Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS

কাগজের নৌকা : The Story behind an Independent Film (Part 2)

~কাগজের নৌকা~
The Story behind an Independent Film.

…তারপর কেটে গেছে বছর দেড়েক। এর মধ্যে কাজের সূত্রে প্রায় রোজ দিনই কাটত নতুন মানুষ এবং জায়গার অন্বেষণে। ওই এক এক করে অডিশন নিয়ে বা ছবি দেখে যে নন্দিনী পাওয়া যাবে না তত দিনে বুঝে গেছি। “মে ফারস পে সাজদা কারাতা…” – ওরকম এমনি এমনি হয় না। নতুন একটাও ফিল্ম শুট করিনি, তবে পুরনো ভাবনা চিন্তাগুলো মাথাচারা দিয়ে উঠছিল মাঝে মধ্যেই। এর মধ্যেই একাদশ শ্রেণী তে আলাপ এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা- রাজশ্রী। প্রথম দিন দেখেই, হুট করে একটা উরদু শব্দ মাথায় এসেছিল- আকিদাত। ওই নিয়ে একটা সিনেমা করার কথা ছিল, তাই ব্যাপারটা থেকে যায় আমার মধ্যে। প্রেমে পড়লাম কি? না সে প্রসঙ্গ এখানে থাক, তা অন্য যায়গায় লেখা হছে, আগামী কোন ছবি তে নিশ্চয়ই দেখা যাবে, এই লেখাটায় ওটা ঢুকিয়ে, কেন নির্দেশক পেস্ট্রির প্যাকেট হাতে , অভিনেত্রীর অফিসের সামনে দাড়িয়ে থাকে, সে কথা থাক। তবে ওই আকিদাতের রেফেরেন্সটা প্রয়োজনীয়। বার বার আলাপের ফলে, ওকে দেখে, ওই ভাবটা যে যেকোনো প্রেমিকের মধ্যে আসবে, সে বিষয় সন্দেহ কাটছিল। শুধু আমি ভাবলেই তো হল না, সবার মানশপটে তা না এলে, সিনেমার প্রয়োজনীয়তা থাকে না। ওর সব ছবি দেখে খানিকটা সংশয় হল, একটা ছবিতেও ওরকম লাগছে না, অথচ আমি যখনি ওর সাইড ফেসটা ৭০ ডিগ্রিতে দেখি, ওকে নন্দিনীই লাগে। সুতরাং আনুরোধ, এবং মুখের ওপর না। দু বছরের অপেক্ষার বাদে পেয়েছি, রণে ভঙ্গ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমার করুণ মুখ এবং পাগলামির ব্যাপ্তি দেখেই বোধহয় অবশেষে রাজি হলেন। অগত্যা শুট সুরু, কিন্তু বেশ ধীর গতিতে।
আগের লেখাতেই লিখেছিলাম, সেই আগেকার মত নিঃস্বার্থ বন্ধুর আশা এখন আর করি না শুটের সময়। তবে পৃথিবী বড়ই অদ্ভুত, মাত্র দু তিন ঘন্টার আলাপে, রাজশ্রীর দুই বন্ধু মুমুল এবং সঞ্জয় দা, তাদের বাড়িতে নন্দিনীর অন্তঃদৃশ্য শুট করার অনুমতি দিল। এই অন্তপুরটা না পেলে নন্দিনীর চিত্রগ্রহণের ছন্দই বাঁধা পড়ত না। ক্যামারার মোশনের সঙ্গে রাজশ্রী থেকে বিছুরিত নন্দিনীর আলো আঁধারের মোশনের ছন্দ না মিললে, সম্বভই নয়। বহু নিঃস্বার্থ নাম এই সিনেমাটার সঙ্গে আস্তে আস্তে জুড়ে গেছে- অর্ণব, সায়ন, রোহিত, মুমুল, সঞ্জয় দা এবং স্নেহা। তথাকথিত প্রফিট বা লাভ্যংস ছাড়া যে মানুষ এখন পাগলামো সহ্য করে, আর সেই সহনশীলতার ফলে তৈরি হয় অজস্র কাগজের নৌকো- সত্যি মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ।


বেনারস পর্ব
নন্দিনীকে আমি প্রথম থেকেই তথাগতর থেকে দূরে ঠেলেতে চাইছিলাম, যাতে সংশয়টা দৃঢ় হয়, বেনারস নামটা তাই মাথার মধ্যে মাঝে মধ্যেই ঘুরত। হুট করে, এক ভোরবেলায় রাজশ্রী নিজেই যখন শহরটার নাম নিল, ঠিক দু সেকন্ড-এ ঠিক করি বেনারসে শুট করব। নো বাজেট ইন্ডি ফিল্ম, কম মাইনের চাকরি নিয়ে দুটো শহরে শুট করা দুঃসাহসই বটে, কিন্তু রাজশ্রী পাশে থাকায় সে দুঃসাহস নিতে দু’বার ভাবতে হয়নি। তোর জোর করে বেনারসের টিকিট কাটা, থাকার যায়গা বন্দবস্ত ইত্যাদি করে, স্লিপার কোচে চলল আমাদের শুটিং টিম- আমি, রাজশ্রী আর স্নেহা।
অমন মৃত্যু উপতক্যায় পৌঁছেই আমি খানিকটা থমকে গেছিলাম। শুট তো হবে, কিন্তু বেনারসের নিজের যা গুণ, সেসব সব গুণ আমার সিনেমার মধ্যে এসে পড়লেই বিপদ। ওত ক্ষমতা নেই যে ওই আদি অকৃত্তিম শহরের আত্মা কে ফিল্ম বন্দি করে নিয়ে ফিরব। তাও, নদীর এপার, অপার, নৌকোয় সব নিয়ে শুরু হল শুটিং। এমনিতে আমি পাব্লিক স্পেসে শুট করে অভ্যস্ত, তাই অই ভিড়ে এমনিতেই সাবলীল। অবাক করার মত সাবলীলতা আমার সঙ্গী দুজনের। এক জন নির্দ্বিধায়ে একটার পর একটা শট দিয়ে চলেছে, আরেক জন, বৃষ্টি পড়লে ক্যামেরায় ওপর ছাতা ধরা থেকে শুরু করে কাগজের নৌকো পর্যন্ত বানানো -সবেতেই আছেন। নতুন লোকেশানে, এত কম সময় এতটা শুট করে ফেলা সম্ভব হয়েছিল , ওদের জন্যেই। আমাকে ক্যামেরা ছাড়া অন্য কোনোদিকে মন দিতে হয়নি। দ্রুত গতিতে মাত্র চারটে শিডিউলে শেষ চিত্রগ্রহণ পর্ব।
পুরো দু বছর শুটিং জুড়ে অজস্র মুহূর্ত এসেছে যা নিয়ে লিখলে, অবশ্যই “ শুটিঙের গল্প” তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু সে সব লিখলাম না, কারণ এই ফিল্ম করে ঐগুলোই প্রাপ্তি। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে শুরু করে, শেষ করতে করতে আরেকজন প্রিয় বন্ধু খুঁজে পাওয়ার অদ্ভুত এই সমাপতন টাই বিশেষ হয় থাকবে। তবে শেষ করার আগে, কিছু জরুরী কথা বলে রাখা দরকার। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম বানাতে যেরকম প্রচুর উৎসাহ, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নের প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন যুক্তিবাদী রাজনীতি, প্রাকটিস এবং স্কিলের। এই স্কিল প্রপনেন্টটা যত দিন না শান দেওয়া হচ্ছে, সে যতই পাসের মুমূর্ষু মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা বা স্বপ্নে থাক, শল্য চিকিৎসা না জানলে, মৃত্যু অবধারিত। আর এই পতন ব্যাক্তিগত নয়, তা প্রভাব পারিপার্শ্বিক-এ পড়তে বাধ্য। মিডিয়ামটার রাজনীতি এবং প্রযুক্তি যদি পরিস্কার না হয়, তাহলে যাদের জন্যে করা, অর্থাৎ মানুষ, তারাও এটাকে হাস্যস্পদ ভাববে। মানুষ সাড়া না দিলে, বুঝতে হবে, গন্ডগলটা আমাদেরই। আর এই স্বেচ্ছা মৃত্যুর ফাঁদে, আমারই আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাব।
বেঁচে থাকার কথাতেই লেখা শেষ করি, তথাগত আর নন্দিনীর কাগজের নৌকোর চিঠি একে ওপরের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে সত্যি সংশয় হতে পারে, তবে আমার বিশ্বাস, সব চিঠিই এক দিন না একদিন ঠিক পৌঁছোয়, শেষ অবধি, তাই তার প্রত্যুত্তরের আশায় মানুষ বাঁচে, ভালোবাসা বাঁচে। আরও একটা ছবি তৈরি হয়...

(ক্রমশ)















অনির্বান সরকার

Anirban Sarkar

Popular Posts