কবিতা সিরিজ বা একটি কবিতা : দীপ শেখর চক্রবর্তী


এই বোকা শহর আমাকে নরম ভেজা ঠোঁটে নিরাপদ চুমু খায়, রোজ
আমি পুরনো বন্ধুদের মাতাল বেশি রাত ডাকে হয়েছি নিরাপদ
পুরনো কম্বলের ভেতর আদরে ভুলিয়েছি গলিদের প্রাক্তন প্রেমিক
আমি পুরনো ভোরেদের ঊরুতে শুয়ে নিজেকে চমৎকার প্রেমিক ভেবেছি
হটা
একটা আচমকা মোলায়েম মুখের অপেক্ষায় জটিল অসুখ বাধিয়েছি রাস্তার পাশে খোলা জানলায়, বুক চিতিয়ে -



কতটা নিরাপদ হলে মানুষ সংসার গড়ে এ প্রশ্ন আমি খোদ সংসারকেই করেছি
আগুন তো আসলে ছাই এর খুড়তুতো ভাই, আমি সূর্যের সৎ ছেলে?
তুমি মাথায় আঙুল দিয়ে খোঁজো নিরাপত্তা। এটুকুই তো চাই। তা ছাড়া বাকি সব তো পাবেই কবিতায়।
অনেক বয়স হলে বুঝবে তুমি,
এসব পালানো নয়, বরং সত্যির কাছে যাওয়া
সত্যির কাছে গ্যালে নিজেকে অন্ধ বাঁশিওয়ালার সুরে পুড়িয়ে নিতে হয়
জীবনে হয়েছ তুমি তা কেবল এক খানা নিরাপদ মোলায়েম ছাদের পাহারাদার
 
চেনা গন্ধ ছাড়া বাকি সব সয়ে নিতে হয়।



বর্ষার হাওয়াই চটির মতো অ্যাকেকটা দিন গুলি করে আমাকে শিরদাঁড়ায় 
আমি ঘুমোতে যাই সেই রক্ত রেখা বরাবর
এ জীবন সত্যি নয়, মিথ্যের দেওয়ালে অলৌকিক ভালোবাসা পোকা
যেসব শব্দেরা খুন করে মৃত মাথায় বুলিয়ে দেয় হাত
তাদের আমি কবিতার আগাম সন্তান বলে জেনেছি
ওসব টেনে হিঁচড়ে ফেলে দাও যেভাবে কেড়ে নিয়েছ সহজ বসতি 
উলঙ্গ শহরের মুখে আমার ধারালো চোখ য্যানো মৃত রেলগাড়ি
আয়নায় দাঁড়িয়ে ভাবি কাকে সত্যি বলে মানে অন্তর্যামী?
আমি না প্রতিবিম্ব?



কতগুলো শূন্যের আড়ালে মানুষ বসতি গড়ে?
কতটা পথ উল্কার মতো ভ্রমণে এক একটি পুরুষ বাবার মতো বিকেল সাইকেল ঘণ্টি বয়ে আনে?
বাবা যে আমার পুরনো বাড়ির সিঁড়ির ঘর ঘেঁষা পেয়ারা গাছ-
ফর্সা আদুর গা থেকে ভেসে আসে সদ্য ঘুম ভাঙা ভোরের আজান-



ভালো থাকা মানে রঙ চটা সাইকেলে টিউশন ফেরত নরম মুখের মেয়ের সাথে তার বাবা -
এ জীবন কেবল ক্লান্তিহীন কথোপকথন, সূর্যের দিকে পিঠ রেখে চলা নিরাপদ আশ্রয়
মায়েদের বুকে চেপে সাঁতারে পটু সন্তান, বাবাদের কাঁধে চেপে পরিযায়ী হয়।


কিছুই আমি লিখতে পারিনা, পারিনি। কেবল হারানোর যন্ত্রণা। দুর্বোধ্য যন্ত্রণা।
আজ রাতে ডোমেদের ডাকো আমি শব্দ পোড়াবো
আজ রাতে নদীদের ডাকো আমি কবিতা ভাসাবো











শেখর দীপ

Shekhar Deep
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS