Friday, June 16, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [প্রথম পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”

সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।

সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

পুরনো কথা
ঝিনুক,
শেষ শ্রাবণ দিন, বেলা ছিল গোধূলি।
    কণে দেখা আলোর রেশমি হিজাব ছিল, ভাগ্যিস!
     নয়ত ধরা পরে যেতো ভাষায় মোড়া রহস্য।

পাখির ডানার ভাঁজে ভাঁজে যে কথা-গান-গল্প
      আজীবন আবডালে থেকে যায়, তেমন গোপন-
ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যায় যেসব কথা
      তেমনটাই আধপাগলা,

অন্ধকারের ঠোঙ্গায় মুড়ে খুব চুপি চুপি
    শেষ শ্রাবণের তেলেভাজা গন্ধ পাঠাব তোমায়
চোখ জড়ানো ঢুলুঢুলু সব পুরনো কথা

ধরা দেবেনা কেউ, কিচ্ছুটি টের পাবেনা কখন্‌
         পুরনো কথার দল তোমার স্বপ্নের
             মেঘবালিকা হয়ে উঠেছে।

ইতি, সাগর
১২ই জুলাই, ২০১৫, মুম্বাই





বারণ
 ডাকনাম ধরে ডেকো না সাগর,
          উত্তাল হয় মাটি।
কাঠ পেন্সিল ইজেল আঁচরে
          ছায়ার শিকড় কাটি।

দিগন্ত জুড়ে ‘আমি’ আমি শুধু
       যতটা ফিরিয়ে দিলে-
তার চেয়ে বেশি ছড়িয়ে দিলাম
       তোমার বুকের নীলে।
ইতি, ঝিনুক
১৪ই জুলাই, ২০১৫, কলকাতা





কেমন যেন
ঝিনুক,
তুই অযুত অক্ষ দ্রাঘিমা দূরে
তবু জানি আজ বর্ষার দিন।
তোর শরীর জড়িয়ে উঠেছে আমার দেওয়া নীল শাড়িটা
সরীসৃপের মত

বাড়িতে বুঝি খিচুরি আর ডিম ভাজা?
আচ্ছা অগোছালো দুয়েক গোছা চুল
তোর কালো টিপটার গা বেয়ে গড়িয়ে গেছে আজ?

খোলা পিঠ তোর অপেক্ষা করে আছে কি
আমার হাতের ছোঁয়া পাবার জন্য?
মিষ্টি স্বাদের লিপ বামে ভেজা ঠোঁট কি
অপেক্ষা করে আমার বেইমান ঠোঁট দুটোর?

আমার এখানে অনেক ঝড়, অনেক বৃষ্টি
রোজ ঝড়, রোজ বৃষ্টি।

ইতি, সাগর
১৫ই আগস্ট, ২০১৫, মুম্বাই




রাগ করেছি বলে
একঘেয়ে কাজে আর অকাজে ব্যস্ত থাকার
ভান করে অনেক লোক ঠকিয়ে ফিরবে
যখন বাড়ি,
মন যখন ভীষণ রকম কফির জন্য
আকুল করবে,
বেইমানের মত তখন প্রশ্ন করবে
- "ধরে রাখবি?"
মুখ ঘুরিয়ে অন্ধকারে বলব,
- "যেতে দেবো"

ইতি, ঝিনুক
১৮ই আগস্ট, ২০১৫, কলকাতা




প্রেমিকার ফোন পেলাম
ঝিনুক,
কাল প্রেমিকার সাথে কথা হল অনেকক্ষণ।
যৌন আলাপ, নগ্ন ছবি আদান প্রদান,
আরও কিছু লং ডিস্টেন্স আদিখ্যেতা।
সে ফোনই করে আর-
চিঠি কেবল তুই লিখিস।

জানি, মুখ বুজে থাকবি কিন্তু
আমি হাল ছেড়ে দিচ্ছি ধীরে ধীরে,
যেমন করে লোকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
প্রেমিকা আমায় অনেক কিছু হতে বলে
কিন্তু আমি আর 'আমি' ছাড়া আর কিছুই
হয়ে উঠতে পারি না।

হোঁচট খাব, পরেও যাবো তবু চলা থামাবো না
ওকে যে বড্ড ভালোবাসি।
ও যে রোজ মাঝ রাতে মাথায় সিঁদুর নিয়ে
আমার স্বপ্নে আসে।
কাল রাতে রবীন্দ্রনাথের 'বাঁশীওয়ালা' পড়ছিলাম।
  
সদ্য হামাগুড়ি দিয়ে ভালবাসতে শিখছি,
আমার প্রেমিকা বহুকালের পরিব্রাজিকা।
এক ছুটে চলে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু
আমার যে বড্ড ঘুম পায়,
স্বপ্নে কেবল প্রেমিকাকে দেখতে ইচ্ছে করে-
আবার নতুন কোনও রকম ভাবে।

ইতি, সাগর
২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫, মুম্বাই

(ক্রমশঃ)













বহ্নিশিখা সরকার
Banhisekha Sarkar