Skip to main content



তিনটি লেখা ~ রণদেব বল


(১)
ঈর্ষা বরং মধুরভাষী,
প্রণয় সে তো উন্মাদ, একঘেয়ে 
আমিই শুধু ঘুমচোখে তাঁর জ্যোৎস্না দেখি।
আমিই কেবল ক্লান্ত চোখে চেয়ে


আমিই দেখি জলঝরা দিন,
ছাদের চাতাল বাধনবিহীন, অন্ধকারে


সিড়িঁর ওপর জলের রেখা,
যেদিক খুশি বইতে শেখা, এ সংসারে।


যেমন করে নদীও বয়, নিজের স্রোতে নিজের ধারায়,
ঘর ভেসে যায় পাড়ায় পাড়ায়
কাকতালীয়।


ভালোই আছি পান্তাভাতে,
বিরুদ্ধতা পাইনি ধাতে, সুযোগ বুঝে দু চার কথা বলতে দিও


সব চরিত্র পাল্টেছে সুর
মেঘলা দুপুর, পোশাক-আশাক সব সাবেকী


সবই আমার খেয়ালখুশি
কাউকে বাঁচাই, কাউকে আবার আগলে রাখি।




(২)


অবসর চাই শুধু, আর কিছু নাও পেলে রাজি
যেটুকু নিয়ম ছিল, যেটুকু রাজ্যপাট হাতে
সবই তো অধঃগামী, চোরা সময়ের কারসাজি
কেবল দূরত্ব বাড়ে সময়ের ব্যস্তানুপাতে। 

জীবন ঘুমিয়ে গেলে স্বপ্নরা ফের জেগে ওঠে
তারপর কি ভীষণ গোলাগুলি, বিজয় মিছিল
মাঝরাতে ঘুমচোখ যদিও বা প্রেমিকার ঠোঁটে,
অথচ তলার মাটি বাস্তবে তখনও শিথিল। 

বসতির কিছু কিছু অলিখিত উপভাষা আছে,
নেই শুধু আগেভাগে মৃত্যুর মাস ও তারিখ
যুদ্ধের সব খত পরাজয় বুকে নিয়ে বাঁচে। 
ঝড়েরও নিয়ম হয়, জানেনা হৃদয় অন্তরীপ। 

আমিও জানিনা ঠিক কতবার জন্মেছি আগে
কত পথ হাতরিয়ে দিনশেষে সরাইখানায়,
কখনও নদীর মত চ্যাপ্টানো উপকূলভাগে। 
দু এক পশলা স্মৃতি বুঝি পুনর্জন্মে থেকে যায়!




(৩)

সীমান্ত চিরকাল দু-প্রস্থ জমি বেঁধে রাখে,
নীচের তলায় চাপা বহু যুদ্ধের ইতিহাস
নিমেষে জাহির করে বাঁধনের জড়সত্তাকে।
কঠিন আত্মকথা জানে শুধু সান্দ্র বাতাস।


ঢালুপথ পাড়ি দিয়ে বহুদূর গড়িয়েছে নদী,
তারপরে কতযুগ আর কত শীত গেছে চলে।
এখনও কুয়াশাময় অরণ্যের গভীর অবধি
বধির বনস্পতি শাপভ্রষ্ট দেবতার দখলে।


সেখানেও জ্যোৎস্নার তির্যক চাহনি ফুটে ওঠে,
মধুর উপাখ্যানে মুখোমুখি রাত জাগে তারা।
একেঁছে সীমান্তরেখা জাগতিক মায়ার বুনটে,
এমনই শীতল রাতে নিশ্চুপে ফিরে গেছে কারা!

রণদেব বল
Ranadeb Ball

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS