Skip to main content



Baby Shaw

মৃত্যু 
চলে যাওয়ারও একটা গন্ধ আছে 
একটা রঙ 

একটা হাওয়া 


আমরা ধূপ জ্বেলে 

নোনা জলে 

ওই হাওয়ার সাথে
গন্ধের সাথে 

যুদ্ধ করি 


মুছে দিতে চাই 



জার্নি
আমাদের ট্রেন ছুটছে। ঝালমুড়ি আচারে মজে আছে রাতজাগা মেয়ে। ঠোঁটে ফিকে হয়ে যাওয়া লিপস্টিক। ঘরে অসুস্থ ভাইদুখী মা। বাবা তারা হয়ে গেছে। তারা মানে আমরা না। ট্রেনের বাইরে উঠতি সবুজ। আমরা মন দিয়ে সবুজ শিখছি। রাতজাগা মেয়ের চোখে মাসকারা। কালি বোঝা যাচ্ছে না। মায়াবী লাগছে। আমরা মায়া চোখ ভালোবাসি। রাতজাগা মেয়েদের ভালোবাসি রাতে।


অপেক্ষা
টেবিলে জমা হচ্ছে অভিমান 

কাঁটা চামচ একা পড়ে আছে 


কেউ বলছে না 

এসো আলাপ জমানো যাক 

এসো কথা আছে





* আগস্টের রবিবার *

আজ অনেকদিন পর শৈশব আর কৈশোর এলো আমাদের ঘরে। অনেক দিন আগেরছেড়ে আসা গ্রামমৌজ করে সোফায় পা তুলে বসে বললচা দাওবাসি রুটি দাও সাথে গুড়। আমি অসহায়ভাবে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। আড়াল খুঁজছি। কাজের অজুহাত দেখিয়ে বলছি অন্য দিন এসোআমার চায়ের কাপ হারিয়ে গেছে রুটিতে অম্বল। রক সঙ্গীতে ভরে আছে মেহগনি আসবাবআমার চারফুট রসুইঘরকাচের গ্লাস। চিলি চিকেনের গন্ধ ঘিরে জমে উঠেছে আগস্টের প্রথম রোববারের সন্ধ্যা।
আর আজ হঠাৎই এতদিন পরেমনে হচ্ছেএতদিনের ভুলে থাকা সেই আশ্চর্য ভালুকের গল্পের প্রথম বন্ধুটি আসলে কেউ না... কেউ না... মুখ খুঁজে না পাওয়া আমারই ছায়া।




পরাজয়

যুদ্ধ ক্ষেত্রে এসেছি। যুদ্ধ শেষ হলে বাড়ি ফিরে যাব। চারিদিকে এত হাড়গোড় ছড়িয়েএত ঘামনুন ছড়িয়ে তোমায় দেবার মতো আশ্চর্য স্মৃতি চিহ্ন কোথায়! আশাব্যঞ্জক গান কোথায়! টিটি ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ পায়ে ঢুকে পড়ছেখালি অ্যালপ্রাজোলামের প্যাকেটে ভরে আছে ব্যাগের অর্ধাংশ। আলতায় ভরে উঠছে পা। বুকে কফ।

বাজনদার নেই বলে কী নিরুপায় ভাবে কাটছে এই বিজয় মহোৎসব! এই অন্তিম লাইভ শো!



ঘুম ভাঙার পর

সত্‍সঙ্গ শেষে ঘরে ফিরে আসি। যাজকের চোখে যে ঐশ্বরিক ছায়াভুল করে তাকেই যৌনতা ভাবি। আঁধার দেয়াল জুড়ে টিকটিকি ছাপভেজা ছাতাদের ভ্যাপসা ঘ্রান আর নিমগাছ বেয়ে নামে মেটে সাপ। তখনি।  ঘুঘুদের ভাষা বুঝিনি কখনো। বৃষ্টি নিয়ে গেছে জমানো ধুলো। ভুলে গেছি যাজনের স্তোত্র।

মনে হয়আমি ছাড়া কেউ নয় আমার পর!


ফাগুন হে

.
আমার শূন্য অন্ধকারে তোমার বারবার প্রলম্বিত পায়ের শব্দ বেজে ওঠে। নদীর দিকে হাত বাড়াই; বিস্তারিত রোদে ভরে আছে জল, কুসুমিত বন। বনের অসংখ্য গন্ধে গতরাতের মৃতদেহ। আত্মশুদ্ধি কী একেই বলে তথাগত? একে বলে বিরহের কারুকাজ? ছেড়ে আসা পলাশের ফুল সকাল সকাল নাইতে যাচ্ছে রোদের জলে। আলনার পুরোনো আসবাব ভাবছে এই তোয়ালে ঘিরে তৈরী হোক জন্ম মরণ। এইসব কাঠ জন্ম, পার্কের চেয়ার, ডিমনার লেক ছাড়িয়ে একমাত্র সত্য হচ্ছে গোচারণের মাঠ। নক্ষত্র ফুল হে! একটি নামে ঢাকা থাক অজস্র স্মৃতি, মনের দু'চারটে বিভ্রম।


.
সমস্ত দোষারোপ ঘিরে এ বসন্তোৎসব। এতো এতো পালকের ভ্রম, ঝরে যাওয়া পাপড়ির বিশ্বাস – হিসেবের খাতাতে শূন্য পড়ে অধিক। জমে ওঠে গতকালের শীত। স্থির তামসিকতায় তোমার সাধনা গৃহ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাঁচ আঙুলে ঘোরে গ্রহের ভাগ্য – ঘুরতেই থাকে। ছায়াগাছ ঘিরে তোমার প্রদক্ষিণ – দেখো, মৃত সাপেরা বমি করছে চন্দনের গন্ধে অকালে।


.


সবুজে ভরে উঠছে এই মঠাকাশ। দলমার বুকে রক্তাক্ত উপাসনা, পলাশের রঙ। আগুনের উত্সব শুরু হল বলে!  তুলসী মঞ্চের আলো পেরোতেই যতটুকু অনীহা আমাদের। তুমি বলবে, এসবই পূর্বজন্ম। এসবই তুলে রাখা ক্ষোভ। পোষা পোষা খেলা এই যন্ত্রনা কত আলোকবর্ষ ব্যতিরেকে ঘুরে আসছে আমার নিঃসঙ্গ ড্রয়িং রুমের পেন্টিং। আমাদের হোলিখেলা !তামুজ এবং আমি

অতঃপর শূন্যতা নেমে আসে
হাঁটু পেতে বসে ঈশ্বর
বকরূপী ধর্ম
নীতিবাক্য যত নিশ্চল
কোথাও প্রলয়ের ধ্বনি বেজে ওঠে
কোথাও বা পায়ের শব্দ
ভুল করে পুষে রাখি ভ্রম
ভ্রমণে উঠে আসে নিকেলের স্বর
দমবন্ধ অবস্থান

তামুজ হে! অবসর এই
শুরু করো দীর্ঘতম চিঠি
পাঠ করো,
শ্রবনের মাঝে এইটুকু সমর্পণ
দেখোধৈর্যহীন হয়নি মৃত বাজের আত্মা
পঙ্গুত্ব নিয়ে বসে আছে শেষ উপাখ্যান
রক্তহীন এই মাটি জুড়ে
বায়ু জুড়ে
এখনও অপেক্ষা করে দীর্ঘদিন
সমস্ত ধর্মপুরুষদের ছেড়ে জেগে উঠবে
প্রেমকাল হীন,কামহীনঅনন্ত

এখনও লালপায়া অষ্টাদশী সবটুকু ভেঙে যাওয়া স্বপ্নে পুষে রাখে জোড়া দেওয়া কাঁচ
এখনও প্রসাধনে সেজে আছে সন্ধ্যে তারা
শৃঙ্গারে সুখী বেনারসী
শাঁখ বাজে
পাঠ করো পাঠ করো
 প্রিয় তামুজআমার প্রথম কৌমার্য

 দেখো ওই শহরের খাঁজ
সেখানেই যৌনপিশাচের দল
রাতভর হত্যা করেছে প্রেম
প্রেমিকার মন
ব্লাউজের হুকে ঠোঁট কেটে গেছে
সেপটিপিনে লেগে মাংসের গন্ধ
তবুও রাতভর থামে নি'কো
রাতভর উল্লাস করেছে নৃত্য
লিঙ্গ উপাসক তারা
দুধ ঘৃত জলে অবগাহন নয় শুধু
নিপুন কৌশলে শিখেছে হন্তারক পন্থা

তারপর! তারপর


ওরা ঘুমিয়েছে রোদে
শহর নেমেছে পথে
ছদ্মবেশ প্রেমহীন চোখে ফের দহন করেছে বুক
সারাদিন পরোক্ষ এক পিশাচীয় খেলা
উউফফ!
আর নাতামুজপ্রেম আমার
একবার শুধু পাঠ করো এই দীর্ঘতম চিঠি
ভুল তোমার বানানের আঙ্গিক
ছত্রে ছত্রে সরল বালকের চাহিদা
তাতেই ভরে যাবে এ ধর্ষিত বুক
ভেঙে যাওয়া পাহাড়ের চূড়া
আবার সংশ্লেষ হবে তাতে
আবার জেগে উঠবে প্রেম
সমস্ত পুরুষকে যে মেয়ে ভেবেছে প্রতারক বলে
বিশ্বাসে আঘাত গুরুতর জখম
ফেরাও তামুজ হেআমার প্রথম কৌমার্যের প্রেমিক

তুমি তো পুরুষ নওলিঙ্গ ভেদে
দেখিনি কখনও
ভ্রম আমার?
এটাও ভ্রম!
সমস্ত সত্যি ভেবে নির্দ্ধিধায় তুলে দিয়েছি হাত
গোলাপের পাপড়ি ঠোঁটে এগিয়ে দিয়েছি চুম্বন
আকন্ঠ পিয়াসীর মতো পান করেছ আমার স্তন
প্রেম নয়?  প্রেম নয়?
সমস্তটাই ছলনা?
অন্য কোন পুরুষ ছুঁয়েছে বলে এই দেহপ্রান্ত
নশ্বর দেহ
তাতেই সব প্রেম উড়ে গেছে তোমার!
তাতেই তুমিও শেণ্য চোখ দিয়ে জরিপ করেছ বারবার
শহরের মতো!
ধিক্কার দিই কাকে!
কাকে বলি নশ্বর এই দেহভাগ ছাড়া
কোথাও ছুঁতে পারেনি নিশাচর পিশাচের দল
শলাকার মতো ওই উত্তপ্ত ক্ষুধা
উপভোগ করেছিল ওরা যখন
একমনে আমি তোমাকে চেয়ে গেছি তামুজ
ভেবেছি তোমার ওই প্রথম আলিঙ্গনের কথা
কোন পুরুষ ঢোকে নি মনে
কোন স্পর্শ ছুঁতে পারেনি ওই সতীচ্ছদের দ্বার
যা কিছু ঘটেছে ওরা চেয়েছে বলে
আমি তো তোমাকে সমর্পণ করে গেছি দিনরাত
ভেবেছি তোমার প্রথম স্পর্শ
ভেবেছি তোমার প্রথম শিহরণ
দুভাগ করে দেখো এ বুক
লেগে আছে শুধু তোমার চুম্বনের দৃশ্য

তামুজ হেযেওনা।
চৌকাঠে দেখো ওই মৃত আত্মারা ঘোরে
আশ্রয় নেই
স্নেহ ভালোবাসা নেই
পিতা নেই
ভাইবন্ধুসখা
নারী অভিযোগে চিহ্নিত করেছে শহর
শুধু নারী! শুধু ভোগ্য পণ্য
নখের আঁচড়ে ভেঙে গ্যাছে প্রেম
তামুজ একবার দেখো মন
এখনও কারো স্থান নেই তাতে

ফিরে গ্যাছেআমার প্রথম কৌমার্যের প্রেমিক
শহর ধর্ষণ করার আগে
যে প্রথম ভেঙেছিল সতীচ্ছদের দ্বার
বুঝিয়েছিল প্রেম আসলে মিশে থাকে মনে
অর্ধেক শতাংশে মনের বাস
দিনের পর দিন ভোগ করেছে
নিপলে ঘষেছে ঠোঁট
সদ্য উত্থিত শ্মশ্রু

আজ

ঘর নেই সংসারে
ভোগ আছে শুধু




বেবী সাউ

Baby Shaw

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS