নো বাজেট, লো বাজেট, টেলিফিল্ম, ন্যাশনাল অস্কার, ইত্যাদি - পুরোটাই ব্যক্তিগত : অনমিত্র রায়


নো বাজেট, লো বাজেট, টেলিফিল্ম, ন্যাশনাল অস্কার, ইত্যাদি - পুরোটাই ব্যক্তিগত

পুনরায় উপন্যাস। যাই লিখতে যাচ্ছি আজকাল উপন্যাসের মাপে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। আসলে আমি লেজেন্ড কিনা ! লেজেন্ডদের মাঝে মাঝে এরকমটা হয়। আমি যে লেজেন্ড সেটা কালকে জেনেছিলাম। আজ শিওর হলাম। এর আগেও আমি কয়েকবার লেজেন্ডের সম্মান পেয়েছিলাম। এই নিয়ে বোধহয় ৫-৬ বার হলো।

ঘটনাটার শুরু গতকাল। অথবা গতকাল ঠিক নয়, ২০১৩ সালে। অথবা ২০১০ সালও হতে পারে। কে কিভাবে দেখছে তার ওপর। আপাতত গতকালের ঘটনাটা থেকে শুরু করি। 

সোম চক্রবর্তী একটা একজোট হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে দেখলাম ফেসবুকে। সেখানে গিয়ে জানালাম যে আমিও উদ্যোগটার  সাথে থাকতে চাই।  কিছু পূর্বপরিচিত লোকজনের সাথে কথাবার্তা হচ্ছিলো সেই নিয়ে ওখানে তারপর। ইতিমধ্যে দেখলাম প্রদীপ্তদাও উদ্যোগটার সাথে থাকতে চান জানিয়ে মন্তব্য করেছেন। অন্যান্য কে কি বলছে দেখতে গিয়ে দেখলাম এক মহিলা লিখেছেন এমনিতে সাথেই আছেন কিন্তু নো বাজেট হলে সাথে নেই। আরেক ব্যক্তি সেখানে লিখেছেন দেখলাম যে একদিকে ইউনিয়নের ধান্দাবাজি আরেকদিকে নো বাজেট ধান্দাওয়ালা। আমি গত চারবছর একেবারেই কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত নেই। ফলে ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম না যে এনারা কেন এরকম বলছেন। আমাদের কাছে তো এটা নিজেদের ফিল্ম বানানোর একমাত্র পথ ছিল। কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিছু কথাবার্তা হলো। মূলত যেটা বোঝা গেলো যে কলকাতায় একরকম প্রাণী আজকাল ঘুরছে যারা নাকি কাজ করিয়ে পয়সা না দিয়ে বলছে নো বাজেট ফিল্ম।আরেক ভ্রাতৃসম বন্ধুর থেকে আজ জানলাম যে প্রোডিউসার খুঁজতে গেলে তাঁরা নাকি আজকাল বলছেন জিরো বাজেট বানাতে। যদি কাজ পছন্দ হয় ওনারা কিনে নেবেন। এইসব ব্যাপারে ফলে অনেক মানুষের নো বাজেট জিরো বাজেট এসবের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে এসেছে। এবং তার ফলে নো বাজেট বলে কিছু হয় না বলে লাফালাফি করছেন অনেকেই। এখন ব্যাপার হলো কলকাতাতে কাজ করিয়ে পয়সা না দেওয়ার লোক কোনোকালেই কম ছিল না। এনাদের নানারকম অজুহাত চিরকালই ছিল। যেমন এটা কমে করে দাও, পরে একটা বড় কাজ আসছে। অথবা পয়সা দিতে পারব না, রিকগনিশন দেব। অথবা কাজ শেখার সুযোগ করে দিচ্ছি পয়সার কথা আসছে কোথা থেকে। অথবা এটা চ্যারিটি প্রজেক্ট ভাই, এই কাজে তুমি পয়সা চাইবে? --- মোদ্দা কথা হলো এরকমটা চিরকালই ছিল। এটা আমিও ফেস করেছি। এবং এটাই মূল কারণ যে আমি এই শহরে কাজ করি না।  যেটুকু করি পয়সা পেতে পারি এরকম আশা না রেখে ভালোলাগার জায়গা থেকে করি। এবার এই পয়সা মারে যারা সেইসব লোকজনের ভোকাবুলারিতে একটা নতুন শব্দ যোগ হয়েছে। মনে হয় শব্দটা কিছু জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল অতীতে তাই এরকমটা ঘটলো। মানে সেরকমই মনে হচ্ছে। আর কিই বা কারণ থাকতে পারে। সে যাই হোক, যাঁরা নো বাজেট ছবিতে কাজ করে পয়সা পাচ্ছেন না তাঁরা শব্দটা নিয়ে রীতিমতো খেপে রয়েছেন দেখলাম। আমি ঠাণ্ডাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে দেখুন, শব্দটার কোনো দোষ নেই।  দোষটা যে লোকগুলো পয়সা দিচ্ছে না তাদের মানসিকতার। শব্দটার একটা আলাদা ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। যাঁরা এটা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করছেন তাঁরা নিজেরাও সেই বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা রাখেন এরকমটা নয়। আপাতভাবে পারস্পরিক মেনে না নেওয়া টুকু মেনে নিয়ে ব্যাপারটাকে সেখানেই মিটিয়ে ফেলা গেলো। গোলমালটা ঘোরতর হলো আজ দুপুরে। সোমতীর্থ নন্দী আমায় ফোন করে জানালো যে প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য একটা গোলমেলে কথা লিখেছেন এই নো বাজেট নিয়ে। আমাকে সেটা দেখতে বললো। আমি দেখলাম। দেখলাম দেবজিৎ বাগচী আর সোমতীর্থ ব্যাপারটা ওনাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। প্রবীর কুন্ডু নামে এক অপরিচিত ব্যক্তিও বোঝানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু উনি বুঝছেন না।  তার উপর আবার, বিখ্যাত মানুষদের যেরকম হয় আরকি, ওনার সমর্থনে লরি লরি লোক জুটে গেছে।  তারা সকলেই বলছে যে নো বাজেট ফিল্ম একটা ইলিউশন, ভাঁওতাবাজি, বড়লোকদের শখের জিনিস, এলিটদের ব্যাপার, পয়সা মারার ধান্দা ইত্যাদি ইত্যাদি। গতকালকের ওই মহিলাকেও দেখলাম ওখানে বক্তব্য রেখেছেন। যাই হোক, এঁদের মূল বক্তব্য ছবি করতে গেলে তার একটা মিনিমাম খরচ রয়েছে। কাজেই নো বাজেট বলে কিছু হতে পারে না। 

হক কথা! ফিল্ম বানানোর খরচ নেই কেউ যদি বলে তো বাজে বকছে। খরচটা ইনভিসিবল হতে পারে, কিন্তু রয়েছে বৈকি। তবে কিনা ব্যাপার হলো বাজেট আর খরচ সমার্থক শব্দ নয়। বিনাখরচে ছবি বানানোর কথা হলে সেটাকে নো বাজেট না বলে নো এক্সপেন্স ফিল্ম বলা হতো। নো বাজেট ফিল্ম কথাটার অনেক রকম মানে হয়। 

১) সাধারণ লো বাজেট ছবির থেকেও বহুগুনে কম অর্থে নো বাজেট
২) বাজেট এতটাই কম যে বসে বাজেট করার প্রয়োজন পড়েনি অর্থে নো বাজেট
৩) পরে বলছি। অন্য একজনের থেকে ধার নিতে হবে।

সিনেমার ইতিহাস, ৩০-এর দশক, ডাবল বিল, পোভার্টি রো স্টুডিওস, এসব দিকে যাচ্ছি না।  ওসব আগেও লিখেছি, কেউ চাইলে লিংক দিতে পারি। কাল থেকে মনে হচ্ছে লোকজনের ইতিহাস বিশেষ পছন্দের বিষয় নয়। কাজেই আপাতত মোটামুটিভাবে সাম্প্রতিক সময় নিয়েই কথা বলবো স্থির করেছি।

১) লো বাজেট ছবির থেকেও বহুগুনে কম অর্থে নো বাজেট বললেই অনেকে বলবেন কত কম।  সেক্ষেত্রে প্রথমেই প্রশ্ন চলে আসবে যে লো বাজেট ছবির বাজেট আসলে কিরকম।  সেক্ষেত্রে ফিল্মের অ্যাভারেজ বাজেট একটা হিসেবে কষে বার করতে হবে।  ইনভেস্টওপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সালে মেজর ষ্টুডিও মুভির অ্যাভারেজ বাজেট ছিল ৬৫ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে ৩০ মিলিয়ন ডলারে তৈরী ফিল্ম নিজেকে লো বাজেট বলতেই পারে।  আশা করি কারো আপত্তি হবে না কারণ সেটা মেজর ষ্টুডিও মুভির অর্ধেকেরও কম। এই বিষয়ে ৫৪২ জন ফিল্ম প্রোফেসনালকে নিয়ে করা একটি সার্ভে অনুযায়ী একটি লো বাজেট ছবির ম্যাক্সিমাম বাজেট কত হতে পারে এই প্রশ্নে পাওয়া উত্তরগুলির অ্যাভারেজ হলো ২.১২ মিলিয়ন (একুশ লক্ষ কুড়ি হাজার) ডলার। ওই একই সার্ভে বলছে যে মাইক্রো বাজেট মুভির ম্যাক্সিমাম বাজেট কত হতে পারে এই প্রশ্নের উত্তরগুলিকে অ্যাভারেজ করলে দাঁড়ায় ৩৯৬,০০০ ডলার। তবে অতীতে দেখেছি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে কিছু ফেস্টিভ্যাল বলছে যে ৫০০,০০০ ডলারের নিচে হলে মাইক্রো বাজেট। আবার মাইক্রো বাজেট আর নো বাজেট এক অর্থে ব্যবহৃত হলেও মোটামুটিভাবে ১ লক্ষ ডলারের নিচে বানানো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকেই নো বাজেট বা জিরো বাজেট বলা হচ্ছে ইদানিং মূলত। প্রসঙ্গত 'এল মারিয়াচি'-র বাজেট ছিল ৭০০০ ডলার। 'ব্লেয়ার উইচ প্রজেক্ট' -এর প্রাথমিক বাজেট ৩০,০০০ ডলার এবং সানড্যান্সে দেখানোর জন্য একটা ভালো প্রিন্ট বানাতে গিয়ে আরো ৩০,০০০ খরচ হয়। তো মোট হলো ৬০,০০০ ডলার। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের জগতে এগুলোই নো বাজেট ফিল্ম। স্টাডি ছাড়া এই ব্যাপারগুলো জানার আর কোনো উপায় নেই। 'উড়ান' -এর বাজেট ছিল ৩ কোটি টাকা। একটি প্রমোশনাল ইভেন্টে ছবিটিকে নো বাজেট বলা হয়েছিল। অন  ক্যামেরা। এবার মুম্বাইতে নির্মিত ছবির বাজেট বিষয়ে যাঁরা সম্যক ধারণা রাখেন তাঁরা বলতে পারবেন এই দাবীর ন্যায্যতা কতটা।

ঠিক সেভাবেই কলকাতার ক্ষেত্রে নো বাজেট ছবি কোনটা জানতে গেলে কলকাতায় তৈরী হওয়া ফিল্মগুলোর অ্যাভারেজ বাজেটের একটা ধারণা প্রয়োজন। মুশকিল হচ্ছে আমাদের দেশে কোনো নো বাজেট ফিল্ম ফেস্টিভাল নেই। থাকলে তারা একটা মাপকাঠি সাপ্লাই দিতে পারতো। নেই যখন আমাদের নিজেদেরই বানাতে হবে। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখা জরুরী, আবারও বলি, 'বাজেট' মানে 'টাকা' বা 'খরচ' নয়। নো বাজেট ছবি করছি বলে পয়সা দিতে পারবো না কেউ যদি বলে তাকে মুখের ওপর না বলে দিন। বিনাপয়সায় কোনো কাজ তখনই করুন যখন আপনার মন সায় দেবে। অন্য কেউ নো বাজেট ফিল্ম বানাচ্ছে বলে আপনি পয়সা ছাড়া কাজ করতে যাবেন কেন? কেউ আপনাকে বাধ্য করতে পারে না। শ্রমের বিনিময়ে টাকা চাওয়া আপনার সাংবিধানিক অধিকার এবং মুখের ওপর না বলাটাও।

২) এবার আসা যাক বাজেট এতটাই কম যে বসে বাজেট করার প্রয়োজন পড়েনি যে ছবিগুলির ক্ষেত্রে সেগুলোর কখায়। আমাদের শর্ট ফিল্ম গুলো এইভাবে হতো।  এবং আরো বহু শর্ট ও ফিচার ফিল্ম এইভাবে হয়েছে। এই ধরণের সিনেমার ক্ষেত্রে সাধারণত পেশাদার মানুষজন যুক্ত থাকেন না। যাঁরা থাকেন, তাঁরা পরিচিতি বা বন্ধুত্বের জায়গা থেকে থাকেন। অথবা কোনোকিছুতে বিশ্বাস করেন বলে এগিয়ে আসেন পারিশ্রমিকের তোয়াক্কা না করে। অথবা হাতে কলমে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে এগিয়ে আসেন কেউ কেউ। মাইকেল ডব্লিউ ডিন  এর 'ডি আই ওয়াই ওর ডাই" এই ধরণের সিনেমা। মাইকেলের লেখা অনুযায়ী দু'বছর ধরে নানা জায়গায় দেখিয়ে উনি বেশ কিছু পয়সাও লাভ করেন শেষ পর্যন্ত। এছাড়া ক্লাইভ ডেভিস ফ্রেইন -এর "লোন গান ম্যানিফেস্টো" তেও এই ধারার ছবির কথাই বলা হচ্ছে। এটা মূল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাথে সম্পর্কিত কিছু নয়। মাইকেলের একটা বই আছে।  নাম 'থার্টি ডলার ফিল্ম স্কুল," বেশ পপুলার। সেখানে এই ধরণের ছবির এক্সহিবিশন কিভাবে 
হতে পারে সেই নিয়েও বেশ কিছু কথা আছে।

খরচ এখানেও থাকে। ক্যামেরা ভাড়া নিলে তার খরচ, যাতায়াত খরচ, খাইখরচ, এডিট করার সময় বিদ্যুৎখরচ সবই আছে। কিছু ভিজিবল , কিছু ইনভিজিবল।তবে আমরা যখন কাজ করতাম কলকাতা থেকে ট্রেনে চেপে কেউ শুটিং এর জন্য ব্যান্ডেল আসলে তার হাতে ২০-৩০ টাকা হলেও দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। বেশিরভাগ বন্ধুরাই সেটা আবার ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতো। কাজ করিয়ে প্রাপ্য টাকা দেওয়া হয়নি এরকম কোনো ঘটনা মনে পড়ছে না। 'রেপ্লিকা' বানানোর সময় দুদিনের অটো রিজার্ভ করা ধরে সাড়ে তিনশো টাকা মতো খরচ হয়েছিল।  'স্মৃতি... মৃত জনপদ' -এর ক্ষেত্রে এক পয়সাও খরচ হয়নি সরাসরিভাবে। লিটার দুয়েক তেল খরচ হয়ে থাকতে পারে বাইকের জন্য। সেই ছবিটা জিনেতা কোরেল্লি নাম্নী ইতালীয় অরিজিনের এক আমেরিকান মহিলা তাঁর 'ফরগটেন ফিল্ম গ্যালারি' প্রজেক্টের পার্ট হিসাবে নেভাদার মরুভূমিতে পরিত্যক্ত একটা ফিল্ম গ্যালারিতে দেখিয়েছিলেন। মনে হয় ভালো হয়েছিল কাজটা, আরো অনেকে প্রশংসা করেছিলেন। অরূপরতন ঘোষ মহাশয়ের কিছু সিনেমায় জয়দীপ বোস বন্ধুত্ব অথবা হয়তো কোনো বিশ্বাসের জায়গা থেকে বিনা পারিশ্রমিকে ক্যামেরার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

৩) অনিন্দ্য সেনগুপ্ত-র থেকে ধার নিয়ে হুবহু তুলে দিলাম -- "লো বাজেট টার্মটা শুনেই বোঝা যায় আপেক্ষিক; একেক জায়গায় একেক রকম।
নো বাজেট টার্মটা আছে। এটা তোমাকে জ্ঞান দিয়ে শোনানোর মানে হয় না। কিন্তু ধরে নেওয়া যাক আমি সিনেমার ইতিহাস একটু জানি একটা যুগ অব্দি, তুমি যে ইতিহাসটা লিখেছিলে সেটা জানিনা কারণ সেটা পরের, এবার আমাকে টার্মটার মানে করতে হবে। তাহলে কী মানে করবো?
অর্থাৎ যে ছবির 'বাজেট' নেই। বাজেট মানে কিন্তু নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক নয়। বাজেট মানে গোটা প্রোজেক্টটার বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য অংকের একটা নির্দিষ্ট ধারণা যার বেশি হলে ওভারবাজেট হবে। বাজেট মানে কদিনের সিডিউল, কজনের কদিনের কাজ সেটা নির্দিষ্ট করা গেছে, যা ছাপিয়ে গেলে প্রোডাকশনের প্ল্যানিং ঘাটবে।

অনেক ছবি হয় যেখানে এটা সম্ভব নয় ধার্য করা। অর্থাৎ 'বাজেট' নেই পোস্ট-প্রোডাকশনের শেষ দিন এবং অতঃপর পাবলিসিটি-রিলিজ ইত্যাদির। টাকা নেই তো বটেই, ঠিক করাও যাবেনা। আমি এই অবস্থাকে নো-বাজেট বুঝি; স্রেফ শব্দটা থেকে, ইতিহাস জেনে নয়।
এই সংজ্ঞায় 'পথের পাঁচালী'-ও নো-বাজেট, কারণ শুরুর দিন কেউ জানতো না ছবি কীভাবে শেষ হবে। এরকম ছবি শুরুতেই নো-বাজেট থাকে, এই অভীপ্সায় যে একদিন শেষ হবে।"
এই সংজ্ঞায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার মতো খরচ করে বানানো 'আসমানী জহরত' তথা 'ওয়ান রুপি ফিল্ম প্রজেক্ট'-ও নো বাজেট। রিলিজ তো দূর, ঠিকঠাকভাবে শেষই করা গেলো না। মজার ব্যাপার এই যে, ছবিটার মধ্যে একটা ছোট্ট অংশে 'পথের পাঁচালী'-র সাথে একটা কথোপকথনে যাওয়ার প্রচেষ্টা আছে।

মূল ব্যাপারটা কভার করা গেছে এতক্ষনে। নো বাজেট মাত্রেই লো বাজেট এবং নো বাজেট মানে নো এক্সপেন্স বা নো মানি ইনভল্ভড নয়। সেরকম কেউ মনে করলে তাঁর ইংরিজি খারাপ, সিনেমার ইতিহাসের ব্যাপারটা না হয় বাদই দিলাম।

এবার একটু সাইডের দিকে যাবো। মানে যে বিষয়টা আসলে মূল নয়, কিন্তু উল্লেখ না করলে হয়তো গোটা ঘটনাটা বোঝার ক্ষেত্রে কিছু খামতি থেকে যেতে পারে। ওই ২০১৩, ২০১০, ওইসব সালগুলোতে ঠিক কি ঘটেছিল দেখে নেবো আমরা।  ২০১৩ সালে বাকিটা ব্যক্তিগত যখন মুক্তি পেতে চলেছে তার কিছুদিন আগে 'বিশ্ববসু বিশ্বাস' আমাকে ছবিটার ব্যাপারে জানায়। ব্যাপার স্যাপার দেখে আমি বেশ উৎসাহ পাই এবং প্রদীপ্তবাবুকে আমি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই। রিকোয়েস্টটি উনি অ্যাকসেপ্ট করে নেন এবং তারপর আমাদের মধ্যে কিছু কথাবার্তার আদানপ্রদান হয়।  হুবহু তুলে দিতেই পারতাম, কিন্তু দিচ্ছি না তার কারণ আমার ওনার থেকে অনুমতি নেওয়া নেই।  ছোট করে বলতে গেলে, খুব অদ্ভুত একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল। উনি আমার প্রথম প্রশ্নটার উত্তর দেন এবং তারপর দ্বিতীয় প্রশ্নটার উত্তর দিতে গিয়ে কোনো কারণে মেজাজ হারান। না, গালাগালি করেননি। তবে খুব রূঢ় ব্যবহার করছিলেন।  আমাকে জ্বালাবেন না, অমুক কে জিজ্ঞেস করুন জাতীয় কথাবার্তা। আমি তাতে ওনাকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে আমি ওনার বিরোধীপক্ষের লোক নই। কিন্তু প্রত্যেকটা কথারই পরিপ্রেক্ষিতেই অত্যন্ত বাজে রেস্পন্স পাই।  আমার ব্যাপারটা বেশ খারাপ লেগেছিলো এবং আমি কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। যাকগে, আমি মেজাজ হারাইনি সেইদিন, বরং কথা বলার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলাম। সেকথা জানানোয় উনি নিস্তার পেলাম জাতীয় একটা উত্তর দেন।  এরপর বহুদিন বাদে উনি যখন অস্কার পেলেন  মনের দ্বিধা কাটিয়ে আমি ওনাকে কংগ্র্যাচুলেট করি এবং উনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ধন্যবাদটি ফেরত পাঠিয়ে আমি ওনার সাথে ভার্চুয়াল যোগাযোগের সূত্রটি ছিন্ন করি।  আমাদের মধ্যে আজ অবধি এইটুকুই কথা হয়েছে। আর কোথাও কোনো কথা হয়েছে বলে আমার মনে পড়ছে না। এইসমস্ত ঘটনার আগে ও পরে আমি অরূপদা, দীপাংশু, অভি এরকম নানাজনের কাছে নানাসময় ওনার কথা শুনেছি। ওনার কাজও দেখেছি পরবর্তীতে এবং স্বীকার করতে অসুবিধা নেই যে ওনার এডিটিং আমার বিশেষভাবে ভালো লাগে। আমার প্রথমে মনে হয়েছিল যে সেইদিন ওনার ওইরকম ব্যবহার করার কারণ ছিল স্ট্রেস। পরে মনে হয় স্ট্রেস নয়, মিসকমিউনিকেশন। কিন্তু কালকের পর মনে হচ্ছে, কোনও পুরোনো রাগ আছে বোধহয় ওনার আমার ওপর যার কারণ আমি জানি না, আন্দাজ করতে পারি মাত্র।

নো বাজেট ফিল্ম শব্দটা আজ আর নতুন কিছু নয়। ২০০৮ সালের কোনো এক সন্ধ্যায় সম্ভবত বারদুয়ারীতে এই শহরে প্রথমবারের জন্য উচ্চারিত হয় শব্দটি। আমি আর অরূপদা তখন ওর কোন লেখা কোন বইয়ের নামের মধ্যে কোন ফিল্মের রেফারেন্স রয়েছে সেসব নিয়ে মজা করছিলাম। 'সূর্যহীন' যে আসলে 'সানলেস' আর 'গাছেদের বন্দুক' যে আসলে 'গানস অফ দা ট্রিস' এইসব। শর্ট ফিল্ম তখনও পরিকল্পনার পর্যায়ে। সেই সময়ই নো বাজেট শব্দটা কথা থেকে যেন চলে এলো. আমরা ভেবেছিলাম ইটা আমাদের আবিষ্কার। এরকম কিছু যে অলরেডি রয়েছে সেটা আমাদের জানা ছিল না। পরে দেশের বাইরের সমমনস্ক মানুষদের সাথে পরিচয় হওয়ার সূত্রে জানতে পারি সেসব এবং বুঝি যে এটা  কোনো মৌলিক আবিষ্কার নয়, বরং আমদানি করেছি বলা যেতে পারে। তো, সেই ঘটনার আজ প্রায় দশ বছর পেরোতে চললো। ২০১৪ সালের জুলাই মাসের পর আমি কোথাও ফিল্ম নিয়ে একটা লাইনও লিখিনি। কাল লিখলাম নো বাজেট ফিল্ম ব্যাপারটা অন্যভাবে ইন্টারপ্রেটেড হচ্ছে দেখে, আর কালকেই প্রদীপ্তবাবু ওরকম একটা স্ট্যাটাস লিখলেন। এটা আমার একেবারেই কাকতালীয় মনে হচ্ছে না।  আবার উল্টোদিকে এটাও ভাবছি যে আমি তো পাত্তা দেওয়ার মতো কিছুই করি না আজকাল।  কেউ কেন আমাকে যেচে খোঁচাতে যাবে ! তাও আবার ভারতীয় ন্যাশনাল অস্কার পাওয়া কেউ ? এইসব ভাবতে ভাবতেই ২০১০-এর একটা ঘটনা মনে পরে গেলো। আমাদের লিটল ফিশ ইট বিগ ফিশ -এর ব্লগ এর একদম প্রথমদিকের পোস্ট থেকে  কয়েকটা কমেন্ট তুলে দিই। প্রথম ডিভিডি বেরোনোর ১৬ দিনের মাথায় এই কমেন্ট গুলো আসে ---

"On Antoraal (aka A Hiding)
Cyrus said...
This post has been removed by the author.
January 27, 2010 1:52 AM
Cyrus said...
The more I look at the glimpses from your films, the more appalled and disgusted I am. The voiceover in the film sounds like bad, Bengali little magazine gibberish with a garnishing of half-understood Mani Kaul and Chris Marker. The two morons you've cast here, look like side-benchers from an ETV telefilm. So much for "avant-garde"!
As for the Amiyabhushan passage, it has become so horribly predictable for a certain class of Bengali-intellectual-aspirants to dig out lesser known authors and cite them hoping they sound/look counter-culturish enough! Sorry, but reading the passage on camera is the most facile and unimaginative thing you could have done. Of course, it would take any of you a hundred years or more to approach an Amiyabhushan text as a film. I can bet some of you, if not all, do write in the so-called little magazines. The problem is precisely that technology has made it possible for people like you to appropriate a medium like DV, and thereby turn what could have been a revolution into a shitty farce.
Most of your cinematic inspirations seem to stem from France or Latin America. Do try and find out more about what is happening NOW in Asian cinema, and what Asian auteurs are doing with DV, before you make fools of yourselves jumping around with a digital camera, making 5 films in 6 months.
Sorry for being so nasty, but felt compelled to call a spade a spade! Hope you guys won't take it personally.
Cyrus Surendranath
January 27, 2010 1:55 AM

On JLG Had No Script
Cyrus said...
Frankly, my dear, you look like a clown trying to impersonate Godard. In case that is the avowed aesthetic intention, I guess its fine. Am rolling on the floor looking at the sordid make-up, and the fact of the "post-colonial" Godard speaking in Bengali! Poor Jean-Luc is past 80 and making a film called Socialism. Please give him a break!
It isn't the least bit funny to see poor upstarts like you pretending to be in Godard's shoes by making a film in shabby B&W, and with a new-found, digital movie-making toy. God bless new media!
Cyrus Surendranath
January 27, 2010 1:32 AM

On In Search of Dead Golds
Cyrus said...
Why are you guys trying so hard to publicise your "avant-garde" filmmaking through a blog in English when it is obvious that you are rather constipated in that language? Sorry to point out, but "Golds" sounds like grammar-translation from Bengali. Besides, you quote and cite mouthfuls of hallowed sources from Borges to Brueghel without knowing how to spell their names correctly. First grow up and then try to be avant-garde!
But, it doesn't look like you'll heed this advice (monkeys on heat never do). So, good luck!
Cyrus Surendranath
January 27, 2010 1:24 AM"

কে এই সাইরাস সুরেন্দ্রনাথ, তা আমার আজও জানা নেই। তিনি যেই হন না কেন, আমাদেরকে এতটা পাত্তা দিতে গেলেন কেন।  মাত্র ১৬ দিন আগে আমরা একটা করে শর্ট ফিল্ম রিলিজ করেছি। যে শর্ট ফিল্ম গুলি আবার জঘন্য। তার জন্য এতো শব্দ খরচ কেনই বা করবেন কেউ?  খুব ইন্টারেষ্টিং ব্যাপার যে তিনি অমিয়ভূষণ পড়েছেন, তিনি অবাঙালি হয়েও "Bengali little magazine gibberish" সম্পর্কে ধারণা রাখেন।

কারও একটা জ্বলছিল স্পষ্টতই। প্রচন্ড জ্বলছিল। আর জ্বলুনিটা মূলত আমার আর অরূপদার উপর। এসব থেকে আমাদের ধারণা হয় যে এই সাইরাস আসলে বাঙালী এবং সে এই ফোরাম কিভাবে তৈরী হলো তার গল্পটা ভালোভাবে জানে। সেইজন্যেই সে অন্য কারো কাজকে আক্রমণ করেনি। আমি সেই সময় এইসব গল্প কাউকে বলতে যাইনি।  প্রথম এসব বলি লেখার মধ্যে দিয়ে 'বৈখরী ভাষ্য' পত্রিকায়। সেটা অনেক পরে। ফলে সম্ভবত এই সাইরাস অরূপদারই কোনো বন্ধু।  পরবর্তীতে জয়দীপ দামের কিছু কথাবার্তায় মনে হয়েছিল উনিই সাইরাস। আজ মনে হচ্ছে প্রদীপ্তবাবুও সাইরাস হতে পারেন।

জয়দীপ দামের কথা কেন এলো বলি। উনি এইসব নো বাজেট ফাজেটে বিশ্বাস করেন না সেটা অনেকবারই বলেছেন। উনি প্রোডিউসার খুঁজে কাজ করতে পছন্দ করেন। বা করতেন বলা ভালো। আমাদের তৎকালীন প্রোডিউসার বিরোধীতা ওনার পছন্দ ছিল না। বছর ছয়েক আগে উনি একবার শ্রীপর্ণাকে অত্যন্ত বিচ্ছিরি ভাবে আক্রমণ করেন। রীতিমতো "ভদ্রঘরের মেয়ে" জাতীয় শব্দবন্ধ ব্যবহার করে। তা সেই আক্রমণ শেষ পর্যন্ত "আমার অপরাধ হয়ে গেছে", "আপনি প্লিজ আমাকে একটা চড় মেরে যান এসে"  ইত্যাদি দিয়ে শেষ হয়।  কিছু একটা উনি ভুল বুঝেছিলেন। সেটা যে ঠিক কি ছিল আমারও আর মনে নেই।  যাই হোক, আমার জয়দীপ দামের কাজ বেশ ভালো লাগতো এবং আমি চেয়েছিলাম যে উনি আমাদের সাথে কাজ করুন।  সেটা শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে ওনার ধারণাটা পাল্টেছিলো এবং উনি খড়দায় ওনার বাড়িতে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন সিনেমা নিয়ে কথা বলা যাবে। তারপর একদিন শুনলাম উনি আর কোনো কাজ করবেন না বলে ঠিক করেছেন। খারাপ লেগেছিলো।

এবার ঘটনাচক্রে জয়দীপ দাম এবং প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য, দুজনেই অরূপদার পরিচিত, এবং দুজনেই  টেলিফিল্ম বানিয়েছেন। একটা সময় ছিল যখন বেশ কিছু ভালো টেলিফিল্ম হতো। তারা মিউজিক বোধহয় নাম ছিল চ্যানেলটির। তাদের কল্যাণে সেই প্রজন্মের তরুণদের অনেকেই টেলিফিল্ম বানাচ্ছিলেন। টেলিফিল্ম ব্যাপারটা বেশ একটা নিউ ওয়েভ এর মতো হয়ে উঠছিলো (আমার কথা নয়, অনেককে বলতে শুনেছি সেই সময়)। ঠিক সেই সময়েই নো বাজেট ফিল্মের আবির্ভাব, মানে কলকাতা শহরে আর কি। কালকের পর আমার কেন জানি না সন্দেহ হচ্ছে, এই আবির্ভাবের ফলে টেলিফিল্ম যাঁরা বানাতেন তাঁদের হয়তো কিছু সমস্যা হয়ে থাকবে। আমরা কখনও এঁদেরকে যেচে অশ্রদ্ধা করতে যাইনি। 'টেলিফিল্ম আবার ফিল্ম নাকি' বলতে যাই নি। তারা  চ্যানেলের সঙ্গে নাম মিলিয়ে 'তারাতলার ফিল্মমেকার' বলাই যেত; আমরা কিন্তু বলিনি। কি জানি এঁদের হয়তো মনে হয়ে থাকবে যে এঁদের সাধের পালের হাওয়া খেতে এসেছি আমরা, কিন্তু আমাদের তরফ থেকে ব্যাপারটা একেবারেই সেরকম ছিল না। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জায়গা। লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করার মতোই নো বাজেট ফিল্মের ডিভিডি রিলিজ করেছি, তাও লিটল ম্যাগাজিন মেলাতেই। এবার কিছু মিডিয়া আমাদের নিয়ে খবর করেছিল, এক ধরণের সমর্থনের জায়গা থেকেই করেছিল, সেটা কারও গাত্রদাহের কারণ হয়ে থাকলে আমাদের কিছু করার নেই। মানে কোনটা যে কি কারণে হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি অবশ্য সেরকম বুদ্ধিমান লোকও নই। হলে নিজের ফিচারটা মনের মতো করে শেষ করতে পারতাম। প্রদীপ্ত বাবু একজন অস্কার প্রাপ্ত পরিচালক। আমি অস্কারই বলবো। আমার কাছে সবই এক। আমাকে কেউ কোনোদিন ব্যান্ডেলের সেরা প্রতিভার পুরস্কারও দেয়নি। দিলে হয়তো আমি "আলুর বস্তা" বলে প্রত্যাখ্যান করে সার্ত্রে-র ছবির নিচে দুটো ধূপকাঠি জ্বালাতাম, কিন্তু কেউ দেওয়ার চেষ্টাটাই করেনি। সেখানে প্রদীপ্তবাবু, যিনি কিনা কোনোদিন গোল্ডেন লায়ন পেয়েছেন শুনলেও কেউ আশ্চর্য হবে না, তিনি নো বাজেট নিয়ে একটা গোটা স্ট্যাটাস লিখে ফেললেন? তাও আমি চার বছর বাদে যেদিন মুখ খুললাম সেইদিনই? এটা কিরকম হলো ? এতো পাত্তা কি আমার আদেও প্রাপ্য? আমি বখে যাবো তো এবার !

