Skip to main content

Posts

Showing posts from November 13, 2016



প্রাণের ইস্কুলে : স্বদেশ মিশ্র

প্রাণের ইস্কুলে
আমার যে স্থিতিসত্ত্বা, ঘন হয়ে আসে দূরের পরিধি এসে ঘিরে ধরে আমার আমিকে আমাকে আচ্ছন্ন করে, ধীরে ধীরে সবই স্থিত হয়, সমস্ত তরঙ্গের আকার এসে নিরাকারে জড়োসড়ো হয় মাটিতে আকাশ ধরে, খেলা, জল, ঘর, ধুলো বালি কেমন গোধূম আসে, সহজতা প্রাণের ইস্কুলে, অন্ধকার ঠিক নেমে আসে, অনেকটা আলোর পরকালে যাকে বলো কিছু নয়, তাই থাকে সকল আমি তে হাঁটে চলে ঘোরে ফেরে, হাটে ও বাজারে গিয়ে, কথা বলে
চুপ করে থাকে যারা ডুব দিয়ে থাকে, আমিরও গভীরে গিয়ে আমি মারে, টুকরো টুকরো করে লাশ টেনে আনে, টেনে এনে শ্মশানে পোড়ায়,
তোমার ইস্কুলে তুমি চুল কেটে জুতো মোজা পড়ে, বিচিত্র পোশাক পড়ে গায়ে, যেইভাবে শিখেছিলে তোমার তুমিটা শিখেছিলে 'সুশীলতা' তন্‌খা কামাতে গেলে লাগে... তুমি কি বুঝবে এত? আলো জল হাওয়া ধুলো বালি ?

স্বদেশ মিশ্র

AlterEgo ও Introspection 1 - দুটি গদ্য : রূপসা কুন্ডু

AlterEgo
অনিন্দ্যসুন্দর বসেছিল,বসে বসে দেখছিল ভাতের সশপ্যান উপুড় করলে ফ্যান কিভাবে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে। ফুটপাথ এর ধারে হোটেল, ফুটপাথে রান্না, ফুটপাথে ধোয়া মোছা আর ফুটপাথ থেকে দুই ফুট উঁচু কাঠের বেঞ্চ এ পরিবেশন। এই মুহূর্তে মধুর বউ উপুড় হয়ে ভাতের মাড় গালছিল; আর অনিন্দ্যসুন্দর সেটাই দেখছিল হাঁ করে। বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া মাড়...
একটা লোক তাড়াহুড়ো করে হেঁটে যেতে গিয়ে ছপাত করে সেটা মাড়িয়ে দিতেই ফুটপাথ এর উপর ফ্যান এর প্রবাহমানতা থেকে লাফিয়ে উঠে ত্রাহি ত্রাহি রব করে উঠল খিদে। প্রচণ্ড খিদে নিয়েই অনিন্দ্যসুন্দর এখানে এসেছিল; তারপর খিদের মুখে কয়েক কাপ চা আর উপর্যুপরি সিগারেট এর মলম পড়াতে খানিক্ষন কিছু বোঝা যায়নি। সে একটু জোরেই হাঁক দিল এবার - 'কিরে মধু; খেতে টেতে দিবি তো নাকি!' আর মধুও তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে এক খদ্দের এর পয়সা মেটাতে মেটাতে অন্য হাতটা তুলে আর খানিকটা সময় চেয়ে নিল অনিন্দ্যসুন্দরের থেকে। এমন রোজই হয়। খাবারটা এক্ষুনি এসে পড়লে আর তারপর গোগ্রাসে খেয়ে ফেল্লেও যে খিদে মিটবে না, তার এই গোপন খবর যেনে গ্যাছে মধু। কিকরে জানলো তা নিয়ে অনিন্দ্যসুন্দর আর মাথা ঘামায়নি। মধু তার …

গোপনে কবিতা ছাড়ান : কৃষ্ণগহ্বর

গোপনে কবিতা ছাড়ান
OLX এ কবিতা বিক্রি করলে নাকি ভালো টাকা পাওয়া যায়! আমার কবিতার কোন দাম নির্ধারণ হয়নি। যা পাবো তাতেই বেচেদেবো। এরপর একদিন একটা লোক চলে এলো, কবিতা কিনে নিলো। টাকা পেলাম। আমি ও জোকার মানে আমার দ্বিতীয় চরিত্র খুব খুশি। তারপর কিছুদিন কাটলো - খবর পেলাম একটা লোক নতুন কবি হয়েছে, তার কবিতায় নাকি আমার সিগ্নেচার, সুপ্রিমকোর্ট রায় দিলো - এত দিন নাকি আমিই ওনার কবিতা চুরি করে নিজের নামে চালিয়েছিলাম। বলুন ধর্মাবতার, আমি গরু খাইনি শুয়োর খাইনি - কবিতা লিখেই বিচার পেয়ে গেলাম। তারপর দেখা গেলো জোকারের মাথার মধ্যে রোদ পড়েছে মাথার ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে আমার ধড়... কেউ যেন কানে কানে বলে গেলো 
'গোপনে কবিতা ছাড়ান', এরপর থেকে প্রায়ই এরকম স্বপ্ন –
"গোপনে কবিতা ছাড়ান। আপনি কি কবিতা লেখেন? যার জন্য সমাজ কি আপনাকে কবি না বলে "কোবি" বলে খিস্তি করে? তাহলে চলে আসুন আমাদের এখানে। আমরা অত্যন্ত যত্নের সাথে কবিতা ছাড়িয়ে দিই। মনে রাখবেন এই চিকিৎসার কোন সাইডএফেক্ট নেই।"
সত্যিই এরপর থেকে প্রায়ই এরকম স্বপ্ন। হাত -পা -মাথাওয়ালা স্বপ্ন, ভীষণ লোডশেডিং হওয়া স্বপ্ন - আমার শরীরে সূর্যের এফেক্ট …

এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে : তৃষা চক্রবর্তী

এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে
এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে। অথচ কান্না ঠিক কেমন হয় আমি মনে করতে পারছি না, ঠিক কীই বা মনে করতে চাইছি, কান্নার স্বাদ, কেমন দেখতে হয়, অথবা এমন কোনো বিশেষ গন্ধ যা দিয়ে পৃথক হওয়া যায়। মাঝে মাঝে তো এমনই মনে হয়, কেবল পৃথক হবার জন্যই আমরা গন্ধ ব্যবহার করি। নিশ্চয় তোমার মনে আছে ময়দানে একটা বিকেল অন্তত আমরা একসাথে কাটিয়েছিলাম - খুবই সাহিত্যপন্থী হয়ে পড়ছি আমরা আজকাল, নয়ত হঠাৎ সকাল আর বিকেলের আলোকে আমাদের এক মনে হবে কেন, আর সেই আলো পৃথক করতে কেনই বা খোঁজা হবে ক্লান্তির পার্থক্যরেখা। তোমার কি মনে আছে, পৃথকত্ব আমায় খুবই আনন্দ দিয়েছিলো? পৃথকত্ব, পৃথকত্বই কি, অথবা পৃথকত্বের আবিষ্কার। যেকোনো বিকেলই এভাবে আমায় তোমার কাছে পৌঁছে দিতে পারে না। অথচ, আজ পৌঁছেছি। এমনই সে যাতায়াত, তুমি বিমূঢ় জিগেস করছ কেন এসেছি। এখুনি যদি বলি, তোমার ঘরের জানলাটা দিয়ে আজ অদ্ভুত বিকেল দেখা যাচ্ছিলো।  তোমার কাছে অনেক ভিড় ছিলো।  আমি তাই বিকেল দেখতে গেছিলাম। মনে পড়ল ময়দানে একটি মেয়ের কাছে খুব সুগন্ধ পেয়েছিলে, আমি কি খুব রেগে গেছিলাম অথবা নীরব মন্তব্য করেছিলাম ফাঁকা ময়দানে এরা গন্ধ মেখে ঘোরে কেন, গন্ধ …

অনুবাদ: চারটি কবিতা - সম্বুদ্ধ ঘোষ

নস্ট্যালজিয়া আর্সেনিয় তারকোভস্কি Arsenii Tarkovsky : ‘Nostalgia’
ছেলেবেলায় একবার ভুগেছি ক্ষিদেয় আর ভয়ে। শক্ত আঁশ ছাড়িয়ে জিভ বুলিয়েছি ঠোঁটে। মনে পড়ে শীতল নোনাস্বাদ সেইসব, তবু আবার বসেছি সদরের সিঁড়িতে ওম পেতে, জ্বরের বিকারে আমি ঘুরেছি নদীমুখে বাঁশিওয়ালার সুরে; ওম পেতে সদরের সিঁড়িতে বসে আমি--
দাঁড়িয়ে রয়েছে মা, ডাকছে আমায় সাতটা ধাপ দূরে; এগিয়ে গিয়েছি, তবু সাতটা ধাপ দূরে ওই দাঁড়িয়ে রয়েছে মা, ডাকছে আমায় ওই দূর থেকে।
জ্বর নেমে এল, কলারের বোতাম খুলে শুয়ে পড়ি, আর শিঙার ভোঁ শুরু হল, আলোর চাবুক লাগল চোখের পাতায়, আর ঘোড়াদের নাদ ভেসে এল-- পাথুরে জমির 'পরে ওই উড়ে যাচ্ছে মা, ওই মিলিয়ে গেল...
এখন দেখি আপেলবীথিকার ফাঁকে শাদা ওয়ার্ড এক, আমার গলা পর্যন্ত টানা শাদা বেডশীট, শাদা ডাক্তার ঝুঁকে পড়ে, আর শাদা নার্স ডানা গোটাচ্ছে পায়ের কাছে এসে। ওরা সব র'য়ে গেল,
শুধু মা এসে ডাকল আমায় ওই দূর থেকে, আর বাতাসে মিলিয়ে গেল...



Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS