Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu

Sudip Chattopadhyay


পাখিদের অ্যাসাইলাম

ঋণঃ রজার বেলেন



তোমার জ্বর সারবে না কোনোদিন
ছত্রিশবছর ধরে যে থ্রিলারের ভেতর
হাঁটাচলা করলে, মৃত পাখিদের জন্য
ছুঁড়েদিলে সন্ধের প্রণাম

সেইসব মেঘলা চিহ্নের ক্রমাগত বয়স বাড়ছে
এক একটা ধারাবাহিকের ক্লান্তি নিয়ে
শুরু হচ্ছে আরও কয়েকটা ট্যুরিস্টস্পট                                                                   
বোতামের কারুকার্যসহ খসে পড়ছে বাদামি প্যাস্টেল

তোমার জ্বর সারবে না কোনোদিন
যদিও তোমার এই বিচ্ছিন্ন উত্তাপ আসলে
খুলে দিচ্ছে আরও একটা দরজা

যদিও তোমার এই বসে থাকা
আসলে সেইসব চেয়ারের কোনো কোনো অংশ
যারা ক্রমশ ফোটোগ্রাফের বিষয়বস্তু হয়ে উঠছে




পরিত্যক্ত স্ট্রেচার মৃদু শোক ও শয্যা ফেলে গড়িয়ে এসেছ
ঈষৎ পাশ ফিরে ঘুমের মেধাবী গড়ন

তোমার আরোগ্যবোধ এখনো শীতল নয়
ক্ষীণ সান্ত্বনার ছায়া আর ওষুধের কিশলয় ছিঁড়ে
তুমি কি উঠে দাঁড়াবে দুর্বল ছায়াছবির দেশে
সাদা পোশাকের স্তব্ধতা সরিয়ে খুঁজে নেবে
সান্ধ্য রেস্তোরাঁ, প্রাচীন শীলমোহর?

পরিত্যক্ত স্ট্রেচার, তোমার কষ বেয়ে সাদা ফেনায়
আমরা কি কখনো সামুদ্রিক ছুটি কাটাব না




হয়তো ব্যবচ্ছেদ করার আগেই তুমি জেগে উঠবে আবার
হয়তো তোমার শরীর ঘিরে বসে থাকবে এমন দুই ইব্‌লিশের দূত
যাদের আমি কোনোদিন দেখিনি
আর সমান্তরাল দুটো রেখা ধরে এগিয়ে আসবে
অজস্র কাটাহাত, নৃমুণ্ড, রক্তের গরম স্রোত

এই নদীমাতৃক দেশে তোমার সর্পিল গল্পেরা এখন শীত ঘুমে
উড়ন্ত শ্যাওলা আর ধারালো আগাছায় ভরে উঠছে আকাশ
আমি কেবল তোমাকে তর্জমা করার চেষ্টায় ব্যর্থ হচ্ছি বারবার
তোমার ঠোঁটের বিরক্তিকর শীতলতা ঘসে ঘসে তুলতে গিয়ে
দেখি এক ভয়ার্ত খরগোশ আর তার বেঁটে কুৎসিত ম্যাজিশিয়ান
দীর্ঘ কালো টুপি পরে দাঁড়িয়ে

এখন কে আমাকে এনে দেবে মন্ত্রপূত জল
ক্রমশ পাথর-হয়ে-যাওয়া তোমার হৃৎপিণ্ড তুলে 
কীভাবে পৌঁছে দেব লম্পট ঈশ্বরের কাছে
যার চতুর রমণবিদ্যায় জেগে উঠে, তীব্র ঘৃণা ছুড়ে
তুমি আবার ফিরে আসবে সেই দুঃখী রাক্ষসের কাছে





ঘুম-নগর

আয়ু খেয়ে বসে আছ বিপন্ন ঘড়ি
শোনালে কথকপুর— গালিব সকাল

ভেবেছি তোমার পথে ঠিকানা বদলে নেবো একদিন
সময় আসেনি। এসেছে দেহাতি সুর। নদীর নিখুঁত বাঁক
সাপের খোলস। কিছু-বা অজীর্ণ ফল, গর্ভের ঋতু

আজও তাই পাথরে পাথর ঠুকে আঁধার শেখাও
ঝিঁঝিঁর প্রাচীন স্তবে জল জেগে ওঠে। দিক পালটায়
তখনও আকাশ জ্বলে— ঝরে পড়ে হাড় রঙা চাঁদ

পাখিদের অপুষ্ট স্তনে আমাদের জন্মের সিঁড়ি নেমে যায়




কোকিলের ঘর
ঋণ— সর্বজিৎ সরকার

পুকুরের মন ভাসে। ভাসে তার রোদেলা দুপুর

বিকেলের কৈশোর আজ বুঝি মাঠের একলা মেখে
যুবক হয়েছ। আকাশ অশীতিপর, তুমি তার ঘুম লিখে রাখ
জলের যুবতি ত্বক চাঁদসন্ধানী। তুমি তাকে ইশারা মাখাও

এখন শরীরকাল— কোকিল সময়
নিকট অদূরে এসে চুপিসারে এইখানে নামে
ডানার উড়াল তাই যন্ত্রণা শেখে। দিন শেষে
ঠোঁটের নিপাট ভাঁজে জ্বর এনে কপাল ছোঁয়ায়





ঝড়প্রতিম
ঋণ— হুয়ান রামোন হিমেনেথ

ঝড়ের উচ্চারণে পরম ফুটেছে

রাস্তার শৈশব, তুমিও তো ভ্রমণবিলাসী
দেখার নরম বাঁকে ধারালো তীর্থগুলি হ্রেষারব জানে
তুমি তার হারেম শিখেছ। সেইসব টীকাভাষ্য, ইতিহাসপাখি
আনাড়ি গথিক ভুলে ঘরোয়া হয়েছে
অদূরে কথকপুর— নিঝুম, পিয়াসি

আজ তবে মাটির মিথুন থেকে তুলে আনো মানবখনিজ
ডানার বিবাহ হোক— বিবাহের উড়াল বাসর









সুদীপ চট্টোপাধ্যায়


Sudip Chattyopadhyay