নো বাজেট ফিল্ম নিয়ে অনেকের অনেক আপত্তি দেখছি। অথচ ভেবে দেখলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম টার্মটা অনেক বেশি গোলমেলে। সেটা নিয়ে কারো কোনো আপত্তি নেই। আবার অনিন্দ্যদার কথা ধার নিচ্ছি
---
"ইন্ডিপেন্ডেন্ট শব্দটা ঘাটা। তৈরি হয়েছিল হলিউডের স্টুডিও যুগে যারা স্টুডিওর ফিনান্স এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সাহায্য ছাড়া বা না পেয়ে ছবি করতো তাদের বোঝাতে; কিন্তু প্রোডাক্টটা বাজারের জন্যই, জনেরিক। এখন শব্দটা 'ইন্ডি'-তে পরিণত হয়ে কী যেন একটা বোঝায়। কিন্তু তাও আমেরিকায় এটা ব্যবহারযোগ্য, কারণ একধরণের ছবির ঐতিহ্যের সঙ্গে যায়।
কিন্তু আমাদের কনটেক্সটে জিনিসটার মানে কী? তাহলে তো আমাদের স্টুডিও যুগের পরে সবই ইন্ডিপেন্ডেন্ট, কারণ তখন তো আর বড় প্রোডাকশন হাউজ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোথাওই নেই! উত্তম-সুচিত্রা ফ্রিলান্স করতে আরম্ভ করলেন, স্টুডিও যুগের অবসান ঘটেছে, অর্থাৎ ওনারা আর কোনো একটা স্টুডিওর অধীনস্থ নন; তখন তো ইন্ডিপেন্ডেন্ট সবই।"
--- 
এটা জন্মলগ্ন থেকেই প্রকৃতই গন্ডগোলের। অথচ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম বললেই সবাই বুঝে যাচ্ছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট অফ বিগ স্টুডিওস, ভারতবর্ষে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মও হচ্ছে আর এদিকে নো বাজেট বললে কেউই কিছুই বুঝছে না; এই ব্যাপারটা একটু বেশিই আশ্চর্যের লাগছে। এটাকে কি সিলেকটিভ মূর্খামি বলা যায়?

যাই হোক, অনেক লিখলাম। এতদূর কেউ সময় নষ্ট করে পড়বে বলেও মনে হয় না। বেকার পিঠব্যথা বাড়িয়ে লাভ নেই। প্রদীপ্তবাবুর কাজের প্রতি আমার মনোভাব এইসব ঘটনার ফলে একেবারেই বদলাবে না। জয়দীপ দামের ক্ষেত্রেও বদলায়নি। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি এই নোটটা প্রদীপ্ত বাবুকে একটু ফরওয়ার্ড করে দেন তো অসহায় মানুষের আশীর্বাদ পাবেন। "বলো কি তোমার ক্ষতি, জীবনের অথৈ নদী..." ইত্যাদি ইত্যাদি।আর নো বাজেট নিয়ে কারুর কোনো কনফিউশন থেকে থাকলে ওই বিষয়ে আমার লেখা একটা বই আছে। নিতান্তই কাঁচা কাজ। বোরিং ও।  তবে সেটা পড়লে অনেক কিছু জানা যেতে পারে এই বিষয়ে।আমাজনে পাওয়া যায়। কিনতে বলছি না। কেউ এসব পড়তে চাইলে আমি নিজেই পিডিএফ পাঠাতে পারি। আপাতত বইটা ইংরিজি ভাষায়। তবে বাজেট শব্দের অর্থ কেউ যদি টাকা বা খরচ মনে করেন তাহলে তাঁর পড়ার চেষ্টা করে লাভ নেই। তাঁদের জন্য দেখছি বাংলায় এক পিস্ নামিয়ে ফেলা যায় নাকি শিগগিরই। কিছু প্রমিস করছি না। আমার কোনোকিছুরই কোনো ঠিক নেই।

(শেষ)


অনমিত্র রায়
Anamitra Roy

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS