Thursday, March 30, 2017

Menstruation Cycle - কলিকাতার প্রমিতসার্কেল হইতে আমি অতনু কইতাছি




কলিকাতার প্রমিতসার্কেল হইতে আমি অতনু কইতাছি

সুশীলপর্ব, ১
মাঝে মধ্যে আমিও সুশীল হইতে চাই! আর তাই কিছু হিসেব পাশ কাটাইয়া যাওনের লগে আরাম পাই, ভাবিতে থাকি এই বুঝি ছুছিল হইলাম গো... চ লিখি না ছ লিখি... চ'-এ চো*:P ছ-এ ছমাছম ছম্মা ছমাছম ছম্মা, চু অথবা ছু, চিল অথবা ছিল, চু-চিল, ছু-ছিল! দীর্ঘ কোনো ই-কারের প্রয়োজন নাই, চুচিল বা ছুছিলেই হইবেক ম্যান।তারপর চুচিলের পত্রপত্রিকা ছুছিলের 'আজ রাতে তমুক চ্যানলে মাড়াইবো লাইভ' ইত্যাদি, তারপর অমুক আকাদেমির তমুক তামাক... বাবুরাম সাপুড়ে চুচিল তুই কোথা যাস বাপুরে, আয় বাওয়া দেখে যা, দুইখান তাস রেখে যা... ট্রাম্পকেও চোখে ধাঁধা লাগায়ে চুচিলগণ ওভার ট্রামের কার্ড খেলেন গো... তো আমিও মাঝে মধ্যে সুশীল হইতে চাহি...

পূর্ণসাধু প্রমিতের সুশীল হইতে চাই... কিন্তু আমার তো ব্যকরণবিধি ঠিক নাই, না-প্রমিত না-আঞ্চলিক, না-ঘটি না-বাঙাল, না-মোহনা না-পার্বত্য, না-জংলা না-মালভূম – কিছুই ঠিক নাই... গুরুচণ্ডালীর বাপেরে মা ইত্যাদি কেস হয়... তারপর ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট চুদায়ে মানে নিউজটিউজ লিখে কখনো রামপ্রসাদ কখনো দুদ্দু শাহ গাহিতে গাহিতে বাসের জানালার ধারে সুশীল নগর দেখতে দেইখতে বাস থিকান নামি, তারপর টোটো ধরি, বাসায় ফিরি... মুখে চাট্টকিছু দিয়া ফেইসবুকে বসি, দেখি  সুশীল মামা দ্যায় হামা... এরপর সুশীল নয় বরং খ্যাপাচোদা, এমন পদকর্তা, পদাবলীকার, কথকঠাকুর, ফিলোজফার, কবিএমন সকল পাখীমানুষদের মাথাখারাপ লেখা নিয়ে বসে থাকি, মাঝে মধ্যে প্রেমিকা বা প্রেয়সী-সুন্দরীদের লগে কথা হয়, প্রেমিকাও মাঝে মধ্যে কোথায় যে যায়েন, তা ভাইবা ডুব ডুব সাগরে আমার মন, প্রেমেরমানুষ কোথায় হারায় নাকি রয়েই যায়... বাসাতেও আমারে পুঁছে না কেউ...

তাই বাস থিকা নেমে একখান টিকিট কেটে লই এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরায়, মুখ কালো ক'রে রবিন্দরের আশ্রমে যাই... রবিন্দর কইতাছি, কেননা সেদিন দেখি হিন্দিভাষীদের আর হিন্দুত্বের ধ্বজা উড়িতেছে আশ্রম থিকা অনতি দূরে...তারও আগে দিদির তোরণ, দিদির তোরণের পর ত্রিকোণ লাল পতাকা, যাহার বর্ডার সোনালী জরিতে, মাঝে হনুমান জ্বিউ…


আমি আশ্রম মাড়াইতে নিকেতন যাই না, কোপাইয়ের দিকে যাই, রতনপল্লীতে এক মায়াবন্ধুনী তাঁর বাসায় ঠাঁই দেন, যত্ন করেন, গান শুনান,  জ্বরের জলপটি দেন, প্রেমিকার গল্প শোনেন, তাঁর প্রেমিকের তরে তিনি কাঁদেন, ব্যস... তারপর বাসুদেবদার বাসায় যা,  কখনো, কখনো বা সুপ্রভার সাথে  ভুলে এক-আধবার ছাতিমতলায়, কখনো বা বন্ধুনীর সাথেই প্রান্তিকের ছায়সুনিবিড় স্টেশনের পাশে জলাধারে, কখনো বা খোয়াইয়ে... এই আমার মন খারাপের ঠাঁই, যদিও এছাড়াও হিল্লিদিল্লি করি কিন্তু সেসব মন ভালো থাকিলে...

:/ আচ্ছা আমি এতক্ষণ কী লিখছি আর ক্যান লিখতাছি, কিছুই জানি না... আমি কিছু পাশ কাটিয়ে যাই কী না ভাবি... না আমি আমার বিড়বিড় লিখতাছি, আমার আর সুশীল হওয়া হইলো না... ওই যে দ্যাখেন সুশীল হইতে গেলে দিনক্ষণ ধইরা পোতিবাদ করতে হয়, যেন বা খনার বচন, কোন কোন বারে কী কী করণীয়, যেন-বা পোতিবাদের পুরুত কয়েছেন ওগো আজ অমুক দিবস আজ একখান পতিবাদি ছাহিত্য, ছিনিমা, চুদুরবুদুর কিছু হই যাক্‌... :O

যেমন ভাষা দিবসের দিন শনিমন্দিরে মোমবাতি ধূপ আর মসজিদে আতর লইয়া যাওনের মতন ভাষাবিপ্লবী হইতে হয়, কালো ব্যাজ পরতে হয়, চোখ ছলছল করে ফুস করে হ্যাপি ইন্টারন্যাশাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে লিখতে হয়, আর মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাঙলা ভাষা গানের সঙ্গে আলুচিপস খাইতে খাইতে বৌদির পিঠের ভিতর লাল ব্রা'র স্ট্র্যাপ দেখিতে দেখিতে ওগো ওগো ১৯৫২'র ভাষা শহীদ কয়ে গলা কাঁপাইতে হয়, তারপর বাবুল সুপ্রীয়র গান চালায়ে বাথরুমে নাড়াতে যাইতে হয়... এবং তারপর কবিতা লিখার তাড়া আসে, ভাইটি তুমি স্বদেশ পত্রিকায় আর বাল্মিকী পোত্রিকায় দুইখান মাত্রবৃত্তের ঝিকিরমিকির কোবতে দাও তো... তারপর  আমিরুল ইসলামকে মুসলমান আর প্রত্যয় পত্রনবীশকে বাঙালী কইতে হয়...

– আরে  মুসলমানও তো বাঙালী...
– ও হ্যঁ ঠিক কয়েছেন, আসলে মনে থাকে না বুজচেন তো আসলে ওরা বাঙালী মুসল্মান আর আমরা তো বাঙালী,
– হ্যা হ্যা তা যা বলেচেন... 

এইসময় বাক্যের অন্তরাল হইতে চিহ্নতত্ত্বের ভিতরের পাখী হয় তো গর্জায়ে ওঠেন! 

– তোর দাদুর বাউন বাপ এসে ভাষা আন্দোলন চুদায়েছে না কিরে পোঁদভাতারের পোলা? বাঙ্গলা ভাষার ইতিহাসরে তোর বর্ণবাদীগুষ্টি আগল দিয়া রাখছেন নাকি রে কুত্তার ছা?
 ইত্যাদি.. L

– কিন্তু সুশীল বলে কতা, তাও আবার কোলকাতার ক্যালকেশিয়ান, বাওয়া একটা কতা মানতে অবে, এই আনন্দবাজার... বড় স্প্যানে বোলতে হবে বেঙ্গলে কোলকাতাই রেঁনেসা... বঙ্কিম থেকেই দ্যাকো, কলকাতা কেন্দিক, ছত্যজিত কোলকাতা... হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা... পোতিস্টান বা পোতিস্টান বিরোধি সব কলকাতা...

বাক্যের ভিতর থেকে পাখীর আর্গুমেন্ট:

ওয়ালিউল্লাহকে তোরা পয়দা করছো নাকি চুতিয়া? আখতারুজ্জামান? আল মাহমুদ? ছফা?  জীবনানন্দ? কিংবা বড় স্প্যানে পদাবলী, মঙ্গলকাব্য সকল??  এমনকি বিনয় বা ঋত্বিক কতটুকুন কইলকাত্তার? মানিক? বিভূতিভূষন কতটুকু কলিকাতার? দৌলত কাজী? লালন? রামপ্রসাদ?

তো এই প্রমিতনগর আবার রাজনীতিসচেতনও বটে! তাই প্রমিতনগরের গ্রেইট কিলিং পিরিয়ডে বর্ণবাদী হিন্দু আর কউমবাদী মুসলমানের দাঙ্গার ফলঃশ্রুতিতে বাংলা ভাগ হয়। এবং ভাগের আগে থেকেই ক্ষমতার কেন্দ্রে বর্ণহিন্দুত্বকে কায়েম রাখার অমোঘ চেষ্টা সুচারু হইয়া ওঠে! তাই দেখাই যায় যে বাংলাভাগের পর বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী এ কে ফজলুল হকের পর পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রীপদে কোনো মুসলমান, দলিত, নিম্নবর্ণ, পিছড়েবর্গের কথা কেউ ভাবার সাহসটুকুও পায় নাই! এই কলকাতাই ত্বরাইয়ের নকশালবাড়ির আন্দোলনুরেও পিছনে ছোরা বসায়... প্রেসিডেন্সির এলিট ছাত্রনেতা, আমাগো কাকু, কাকামণি... জঙ্গলে ঐক্যের লাল নিশান দুলে উঠলে প্রেসিডেন্সি-যাদপুরের চুচিল ছানাপোনাদের ফ্র্যাকশন ঐক্যের মধ্যে বিভাজনরে তীব্রতর করে... প্রমিত নগর রাজনীতি সচেতন তাই দলে দলে আলিমুদ্দিন আর কালীঘাটের মধ্যে সমন্বয়-বিন্যাসে, থাক... ব্রিগেডের মাঠে জ্যোতিবাবু বাজপেয়ীর হাতেহাতে কমরেড... রাজনীতি সচেতন তাই বাংলা শব্দের ভিতর আইটি চেতনা চোঁ কইরা ঢুইকা যায়... আর চান্স পেলেই ক্যালকাটার ক্যালকেশিয়ানরা ইন্ডিয়ান প্রমাণে বাংলার বাপান্ত করেন...

আর তাই হিন্দুত্বের মনুবাদী পুরুষবাদরে আক্রমণের লগে ত্রিশূলে কন্ডোম চাপায়ে দ্যায় পোলিটিক্যাল পোয়েট! আহা গো আহা আহা পোতিবাদ গো! আর চুচিল সকল ভাবে হিন্দুত্বের ফ্যাসিজম মুড়ি খাবে, কইবে গণতান্ত্রিক পোতিবাদ করো হে... ফ্যাজিজম ফ্যাসিবাদ চাপাইবে, তাই থানাপুলিশ হবে, নো আশ্চর্য, কিন্তু কোবতে দিবসের দিন তিথিনক্ষত্র ফলো কইরা আমাগো ছিজাত দাদা পোতিবাদ করছিলেন মনুবাদী ধর্ষণতন্ত্রের, তার লগে এফ আই আর, রাম রাম... চলো মিছিল করি

... বাক্যের অন্তরালে পাখীর ঝাপট:

পোলাপাইন এহেন অরাজনৈতিক কবে থিকা? এইটা বোঝে না যে ধর্ষণের প্রতিবাদে ত্রিশূলে কন্ডোম পরাইয়া কন্ডোমের উপর ধর্ষণ নিরোধক লেবেল সাঁটাছেন কবিদাদা! আর তাহাতে পুরুষতন্ত্রের লজিক অটুত রইছে! পুরুষবাদরে অটুট রাইখা কী পদ্ধিতিতে ধর্ষণের বা ফ্যাসিবাদের বিরোধিতা হবে কমরেড?

কিন্তু পোতিবাদ ওনাদের করতেই হবে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, এফ আই আরের বিরুদ্ধে, কেননা বাজার এই পোতিবাদিরে দাঁড় করাইছেন। বাজারের চামচিকা সকল বানিয়া কবি-লেখক-চুচিল চামচাবাজরা, যারা আজ নকশাল কাল তিনো, আজ তিনো কাল হনুমান, হনুমান ও ঝান্ডুবামের এলায়েন্স... এবং যাহারা বর্ণবাদী প্রমিতনগরের বুদ্ধিসার্কেল, ওম শান্তি!

কিন্তু ওদিকে, ওই শান্তিনিকেতনে, বীরভূমে, বোলপুরে হনুমানের তোরণের পাশেই হকিস্টিক নিয়া কারা যেন স্টুডেন্টদের গণতান্ত্রিক বাক্যলাপে হা রে রে হইছেন, ছাত্রছাত্রীরা হাসপাতালে... সুশীলদের চোখে পড়ে নাই, কেননা ছাত্রদের হাতে হকের লাল পতাকা ছিল, লাল দেখলে ডরান সুশীল যতেক ষাঁড়!

এবং আমিও নাকি সুশীল হইতে চাই, আর তাই –

আমি তখন রতনপল্লীতে, পূব দেশে থেকে আগত বন্ধুর সাথে তখন ছায়াসুনিবিড় সময় যাপন করিতেছি... আমার আত্মজরা রক্তাক্ত হচ্ছেন, আর আমি মুড়ি খাইতাছি, কারণ আমি কইকাত্তার পাশের জেলার পোলা, যারা মার খাচ্ছেন তারাও, আমাদের লগে অনেক ফ্র্যাকশন ভায়া... আর আমিও তো চুচিল হইতে চাই!

যেভাবে চুচিলরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিবিশেষে প্রতিবাদ করেন...  J

(চলবে)



















অতনু সিংহ

Atanu Singha


সম্পাদক যাহা ভাবিতেছেনঃ

প্রতিমাসেই যে ভাবে মাইয়া মানুষের শরীর থিকা রক্ত বাইর হয়, সেই ভাবেই এই সেগুমেন্টে মাসের শেষে ও শুরুতে বিদ্বজনেরা কথা কইবেন... তারা যা খুশি বইলে রক্তাক্ত করবেন আপনাদের ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, মোবাইল, ট্যাব ইত্যাদি ইত্যাদি... তাতে কিন্তু আমাগো ভাগ নাই... আমাগো যতই ঢিলান, আমরা কিস্‌স্যু কবোনা। বেসিক্যালি আশেপাশে যা যা ঘটতাসে, তাতে আমরা কিসু করার বা বলার পাইনা... আমরা শুধু দেখাইতে পারি, দেখাইতেসি তাই।

~বাতাসের বীজ~