Skip to main content

Posts

Showing posts from November 20, 2016



নিষেধাজ্ঞা : অদ্বয় চৌধুরী

নিষেধাজ্ঞা
“আজ রাত দশটা থেকে রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত নিষিদ্ধ।”        সেদিন সন্ধে থেকে গোটা এলাকা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছিল, টিভি-রেডিও সর্বত্র ঘোষণা হচ্ছিল লাগাতার। সকলেই জেনে যায় এই নিষেধাজ্ঞা। যারা অনেক রাত করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে তারা সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছিল।

       যারা রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেনা, যাদের গাড়ি আছে, তারা বেজায় খুশি হয়েছিল এই নিষেধাজ্ঞায়। রাস্তায় ভিড় কমবে, ট্রাফিক জ্যাম কমবে। গাড়ির দোকানদাররাও খুশি হয়েছিল। এবার গাড়ির বিক্রি বাড়বে। উপরমহলের তরফে বলা হয় পায়ে হেঁটে যাতায়াত করলেও যাদের বাড়িতে গাড়ি লুকিয়ে রাখা আছে, বা অন্যত্র তাদের গাড়ি বেনামে খাটছে, সেইসব লোকের লুকানো গাড়ি ধরার উদ্দেশ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু ব্যাপারটা যে তা নয় তা গাড়িওয়ালা এবং গাড়ির দোকানদাররা জানত। এই সিদ্ধান্ত মূলত এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই— সকলেই যাতে ‘গাড়িওয়ালা’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। যাদের গাড়ি নেই, অথবা গাড়ি কেনার কোনোভাবেই সামর্থ্য নেই, তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে, অথবা না খেতে পেয়ে মারা যাবে।

       পরের দিন রাস্তা একেবারে শুনশান। হাতে গোনা কয়েকটা গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে যাতায়াত করছ…

দুই দেশের প্রেমের কবিতা - দীপ শেখর

দুই দেশের প্রেমের কবিতা
১ মনিকা পেরেজ পিনো আমি ভারাদেরোর সমুদ্র সৈকতে আমার তালুর শুকনো রক্ত ধুয়ে নেবো তুমি আমার পিঠে সাবান ঘষে দেবে? মনিকা পেরেজ পিনো তোমার গুয়ারদাভালাকার সাদা সমুদ্রতটের মতো ঊরুতে শুয়ে পাত্রাগাস সিগার পোড়াব, তুমি আমাকে শোনাবে আমার প্রিয় কানসিওন দে কুনা? মনিকা পেরেজ পিনো আমি জানি যে সমস্ত বই আগুনে পুড়েছিল তাঁদের দিয়ে ওরা তুলে দিয়েছিল মানুষের মুখে তামাক, এভাবে জটিল শীতে তাঁদের মুনাফা হয়েছিল আমি তুমি চাবুকা গ্রান্ডার কবিতা পড়ে দিনের পর দিন ভালো থেকেছি। উষ্ণ নিরাপত্তা খুঁজে দিয়েছি আমাদের কাঁঠাল-পাতার মতো নিস্পাপ সন্তানদের আমি জানি প্রতি রাতে বাইরে ধর্ষকের তীব্র বোমার চিৎকারে আমরা প্রার্থনা করেছিলাম একদিন যুদ্ধ থেমে যাবে মনিকা আজ এই বদ্ধ গুদামে বসে আমার চুলে লেগে যাচ্ছে নোনা জল। আমি তোমিতা কাঠবাদামের মতো মুখের ছোঁয়ায় শুনতে পাচ্ছি - আমাদের সন্তানের হাতে বন্দুক নয়, উঠেছে প্রেমের নরম আদর মাখা পাকা আম। মনিকা, আমি ভুল নইত?

চতুশ্চত্বারিংশৎ থেকে একপঞ্চাশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি : অভিজিৎ পাল

চতুশ্চত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
কঙ্কণপাদের কাছে বসে ধর্মতত্ত্বের কথা শুনি। অপার্থিব জ্ঞানালোকে সমস্ত শূন্যে শূন্য মিশে যায়। একে একে জেগে ওঠে সর্ব ধর্মমত। একটি সমন্বয়বাদী চিন্তাচেতনার আবহ জমে ওঠে। এক হয়ে ওঠে মতভেদের দল। চতুঃক্ষণ বুঝে স্থিতধী হই। বহু সাধনায় মধ্যমায় জাগে বোধিজ্ঞান। হৃদয় সংবেদী হয়ে আসে নান্দনিক বিন্দুনাদ। শুদ্ধ আত্মজ্ঞান উন্মোচিত হতে থাকে। আমার দৈনিক যাপনের প্রভেদমূলক প্রহেলিকা নষ্ট হয়ে আসে। সন্ধান করে ফিরে আমার মর্ত আগমনের পুরাধুনিক পূর্বসূত্র। সব শেষ হলে ক্ষয় ধরে সংবৃত চিত্তে। কঙ্কণপাদের ঘন ঘন ঝংকারে ভ্রান্তবিষয়ক কোলাহল চূর্ণ হয়ে আসে। আলোর গন্ধে ভরে ওঠে সমস্ত ক্যানভাস..


