Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS

একটি ভ্রমণকাহিনী : সুপর্ণা মন্ডল

একটি ভ্রমণকাহিনী

১. ১ নম্বর ভ্রমণের শুরুতে একটি অদ্ভুত নাম চোখে পড়ে।
উকিলনাড়া।
অটোঅলা ঠিক ৮ মিনিট পর অটো ছাড়বে আর তুমি ছাড়বে এই সরাইখানা।
দুটো ছাড়ার মানে এক হতেও পারে হয়তো বা!

২. কি যেন একটা কাজে মশগুল মেয়ে থোড়াই কেয়ার রাস্তা পেরোবে। অটোঅলা কর্কশ হর্ন, তুমি সম্বিৎ ফিরে পেলে থমকে দাঁড়াবে না। বরং নাচতে নাচতে চলে যাবে ওই পারে। তোমার প্রজাপতি নাচ দেখতে পাবে না আমার সহযাত্রীরা। ওরা কায়েতপাড়া মোড়ে নেমে গেছে। আচমকা শব্দটা ওদের জন‍্য নয়।

৩. ধুলোয় পড়ে থাকা বেওয়ারিশ রুমাল শুধু নীল রঙের বলে কি কুড়িয়ে আনা যায়? আজ অব্দি তুমি ঠিক যতগুলো রুমাল হারিয়েছো তা কোন না কোন পথের ধুলো খেয়েছে তো? আমিও ধুলো খাবার ইচ্ছায় তোমার হাত থেকে ফসকে যাই এক রকম। আর নীল রং হালকা হতে হতে আকাশি হয়ে যায়।

৪. আকাশি মিলিয়ে যেতে যেতে সাদা।
ধবধবে সাদা চুল সাদা থানের উপর পড়ে আছে।
কতদি-ন ধরে ওভাবে পড়েই আছে!
অথচ বয়স বাড়ছে।
সাদার চেয়েও বিবর্ণতর উজ্জ্বল রং আজ পৃথিবীতে।

৫. অকালপক্ব স্কুলবালিকার রিক্সাওয়ালা কেন খুনখুনে বুড়োই হয়? এ কথা জয় গোস্বামীকে শুধানোর আগেই স্টেশনে রাণাঘাট লোকাল ঢুকে পড়ে। দেখতে পাই সেই পাকা মেয়েটা মেঘবালিকার স্বরে ঝাল লজেন্স এগিয়ে দিচ্ছে রিক্সাওয়ালার দিকে। তার ফোকলা দাঁতে অমায়িক শৈশব আর কপালে খেলা করছে বার্ধক‍্যের ঘাম।

৬. ভেতরটা চাপা দেবো ব’লে বাইরে বাইরে লিখছি।
দেখছি।
একটা বিষাদের নদী ঝিলমিল।
চূর্ণি।
না না সে আর একটা নদীও হতে পারে।
পাগলাচন্ডী স্টেশনের আগে যেমনটি ছিল।
গুগল ম‍্যাপে তার নামটা খুঁজতে গিয়ে দেখি নির্বোধ ম‍্যাপ এখনো তিস্তাপারে পড়ে রয়েছে।














সুপর্ণা মন্ডল
Suparna Mondal

Popular Posts