Friday, March 24, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এলেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আমার প্রথম কবিতার বই

আমার প্রথম কবিতার বইটি হয়ত এখনও
তোমার ঘরে

চুপচাপ লক্ষ্য রাখছে তোমার পালতোলা যাপনচিত্রে,
মিলিয়ে নিচ্ছে সরলের বেজন্মা নিয়ম-কানুন,
তোমার সময়নদী বয়ে যাচ্ছে অন্যখাতে...

তুমি খেয়াল করছো না

আমার বইটি, একদিন দেখো, ধুলো ঝেড়ে উঠে পড়বে ঠিক;
ভোরবেলা তোমায় ঘুম থেকে তুলে বলবে - চলি!

আমি ওর কাছ থেকে শুনে নেবো তোমার 
গুহাজীবনের আদিম রহস্য,
তারপর ইতিহাসের পাতা থেকে ছিঁড়ে নেবো
পৌরাণিক কিছু প্রতিশোধ -

কিছু খুদকুঁড়ো ভালোবাসার লোভ,
আদরের মতো মিষ্টি কিছু শব্দবন্ধ...

বন্ধু, ভালো থেকো!



একটি অস্থির বিড়াল

ওইযে বেড়াল,
সারাদিন এবাড়ি, ওবাড়ি, সেবাড়ি;
তোমরা দেখছো -
মাছের কাঁটা, খাম - খেয়াল, নি:শব্দ চলাফেরা...

আসলে বিড়ালটির তিনদিকে তিনটি ভূখন্ড
আরসে থাকে মধ্যবর্তী কোনও এক না-মানুষের রাজ্যে,
যে কোনও সীমান্তে তার প্রবেশ অবাধ!

অথচ, একটা রিফিউজি বেড়াল ষোলো আনা জানে,
'
বিতাড়িত' শব্দের আসল মানে...





আঁখোমে বসে হো তুম

পেটের মধ্যে মোচড় দিচ্ছে অখাদ্য কিছু শব্দ,
অজানা ক্লান্তিতে বেজে উঠছে নাইন্টিজ্ -
'
আঁখোমে বসে হো তুম';

এসব কবিতার সাক্ষী তো ওই একটি
ঢুলুঢুলু চায়ের দোকান,
আর দোকানের তেত্রিশ কোটি দেওয়ালজোড়া
যীশুঠাকুর, বুদ্ধঠাকুর...

ওরা কাউকে বলবেনা কোনোদিন
আমাদের নিষিদ্ধ, নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি

একটু বাদে ঢাকুরিয়া ব্রিজ সিঁড়ি নামিয়ে
তুলে নিয়ে যাবে আমাদের,
অপাচ্য শব্দেরা বমি করতে করতে,
বমি করতে করতে
আলাদা হয়ে যাবে সব...

আমাদের আর কবিতা হওয়া হলনা গো!
পেটের মধ্যে অকালবর্ষণের ব্যথা চেপে শুনছি,
চায়ের দোকানটা মম করছে পুরনো গানে

'আঁখো মে বসে হো তুম'!
'
আঁখো মে বসে হো তুম'...



যারা চলে যায়

তোমায় দু:খ পেয়ে যারা চলে যায়,
তোমায় অ-বুঝে যারা সরে যায়,

ভোরবেলা খোলা জানলায় তাদের সাথে পাখি
ডাকো তুমি?

তাদের মনে করে ঘুমভাঙা সিগনাল পার হয়ে যাও...

এসব অনাসৃষ্টি দেখতে দেখতে ভুলগুলো সব
ভুলেই মরি আমি;
অপেক্ষার সেলাই কেটে বেরিয়ে আসে নতুন চারাগাছ,
পুঁজ-রক্তের মতো লালন করি তাকে...

অচেনা সুগন্ধি হাসিতে কবে যে বুঝে নেবে তুমি,
আমাদের উড়োচিঠি সম্পর্ক

দু-ফর্মাতেই শেষ!










সীমিতা মুখোপাধ্যায়

Simita Mukhopadhyay