Saturday, January 28, 2017

অমাত্রিক অমাতৃক : জয়দীপ মৈত্র

অমাত্রিক অমাতৃক

১/
এই আলো দিয়ে দেহ ঢুকেছে শরীরে। বহু আগের মৃতদেহ কখনও বাতাস হতে চেয়েছিলো। আনমনে শুনতে চেয়েছিলো ভাটিয়ালী। মাঝির পোশাকে ব্যাধি। যেভাবে অন্ধকারে হারিয়ে যায় বহুবার পরা ঈশ্বরের জামা। আমাদের বুকে ফুটো নাকি নৌকোহীন জলের চিহ্ন? হে অসুখ, হে চিরকালীন ভাঙা ঘড়ি, এই রক্তমাংস দিয়ে তুমি আমাকে খোঁজো। দশচক্রের অসীম সীমায় খুঁজতে খুঁজতে আবার ছায়া হয়ে যাও। হারিয়ে যাও আলোর আগের দেহে। ভেবো অন্ধকার নয় এই দূরত্ব আসলে মৃত নক্ষত্রের আলো।



২/
শুধু জল? ভেসে যাওয়া ঘটে যাওয়া ছাড়া কিছু নেই। একদিন এই কুয়াশা ঘন হবে আরো। বরফের পরেও জেগে উঠবে চরাচর। মা দেহের আলো দিয়ে আমরা আবিষ্কর্তা খুঁজছি। বৃষ্টির আগে পরে খুঁড়ছি সাঁকো। ঝাপসা হয়ে আসছে সমস্ত পাথরের দিগন্ত। আর গাছহীন সুতো ধরে বসে থাকতে থাকতে জন্ম কেটে যাচ্ছে। মহাকাল জানে, আমাদের অতীৎ ভবিষ্যৎ নেই। নিরাকার এই নদী শুধু আয়নার ভাষা। যে দৃশ্য জলের বহু পরে আসবে, সেই আলোই হয়তো এই মরুভূমি রচনা করছে।


৩/
আমি কার মতো দেখতে? অলীক আত্মায় আসে শুদ্ধ ভোরের আলো। শব্দ বহুদূর থেকে ভেসে এলো, তার উত্তাপে ভারী হয়ে আসে চোখ। কান্না হয়তো জন্মের উপশম। যেন যে কোনও প্রলেপই জ্বরের অভিমান হয়ে মিলিয়ে যায়। মিলিয়ে যাওয়ার ধারণায় যে গাছ আসে, আবছা কোনও পাখি তার পাতা নকল করছে। অসংখ্য দেহবন্দী হয়ে আছে মহাজন্ম। সময় মিশে যাচ্ছে অসময়ের প্রতিবিম্বে। কেন শরীর ছিদ্রময়? বাতাস আসবে আগুন আসবে বলে অনেক গাছই তো কেটেছি। তবু শীত এই শূন্য, বৃত্তাকার আলো শুধু অন্ধকার প্রশস্ত করছে।


 







জয়দীপ মৈত্র

Joydeep Moitra