Monday, February 20, 2017

অক্ষর পদাবলী : সুমন সাধু

অক্ষর পদাবলী

১)
"
বিজয় নাম বেলাতে ভাদর মাসে।
নিশি আন্ধকার ঘন বারি বরিষে।।"

আমরা দু'জন এক এবং অন্ধ-কার। যেভাবে লিপিকরের মুঠোয় গোটা জানালা অবশিষ্ট পড়ে আছে। তবে জানালা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নই আমরা, আমরা জানি একেকটা ইচ্ছের গায়ে ধুলো লেগে আছে। বেশ আনন্দ করেই উপভোগ করি সেই ধুলো, কিছুটা যৌনসুখ পাই। এ ভরা ভাদ্রে তুমি কাশমেঘ হয়ে ঝরে পড়ছ। পড়শিরা বৃষ্টি ভেবে প্রতিদিন ভুল ভাবছে যাকে। কিছুটা সংশোধন আর বিশ্বাসের জন্ম পার করে এই তো আমাদের ডুবসাঁতার।


২)
"
নীল কুটিল ঘন মৃদু দীর্ঘ কেশ।
তাত ময়ূরের পুছ দিল সুবেশ।।"

মফস্বলে সন্ধে নামতে দেখি রোজ। সন্ধের গা ঘেঁষে বান্ধবীমহল রোজ আমায় পুড়তে দ্যাখে। আমরা সেই পোড়া গন্ধ মেখে নিছক আতর বেশে ফ্ল্যাটের দরজায় হানা দিই। আমি তখন মহান হই, আমরা তখন চুল বাঁধার স্বপ্ন দেখি। খোঁপায় খোঁপায় একটা যুগ শেষ হয়ে আসে।



৩)
"
বিরহে বিকল গোসাঞিঁ তোম্ভে বনমালী।
যবেঁ আছিলাহোঁ আম্ভে আতিশয় বালী।।"

পরজনমের রাধা বেশে কত বিরহ-সকাল পার করে এলে বলোতো! এই আলো এই ছায়া... এই তো ভালো। দশটা পাঁচের লোকাল খানিক ভিড় হয়ে আসে। দাঁড়িয়ে থাকার বিরহ জন্মায়। এক একটা মাথা আমাদের কাছে ছাদ হয়ে ছুটে বেড়ায় বাঁ দিক ঘেঁষে। প্রেমিকদের বয়ে চলা ওই তো শাড়ির ভাঁজ হয়ে খানিক কাজল ছুঁয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। এই মফস্বলে বড্ড বেমানান তুমি।


৪)
"
এবেঁ বড় নয়নে না দেখোঁ সুন্দরী।
কথাঁ গেলে পায়িব আম্ভে শ্রীকৃষ্ণ হরি।।"

বারোমাসের পর পার্বনজনিত ফুল ফুটছে আনখগতরে। এই বেলায় মনে পড়বে কথা-ঠাকুমাদের। আমার অক্ষরে প্রবল আওয়াজ করে যিনি এখন প্রায় শয্যাশায়ী। বুঁদ হয়ে শুয়ে থাকা একাদশী ক্রমশ আমার ফ্রেমে ধরা পড়ছে রোজ। সেই যে অন্ধ-কার, সেই যে আলো আলো ছায়া ছায়া ছুটে চলা, সেই লোকাল ট্রেনের চলে যাওয়া আজ পদাবলী হয়ে মরমে প্রবেশ করছে। আমরা নিছক শিক্ষিত... আমরা নিছক গালভরা দু'টি মানুষ।











সুমন সাধু

Suman Sadhu