Sunday, March 26, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সুমন সাধু

 কাল, কালের গর্ভ

তাকে খুঁজেছি আরামকেদারার ছাদে। খুঁজেছি আরামে বেশ। দশকনামার ফাল্গুনে আঁজলা ভরে স্নান দিয়েছি কয়েক। আমি কি ভুলেছি হিংস্র স্তাবকতা! ভুলেছি কি শিশুমঙ্গল ঘ্রাণ! জীবদ্দশায় আমরা পেলাম শক্তি, ঊর্দ্ধে গাইলেন রামপ্রসাদ।

বিশ্বাসের আঁকাপথে তর্ক করছি রোজ। সংক্ষেপে কথোপকথন সারি। শাড়ি গায়ে রোজ আলতার আলতো ছাপ দেখে ভেবে নিই জোয়ার এল বুঝি। হারতে থাকা তর্কের নিম্নে এসে মধ্যভাগ খুঁজি। একপাশে থেকে যান আবিষ্কর্তা, সন্তান স্নেহে ঘুমোন ভারতচন্দ্র।

নদীর মতোন একটা নদী উপহার দেব বলে কেন্দ্রের ওংকার জুড়ে ঘেমে উঠি। ত্রিলোককর্তা ছদ্দবেশে বেশ আসা যাওয়া করেন। ঘামজলে দুটো নৌকো ছাড়ি। একান্তে উঠে আসে কঠোপণিষদ স্তোত্র। স্তোত্রের আবহ জুড়ে শাঁখ বাজিয়ে প্রমাণ করি নদীর মতো তীব্র হওয়া একটা বিশ্বাস। বিশ্বাসের সীমান্তে এসে নারদ রূপে মজা পাই, আড়ালে নীলকণ্ঠ মুচকি হাসেন।




শোনো...
ধূসর যদি চাও সহজেই হাত রাখতে পারো। এ জ্বালা মেটাবো সহজেই। দু'দিনের এই অপরাহ্নে এসে ভাতঘুম পাড়ে বিছিয়েছিলে বান্ধবনগর। তবু তো চলে যাও এলোমেলো একাটি ফেলে।

ক্রমশ ফুরিয়ে আসছি। কাণ্ড থেকে শেকড় অবদি বৃত্তের জালে ঘুরপাক খাচ্ছি কতটা বছর। আছো কেমন? খেয়েছ? এসব কুড়োনো ক্ষয় অনন্ত বৃক্ষজালে পুড়ে যাচ্ছে রোজ। নিজের ঘরেই আছি। একাটি পুড়ছ সাজানো শ্মশানে।

সেই তো বিকেল, শুধু স্টেশনের ধার। অনন্ত চুল্লির গায়ে জড়িয়ে যাচ্ছো পারস্পরিক ব্যথার মতোন। পুরোনো গাছের গায়ে আমি এঁকেছি করুণ। সব সাজানো কি ঘনত্ব পায়! ভিতরর স্বভাব জুড়ে শৈশব কাঁদে।

আজ শুধু দিঘিজল। নোয়ানো ডালপালা শিয়রে তোমার। শিয়রে কদম্ব গাছ, ছায়া চায়… ছায়া। প্রাণনাথ, দূরদেশের ক্ষতটি নিয়ে ফিরলে, অথচ দেখা করলে না। চলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠি, হাতছানি দিয়ে বলি দু'জনের কথা।











সুমন সাধু
Suman Sadhu