Skip to main content



Supriya Chanda

অক্ষর উপবাস


মেঘের মোড়ে -- এলোকেশী বৃষ্টির মনে হওয়া --
দাঁড়িপাল্লার মাপে গয়নার কারুকাজ --
আরো কিছু রোদ --
              অযথা আনমনা হয় --
শহরের লতায়পাতায় --
মুখগোঁজা জলেদের বয়ে চলা --
আকাশের অবাধ বাজার
                জমে থাকে ---
আমাদের সমাপিকা বর্ণমালায় ।


অন্ত্যমিল

উড়ন্ত সব বাতাসসেপাই
হরির লুঠে কীর্ত্তনীয়া
বাতাস আকার খোঁজার নেশায়
মর্ত্তলোকে বিষ্ণুপ্রিয়া
বাড়ন্ত ক্রম বংসপুজি
অষ্টপ্রহর নিত্যপাঠে
প্রচন্ড শ্রম গ্রীবায় গুজি
বুলির বহর বৃদ্ধমাঠে
জীর্ন শকট ক্লান্ত ঘোড়া
সময় হঠাৎ নৌকারোহী
ক্ষুদ্র বৃহত কলসি সরা
পাখির ভাষা বাতাসবাহী






শীত

মসজিদের পাশের রাস্তা পার হতে হতে
হঠাৎ জল দেখতে পেলাম আমরা
এই অঞ্চলে সন্ধের বড়ো প্রয়োজন

রাত আটটা কুড়ি
বিশাল কোন রাত নয়
তবুও তোমার চেষ্টায় ,কোন জল
এখনো এখানে পাওয়া যায় নি
মার্বেলের দোকান,প্যান্ডেলের কাজ
আর আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ শিবিরের আনাচেকানাচে
কোথাও কোন লেখা পাওয়া যেত না তখনো

তারপর বেদের সভ্যতা
খুরের আওয়াজ আর অলংকারে
কান ভারী হয়ে উঠলো ক্রমশঃ
কত দূরে গিয়ে থাকো তুমি



জন্মদিন উদযাপন

বরং তুমি পর্দা সরিয়ে নাও-- সব ঘর থেকে
নিজের মতন করে হেঁটে যাও ঘরময়
বাইরে বেরুবার সময়
জুতোজোড়া পরে নাও শুধু --
ঘাটে যাও
ঘাটে কোন পর্দা থাকে না
বয়ে যাওয়া আয়নায় নিজেকে দেখাটা
বীভৎস ভাগ্যের ব্যাপার
ঘাট থেকে তারপর সোজা চলো জঙ্গলে
এভাবেই এখানে এসেছি


অ্যাকোরিয়াম
নৌকোর কখনো নোঙর হয় না
জল বা এই রকম জীবন নিয়ে গভীরে ভাবাটা
নিঃসন্দেহে ডুবসাঁতারুর কাজ
'ইউরেকা' 'ইউরেকা' বলে চেঁচামেচি
এই প্রেক্ষিতে নিস্প্রয়োজন এবং খামোকা বোকামি
জল নিয়ে ভাবতে হলে পাড় নিয়ে ভাবো
স্রোত নিয়ে ভাবো
বাতাস নিয়ে ভাবতে ভাবতে, একআধঘুম শব্দ
আলটপকা ছুঁড়ে ফেলো স্থির জলে
তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে
সময়টা সন্ধে হলে কোন কথাই নেই
অনায়াসে বজরা নিয়ে নেমে যেতে পারো

দাঁড় আর পাল আমার বহুদিনের চেনা বন্ধু
তাই আমাকেও সঙ্গে নিও প্লিজ জলসওয়ারিতে
শুরুটা তোমাকেই করতে হবে
শেষের চালটা আমার হাতে এখনো
তুমিই তো জল নিয়ে ভাববে বলেছিলে             প্রথমে
রাজ্যজয়, কূটনীতি, কলম্বাস আর তোমার অ্যাকোরিয়াম ছেড়ে
তাই আমি কোনদিন ভেসে উঠিনি
পাড়ভাঙা জলে





মিস টেক্

মেয়েটির কথা বলা অপছন্দের ছিল বলে,
সোজাসুজি পার হয়ে যেতে বলা হল সব বই
অক্ষরগুলোকে পাঁচ পাক সাঁতারে মগ্ন রেখে
ঘুরে আসা হল সমস্ত রোদের ব্যালকনি
কয়েকটা রাস্তার আওয়াজকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিল,
মেয়েটির বাকি সব বান্ধবীর চোখ
লেখা হল শোনা সবকিছু –
চারদিকে এতো কিছু হয়ে যেতে শুরু হলে
কিছু কিছু অভ্যাস শেষ হয়।
সিঁড়ি দিয়ে উঠে যেতে যেতে
টপকানো শুরু করে মেয়েটি
যে সিঁড়িগুলোয় পা ফেলা বাদ পড়ে যায়
কয়েক বছর পর সেগুলোই চলা শুরু করে
একেই প্রযুক্তি বলে,
যারা এরপরও বই পড়ে, পার্কে যায়
কিংবা সিঁড়ি মেপে ওঠে
তারা এই মেয়েটিকে দেখেনি




দেবীগড়
জায়গাটির আশেপাশে অসংখ্য গুঁড়ি পড়ে থাকে
কাঠবন, শুধু কাঠের ঝোপেই অন্ধকার সেলাই হয়
ভবানী পাঠক ডাকাত, ঐ চলেছেন দলবল সমেত
কালীপুজো সেরে
তখনও ওদের নোঙর-বজরা কিছুই তৈয়ার হয়নি
অন্ধকার সেলাই হলেই, সময়কে ধরে আনা সম্ভব


অতীতের শহর খুঁজে মশালের তাপ বয়ে আনি
বয়ে যায় তিস্তা
রাজবাড়ি দীঘির পাশে, সন্ধ্যা আসা অবধি
কোন এক রাজবধূ
গৃহকাজ সারেন, নরম চাঁদের মতো
কয়েক শতক ধরে
জলের অর্ধেক আবডাল সরিয়ে
ঠিকঠাক সেরে নেন সব কাজ
উপন্যাসে, নূপুরের ফাঁকে
দেবী চৌধুরাণীকে উঠে যেতে দেখা যায় এভাবেই




সময়

যে ঘাটে কেউ জল খেতে যায়নি কোন দিন,
মনে রেখো
কাগজের নৌকো সেখানেই ভাসাতে হয়
সেটাই নিয়ম

বড়ো বড়ো সৌধের চারপাশে কোথাও কোন পর্দা থাকে না
মনে রেখো
মানচিত্রে আড়াল থাকতে নেই
ঘাট অথবা পর্দা – এসবই যে মানচিত্রে রাখা থাকে
এখন সেটাই ভালো করে দেখে নেওয়ার সময়
এসময় বৃষ্টি খুব কম হয়ে আসে –
চারপাশগুলো নিশ্চিন্তে জমে গিয়ে, খুব শীত হয়ে যায়
মনে রেখো, এসময় প্রত্যাখ্যান করতে নেই

অবস্থান
ত্রয়োদশীতে কথা খুব অল্প।
খুব আস্তে আস্তে নিঝুম হতে হয় এসময়,
বাইরের লম্বা রাস্তায়
ধীরে ধীরে সেরে উঠছে সমস্ত চাঁদের আলো
         উলটো দিক থেকে ওষুধবদ্যিকে মনে রেখে
কয়েকটা গাছ নিজেদেরকেই বড়ো করে সাজিয়ে তুলছে

ঘটনাগুলো পড়ে থাকছে এই রাস্তাটাতেই
যেটা আমরা দেখলাম এযাবৎ
                     পাশ দিয়েই চলে গেছে সব ধোঁয়া
যে পথে রওনা হয়েছ তুমি



যেটুকু বলা যায়
অস্ত নেমে আসছে    দূরের সব বিচারে
সংশোধনী প্রস্তাবে
সায় দিচ্ছে না কেউ কেউ
ঢলে পড়ছে সূর্য ক্রমশঃ
কোনরকম পাহাড় এখনো পর্যন্ত      অনুপস্থিত
ওপর ওপর হাঁটি
ভেতরে আসি না  আমি বহুদিন
ভেতরটা ভর্তি ছিল এতকাল




যেটুকু রয়ে গেল
গোধূলি পার করে ভিজিয়ে নিচ্ছো চুল
কবেকার কোলকাতার মতো --
নতুন হয়ে পড়ছো বারবার
নিশ্বাস এর যতটুকু দেখা যায়.   আচমকায়
ততটুকুই রং হয়ে গড়িয়ে পড়ে পোশাকে
শীতকাল শেষ হয়
গণনার ভয়ে তারারা নামিয়ে নিয়েছে আবডাল
জন্মদিন আর ঘুমিয়ে ওঠার মাঝে
যেভাবে সময় থাকে      হাসিখুশি


সেভাবেই থেকো চিরকাল
সুপ্রিয় চন্দ
Supriya Chanda



Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS