Friday, July 21, 2017

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম এবং চরিত্র, দিন ও পিতা : কৃতি ঘোষ

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম
মানুষ চিরকাল অন্ধকূপের মধ্যে কাটাতে ভালোবাসে। এদিকে যাব না, ওদিকে যাব না – আমি বসে থাকবো শুধু। এমনটা বললে কোনও ছায়াছবির মত পথ আগলে রাখা যায় ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত প্রকৃতিতে বাঁচা যায় না। বাঁচার কোনও অর্থ নেই মানে অর্থের বেঁচে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। না, আমি গুলিয়ে দিচ্ছি না, প্রস্তর ভেঙে কারুর মূর্তিও তৈরি করছিনা আপাতত। এই যে সাময়িক প্রয়াস তার অর্থ আমার প্রত্যয় ঘটেছে। আমি উচ্চস্থানে বাস করছি আপাতত। এখানে কবিতার প্রয়োজন নেই, মৃত্যুর প্রয়োজন নেই। এখানে সমুদ্রের ফেনা আরেকটা অ্যাফ্রোদিতির জন্ম দিতে পারবেনা। সূর্যের দেবতা এখন অকর্মণ্য হয়ে শিস দিচ্ছে খানিক।
নদীতটে বসে কার কথা মনে পড়ে? কার ভ্রু উঁচিয়ে তাকানোয় বাষ্পীভুত হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে বেশি? কে সেই দীন-দরিদ্র ও কবির মাধ্যমে অমর হওয়া প্রেমিক? এসো প্রেমিক, জল ভেঙে জরায়ুতে এসো। তোমাকে জন্ম দিই একবার। এখানে তরল অনুভূতিরা গাছে গাছে হেলান দিয়ে বসে থাকে। সোনালি আপেলের মত লোভ আছে বিস্তর। তবে দেখানোর শখ নেই। বালি বালি রোদ আছে। বিনে পয়সার চাবুক আছে। চাবুক কথা বললেই ছোটে। পিঠ বেয়ে সাপের মত হিসহিস করে চাবুক। দেখোনি?
সমুদ্রে যেও না আর। ওখানে সুন্দরী মাছ পড়ে আছে খুব। তোমার ভয় নেই? ভয় নেই বিকিয়ে যাবার? ভয় নেই কাবু হয়ে বসে থাকার কোনে? উৎসবের আনন্দ ভালো দীর্ঘ জীবনের চেয়ে। দীর্ঘ ভাবে পোকার খাদ্য হওয়ার চেয়ে কবর অনেক ভালো। প্রেম ও বিষাদের ক্ষমা হয় না কখনও। এদের কেবল পরিবর্তন হয় রূপ, রঙ - বাজি রেখে হেরে যাওয়ার।
এয়োরা নদীঘাটে বসে কেন? ওদের বাড়ি নেই? ওরা জানে না, তুমি ওইদিকে যাবে আমাকে ছেড়ে? সব কবিতাই প্রেমের হয় কেন? বিপ্লবেও প্রেম কেন খাদ্য হয়? আমাকে জিতিয়ে দাও খিদে, আমি উড়বো না। আমার ডানা উপহার দিয়েছি তিন প্রহরের দেবতাকে।
ওরা দেবতা বলে – ঈশ্বর বলে না। বলে না ঈশ্বরের মৃত্যু ঘটেছে – নারীর সাথে সহবাসের কারণে। ওরা বলে না ঈশ্বর কামুক ও ভিখারি। ঈশ্বরের পুত্র নেই – ওগুলো মিথ। ঈশ্বরের প্রসবযন্ত্র নেই – ওগুলো মিথ্যে। মিথ্যে আর গুজবের পার্থক্য করতে শেখো। শেখো মিথ্যেকে সত্য বানানোর নির্মম প্রক্রিয়া।
আহা দিবস! আহা কর্তব্যহীন দিবস! আমি তার সহিত সাক্ষাৎ করতে জঙ্গলে গিয়েছিলাম। সে আমাকে সোনালি আপেল দিয়েছে। বলেছে এখান থেকেই সভ্যতার শুরু। বলেছে অ্যাফ্রোদিতির মৃত্যু নেই। সে অমর ও বিনম্র। অহংকারের মাথা নেই তার। সে অ্যাফ্রোদিতির অপেক্ষা করছে। আমি সাফোকে দেখিনি, পড়েছি শুধু কিছু শব্দ ও অক্ষরের বৃত্ত। আমাকে অহংকার মুক্ত করো হে সাফো – নতুবা সে আমাকে গ্রহণ করবে না।




চরিত্র, দিন ও পিতা
চরম রাহাজানি ঘটে গ্যালো এসবের মাঝখানে
এসব বলতে, চিরদিনের আলুথালু সময়ের যাত্রা বোঝায়।
নিয়ত দৈনিক চাহিদাগুলো মিটে গেলে হঠাত করে তার দ্যাখা পাওয়া যায়।
এখানে চরিত্রের সংকট রয়েছে।
অর্থাৎ, যা বা যাকে আমি দ্যাখাতে চাইছি সে বা তার কোনও অবয়ব হয়না।
অবয়ব হওয়াটা প্রয়োজনীয় নয়। তবুও...
অলিগলি বাদ দিয়ে গম্ভীর গুহামুখে ঢুকে পড়বার মতন
তাকে চাওয়া যায় না।
চাওয়া যায় না কারণ, সে অতীব বাস্তব
বাস্তবরা দীর্ঘদিন রয়ে যায় যাপনের সাথে। তারা এদিক-ওদিক ঘুরে ফিরে বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ে।
আমি বাড়ির মধ্যে ঢুকবো না।
এই প্রথম চরিত্রে আমি এলো, কারণ তার প্রবেশের পথ আপাতত উন্মুক্ত।
ফলে তাকে গুহামুখে ঢুকিয়ে নেওয়ার পরেও আমি থেকে যাবে।
আমি ঝোপঝাড় পেরিয়ে গুহামুখে তুলসী গাছ বসাবো – চেতনাকে বিছিয়ে রাখবো মোরামের পথে
মা, তোমার চোখে জল ক্যানো মা?
তুমি কি দেখতে পাওনা আমি তারাদের মধ্যে মিশে যাচ্ছি?
তারা আমিকে ছাড়া পথে হাঁটছে না।
এই যে অস্বাভাবিক সঙ্কট, আশঙ্কাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে গ্যালো মাঝ রাস্তা বরাবর।
আমি এসো, তোমাকে জন্মদিনের আনন্দের এক মুঠো প্রেম দেবো
আমি বসো, যাতায়াতের মাঝখানে এখানে নশ্বরতার কোনও স্থান নেই
আমি ঘুমোও – রাংতা মোড়া দিনে তোমাকে তামাকের ঠান্ডা দেবো
আমি আমি আমি
আমি গুহামুখে ঢুকে যায়
একে একে প্রবেশ করে তারা, সে ও তিনি
মঞ্চে এখন দিলদরিয়ার খিদে
তুমি জানো না রে দিন আমার,
চরিত্র কেবল শান্তির হয়
মা হয় প্রশান্তির
পিতার কোনও ঘর থাকে না
বুকের ভিতর শুয়ে পিতা গুছিয়ে ন্যায় আগামী দিনের শান্তিগুলো
পিতা তোমাকে নিয়ে জাহান্নামে যাবো
তুমি ঘিভাতের স্বপ্নে সন্তানকে ভরিয়ে দিও পিতা
চেতনা খিদের, চেতনা ঘুমের, চেতনা আগামীর, চেতনা চরিত্রের
পিতা এগিয়ে এসো –
শয়তান তোমাকে আপেল দিয়েছে – তার আস্বাদনে আমাকে জন্ম দিও প্রিয়










কৃতি ঘোষ
Kreeti Ghosh