Skip to main content

Posts

Showing posts from April 22, 2018



তিনশো ষাট ডিগ্রী : অগ্রদীপ দত্ত

তিনশো ষাট ডিগ্রী
||এক|| আজ একটু বেশিই ভীড়। ভীড় হওয়াটাই অবশ্য স্বাভাবিক। আজ মেলার শেষ দিন। সার্কাস, মওত কা কুয়া, চিত্রাহার, নাগরদোলা ও সমস্ত স্টলগুলো চুটিয়ে ব্যবসা করছে।এই ব্যবসা চলবে রাত দুটো আড়াইটা অবধি। ঘড়িতে এখন সাড়ে এগারো।চারিদিকের মাইকিং ও লোকজনের আওয়াজে মাথার ভেতরটা ভোঁভোঁ করছে।একটা চরম অস্বস্তি নেমে আসছে মাথা থেকে পা। এই অস্বস্তিটা তিনদিন আগে থেকে শুরু হয়েছে।শরীরের ঠিক কোন জায়গাতে যে অসুবিধা, বোঝা যাচ্ছে না।তার জন্য পারফরমেন্সেও গন্ডগোল হচ্ছে। কাল রাতে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচার পর আজ আবার একই ভুল। তাই শো শেষের আগেই ইয়ামাহা আর এক্স হান্ড্রেড বাইকটা নিয়ে নীচে নেমে আসে বিকাশ।অমিত, ফিরোজরা তখনও উপরে।সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স আর ঘর্ষনকে ব্যবহার করে ফুল স্পীডে ঘুরছে কুয়োর ভেতর।শো শেষ না হতেই কাঠের কব্জা টেনে বাইরে বেরিয়ে এল সে।
কিছুক্ষণ ধরে একটা সরু লিকলিকে নালার পাশে উবু হয়ে বসে আছে বিকাশ। দু' তিন বার গলার আঙুল দিয়েছে। বমি হয়নি। 'ওয়াক' নামক শব্দ আর লালা ছাড়া কিছুই বের হয় নি। বের হওয়ার কথাও নয়।বমি হতে গেলে পেটে কিছু ডিপোসিট করতে হয়। সকাল থেকে জল ছাড়া ভেতরে আর কিছু ঢোকেনি। বি…

তিনটি কবিতা : সায়ন্তন গোস্বামী

মানুষের কথা
মানুষের কথা বুঝতে পারছিনা।
আমার কাছে এসে বসা তোমার উচিত হবেনা।
ঘরের ভেতর হাঁটাহাঁটিগুলো পর্যন্ত জটিল হয়ে যাচ্ছে।
কী যে এক ব্যান্ডপার্টি চিন্তা টাকাপয়সার, তুমি
শুনলে জানলার বাইরে তাকিয়ে রুমাল দিয়ে
মুখ মুছে নেবে।
নভেম্বর জুড়ে ওষুধের ফর্দের ওড়াওড়ি শীত ঢেকে দিল।
সারারাত পাতা ঝরেছে। রাস্তার ছবি তুলে
কয়েক ঘন্টার সুখ, এইসব ভাবি।


শত্রুমাছ

তোমার দু'চোখে দুটি শত্রু মাছ
বহুদিন ধরে সাঁতরে বেড়াচ্ছে
নিজেকে অন্ধ করে বের করো
ওদের, রুলটানা দিস্তা কাগজে
খেলাও বহুক্ষণ, ছড়িয়ে যাক
আঁশের রুপো, ফাতনাকারুকাজ
আর লক্ষ্মী, লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে
বলে তোমাকে সবাই আরো
একটু মেরে ফেলুক, ওই গহ্বর
চোখযুগল থেকে স্থলপদ্ম<

রুখসত : অর্ক চট্টোপাধ্যায়

রুখসত
আশির কোঠায় পৌঁছোবার পর যখন আশেপাশের অনেককিছু ফিকে হয়ে আসে, দিন-রাত গুলিয়ে যায়, তখনো দূরে ছোট ছোট কয়েকটা আলো স্পষ্ট হয়ে থাকে। কিসের আলো? তা কি আর স্পষ্ট করে বোঝা যায়? মনে হয় ঐসব স্পষ্ট অস্পষ্ট আলো মৃত্যুর কাছে এক পশলা বৃষ্টি চেয়ে হাপিত্যেশ করে বসে আছে।
--"বশির মিঞা, কি হালত বলো দেখি? বৃষ্টি তো থামছেই না। হয়ে যাচ্ছে, হয়েই যাচ্ছে।"
--"তোমরা তো আর কলকাতায় বন্যা দেখোনি, তাই বলছো। সাতের দশকের শেষের পালা। কি বারিশ কি বারিশ! আমি তখন সবে চল্লিশ পেরিয়েছি। যেদিন আকাশ জওয়াব দিয়ে দিল, তার আগের রাতে আম্মার ইন্তেকাল। এতো পানি, এতো পানি, গোর দিতে যাওয়ার উপায় নেই, ইয়া আল্লাহ!" দূরের আলোগুলো একে অপরের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে অক্ষর তৈরী করছিল। নিরঙ্কুশ অন্তরীক্ষ। নক্ষত্রের অক্ষরমালা আলোয় আলোয় একাকার। সময় চলে গেছে আট আটখান দশকের পার।যেখানে জোড় ছিল না, সেখানেও আলো জুড়ে যাচ্ছে আর যেখানে জোড়ার কথা দেওয়া ছিল সেখানে অন্ধকার ঘিরে।
--"আম্মাকে রুখসত করলেন কি করে?"
--"ইন্তেজার। সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ইন্তেজার শেষ হয়না। বারিশ তখন নিজের এক শহর গড়েছে কলকাতায়। বুঝলে জনাব! বাড়ির ভেতর আম্ম…
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS