Skip to main content

Posts

Showing posts from November 12, 2017



তমসো মা : রঙ্গন রায়

তমসো মা কানু কহে রাই –
- কহিতে ডরাই
ধবলী চরাই মুই।
আমি রাখালিয়া
মতি কি জানিনা পিরিতি
প্রেমের পসরা তুই
এবার তবে কয়েল থেকে শুরু করা যাক। যেভাবে টেবিলের তলা থেকে পাক দিয়ে উঠছে ধোঁয়া আর মশারা তা দ্রুত এড়িয়ে পালিয়ে যেতে চাইছে। সমস্ত ঘর সিগারেট আর কয়েলের ধোঁয়ায় আবছা হয়ে আসছে। চোখ জ্বালা করছে। চশমা খুলে রেখে চোখে হাত দেওয়া হলো। লাল। দ্রত উঠে পড়লো চেয়ার সরিয়ে। প্লাস্টিক আর মেঝেতে ঘষাঘষি লেগে একটা শব্দ উঠলো। টেবিলের কোণে কিঞ্চিৎ ধাক্কা খেতে খেতে জানালা খুলে দিলো সে। একঝলক অন্ধকার লাফিয়ে ঢুকে পড়ে অভিভূত করে দিলো তাকে। টাটকা বাতাস আসছেনা। আশ্চর্য! বাইরের পৃথিবী থেকে ভেসে আসছে পেঁচার গম্ভীর অথচ ঠান্ডা একটা ডাক। থেমে থেমে। টেবিলের উপর স্তুপীকৃত বইপত্রের ভিতর একটা কম্পনের শব্দ, গোটা ঘর প্রায় কাঁপিয়ে দেবে। জানালা থেকে সরে এলো সে। অবাক বিস্ময় আর কিঞ্চিৎ ক্রোধ বা বিরক্ত মিলেমিশে মুখের এমন একটা ভাষা তৈরী হয়েছে যাকে সঠিক ভাবে খাতায় নামানো সম্ভব নয়। অন্ধকার আকাশ ঘরে ঢুকে ইতিউতি চাইছে। বইপত্র-কাগজ সরিয়ে অবশেষে পাওয়া গেলো মুঠোফোন, কিন্তু ততক্ষণে রিঙ্ কেটে গেছে। রাগের চোটে একটা বই আচমকা সে ছুড়ে রাখলো টেবিলে আর …

রাতসুখ ও যা কখনো ভাবিনি : পৌলমী গুহ

রাতসুখ
এক. পায়ের ওপর পা অথবা টায়ের ওপর টা কিংবা কোনোটিই নয়! এখন ঘিলুতে সেঁধোলাম। রাত বাড়লে জানান দেবো, যেমন করে গেঁটে বাত মনে করায় পুরনো পাপ? কবে দেখেছিলাম এক তিলফুল কার বুকের খাঁজ বেয়ে ঘামেভেজা চকচকে জোড়া পাপ। হিসেব লিখব বিছানা-বালিশে সকালে সব ভুলে যাবো!
দুই. গতরাতে আমার ঘরে আষাঢ় ছিলো। আরও পূর্বে... পূর্বে... পূর্বরাতে সেবন করলাম ফোঁটা ফোঁটা। কল্যবর্তে গোটা মেঘখানা গিলে নিলাম। আজ রাতে ঊরু বেয়ে টপটপিয়ে আষাঢ় নামবে…
তিন. মেলোডি মাহ্ সুইট! এট্টু আস্তে অল্প করে, একবারে অতটা নয়। গিলো না। গিলো না। সোনা আমার! নোওও! দাঁত নয়! ছিঁড়েকুটে যাবে। বোঝো এ প্রেম, নট্ যুদ্ধ। শোষণ নয় প্রেম, এ স্রেফ বিগলিত চোষণ!!


যা কখনো ভাবিনি আমাকে দু'এক পিস গান দিও। তাতে সুর বসিয়ে আমি নিজের বলে চালাবো। এঅব্দি যা যা বলেছ তাই করিনি অথচ করতেও পারতাম! এটা বিশ্বাস করেই মেঘ মেঘ ক্ষত ঢেকেছ। গান থেকে সুর সুর থেকে শব্দ তার পর কবিতা, সেখানে জ্বর দুধের বোতল, কলপাড়ের ঘটাং ঘটাং, সিম্ফোনি হয়ে ক্যাকোফোনি। তুমি কি ভেবেছিলে স্টেশনবাজারের সব্জিওলা আদতে এক কবি?














পৌলমী গুহ Poulami Guha

একটি ভ্রমণকাহিনী : সুপর্ণা মন্ডল

একটি ভ্রমণকাহিনী
১. ১ নম্বর ভ্রমণের শুরুতে একটি অদ্ভুত নাম চোখে পড়ে। উকিলনাড়া। অটোঅলা ঠিক ৮ মিনিট পর অটো ছাড়বে আর তুমি ছাড়বে এই সরাইখানা। দুটো ছাড়ার মানে এক হতেও পারে হয়তো বা!
২. কি যেন একটা কাজে মশগুল মেয়ে থোড়াই কেয়ার রাস্তা পেরোবে। অটোঅলা কর্কশ হর্ন, তুমি সম্বিৎ ফিরে পেলে থমকে দাঁড়াবে না। বরং নাচতে নাচতে চলে যাবে ওই পারে। তোমার প্রজাপতি নাচ দেখতে পাবে না আমার সহযাত্রীরা। ওরা কায়েতপাড়া মোড়ে নেমে গেছে। আচমকা শব্দটা ওদের জন‍্য নয়।
৩. ধুলোয় পড়ে থাকা বেওয়ারিশ রুমাল শুধু নীল রঙের বলে কি কুড়িয়ে আনা যায়? আজ অব্দি তুমি ঠিক যতগুলো রুমাল হারিয়েছো তা কোন না কোন পথের ধুলো খেয়েছে তো? আমিও ধুলো খাবার ইচ্ছায় তোমার হাত থেকে ফসকে যাই এক রকম। আর নীল রং হালকা হতে হতে আকাশি হয়ে যায়।
৪. আকাশি মিলিয়ে যেতে যেতে সাদা। ধবধবে সাদা চুল সাদা থানের উপর পড়ে আছে। কতদি-ন ধরে ওভাবে পড়েই আছে! অথচ বয়স বাড়ছে। সাদার চেয়েও বিবর্ণতর উজ্জ্বল রং আজ পৃথিবীতে।
৫. অকালপক্ব স্কুলবালিকার রিক্সাওয়ালা কেন খুনখুনে বুড়োই হয়? এ কথা জয় গোস্বামীকে শুধানোর আগেই স্টেশনে রাণাঘাট লোকাল ঢুকে পড়ে। দেখতে পাই সেই পাকা মেয়েটা মেঘবালিকার স্বরে ঝাল লজেন্স…

চাষাড়ে অস্হিকল্প / হিমশীতল মাংসমজ্জা ও গর্ত : সায়ন ঘোষ

চাষাড়ে অস্হিকল্প / হিমশীতল মাংসমজ্জা যে ছাদে আমি রোজ উঠি তার স্হাপত্য ভেঙে গড়িয়ে যাচ্ছে সূর্যের ন্যাড়া মাথা আমার পায়ের কাছে একটি কালো পিঁপড়ে ধূসর ছাইয়ের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলছে ধরে তার অনৈতিক পথ অবরোধে আমার মুখের ভেতর থেকে থুতুর দলাটা ঝুলছিল ক্যামন সেই সেতুর চারমিনারে আটকে পড়ে আছে চতুর শব্দের লকআউট কারখানায় শব্দপিষ্ট শ্রমিকের হাতের চেটোকে আমি বড় ভালোবাসি বাদামী পিয়াসী ত্বক খেজুর আলোয় উপবাসী মৃগরাজ তার শীলাভূত অস্তিত্বের নরকঙ্কাল কবিতার জঠরে শুকনো নৈশাহার আর আলোর অভ্যন্তরে নির্বাসিত বাতিল ছায়াগুলোই আমার পছন্দ। আমার ঘণ্টা বেজে গ্যাছে কোনো সন্দেহ নেই আজ দ্বিপ্রহর এখন চিত্রকর আমার ছাদের দেওয়ালে কতগুলি ছবি এঁকে চলে গ্যাছে ধাতুপাতে মুদ্রায় নিহিত ঋজু ও শিলমোহরে, ছায়াতাপ নক্ষত্রে, শাশ্বত ও আত্মস্থব্রহ্মজ্ঞানে - কোনো অসুস্থ নারীকে আমি আমার কোলের কেন্দ্রে রেখে শুশ্রুষায় সারিয়ে তুলবো তার বিকেন্দ্রীত শরীর আলোর ঝালিমায় উদ্বেলিত তরঙ্গ নেপথ্যে ফেলে রেখেছে মানুষের পূণর্বিকাশ ও ইন্দ্রিয়ের যথার্থ ব্যবহার আর প্রজ্ঞানযান প্রজননমালা থেকেই আমি হেঁটে চলে যাই ওয়েলিংটনে বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছ…
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS