Skip to main content



একদা এক সময়; চীনদেশে : অভিষেক মুখোপাধ্যায়

একদা এক সময়; চীনদেশে

ভ্রমণের ক্ষেত্রে আমি সর্বদা আমার তিন গুরুকে স্মরণে রাখি। চে, সৈয়দ মুজতবা আলী আর রাহুল সাংকৃত্যায়ন।
চে আমার ভ্রমণের হৃদয়ে বাস করে। প্রথমবার যখন আমি কন্যাকুমারী যাই, সেই সময় চে আমায় বাঁচিয়ে দিয়েছিল। ভ্রমণ দর্শনগতভাবে আকস্মিক। আমার ঘোরাগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। ফলে বেড়িয়েছিলাম দেখতে মহাবলিপুরম, সেখানে সারা সকাল থেকে পৌঁছলাম চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশন পন্ডিচেরীতে আমার বাসায় ফিরবো বলে আর সেই স্টেশনে ঢুকে দেখি দাঁড়িয়ে রয়েছে কন্যাকুমারী যাবার ট্রেন! বেশি ভাবনাচিন্তা করতে হয়নি তারপর। কিন্তু সমস্যা হল ট্রেনের ভেতরে ঢুকে। জেনেরেল কামরায় আগেও ভ্রমণ করেছি আমি, কিন্তু এ যে জনসমুদ্র! দাঁড়ানোরও জায়গা নেই! অন্যদিকে সবে আমার পায়ের ফিমার বোনটি জোড়া লেগেছেন। দশ-বারো ঘন্টা দাঁড়িয়ে গেলে তার স্বাস্থ্যের কি হবে ভেবে আমার রীতিমত কালঘাম ছুটতে শুরু করেছে! এমতাবস্থায় দেখি লোকজন উপচে যেতে যেতে অবশেষে ধীরে ধীরে বাথরুমের দিকে ধাবমান হচ্ছে। ফলে আশা নিয়ে আমিও সেইদিকে চললাম। গোটা রাস্তা এরপর আমার কেটেছে সেই টয়লেটের প্যানের ওপর জানলার কাচের টুকরো রেখে বসে। কান্না পেয়েছে; মনে হয়েছে এভাবে পারবোনা; সামনের স্টেশনে নেমে যাবো ভেবেছি কতবার; তারপর ভেবেছি চে আর গ্রানাদোর কথা। ‘লা পোদেরোসা’র ভেঙ্গে পড়ার পর তাদের ভ্রমণের সামনে এই কষ্ট তুচ্ছ লেগেছে। আর আমি মনে মনে শুনে গেছি সান্তাওলালার সুর। শেষে সকাল হয়েছেকাকভোরে যখন সেই স্টেশনে পা দিয়েছি, রাতের ওই চরম ক্লান্তির শেষে, বিবেকানন্দ রকে গিয়ে যখন দেখেছি সেই তিন সাগরের মিলে যাওয়া; আমি বুঝেছি কোন কিছু বৃথা যায় না। ফেরার পথে যখন স্টেশনের বেঞ্চে শুয়ে আছি, এক তামিল মেয়ে তার ভাঙ্গা-ভাঙ্গা ইংরিজিতে আলাপ করে এসেসে নিম্নবিত্ত মানুষ, নিজের প্রেমিকের সাথে ভিল্লুপুরম ফিরছে। তার প্রেমিক ইংরিজি জানেনা। ফেরার পথে ট্রেনের কামরায় বসার জায়গা পেয়ে যাই, তাদেরই পাশে। রাতে যখন ট্রেনে খাবার উঠেছে, আমি খাচ্ছি না দেখে সে আমায় জোর করে খাইয়েছে। আমার সেই সুতো দিয়ে পাতায় মোড়া খাবার খুলতে না পারার ক্যাবলামি দেখে, ছদ্ম রাগ দেখিয়ে; স্নেহের সাথে; সে নিয়ে খুলে দিয়েছে খাবারের মোড়কতারপর আমায় ভোর চারটের ভিল্লুপুরম বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে দিয়েছে সঙ্গে করে নিয়েফিরে যাবার সময় সে জিজ্ঞেস করেছিল আমি কোন দেশের মানুষ। আমার হয়তো তাকে বানিয়ে কোন সুদূরের দেশের নাম বলা উচিৎ ছিল। তার ভ্রমণ হয়তো সেই মিথ্যেতে আরও সুন্দর হতো। এ আফসোস আমার যাবে না।
আলী সাহেব আমায় শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষ মিশে আছে আমাদের ভ্রমণের ভেতর। না! আমাদের ভ্রমণ সেইসব দর্শনীয় স্থান, রাজারাজরাদের ইতিহাস পেড়িয়ে বেঁচে থাকে রাস্তার আলাপে, চায়ের দোকানের আড্ডায়, সেইসব প্রাচীন চৈনিক তাওইস্ট মন্দিরের পুরোহিতের সাথে ভাষা না জেনেও করা গল্পে, মুর্শিদের সাথে অ্যান্টওয়েপ পোর্টে ছিপি বন্ধ কোল্ডড্রিংক জলে পড়ে যাওয়ায়, বাংলাদেশে কম্যুনিস্ট নেতার খাওয়ানো আগুন গরম চপে ঝলসে যাওয়া জিভে, সেইসব ন্যুডিস্ট কলোনির ভেতরে, নাজিম তুল্লাহ-র সাথে ফরাসিদেশের ট্রামের মধ্যে।
আমার গুরু রাহুলজি বলতেন সাথে ডায়েরি রাখতে, এবং সবসময় তাতে দিন-ক্ষণ সহ অভিজ্ঞতাগুলো টুকে নিতে। এই বিষয়ে আমার মত একেবারেই ভিন্ন। আমি মনে করি স্মৃতির থিতোনো দরকার। তাতে কল্পনা মিশলে, স্থূলতাগুলো হারিয়ে গেলে, মনের মাধুরী যা রচনা করবে; সেই হল আমার ভ্রমণ। ভ্রমণ আমার কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খতা নয়। সেই স্থানের ইতিহাস নয়। বরং আমার জীবনকাহিনী। আমার প্রথম নভেলা ‘কিউ-এর কমলা জুতো’তে একজন চরিত্র আছেন। তাঁর নাম জাঁক দেরিদা। দেরিদা সেখানে বলেছেন “আমি একটি দার্শনিক কাজের স্বপ্ন দেখিনা; আমি একটি সাহিত্যিক কাজের স্বপ্ন দেখিনা; আমি স্বপ্ন দেখি যা যা আমার সাথে ঘটেছে বা ঘটতে বিফল হয়েছে তা মুদ্রিত করে রাখার”। আমার ভ্রমণ তেমনই।

প্রথম বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা প্রথম চুমু, প্রথম কাউকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরার মতোই মনোরম। আমরা কখনো জানতে পারি না প্রথম যেদিন হেঁটেছিলাম, যেদিন কথা বলেছিলাম, খাবার খেয়েছিলাম; কেমন লেগেছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের অচেতনে থেকে যায়; কিন্তু এই পৃথিবী তা সুদে-আসলে পুশিয়ে দিয়েছে তার প্রকৃতি, মানুষ আর ইতিহাস দিয়ে। হুঁশ আসার পর প্রথম বেড়াতে যেদিন গেছি ছেলেবেলায়, আবঝা মনে আছে হয়তো। পুরী শহরের সমুদ্রের কাছে আমি আর মা। আলাপ হয়েছিল আর একটা ছোট্ট বাচ্চার সাথে। তার নাম টাউন। আর ছিল দু’টো খরগোশ আমাদের হোটেলে; নীলম আর গোভিন্দা। আমি তাদের কোলে নিতাম। মনে পড়ে বাবা-মায়ের হাত ধরে ছুটির দার্জিলিং শহর। সেই পাহাড়ের প্রথম হাওয়া আজও দার্জিলিং শব্দের সাথে টের পাই। কোন পাহাড়ে ঘুরতে গেলে মনে হয়, এ যতই সুন্দর হোক আমার দার্জিলিং-এর ম্যালের মতন নয়। আমার স্মৃতি ও কল্পনা আমার প্রথম ভ্রমণকে এভাবেই গড়েছে। যেদিন প্রথম চলে এসেছিলাম একা দিল্লী শহরে, প্রেমিকার সাথে ঘর বাঁধতে, সেদিন মনে হয়েছিলো কিছু পালটে গেল চিরকালের জন্য। সেই আগুন গরম দিল্লী শহরের ছাদের ঘর; আমার স্মৃতির কাছে সবচেয়ে শান্তির আশ্রয়। আমাদের ভ্রমণগুলো এভাবেই আমাদের আর একটু নতুন মানুষ করে তোলে। 
আমার প্রথম বিদেশ হল চীনদেশ। দিল্লী থেকে কুনমিং ঘুরে পৌঁছে যাওয়া সিচুয়ান প্রদেশের ছাংদু শহরে। কুনমিং এয়ারপোর্টে তার আগে কাটাতে হবে সারা রাত। সেখানে নেমেই দেখি একগাদা মানুষ হোটেলে নিয়ে যেতে ছেঁকে ধরছে সকলকে। আমার কাছে আসতেই বুঝলাম তারা অনেকেই বাঙালী। যাবো না শুনে ভদ্রলোক বললেন ‘এখানে যদি থাকেন, বাংলাদেশে গেলে আমার বাড়িতে বিনে পয়সায় থেকে যাবেন। এই অফার শুধু কইলকাতার বাঙালীদের জন্য’।
সে এয়ারপোর্টে বসে অপেক্ষা করতে যাবো, দেখি চীনে পুলিশরা এসে লোকজনকে খেদিয়ে দিচ্ছে। এদিকে আমাদের ফ্লাইট সেই ভোর ছয়টায়। তারা সব চীনে ভাষায় কথা বলে, আমি বুঝিওনা কোথায় যেতে হবে। নিচে এসে জিজ্ঞেস করি ইনফরমেশন ডেস্কে; সেখানেও কেউ ইংরিজি জানেনা! চীনে এদিকে গুগল ব্যবহার অবৈধ ফলে ট্রান্সলেটর ব্যবহার করা যাবেনা; আমি ভিপিএনও আনিনি। অবশ্য গুগল বৈধ হলেও আমার কিছু করার থাকতো না কারণ আমার সিমটি ভারতীয়!আমার প্রায় মাথা খারাপ দশা। একবার ভাবছি সেই বাঙালী ভদ্রলোককে খুঁজে দেখবো কিনা, তারপর মনে হচ্ছে সে তো একশ ইউয়ান নেবে রাত কাটাতে, আমাদের টাকায় হাজার টাকা! ফুটপাতে রাত কাটাতে আমার সমস্যা নেই; কিন্তু এই ভীনদেশে তা আইনসংগত কিনা তাও জানা নেই। ব্যাগ-পত্তর নিয়ে হন্যে হয়ে চতুর্দিকে ঘুরছি; হঠাৎ দেখি লিফটের ভেতরে তলা ভাগ করে তাতে ইংরিজিতে লেখা। সবচেয়ে নিচের তলা হলো ওয়েটিং রুম। রাত কাটলো সেখানকার চেয়ারে বসে ফিল্ম দেখে। একগাদা ফিল্ম ছিলো ল্যাপটপে। একটা ফিল্মের নামে চোখ আটকে গেলো নাটকীয়ভাবেমনে হল শুধু এই দিনটার জন্য এতদিন ছবিটা দেখা হয়নি। ফিল্মের নাম ‘লস্ট ইন ট্রান্সলেশন’!

ছাংদু শহর হল খাবারের শহর। এ শহরের এই বৈশিষ্ট্য ইউনেস্কো স্বীকৃত। এবং সেটা বড় কথা নয় ছাংদুর খাবারের পাশে। ছাংদুর খাবার যেকোন স্বীকৃতিকে ছাপিয়ে যায়। এই শহর রেস্তোরাঁর শহরও বটে। এই শহরের প্রচলিত প্রবচন হল ‘বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য বাদে কেউ বাড়িতে রেধেঁ খায় না’ভ্রমণের দর্শন বলে খাবার ছাড়া ভ্রমণ ভ্রান্ত। আপনি যদি বেড়াতে গিয়ে আপনার পরিচিত খাবার খোঁজেন আর অন্য খাবার দেখে নাক শিঁটকোন তাহলে আপনি সারা পৃথিবী দেখে থাকলেও আপনার সে ভ্রমণ ব্যর্থ। আমি যখন দেখি আমার বন্ধুরা ঘুরতে গিয়ে ভারতীয় রেস্তোরাঁ খুঁজে বেরোচ্ছে আর মুহুর্মুহু হত্যে দিচ্ছে ‘আহা আমার দেশের খাবারের মত খাবার হয় না’ বা ‘এ ভিনদেশে আমি ডাল-ভাত ছাড়া বাঁচবো কি করে’! আমি তাদের থেকে শত হস্ত দূরে পালাতে থাকি। আর এভাবে আমি বর্তমানে উপলব্ধি করেছি, মানুষজাতের সংস্পর্শে থাকা দুস্কর হয়ে উঠছে! পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে আমাদের প্রজাতির বেশীরভাগই নিজেদের ‘কুয়ো’টা বয়ে নিয়ে চলে।
ছাংদু শহরে নেমে আমার শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল। ‘এই তবে বিদেশ’! এয়ারপোর্টে আমায় নিতে এসেছিলো জন। সে জাতে চীনে। চীনে বেশীরভাগ মানুষেরই একটা ইংরিজি নাম আছে। আর এই দেশের বিদেশী মানুষদের আছে একটা করে চৈনিক নাম। আমি জনের আসল নাম ভুলে গেছি। সে নিজের ইংরিজি নামেই অধিক পরিচিত। এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সিতে যেতে যেতে আমি দেখতে পেয়েছি একের পর এক বড় বড় উঁচু বাড়ি। সুন্দর গোছানো রাস্তা, ফুলে ফুলে মোড়া, কিন্তু এইসব ছাপিয়েও রয়ে যায় সেই প্রথম আস্বাদনের অনুভূতি। যা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। যেভাবে আমি কখনো বলতেই পারবো না, প্রথম ভালোবাসার স্পর্শের অনুভূতি। ভাষা অনেকক্ষেত্রেই অসহায়।
সেই দিনই আমার দেখা হয় মিস কিকোর সাথে। ইনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফের হোস্ট বলা যায়। বলা বাহুল্য এটিও তার ইংরাজি নাম। এবং কেউ তাকে বুঝিয়েছিলো কখনো যে মিস সম্বোধন অল্পবয়সী মেয়েদের সম্মানার্থে করা হয়, বেশী বয়সের ক্ষেত্রে সেটাই হল ম্যাডাম। এখন মিস কিকো সম্মানপ্রত্যাশী অথচ তিনি বয়সের ভারে নব্জ্য হতেও অনিচ্ছুক। ফলে বারবার তাঁর নাম বলার আগে তিনি নিজেই মিস সম্বোধনটি ব্যবহার করে দেন। আমার তাঁর কথা মনে পড়লে, এখনো মিস কিকোই মনে পড়ে। যেন মিস শব্দটি বাদে তার কোন পৃথক অস্তিত্বই নেই!
মিস কিকো আমাদের নিয়ে যান তার সাথে লাঞ্চে। সেই প্রথম আমার চপস্টিকস ব্যবহার। সে এক ঘেমে-নেয়ে একশা অবস্থা! অতিকষ্টে সেই নুডলস শেষ করা। প্রথমবার আমার চীনে খাবার চাখা। মিস কিকোর বিদেশীদের সাথে অভিজ্ঞতা বলতে সাদা চামড়ার লোকজন; তিনি জোর করে আমাদের খাবারে কোন ঝাল-মসলা দিতেই দিলেন না!
তারপর ছাংদুর খাবার খেয়েছি প্রাণ ভরে। রাস্তাঘাটে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে, জিনলি স্ট্রিটে, ওয়াইড অ্যান্ড ন্যারো অ্যালিতে।
চীনের খাবার মূলত চার রকম ভাবে বানানো হয়। সিচুয়ান ঘরানা, চিয়াংসু ঘরানা, ক্যান্টোনিজ ঘরানা আর উত্তর চীনের ঘরানা। এটা আমায় বুঝিয়েছিল চেন। আমার চীনের প্রথম চৈনিক বন্ধু। সিচুয়ান ঘরানা অবশ্যই সবচেয়ে বেশী মসলাদার। এটা আমরা সকলেই জানি, যেহেতু আমরা কলকাতায় সেজুয়ান চিকেন খেয়েছি। তবে বিশ্বাস করুন সেই সেজুয়ান আর এই সিচুয়ানের পার্থক্য আকাশ ও পাতাল। পরে যখন আমার বন্ধু চেন ভারতে এসেছে, তাকে চীনে রেস্তোরাঁয় নিয়ে গেলে সে হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছে ‘এটা কোন প্রদেশের খাবার’! ছাংদু সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী। এর খাবার চীনের অন্যান্য প্রদেশের খাবারের তুলনায় অনেক বেশী মসলাদার। তবে সেই মসলা ভারতীয় মসলার সামনে শিশু!শুধু সিচুয়ান পেপার কর্ন মুখে গেলে আপনি একটু ফোঁসফোঁস করে কাঁদতে পারেন বটে!
এই শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত খাবার হল খরগোশের মাথা। সেই মহার্ঘ্য বস্তু আপনি চপস্টিকস দিয়ে খেতেও পারবেন না। এদিকে এদেশে খালি হাত ব্যবহার করা প্রথাবিরুদ্ধ। চীনেরা এই প্যারাডক্স থেকে বাঁচতে বেছে নিয়েছে এক মধ্যম পন্থা। তা হল প্লাস্টিকের গ্লাভস। এতে তাদের প্রথার সম্মানও রক্ষা হয়, আবার হাতও ব্যবহার করা যায়। আমি প্রথম এই খাবার খাই জিনলি স্ট্রিটে। সেই আসামান্য স্বাদ এখনো আমার জিভে লেগে আছে। নরম তুলোর মত খরগোশের মাংস, তার ফাঁকে ফাঁকে হালকা ঘিলুর স্বাদ! একে স্বর্গীয় ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। এই মাংস অল্প আঁচে সেদ্ধ করা, তারপর তা সিচুয়ানের মসলায় মাখিয়ে রাখতে হয়। এই খাবার গরম খেতে নেই, ঠান্ডাও নয়। সাধারণ উষ্ণতায় এর স্বাদ সবচেয়ে ভালো খোলে।

ছাংদুতে এরপর আমি আরও অসাধারণ খাবার খাই। ব্যাঙের মাংস খেয়ে বুঝি তা অদ্ভুতভাবে মাছ ও মুর্গীর স্বাদের সমতা বজায় রেখেছে। সিল্ক গুটিপোকার মাংস যেন মুর্গীর ছোট ছোট টুকরো। আর কাঁকড়া বিছে আর কিছুই নয়, কড়া করে ভাজার ফলে, ঠিক পপকর্ন!


অভিষেক মুখোপাধ্যায়
Abhishek Mukhopadhyay

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS