Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS

Saibal Sarkar


দাশবাবুর সুড়ঙ্গ

১.
সে তার প্রসব ফেলে রেখে গেছে
সেই ব্যথার দিন প্রদীপ হয়ে ভেসে যাচ্ছে বহুদিন।
বহুদিন তার ঘরে ফেরার গুজব ছিল।
পার্বণের দিনে মাদুর পেতে
শুকিয়ে রাখা হতো গুজবগুলো।
বহু দূর দূর গ্রাম থেকে
গ্রহ থেকে কবিতারা আসতো
বরফ আর জন্মদিন ভেঙে ভেঙে
প্রেমিকার জন্য মানানসই গুজবের সন্ধানে
শীতের ময়দানে তারা সাজিয়ে দিত
তাদের পথে পথে গড়ে তোলা সংগ্রহশালা
সেই সব ঘিরে এত ভিড় আর আলো! যে
প্রদীপগুলি আর দেখাও যেত না।



২.
এবং পাহারাও ছিল।
দাশবাবুর সুড়ঙ্গ পৃথিবীর গভীরতম স্থানে
তার গোপন খাতা রেখে গেছে।

আমাদের ছোট মেয়ে
কখনও বিধবা হবে না বলে
ভেসে যাচ্ছে রাত্রিদিন।

তার হাতের বইগুলি সে রেখে আসবে
ঐ খাতার পাশে।

এই অব্দি শুনে --
দাশবাবু বিষণ্ণ
ঘোষবাবু সমাহিত শাদা
বসুজা মুচকি হেসে পাতা ওলটান।



৩.
ঠিকানা গুলিয়ে গেলে
প্রতিটি পুরনো মুখের
নতুন নতুন নাম জন্মায়,
বুকের গঠন অনুযায়ী তিথিনক্ষত্র।
আর সমস্ত কোলাহল থেমে গেলে
আসবাবে ঠাসা হারিসন রোড
একটা সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়ে।
যার দুই প্রান্তে প্রাচীন কুয়াশা
বিষাদের মত ঘন
রহস্যের মতো একা।



৪.
যে সব পাখির ডাক শ্যাওলায় ঢাকা
তাদের শৈশব ঘিরে মেলা বসেছে এখানে।
ভ্রমণ শেষ হলে বহুদূরের নেপথ্য ব্যাপারী
এখানে চলে আসে।
পুরনো দেশের পালক, মেঘলা পশমের বই,
গুপ্তচোরের পায়ের ক্ষত
এখানে ট্রেতে ডিমের মত সাজিয়ে রাখে।
এই যে নাচ
এই যে ভাঙা বুন্সেন
এসবই আদিম লাভার রঙ
পিরামিড যুগের পোকাদের সঙ্গমদৃশ্য

যাদের ভ্রমণ শেষ
এখান থেকে তারা আবারো
ব্যাগ কাঁধে তোলে।



৫.
সামান্য ভুলে নিজস্ব অপর
পুড়িয়ে দেয় জিভের জলীয় চাহিদা।
এখানে ঘনত্বই মূল কথা।
দিন আর বাকি নেই
আলেয়ার ভিতরে জল
পাখির মত যাতায়াত করে।
যেন মাঝিদের ঘুমে
লন্ঠনের কালিঝুলি মেখে
ঝুলে আছে চাঁদ।
চাঁদ বেয়ে মাকড়সা নামছে চোখে
যেন এইমাত্র দাশবাবু চুরুট ধরালেন
আর হ্যারিসন রোড জুড়ে
ঝাউয়ের হাওয়া আর রাত।






   শৈবাল সরকার

Saibal Sarkar

Popular Posts