Skip to main content

Posts

Showing posts from December 4, 2016



শিকড়গাছা : দেবার্ঘ্য গোস্বামী

শিকড়গাছা
। ০ । পেছনে চোখ ফেরালে ঘটনাগুলো সব সেঁধিয়ে যায় গল্পের কোটরে। অথবা গল্পগুলো আসলে উপচে পড়া ঘটনা। পেছনে চোখ ফেরালে – নিজেকে দেখি দস্তাবেজ – শূন্য – ভেসে আছি রূপকথার ধূসর খসড়ায়। যে ঘটনাগুলো ফুরিয়ে গেছে, তারা মরে যাবার আগেই শিখে নিয়েছিল নিঃশ্বাস প্রকরণ। যে ঘটনাগুলো ফুরিয়ে গেছে, তাদের আর জীবাশ্ম – হওয়া - হয়ে ওঠেনি। তাদের গায়ে গজিয়ে ওঠে গল্পগাছা। হেঁটে - ফিরে বেড়াই সেই গল্পের পাড় ধরে, খুঁজে বেড়াই কিছু হাতছুট বিস্ময়, কিছু হারিয়ে যাওয়া গন্ধ। চোখ বুজে মনে করতে চাই – ‘ঠিক কেমন দেখতে ছিল তারা?’
। -১ । দু পা জুড়ে ঘাস গজিয়েছে। তাতে পড়ে আছে পাখির ভাঙা ডিম। অনেক দিন ঘুমিয়েছিল এ ঘর। বহুদিন ঘুমিয়েছিলাম আমি। মানুষ ঘুমোলে – গাছেরা জেগে ওঠে। মানুষ ঘুমোলে – গৃহপালিত গাছের শিরা বেয়েও ছোটে বুনো রক্ত। এই আদিম উচ্ছ্বাসে – খুঁটে খুঁটে খুঁজছোটা কি? আসলে এও তো ছিল সেই অনাদি হার-জিতের গল্প। যদিও কবে ফুরিয়েছে জয়ের নিষ্ঠুর উত্তাপ – যদিও তার গর্বের পাঁচিল – ক্ষয়ে ক্ষয়ে আজ পথের সামিল। যদিও চেতন অবচেতন জুড়ে কোথাও নেই একফোঁটাও তার কোন যুদ্ধস্মৃতি – কিন্তু হারের গ্লানি? তা তো থেকে যায় মলাট বেঁধে। আজও তো তার প্রতিটা…

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন : সুমন সাধু

যা কিছু সামলে রাখছি
১ ব্যাগে ব্যাগে রঙীন দাগগুলো পুরনো কত শুকিয়ে যাওয়া চারা গাছের গল্প বলে দিচ্ছে। অথচ ব্যাগের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়া চরিত্ররা তো সাদা কাগজে স্ক্রিন প্লে'র মধ্যে বন্দী। ক্যামেরা-লেন্সের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, একের পর এক চরিত্র দূষণ আর ফুরিয়ে আসা সন্ধেবেলা ছাড়া অন্য কিছুর জন্ম দিচ্ছে কই! যদি চোখ রাখো লেন্সে, যদি চোখ রাখো লেন্সের দাগে, দেখবে ট্রাম, ট্রাফিক আর সিগন্যাল ছাড়া কিছুই বলার নেই।
২ পাঁচমাথার মোড়টায় লাল শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে থাকার সন্ধ্যে আজ। পচা পচা গন্ধ নিয়ে আঁচল লুটিয়ে ইশারার সন্ধ্যে আজ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্যামেরা, যেকোন একটা ধরো, চোখ মেলে ধরো লেন্সে, এরপর এসো একসাথে দুজনে তলপেটের যন্ত্রণা ভোগ করি। মানুষ দেখি আর মানুষের মধ্যে চিনে নিই নিজেদের।
৩ একটু রাত বাড়লে আমি চলে যাব। তুমি হয়ত একা পড়ে থাকবে। মাছি এসে তোমার গায়ে বসবে, গন্ধ শুঁকবে। রক্ত তোমায় চিনিয়ে দেবে রেলপথের পাশে সেই চেনা গলিটা। ফেরার পথে আমি দোকানে দোকানে ব্যাগের দাগ দেখব, হলুদ হলুদ দাগ। রোজকার মতো বাড়ি ফিরে শুকিয়ে যাওয়া চারাগাছটায় জল দেব। রোজকার মতো আমিও নিজেকে সুমন হয়ে যেতে দেখব।


সুখ : সুপ্রিয় কুমার রায়

সুখ
যেদিন গানের পারফরম্যান্স ভালো হয় তারপর অনেক কঠিন কাজও খুব সহজে করা যায় সেদিন বোলপুর এ এমনি এক গানের আখড়া সেরে আমি আর আমার এক বন্ধু ঠিক করলাম আজ সারারাত রাস্তায় ঘুরবো!!!তো যাই হোক আমার বন্ধু অনেকটাই মাল খেয়েছে আমারও অদ্ভুত আবহাওয়ায় ঘুরেনেশা নেশা লেগেছে!!! ঘুরতে ঘুরতে ’কটা বাজে জানিনা দুটো রাস্তার মাঝ খানে এসেছি মাঝখানে লেখা কোথায় যাবেন ডানদিকে না বাঁদিকে? ডানদিকে লেখা পৃথিবীর বাইরে ^ বাম দিকে লেখা পৃথিবীর ভেতরে^ আমরা একে অপরকে দেখে পৃথিবীর ভেতরে ঢুকে পরেছি ~~ কিছু দূর এগোতেই দেখি একটি ছেলে একটি রশির ওপর দিয়ে এক পায়ে হেঁটে হেঁটে ব্যালান্স এর খেলা দেখাচ্ছে আর বলছে আমি বিশ্বাস, হয়তো কোনো দিনও পড়বো না কিন্তু যেদিন পরবো তারপর যতই ভালো খেলা দেখাই তোমরা বলবে "এর বিশ্বাস নেই"।এবং এটা হওয়াও উচিত। কিছু দূর এগোলাম শুনি এক নেতা ভাষণ দিচ্ছে,বলছে, দেশটা প্রেম করতে করতে গেল না মনে পুরুষের নারীর প্রতি প্রেম আর কি! কত দেশের কাজে এরা এরজন্য হস্তক্ষেপ করতে পারেনা জানেন!!! আমার বন্ধু আমার দিকে তাকিয়ে বলে, কি বলেরে?? এরপর দেখি একটি গাছের নিচে এক জ্যোতিষী, এক বেটা গিয়ে বলছে, আমার বউ সুন্দর হবে তো? জ্যোতিষী …

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন : চান্দ্রেয়ী দে

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন
আজ। অর্থাৎ কাল বা পরশু নয়। একমাস আগের বা একমাস পরের কোনো দিন নয়। এই আজ সময়টা আজকের সময়েই একমাত্র অস্তিত্ববান। কিন্তু, আজ-এর মধ্যে আছে গতকালের ছায়া-র শীতলতা, গতকালের রোদের তাপ, আর আছে আগামীকালের আলোছায়া কে অনুভবের রসদ। আজ এর মধ্যেই আছে গতকাল নেওয়া শপথ, আছে আগামীকালের রুটম্যাপ - পথ চলার দিশা, পাথেয়। তাই আজ, বস্তুত কাল বা পরশু থেকে আমূল বিচ্ছিন্ন, আপাদমাথা যোগাযোগহীন নয়।
দল। ‘দ’ আর ‘ল’-এর একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই ‘দল’ শব্দটি তৈরি হয়। একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই তৈরি হয় এর ভাবটিও। সময় ও পরিপার্শ্ব অনুযায়ী তার ভাবনা ও তার প্রকাশ বদলে যেতে পারে। কিন্তু শপথ আর পাথেয় আমূল পরিবর্তনশীল হতে পারেনা। পারে, যদি সেই দল, দলের ব্যক্তিবর্গ, সময়ের দাবী মেনে নিয়ে, প্রয়োজনীয়ের অভাব বোধ ক’রে অন্য কোনো বিন্যাসে বিন্যস্ত হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে অন্য কোনো দল। দল যদি আধার হয়, তার আধেয় এক বা একাধিক ব্যক্তি। এখন, স্থান, কাল অনুযায়ী পাত্র তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, এমনকি আমূল পরিবর্তনও এক্ষেত্রে সম্ভব। কিন্তু, কোনো দলের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির ব্যক্তিগত অবস্থানের চ…
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS