Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu

Saturday, March 4, 2017

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭ - রঙ্গন রায়

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭

"এবং আরো কিছু ভুল করবার জন্য আমাকে আরো কিছুকাল থেকে যেতে হবে!"
-      রতন দাশ

আমি নিজের মত এঁকে নিতে পারবো। ভুল হলে হবে। তবুও তো নিজের মতো। অদ্রিজার আঁকা পোর্ট্রটে আমি শুধু পার্টিকুলার কোন এক জনের মুখের সমস্ত রেখা লক্ষ্য করতে পারবো, কিন্তু নিজের মত নয়। যেভাবে অদ্রিজা দেখাবে ওভাবেই দেখতে বাধ্য। আমি নিজের মত দেখতে চাইছি, হয়তো আমার ইচ্ছা হলো পুজার দীর্ঘ চুল বাঁধার ছবিটাতে চুলগুলো এলোমেলো হোক - ঘাড় ও গলার পাশ দিয়ে নেমে আসুক বা ভেজা চুল পাতলা পিঠে ভারী ভাবে লেপ্টে আছে - চোখের পাতায় তিরতির করছে বৃষ্টির জলনাহ্! এসব আমাকেই আঁকতে হবে। কেউ আমায় সন্তুষ্ট করতে পারলোনা, সম্ভব নয়। ইজেল, ক্যানভাস ভেঙেচুরে এইসব আঁকিবুকি অনিবার্য ভাবে আমারই জন্য

এই সেদিনও আমি 'কালাশনিকভ'এর মানে জানতামনা। যখন জানলাম তখন থেকেই মাথার ভিতর শুধু একটাই ধুন "কালাশনিকভ - কালাশনিকভ"... কি যে এক অদ্ভুত ধূন জানিনা। এরকম হয়। অনেকেরই হয়তো হয়। আমারও আগে হয়েছে। অথচ দ্যাখো AK 47 আমি বাঁটুল দি গ্রেট থেকেই শুনে আসছি। কালাশনিকভ কে আমি আমার মত করে কিছু একটা ভেবে নিয়েছিলাম। সেটাও এখন মনে পড়ছেনা।


দীর্ঘ ৮দিন পর ফিরে এসেছি। শুনে মনে হচ্ছে না যে দীর্ঘ '৮বছর' টাইপ? টেবিলে পুরু ধুলোর আস্তরন, জেরক্স করা নাটকের ফটফটে সাদা স্ক্রিপ্টটার প্রথম পাতাটা কিরকম অস্বাভাবিক ফ্যাকাসে হয়ে হয়ে গেছে, ধুলো গুলো লক্ষ্য করার বিষয় হয়ে উঠছে; অনিবার্য ভাবে - ব্যাক্তিগত ভাবে আতসকাচ দিয়ে ধুলো লক্ষ্য করা একটা ফালতু কাজযেমন এই লেখাটাকিন্তু কি করবো বলো - এ লেখা তো আমাকে লিখতে হবেই, আমাকে লিখতেই হবে, আমাকেই লিখতে হবে - "" কমন ধরলে লেখাটা জীবনের ওষুধের মতো। একটা খারাপ লেখা লিখতে চাইছি কেননা বাজে লেখা গুলোকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।

দীর্ঘ একমাস লিখিনি। লেখা থেকে সরে এসেছি। 'লাইক এ রোলিং স্টোন' থেমে গেলে শ্যাওলা অবধারিত সত্য। ভাবছি এখন থেকে রোজ ডায়েরি লিখব। তাহলে লেখার অভ্যাসটা থাকবে। নয়তো গ্যাপ পূরন করা বড্ড চাপের্। পূর্নিমার চাঁদ দেখলেই যেমন ওয়্যার উলফ্তারপর নেকড়ে থেকে মানুষে রূপান্তরিত হতে যে কষ্ট হতো বলে পড়েছি অনেক ইংরেজি নভেলেআমারো সেরকম ফিলিংস হচ্ছে। লিখতেই পারছিনা। এই যে এইমাত্র বল্লাম ডায়েরি লেখার কথা, এটা বোধহয় এই নিয়ে ৭বার ভেবেছি, কিন্তু

এই ভাবনাগুলোকে এঁকে দিতে হবে, এঁকে ফেলতে হবে। অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং তো অ্যাবস্ট্রাক্ট ভাবনাজাত শিল্প। যেমন ফোনের ভিতর দিয়ে যে কথা গুলো আসছে তার কোন মূর্ত প্রতীক নেই। শব্দ।

স্বপ্ন। একটি বিমূর্ত চলচ্চিত্র। ছবি। তাতেও শব্দ হয়। আমরা শুনতে পাই। ঘুম থেকে উঠে লিখতে পারিনা। মনে থাকেনা। মনের মত বিমূর্ত এক জিনিস আর একটি বিমূর্ত ভাবকে ধরে রাখতে পারেনা সর্বদা। এই গ্যাপ গুলোতে কিছু লেখার উপাদান পড়ে থাকে। এগুলো নিখুঁত নামিয়ে ফেলতে হবে খাতায় কলমে। আমার মস্তিষ্কে যে সবচেয়ে বড় প্রম্পটার বসে আছে তার সাথে সুকুমার রায়ের কথোপকথনটাও বিমূর্ত -

"আয় তোর মুন্ডুটা দেখি/আয় দেখি ফুটোস্কোপ দিয়ে/দেখি কত ভেজালের মেকি/আছে তোর মগজের ঘিয়ে/কোনদিকে বুদ্ধিটা খোলা/ কোনদিকে থেকে যায় চাপা/ কতখানি ভসভসে ঘিলু/ কতখানি থকথকে ফাঁপা।"

আজ অর্পিতা দি ফোন করেছিল। দুটো লেখা শোনালো ফোনে। গদ্য। অনেকদিন পর লেখা শুনলাম। লেখার থেকে যে দূরত্ব হয়ে গিয়েছিল তার যেন মিসিং লিঙ্ক পেলাম। ম্যাজিক রিয়ালিজমের সাথে সুর রিয়ালিজমের এক বিস্তারিত যোগাযোগ আমাকে খিল্লি ভর্তি জীবনের কথা মনে করাচ্ছিল। যেখানে গাঁজার ঠেকে অনেক বন্ধু জুটে যায়। কবিতা লেখার জন্য অনেক বন্ধু জুটে যায়। নাটক করার জন্য অনেক বন্ধু জুটে যায়। একা থাকার জন্য নিজেকেই খুঁজে পাওয়া যায়না।

লখনৌ তে তো একটাও কবিতা প্রেমী পেলামনা। নাকি অনুসন্ধানই করিনি। ভয়! যদি কবিতা শুনিয়ে দেয়? আর আমার কাছ থেকেও কিছু শুনতে চায়? আমি যে এখন লিখতেই পারছিনা!!!










রঙ্গন রায়

Rangan Roy