Monday, April 17, 2017

বাপি গাইন-এর : দু এক পশলা চিন্তাসূত্র

দু এক পশলা চিন্তাসূত্র


কতরকম বিষই তো এই দেহ গ্রহন করেছে
এই একটুকরো মেঘ আর কতটাই বা মরুভূমি নেবে


অনিশ্চিত এই জীবনের একমাত্র নিশ্চয়তা মৃত্যু। এমন এক বিশ্বস্ত বুক, এমন এক আলিঙ্গন যা একমুহুর্তের জন্যও স্পর্শ ত্যাগ করবে না। এই চরিত্রকেই আমরা খুঁজি প্রেমিকার ভেতরে, প্রেমিকের ভেতরে অর্থাৎ আমরা তোমার ভেতরে মৃত্যুকে খুঁজি প্রতিমুহুর্তে, জীবন খুঁজি না কখনও।


অর্ধমৃত ফুল দিয়ে ঘর সাজাবার আগে, আমি চাই ফুলগুলো গাছেই শুকিয়ে যাক। অন্ধকার হয়ে আছে এমন অনেক গাছ দেখেছি দিনের বেলায়। যেন কেউ শুভেচ্ছা অনুবাদ করতে পারেনি আর শুধু শুধু সাদা পৃষ্ঠা নষ্ট করে গেছে।
তোমাকে ভালোবাসা বোঝাতে গিয়ে তাই গাছ ছাড়া আর কোনো প্রতিনিধি পাইনা। হাঁটাপথে সে বহুদিন থেকে তোমাকে মুগ্ধ করেছে। এতো এতো মুগ্ধতা সামলাতে না পেরে তুমি তার ছোটো একটা হাত ভেঙে টেবিলে রেখেছ। টেবিলের ওপর হাতভর্তি ফুল, মৃত্যুর দিকে দৌড়ে যাওয়া ফুল। ঘর আলো হয়ে আছে, পবিত্র এক গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে মৃত্যুর শরীর থেকে তোমার স্নায়ু পর্যন্ত। তুমি এককাপ চা নিয়ে এই সৌন্দর্য্য সহ্য করছো বিকেলের আলোয়। ওদিকে যার গেছে তার বেদনা ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ছে রাস্তার ধুলোয়। এইপথে কাল আবার তুমি টিউশনে যাবে আর দেখবে ভাঙা ডালের পাশে এখনও অনেক ডাল। এখনও যথেষ্ট ফুল। তোমার মুগ্ধতা আগের মতোই তোমাকে মৃত্যুর প্রতি অন্ধ করে রেখেছে।



কাগজের পাখি। পাখিকে ওড়াতে পারিনি। না-পারার ভেতর একটা অনেকদিনের হাওয়া। আশেপাশে কোথাও কারো আকাশ আছে হয়তো। আশেপাশে মস্করা ঘনিয়ে আছে এরকম সন্দেহ হয়। সন্দেহের নূন্যতম ছাদ নেই। যৎসামান্য ছায়া দেখলেই তার ঘুম পায়। ঘুমের ভেতর সে পাউরুটির স্বপ্ন দেখে। গরম, ভাজা ভাজা পাউরুটি। ঘুম থেকে উঠে জিভে মাখনের গন্ধ খোঁজে সে। গন্ধ নেই। টক একটা দৈনন্দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্দেহ বড়ো হয়। সন্দেহ লম্বা লম্বা পা ফেলে ক্রমশঃ দূরবর্তী হয় নির্জন দেওয়ালের সাপেক্ষে। আশেপাশে পাখির ছায়া ঘনিয়ে আসে আবার। ঘুম পায়, দু'পা ক্লান্তির আগেই ঘুম পায় খুব।


সময় যায় যেন একটা ছোটো কচ্ছপ পুকুরকে উপেক্ষা করে গোল গোল উড়ছে তার নেশার ভেতর। ঘৃণা কোনো উল্লেখযোগ্য বিষয় না, তুমি জানো - যখন মাঝরাতে বালির বুকে স্পর্শ অন্যদিনের থেকেও বেশি ঠান্ডা হয়ে আসে এবং একজন অপরিচিত ঘুম রামের গ্লাসটা এগিয়ে দেয় আগাম কোনোরকম সতর্কতা ছাড়াই; হ্যাঁ এরকম একটা দুর্ঘটনার ভেতর নিজেকে খুব সামান্য মনে হয়। কিন্তু এটাও তো ঠিক - সৌভাগ্যের এক গ্লাস কেবলমাত্র গতরাতের অংশ হতে পারে একটা জীবনে। যদিও নিজেকে অতিক্রম করে কাউকে ভালোবাসা এক মহান আত্মহত্যার সমান। খুব সম্ভবত এটা এমন একটা অসাধারণ পোষাকের স্মৃতি যা একদিনের পার্টিতেই মানিয়ে যেত বেশ। এই উৎসর্গের কল্পনা যেকোনো মুহূর্তেই ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব, কেননা একটা নির্দিষ্ট সময় পার করে শরীর, এই ক্রমপরিবর্তনশীল শরীর আর পোষাকের সংরক্ষণ চায় না। এটা নিজে থেকেই ফেটে পরে একটা স্বর্গীয় নরকের মতো। মৃত্যুর কোনদিকে এসে বসতে চাও তুমি এখন? ঘুমের তৃপ্তি নিয়ে কখনও কি তুমি জেগে উঠেছ নাকডাকা কোনো পরীর গল্পগুচ্ছের ভেতর?
-      এখন আমার দিকে ওভাবে তাকিয়ে থেকোনা যেন তুমি আয়নাকেই অস্বীকার করছ।
বসে থাকো লম্বা একটা চামড়ার গদির ভেতর এবং অপেক্ষা করো যতক্ষণ না ক্লান্তি তোমার শূন্যতাকে সারিয়ে তোলে এবং চোখ বন্ধ করেই দেখার আসল মজাটা নাও। একজন অজানাকে হেঁটে পার করতে কেমন অন্তঃরঙ্গ কাঁপুনি হয়, একবার গিলে দেখো।
















বাপি গাইন
Bapi Gain