Skip to main content



তমিস্রা কবিতাসিরিজ ~ অর্ঘ্যদীপ রায়


তমিস্রা-১
একবুক মৃত্যুসংবাদ নিয়ে বসে আছো
একটি শিরীষ ছায়ায়
এভাবে সন্ধ্যে এলো
যেন পুকুরপাড়ে বসে থাকা একটি কিশোরের
শেষ ঢিলে সকাতর জলোচ্ছাস এলো।
রান্না হবে বলে খোসা হারালো
পটলচেরা ভালোবাসারা।
তোমার দিনগুলি বক্ররৈখিক
দৈনন্দিন ঘুমের মতো
তাদের ভাগ্যে নাইটবাল্ব জোটেনা।
বেখেয়ালে বসানো টিপ
ছবিতে ব্লার হয়ে যাওয়া মুখ
মেসবাড়ির কুঁয়োর পাশে রান্নাঘর থেকে ধোঁয়া আসে
ধূলিমাখা তারজালি অপেক্ষা করে
কখন বিষাদ মেখে তুমি বসে থাকো
ব্যালকনিতে সাইকাস গাছের ছায়ায়।
গভীর রাতে ডিটেকটিভের পাতা খোলা থাকে শিয়রে
সাধারণ মেয়েটির আজন্মলালিত ঘুম আসে।


তমিস্রা-২
অনভ্যস্ত হাত
যখন কর্মধারা খুঁজে নিতে চায় নতুন
যখন ভরে ওঠা নদীর কথা ভালো লাগেনা
একটি মরুভূমির বর্ষা দেখতে ইচ্ছে করে।
যেভাবে কথার মাঝে গৌণ হয়ে ওঠে ভাষা
যখন উজ্জ্বলতায় সাধারণী হয়ে ওঠে আলো
কয়েকটি রেখা দিয়েছিলাম তোমাকে
যা দিয়ে জুড়ে জুড়ে একটি পৃথিবী ভাবা যায়,
কয়েকটি শব্দ
যা আমার অক্ষরময় হারেমের বিসর্গগুলি।
সমস্ত অলংকার খুলে তোমার কাছে আসি
বসি
ভাবি ভুলে যাওয়া পুকুরের কথা।
তুমি আত্মমগ্ন হয়তো
হয়তো খুচরো জমানোর কৌটোর শব্দটুকু আমি বেছে নিচ্ছি
তোমার আটপৌরে দিনলিপি
আমার কাছে উপন্যাস হয়ে উঠছে,
তোমার ষাট-সত্তর-আশি-নব্বই-শ
লুকিয়ে ফেলছে আমায় কোনো নতুন শব্দগহবরে।
নতুন কোনো নায়িকার সংবাদে
যেভাবে উদ্বেল হয়ে ওঠে পড়শী
মাছের কাঁটা খেতে খেতে মুখ তুলে তাকায় পৌষালি বিড়াল।
তুমি সময় বুনছো
অথচ জানোনা কোন সময়ের কাঁটা
জেগে থাকে সাইকেলের বেলে
যার একটি সঞ্চালনা
একটি দ্বিপ্রাহরিক খুনের জন্ম দেয়।
কোনো মৃত রুই মাছে সেজে
তত্ত্ব যায় আঙুরবালা দেবীর
গমকলের নতুন বৌ ঘোমটা দিতে দিতে
একটি মৃন্ময় পালকির স্বপ্নে বিভোর হয়।


তমিস্রা-৩
একটি তারা জন্মেছিল দক্ষিণে
একটি গামছা শুকোয় আবহমান কাল জুড়ে
রোদ বৃষ্টি আবহবিকার
বসন্ত বৈশাখ নভেম্বরে।
তাকে দেখতে পেত নাগরিক চশমাগুলি
তুমিও তেমন ছিল
অপরিবর্তনীয় তোমার বালুচর
দীপ্তিময় তোমার চিলেকোঠা।
কখনো মৃগেল মাছের কথা আসতো
কখনো বৃতি দলমণ্ডল
গর্ভকেশর ছুঁয়ে যেত গেটের বাইরে
জমা হওয়া শূন্য দৃষ্টির ভিখিরিরা।
টিভির আওয়াজ কমিয়ে
একটি ডেনড্রাইট কৌটো থেকে খুচরো খুঁজে আনো
যেভাবে একটি গলিত মোমের
স্পর্শ লেগে থাকে সুরম্য তর্জনীতে।
তাকে ক্লান্ত করে
তার চিরাচরিত মানের ভেতর
একটি নতুন চরিত্রের জন্ম হয়।
এভাবে দেখছি তোমায়
যেন চৌবাচ্চায় সাধ করে পুষে রাখা
কচ্ছপটার খিদে পেল মাঝরাতে
আর অপরাধবোধ এলো
যদি সে মারা যায় এই বিষন্ন বিদেশ বিভুঁয়ে।
অথচ শাঁখচুন্নির মায়া জেগে আছে সিঁড়ি জুড়ে
অথবা দরজা পেরোলেই দন্ডায়মান অশরীরী
শুকনো হয়ে আসা নালায় ছুঁচো আসে।
এমন অবাঞ্ছিত ভালোবাসাগুলি
তথাকথিত ধারণায় ঢুকতে পারেনা অন্দরমহলে
সেখানে একটি অতিপ্রাচীন ফ্যান
শর্ট সার্কিট হবার ভয় কাঁখে নিয়ে
অবিরাম ঘুরতে থাকে।


তমিস্রা-৪
জংলী ফুলের আলো
নিংড়ে নেওয়া গোধূলি
বাজারী গান বাজিয়ে চলা
রিলছেঁড়া ক্যাসেট
ভিড় করে একটি নিশ্চুপ বিলের বুকে।
ঘুনসির ঘ্রাণ আসে পড়ন্ত রোদে
অথবা শিশুর নাভি মেখে নেয়
বিলাসী সর্ষের তেল।
সেই রুই মাছটার গল্প তো তুমি জানোই
কিংবদন্তিতে,
সেই গিলে ফেলা আংটির কথা তুমি শুনেছ
তার পর তার কি যে হলো
সুয়োরানীর কপাল ব্যথা
অথবা ঘাটের আড়ালে লুকিয়ে রাখা বঁটির কথা
ছাইমাখা বাসনের আড়াল
খুঁজতো রাজকীয় অসুখগুলি।
সেদিন কি কোনো গতজন্ম ছিল তোমার ?
কোনো আলো-আঁধারি রসুই এ
খুন্তি ধরেছিলে তুমি
খয়ের পান ধ্বংসাবশেষ এঁকেছিল
কৃন্তক ও ছেদক দাঁতগুলিতে।
গভীর রাতে কোনো গোপন প্রেমিক আসতো তোমার ,
এক ঘড়া মোহরের লোভ
স্বপ্ন জাগিয়েছিল বিবাহের
অর্ধেক রাজ্যের সম্রাজ্ঞী হবার ইচ্ছে
সম্মতি জানিয়েছিল সঙ্গমের।
আলো নেই
দুটো মানুষ আর একটা
একটা নৌকা ভেসে যাচ্ছে
বোয়াল মাছের পুকুরে ।
ওই তো ভোর হচ্ছে
তবু বেখেয়ালী ছিল তসর শাড়ির শৈশব
কচি রাজকুমার হিসি করতে এসে
ভোরের আলোয় দেখে ফেললো তোমায়
হায় হতচ্ছাড়ী
হায় রে কুলটা
পৃথিবী যখন শাঁকচুন্নি হবার নিমগাছ খুঁজছে
তুমি ঝাঁপ দিলে জলে
প্যাঁকাল মাছের মতো কর্দমাক্ত হতে হতে
সোজা এ ব্যালকনিতে
যেখানে তোমার চুল শুকোনো দেখতে দেখতে
কিছু তারা আলোকবর্ষখানেক দূরত্ব কমিয়ে ফেললো।

অর্ঘ্যদীপ রায়
Arghyadip Roy

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS