Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu

Wednesday, January 4, 2017

গুচ্ছ - কবিতা : তৃষা চক্রবর্তী

গুচ্ছ - কবিতা


বহুদিন পরে চায়ের গেলাস পাশাপাশি নামিয়ে রাখা হল
রাখা হল বুকের ভিতর জিভ পুড়ে যাবার মত স্বাদ
রাস্তার যেকোনো চায়ের দোকানই, ঐশ্বরিক ঐন্দ্রজালবিস্তার
বলো বিচ্ছেদ, কতদূরে তুমি, আর কতদূরে সমাধি তোমার?



তোমার অপেক্ষায় আছি বহুক্ষণ
কেউ জানে না, ওদের মিথ্যে বলেছি
যেকোনো তোমাকেই দেখলে ভাবছি পরিচিত পথ
পরিচিত জন দেখলে খুঁজছি আড়াল
ওরা কীকরে জানত, প্রতীক্ষাই সত্য মাত্র
এর বেশি আর কিছু নয়, কিছুই-

ওদের মিথ্যে বলেছি তাই।




বৃষ্টির ফোঁটায় চিরে
দুভাগ হচ্ছে জল
একপারে সুস্পষ্ট আমি,
অন্যপারে অগম্য অতল
পদ্ম শালুক, এসব -
জলে ফোটেনি কখনোই
ক্ষতস্থান ঢেকেছে কেবল।



কখন চোখ এড়িয়ে চলে গেছে সে,
চোখের দোষ ছিল, যোগাযোগেও -
কিছু বলতে চাওয়া বাতুলতা হবে ভেবে,
প্রায়ান্ধকার টেলিফোনে অপেক্ষা করেছে
অথচ চোখের ভুল, দুষ্প্রাপ্য পুথিঁর মতন।



তুমি চলে গেলে নিশ্চিন্ত পথে
এখানে বরষা স্বয়ং অভিসারিকা
সমস্ত ভিজে গেলে, ছাতার কী হবে?
কী হবে ছন্দ, বরষার?
ওদেরও তো বর্ষা আছে,
যতটা আছে বর্ষা তোমার।



প্রচন্ড বৃষ্টিতে ট্রেন দাঁড়িয়ে বহুক্ষণ।
স্টেশনের নাম নেই।  মাঝপথে নাম থাকে না কোনো - যেমন মানুষের। পিতা তুমি, সন্তান জন্মের ঐ পারে। প্রেমিক তুমি প্রেমের ঐ পারে। মাঝপথে নাম নেই। দুপাশে বৈদ্যুতিন খুঁটি রেখেছে বংশানুক্রমিক পরিচয়। সম্পর্কই পরিচয় কেবল। ঠাকুমার মৃত্যুর পর যে কাকটি হবিষান্ন খেয়ে যেত রোজ, সেও পরম আত্মীয় আমার। আত্মীয়, যেকোনো বিদ্যুৎপৃষ্ট কাক।






তৃষা চক্রবর্তী

Trisha Chakraborty