Bhaskarjyoti Das

আলাপ

প্রথম দেখায় আমি মানুষটার সবকিছুই দেখতে পাই –
গায়ের রঙ, মুখের ব্রণ, চুলের খুসকি
চামড়া কতোটা খসখসে, নখে কতোটা ময়লা,
দাঁত কতো হলুদ, জামার রঙ –

দ্বিতীয় দেখায়
আমি শুধু চোখ দুটো দেখতে পাই
তার রঙ, মনি, ভাষা

এরপর থেকে দেখা হ’লে আমি আর কিছুই
দেখতে পাই না একদম

ও হ্যাঁ ভুলে গিয়েছিলাম, হাসিটুকু দেখতে পাই
হাসিটুকু ...

আলাপ হওয়ার পর এইভাবে আস্তে আস্তে আমি অন্ধ-হই –
দু ফোঁটা চোখের জল ক্রমশ অন্ধ-বিশ্বাসী ক’রে তোলে আমায় ...

২০.০২.২০১২, দুপুর ১১টা ৩৮



ব্যকরণ

আলোর বিপরীত শব্দ অন্ধকার নয়
অন্ধকারের বিপরীত শব্দও আলো নয়

আলো একটা আলাদা পৃথিবী;
অন্ধকার আরও একটা

অন্ধকারে কতো কিছুই করা যায় না

শুধু যদি অন্ধকারে আলোর সাহায্য ছাড়াই
বই পড়া যেত আর লেখা যেত – কবিতা –

অন্ধকারে কতো কিছু ভাবি
লেখার মুহূর্তে পুলিশের মতো আলো এসে পড়ে

লেখার পাঁজর ভেঙ্গে যায়

০৩.০৪.২০১২, রাত ৩টে ৫৫




এক্সট্রা ম্যারিটাল

প্ল্যাটফর্মের ওই যে মাদার টেরেজার মতো মুখ
কুঁচকে যাওয়া বুড়ি, ইছে করে ছুটে যাই –
এক ছুট্টে গিয়ে হাত দুটো ধরি
হাঁটু মুড়ে বসি নতমস্তক
বাড়িয়ে দিই টকটকে লাল একটা গোলাপ –
বলিঃ অনেক অনেক জন্ম আগে  
আমিই তোমার প্রেমিক ছিলাম ...

২১.০৮.১২, রাত ২টো ২৯




সামুদ্রিক

হাজার বছর আগে পৃথিবীর অন্য কোনও সমুদ্রে
কোনও এক পুরোনো তরুনী স্নান করেছিলো –
তার স্পর্শ করা জল আজ হাজার বছর পরে
বহুদূর জীবানু সংক্রমণের মতো হয়তো বা
এই সমুদ্রে আমায় ছুঁয়ে দিতে এসেছে...

ঢেউ-এ ঢেউ-এ এইভাবে আমাদের সামুদ্রিক বিবাহ হয়ে গেলো
প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা গৃহে হয়ে গেলো বাসর মিলন

আমাদের নিষিক্ত ডিমগুলো একদিন
আকাশে মেঘ হয়ে উঠবে

আমাদের সন্তানেরা বৃষ্টি হয়ে ঝ’রে পড়বে
সমুদ্রের বুকে...

০৭.০৩.১৩, সন্ধে ৬টা ৩৭










   ভাস্করজ্যোতি দাস

Bhaskarjyoti Das