পঞ্চচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
দেহতত্ত্বের ইতিবৃত্ত শুনি। কাহ্নপাদ মল্লারী রাগ শোনান। আমার শরীরের পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে জন্মে ওঠে গাছের শাখা। মনতরু ঢেকে যায় অজস্র পাতায়। ফলে। গন্ধে। ভীত হই। পুনরপি ভয় জাগে। একের পর এক কুঠারের আঘাত বসাই। ক্ষতের দাগ জমে ওঠে ধীরোদাত্ত ঢঙে। শুভাশুভ জলসেচে পুনঃ জন্ম সাজাই। মৃত্যু সাজাই। পুনশ্চ আঘাত করি। নিগূঢ় ছেদনজ্ঞান অধরা রয়ে যায়। মূঢ় সংসারের যাপনের বুঁদ হয়ে ওঠে আমার আজানুল…

উত্তম থেকে মধ্যম পুরুষ: সুমনের গানে রাজনীতি আর ভালবাসার কামনাপাঠ - অর্ক চট্টোপাধ্যায়

উত্তম থেকে মধ্যম পুরুষ: সুমনের গানে রাজনীতি আর ভালবাসার কামনাপাঠ
সুমন চট্টোপাধ্যায় থেকে কবীর সুমন – সময়ের অনুক্রমে দুদশক পর ওঁকে নিয়ে লিখতে বসে প্রত্যেকবারের মত এবারও বাধ সাধছে দূরত্বহীনতা, বাধ সাধছে আমার বেড়ে ওঠার লতায় পাতায় ওঁর গানের সরব এবং অরব উপস্থিতি। আর যা বাধ সাধছে তা হলো আমার সাঙ্গীতিক প্রশিক্ষণের অভাব। আমি সাহিত্য এবং দর্শনের ছাত্র; তাই এই লেখার শুরুতেই আমার সাঙ্গীতিক অপারগতা স্বীকার করে নিয়ে সুমনের গানের এক বিষয়ভিত্তিক এবং সাহিত্য ও দর্শন লালিত আলোচানা করার চেষ্টা করব। চেষ্টা করব কারণ লিখতে তো হবেই। লেখার যে দায় আছে আমাদের। আমাদের সময়ের অন্ধকারে সুমনের যদি অহর্নিশ গান বানানোর দায় থাকে তবে আমার তথা আমাদের দায় হলো সেই সময়ের শরিক হয়ে সুমনের গানকে প্রতি-প্রতর্কের আলোয় তুলে ধরা। সুমনের গানের অভিসন্ধি এমন এক প্রতর্ক যা তার প্রত্যুত্তরে আরো প্রতর্ক, আরো অভিসন্ধি দাবি করে। এভাবেই তাঁর গান রাজনৈতিক সংলাপ তৈরী করে। সুমন নিজেই লিখেছেন 'দেখাতে পারিনি আমি কোনো উপমায়/ যে আমিকে তুমি তার সময়ে দেখোনি'। সুমনের উত্তরকালে আমরা কি সুমনের সমসময়ের এই আমি'কে তুলে ধরতে পারবো? উত্তরকালের…

কথাদের কথা : পূজা নন্দী

কথাদের কথা
১. বলো বললে আর কিছুই বলার থাকে না যেন পরের পাতায় পৌছে যাওয়া যায় কথাদের ভাঁজে, কিছু হুম বিষয়ক বক্তব্য ব্যক্তিগত হয়ে ওঠে, একটা বেলপাতা স্নানের ঘরে স্নিগ্ধ হয়ে এলে, আমি ভিজিয়ে দিতে পারিনা সেসব অনুযোগদের
বিস্তর আমির মাঝে সংজ্ঞা হীন তোমার ঢেউ
কেবলই উছলে ওঠে লাল চায়ের কাপ অথবা সর্ষেক্ষেত, ধেয়ে আসার বহর সাজানো সোপান তছনছ করে, বাদ পড়ে যায় পর্বত প্রমাণ চূড়ান্ত কথোপকথন...


an experiment of mix media : কিছু লেখা - শুভঙ্কর ‘যশুয়া বোধিনেত্র’ দাস

গবাক্ষ – গীতি
তন্ত্র নহে রে পিত্ত জহরে
ছায়ানিশা বাঁকে মিথিলা ঝুমুরে,
কাকের ভরণে ওহে দুরন্তে
নহে হেমন্তে
সাঁঝেরই সলতে,
এবড়োখেবড়ো ফোকরে সীমানা
ঐশীপলাশে মেঠো যে রান্না
কোকিলা ত্যাজিবে চিত্তছোবলে,
মোতি সারল্যে,
দেবকী শল্যে –
তন্ত্র নহে রে গণ্ডি ডহরে
সোনাঝুরি সেথা বিমনা চামরে,
দোঁয়াশ ওষ্ঠ ছুঁয়ে আরাধ্য
কাটারি শ্রাদ্ধ,
ঐক্যবদ্ধ,
বাড়িলে আদরে পান্তা কপালে
রহিবেনা হেথা তুষ্টি গোপালে –
ডুমুরে সেবেলা আধা-কীর্তনে
আত্মানাত্ম উখা গর্জনে,
দিবা অরণ্যে
কোতল সায়নে,
তুলে রাখা ঝুলে
মাকড় মাশুলে নোয়া অভিক্ষা মান ৷৷



Reality: a haiku
Soul-wrought cicadas,
Vanish at a bricolage –
Echoed in a bowl.


Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS