Skip to main content



তিনটি কবিতা : সায়ন্তন গোস্বামী


মানুষের কথা

মানুষের কথা বুঝতে পারছিনা। 
আমার কাছে এসে বসা তোমার উচিত হবেনা।
ঘরের ভেতর হাঁটাহাঁটিগুলো পর্যন্ত জটিল হয়ে যাচ্ছে।
কী যে এক ব্যান্ডপার্টি চিন্তা টাকাপয়সার, তুমি
শুনলে জানলার বাইরে তাকিয়ে রুমাল দিয়ে
মুখ মুছে নেবে।
নভেম্বর জুড়ে ওষুধের ফর্দের ওড়াওড়ি শীত ঢেকে দিল।
সারারাত পাতা ঝরেছে। রাস্তার ছবি তুলে 
কয়েক ঘন্টার সুখ, এইসব ভাবি।



শত্রুমাছ

তোমার দু'চোখে দুটি শত্রু মাছ
বহুদিন ধরে সাঁতরে বেড়াচ্ছে
নিজেকে অন্ধ করে বের করো
ওদের, রুলটানা দিস্তা কাগজে
খেলাও বহুক্ষণ, ছড়িয়ে যাক
আঁশের রুপো, ফাতনাকারুকাজ
আর লক্ষ্মী, লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে
বলে তোমাকে সবাই আরো
একটু মেরে ফেলুক, ওই গহ্বর
চোখযুগল থেকে স্থলপদ্ম 
কষ হয়ে ঝরে পড়ুক গাল
ভিজিয়ে দিয়ে, মাটিতে উজ্জ্বল
চকদাগ আগে ফটো তুলে
ফোকাস ক্লিক এডিট পরিষ্কার
যেন উফার শব্দে শোনো সরে
যাও সবাই, জায়গা দাও
সর্ব্বদাত্রী, জগন্মাতাকে
আঁশ, মাছ, কাগজ, পদ্ম
মন্ত্রপাঠপূর্বক ভূমিপ্রয়াসে
এক হয়ে নির্মল বসুধা
উনি পা রাখবেন এখানেই
গৃহস্থে আনাজ হবে সোনার।



জাগলারি

এত খারাপ কি লিখতে পারবো, কোনোদিন সম্ভব, এতটা খারাপ? হায়, সূর্যের রশ্মি, চন্দ্রাহত তমালতরুতল, হায় রে মোটরবাইক, ইতালিয়ান রূপসী, বোলো কিছু, বলো, পারলে মাইক ভাড়া করো, চিরকুট আর কি লিখবে ওই হাতের লেখায়, এই তো সেদিন, পারিবারিক গুরুঠাকুর হাতের তেলোয়, নকুলদানার মুক্তো রেখে বলেছিলেন দেওঘর চলে যাও, সেখানে বাতাবী বাগানে ঘুরে আমি নাকি লায়েক হব, দৃষ্টান্তমূলক হবে লেখাপত্তর, ডালটনগঞ্জই বা নয় কেন, আর কুচবিহার হলে তো কথাই নেই, আর আমার শব্দ নিয়ে জাগলারি, ঘড়িতে সোয়া ছ'টার এ্যালার্ম, সুগন্ধী চামড়ার মাসে আর আমার পিয়ানো নিয়ে গদ্য, ঝাল-ঝাল কাঁকড়ার ঝোল খাওয়ার বাসনা, আর আমার এটা আর সেটা, সবই যেন নুন-চিনি-লেবুর জল, আশ্বাস দেয় হ্যাঁ হ্যাঁ খারাপ লিখবি তুইও একদিন, একদিন তোকেও ফোন করবে মস্কোর তপেন লাহিড়ী, তুইও একদিন কিছু একটা বাঁধাবি তাড়াহুড়ো করে পেঁচানো সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়ে, তোরও ফ্লানেলের শার্ট দিয়ে পতাকা তোলা হবে, গ্রীষ্মের মায়াময় দুপুরে তরমুজের শরবতে ভরা গ্লাস, পাশে রাখা গগলসের কাঁচে ফুটে উঠবে দিগন্তব্যাপী মেঘের বেড়াল ।


সায়ন্তন গোস্বামী
Sayantan Goswami
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS