Saturday, February 18, 2017

জন্মান্তর ও দুপাশের জঙ্গল থেকে : তৃষা চক্রবর্তী

জন্মান্তর
পিসেমশায় পাগল ছিল। মরে গেলে, ওরা বলেছিল - আজ থেকে আর তো কেউ পাগল বলতে পারবে না। মরে গেল একজন পাগল। আমার পিসেমশাই, একজন পরিচয়। বাড়ির সামনে বাতাবী লেবুর গাছে ফুল এলে, পিসির কাছে টাকা ধার করে বিড়ি কিনতে যেত পিশেমশাই। বুকে গলায় কাশির দমক তুলে তুলে কেবলই বিড়ি খেত। আর মন দিয়ে শুনত, পিসি বলছে 'মর মিনসে, মরণ হয় না তোর'! সেই পিসে মরে যেতে খুব করে কেঁদেছিল পিসি। কেবলই বলেছিল, আমায় ছেড়ে কোথায় গেলে গো?

বুঝিনি, কোন সে শব্দ যাতে কান্নার শ্বাসাঘাত পড়ছে প্রলম্বিত হয়ে? কখনো মনে হয়েছে "আমায়", কখনো "কোথায়"।




ভেবেছিলাম জন্মদাগ মুছে যাবে খুব সহজেই। তোমাকে বলা হয়নি আমার পিশেমশায়ের কথা। অথচ রাত্রির মাঝরাস্তায় হাত ছেড়ে দিয়ে, তুমি কি না বলছ, এসবই আয়ত্তগত, পড়াবার মত তোমার কবিতা নেই আর কোনো! একদিন সব্বাইকে বলে দেব ডেকে, তুমিই তো আদ্যন্ত কবিতা আমার। যাকে পড়বার মত তরিকা লোভনীয় অনাবিষ্কার এক, কবি যার প্রলয়পয়োধি জলে। আমি শুধু দেখি নাভিমূল থেকে জন্ম নিচ্ছেন ব্রহ্মা। জন্মদাগ, অনন্তের মত অবিনাশী। তোমার থেকে তোমায় নিলে, অত্যাশ্চর্য সেই আমি পড়ে থাকে। 



দুপাশের জঙ্গল থেকে

দু'পাশের জঙ্গল থেকে হাতি বেরিয়েছিল
প্রায়শ যেমন বেরোয়, ভেজা মাটিতে ছাপ
খাদ্যান্বেষণের; কাল এদিকে বৃষ্টি হয়েছে রাতে।
বৃষ্টির পর, তবে, বৃষ্টির পর এসেছিল।
ভাগ্যিস! এসব চিহ্ন নয়ত ধুয়ে...
"চুপ, চুপ! এখনি ময়ূর বেরোতে পারে
এত কথা বললে দেখা যায় নাকি
পৃথিবীর রঙ, রূপ ও সৌন্দর্য কতখানি।"

ভোরের দিকেও কোনো ময়ূর; যাতায়াতের পথে-
কালও? নাকি তখন ঘুমিয়ে থাকে?
'ঐ যে ময়ূর, ঐ দিকে ঐ...'
কলাপ লুকোচ্ছে। প্রাণপন দৌড়িয়ে।
এমা! ওদের বুঝি ভয় এতখানি, পাশের শিশুটি

বলল - রিজার্ভ ফরেস্ট মানে তো আমি জানি।














তৃষা চক্রবর্তী
Trisha Chakraborty