যখন ককিয়ে উঠেছিলো, গাছটাকে মেরো না তোমরা, জ্যেঠিমা গাল টিপে বলেছিলো, শুঁয়ো পোকা ছেয়ে ফেলেছে, ওর পুড়ে যাওয়াই মঙ্গল... 
না পুড়ে গেলে যে পাপ উড়ে উড়ে আশেপাশের সবার ঘরদোর ছেয়ে ফেলবে! পাপ, বৈকি! কি হবে, সবাই যখন জানবে, তার সিঁথ…

বেবী সাউ'এর তিনটি

* আগস্টের রবিবার *
আজ অনেকদিন পর শৈশব আর কৈশোর এলো আমাদের ঘরে। অনেক দিন আগের, ছেড়ে আসা গ্রাম, মৌজ করে সোফায় পা তুলে বসে বলল, চা দাও, বাসি রুটি দাও সাথে গুড়। আমি অসহায়ভাবে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। আড়াল খুঁজছি। কাজের অজুহাত দেখিয়ে বলছি অন্য দিন এসো, আমার চায়ের কাপ হারিয়ে গেছে , রুটিতে অম্বল। রক সঙ্গীতে ভরে আছে মেহগনি আসবাব, আমার চারফুট রসুইঘর, কাচের গ্লাস। চিলি চিকেনের গন্ধ ঘিরে জমে উঠেছে আগস্টের প্রথম রোববারের সন্ধ্যা। আর আজ হঠাৎই এতদিন পরে, মনে হচ্ছে, এতদিনের ভুলে থাকা সেই আশ্চর্য ভালুকের গল্পের প্রথম বন্ধুটি আসলে কেউ না... কেউ না... মুখ খুঁজে না পাওয়া আমারই ছায়া।

ইন্দ্রজিত দত্ত'র পাঁচটি লেখা

স্কুল
স্বপ্ন ভেঙে গেলে এগিয়ে যাই মাংসের দিকে
স্বপ্ন ভেঙে গেলে ভাসিয়ে দিই পাঠশালা
তোমরা দূর কে প্রণামের রূপ দাও মাতালের মত গুছিয়ে রাখো না পাওয়া
বাগানের ছায়ায় ছায়ায় লুকোনো ধানক্ষেত
আপাততঃ বাঘের ঝাঁপিয়ে পড়ার অপেক্ষা নিয়ে আছি ব্লটিং পেপারে শুষে নিচ্ছি গর্ভবতী নারী
নতুন শিক্ষয়ত্রী ছুটিতে গ্যালো
চাবি রাখা আছে


The Making of 'Fading Clouds' : রঙিন মেঘের গান - ২

‘Fading Clouds’
একটি ইন্ডি-ফিল্মের গল্প



রঙিন মেঘের গান - ২
পাসিং শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ কি আমি জানিনা। ইংরাজিতে পাসিং ক্রাউড বলে একটা শব্দ আছে, সিনেমাতেও আছে, ধরুন নায়ক নায়িকা রাস্তায় একটি দৃশ্য, সেখানে তাদের পিছনে আউট অফ ফোকাসে হেটে যাবেন পাসিং ক্রাউড।
রাস্তাঘাটেও রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়া অগুন্তি মানুষের মদ্ধে ভাল করে দেখলে এমন কিছু মুহুর্ত দেখা যায় যা সিনেমার চেয়েও দামী। লেখা বা সিনেমা চিরকাল এই অলক্ষে ভীড়ে মিশে থাকা মানুষের জীবনযাপন থেকেই উপাদান নিয়ে এসেছে। তাই একজন লোকের নামের চেয়ে, সে কিভাবে ভাত খায় কিংবা বাসে গুতোয় তা আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্ত্বপুর্ণ।
ফেডিং ক্লাউডস নামটি ঠিক করা গেল, এর আগে নাম ঠিক করেছিলাম পাসিং ক্লাউডস। আমাদের জীবনে এমন অনেক চরিত্র থাকে, যারা আসে, আবার চলেও যায়, শুধু রেখে যায় কিছু স্মৃতি। এমনই কিছু চরিত্রের দেখা হওয়া আবার নিজেদের পথে মিলিয়ে যাওয়ার গল্প নিয়েই এই ছবি। তারপর মনে হল এই চরিত্ররা শুধু চলে যায় এমনটাও নয়, ক্রমে ঝাপসা হয়ে আসে আমাদের জীবন থেকে। নাম ঠিক হল ফেডিং ক্লাউডস। যারা যেন এসেছিল একদিন ঝাপসা হয়ে যাবে বলেই।

আমাদের দেশে বৃষ্টি হয় কই! তবে বন্যা হয় ফি বছর; - রাজর্ষি কুন্ডুর গদ্য

আমাদের দেশে বৃষ্টি হয় কই! তবে বন্যা হয় ফি বছর;
বন্ধুদের জানার দরকার নেই যে মারা গেছি। আপনি জানাজানি ব্যাপারটা ধরে নিয়ে মারা যাওয়ারটা অনুমান ক’রে নেবেন; মাঝেসাঝেই য্যামন হয়, মনে করুন যে আজ বৃষ্টি হোয়েছে, বাড়ির সামনেটায় জল জমেছে, জল মরলে কাদা বোঝা যাবে, সাইকেল একটা উপায় বটে কাদা এড়ানোর, যোগাযোগের সমস্যা গুলো এভাবে ছোটখাট বুদ্ধি না লাগিয়েই অ্যাভয়েড ক’রা যায়। মারা যাওয়ার খবরটা ওভারলুক করুন, প্লীজ! প্লীজের পেটে ঢুকে আছে অ্যাভয়েড আর ওভারলুকের সিমিলারিটি গুলো!
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS