Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS

সুমন সাধু'র কবিতা

সুমন সাধু'র কবিতা

আলুসেদ্ধ, পোস্ত বাটা আর ভাত করে রেখেছে মা
আরামে খাই, স্নান সারি।
তারপর স্কুল, অফিস আর রান্নাঘর- এই আমাদের অসম্ভব থাকা।
কিছুবা ছাপোষা কিছু মধ্যবিত্ত
রাতে সবার দেখা হলে বাড়ি ভর্তি উঠোনে আমাদের পায়ের ছাপ পড়ে থাকে।

আমরা জানি, আমাদের কোন ছাতা নেই, একটা বিশাল আকাশ আছে।

আমরা যদি দিয়ে শুরু করলে আহাম্মকের দল রেললাইন দেখতে ছুটে যায়। তার পাশেই তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। প্রতিমায় চোখ বসাই, সাজ দিই। মা আজ পুরনো হিসেব নিকেশ নিয়ে বসবে, আমায় থাকতে বলেছে। পুজো মিটলেই এ বাড়িতে বিয়ে। বাবা দাগিয়ে রাখছে ক্যালেন্ডার আর আমার চোখ যাচ্ছে দূরের কোন এক ভাদ্রে। জেনে গিয়েছি মলমাসে নাকি বিয়ে হয়না।

ছাদ আসলে কেমন জেনেছিলাম ইমরানদের বাড়ি গিয়ে। ওদের ছাদ বহু বহু পুরনো ধুলো জমিয়ে রাখে, ইমরান সেসব দেখে প্রতিদিন। দূরে একটা মালগাড়ি হুশ করে চলে গেলে ধুলো উড়ে যায়। আমাদের বর্ষাতিগাছ ক্রমশ মরে যাচ্ছে ; আবহাওয়া দপ্তর বলেছে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। এই বাড়িতে প্রতিমা গড়ার মধ্যে আধখানা চাঁদ ঢুকে পড়ে। আবহাওয়া বলতে ইমরান বোঝে শুধু ঈদ, আমি তার অংশ হয়ে সিমুই খাই। ইমরান বলতে আমি শুধু বুঝি আস্ত একটা ছাদ; যে ছাদে আশ্বিন মাসে ভোগ রান্না হয়।

বইয়ের পাতার মত সাদা সাদা আবহাওয়া। আতরের শিশি ঢালা হয় পোশাকি নামে। মা আলতা পরছে, আমি আয়না ধরে আছি নিশ্চিন্তে। আজ নাকি চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে চলে আসবে। আমাদের উঠোনে আলো এসে শিখিয়ে দেবে মন্ত্র। এমনসময় অকারণ নিম্নচাপ ধুয়ে দিচ্ছে দ্বিপ্রহর। যেখানে ইমরান এসেছে নাড়ু খেতে আর আমি অনেকটা দূরে সরে যাচ্ছি, ঝড়ের দাপট উড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের পাড়াতুতো পায়রা যাপন। আমি হাঁটছি...
















সুমন সাধু
Suman Sadhu

Popular Posts