Skip to main content



Deep Sekhar

দুই দেশের প্রেমের কবিতা

মনিকা পেরেজ পিনো আমি ভারাদেরোর সমুদ্র সৈকতে আমার তালুর শুকনো রক্ত ধুয়ে নেবো তুমি আমার পিঠে সাবান ঘষে দেবে?
মনিকা পেরেজ পিনো তোমার গুয়ারদাভালাকার সাদা সমুদ্রতটের মতো ঊরুতে শুয়ে পাত্রাগাস সিগার পোড়াব, তুমি আমাকে শোনাবে আমার প্রিয় কানসিওন দে কুনা?
মনিকা পেরেজ পিনো আমি জানি যে সমস্ত বই আগুনে পুড়েছিল তাঁদের দিয়ে ওরা তুলে দিয়েছিল মানুষের মুখে তামাক, এভাবে জটিল শীতে তাঁদের মুনাফা হয়েছিল
আমি তুমি চাবুকা গ্রান্ডার কবিতা পড়ে দিনের পর দিন ভালো থেকেছি। উষ্ণ নিরাপত্তা খুঁজে দিয়েছি আমাদের কাঁঠাল-পাতার মতো নিস্পাপ সন্তানদের
আমি জানি প্রতি রাতে বাইরে ধর্ষকের তীব্র বোমার চিৎকারে আমরা প্রার্থনা করেছিলাম একদিন যুদ্ধ থেমে যাবে
মনিকা আজ এই বদ্ধ গুদামে বসে আমার চুলে লেগে যাচ্ছে নোনা জল। আমি তোমিতা
কাঠবাদামের মতো মুখের ছোঁয়ায় শুনতে পাচ্ছি - আমাদের সন্তানের হাতে বন্দুক নয়, উঠেছে প্রেমের নরম আদর মাখা পাকা আম। মনিকা, আমি ভুল নইত?


গরম বন্দুকের নলের ভেতর দিয়ে বেড়িয়ে আসে ক্ষমতার শুক্রাণু, ও পথ প্রেমিকের নয়
আমি ব্যাক্তিগত বারুদের গন্ধে পেয়েছি তোমার লিমার সমুদ্র সৈকতে পোড়া পিঠের বাদামী ঘ্রাণ
আমার কম্যুনিস্ট রক্ত মাখিয়ে দিয়েছি আপেল গাছে, নোটবুকে চারকোলে তোমার আবছা ছবি
আমার গর্ভের ভেতর যুদ্ধের ভ্রূণ কত বড় হয়েছে তা ঠিক জানি না, অসম্ভব ক্ষুধার্ত এই শীত
এই সেচুরা মরুভূমিতে হাওয়ার বেইমানি সইতে সইতে মনে পড়ছে কীভাবে তুমি আমার কবিতার ঝাঁকড়া চুলে আঙুল বুলোতে
আন্ড্রেয়া জানি আমি স্বামী তোমার স্তনের আয়নায় কেবল খিদে দেখেছে, আমি পেয়েছি পবিত্র ক্যান্টুটা ফুল বুকের আশ্রয়।




কবিতা সিরিজ বা একটি কবিতা


এই বোকা শহর আমাকে নরম ভেজা ঠোঁটে নিরাপদ চুমু খায়রোজ
আমি পুরনো বন্ধুদের মাতাল বেশি রাত ডাকে হয়েছি নিরাপদ
পুরনো কম্বলের ভেতর আদরে ভুলিয়েছি গলিদের প্রাক্তন প্রেমিক
আমি পুরনো ভোরেদের ঊরুতে শুয়ে নিজেকে চমৎকার প্রেমিক ভেবেছি
হটা
 একটা আচমকা মোলায়েম মুখের অপেক্ষায় জটিল অসুখ বাধিয়েছি রাস্তার পাশে খোলা জানলায়বুক চিতিয়ে -



কতটা নিরাপদ হলে মানুষ সংসার গড়ে এ প্রশ্ন আমি খোদ সংসারকেই করেছি
আগুন তো আসলে ছাই এর খুড়তুতো ভাইআমি সূর্যের সৎ ছেলে?
তুমি মাথায় আঙুল দিয়ে খোঁজো নিরাপত্তা। এটুকুই তো চাই। তা ছাড়া বাকি সব তো পাবেই কবিতায়।
অনেক বয়স হলে বুঝবে তুমি,
 এসব পালানো নয়, বরং সত্যির কাছে যাওয়া
সত্যির কাছে গ্যালে নিজেকে অন্ধ বাঁশিওয়ালার সুরে পুড়িয়ে নিতে হয়
জীবনে হয়েছ তুমি তা কেবল এক খানা নিরাপদ মোলায়েম ছাদের পাহারাদার
 
চেনা গন্ধ ছাড়া বাকি সব সয়ে নিতে হয়।



বর্ষার হাওয়াই চটির মতো অ্যাকেকটা দিন গুলি করে আমাকে শিরদাঁড়ায় 
আমি ঘুমোতে যাই সেই রক্ত রেখা বরাবর
এ জীবন সত্যি নয়মিথ্যের দেওয়ালে অলৌকিক ভালোবাসা পোকা
যেসব শব্দেরা খুন করে মৃত মাথায় বুলিয়ে দেয় হাত
তাদের আমি কবিতার আগাম সন্তান বলে জেনেছি
ওসব টেনে হিঁচড়ে ফেলে দাও যেভাবে কেড়ে নিয়েছ সহজ বসতি 
উলঙ্গ শহরের মুখে আমার ধারালো চোখ য্যানো মৃত রেলগাড়ি
আয়নায় দাঁড়িয়ে ভাবি কাকে সত্যি বলে মানে অন্তর্যামী?
আমি না প্রতিবিম্ব?



কতগুলো শূন্যের আড়ালে মানুষ বসতি গড়ে?
কতটা পথ উল্কার মতো ভ্রমণে এক একটি পুরুষ বাবার মতো বিকেল সাইকেল ঘণ্টি বয়ে আনে?
বাবা যে আমার পুরনো বাড়ির সিঁড়ির ঘর ঘেঁষা পেয়ারা গাছ-
ফর্সা আদুর গা থেকে ভেসে আসে সদ্য ঘুম ভাঙা ভোরের আজান-


ভালো থাকা মানে রঙ চটা সাইকেলে টিউশন ফেরত নরম মুখের মেয়ের সাথে তার বাবা -
এ জীবন কেবল ক্লান্তিহীন কথোপকথনসূর্যের দিকে পিঠ রেখে চলা নিরাপদ আশ্রয়
মায়েদের বুকে চেপে সাঁতারে পটু সন্তানবাবাদের কাঁধে চেপে পরিযায়ী হয়।


কিছুই আমি লিখতে পারিনাপারিনি। কেবল হারানোর যন্ত্রণা। দুর্বোধ্য যন্ত্রণা।

আজ রাতে ডোমেদের ডাকো আমি শব্দ পোড়াবো
আজ রাতে নদীদের ডাকো আমি কবিতা ভাসাবো





ভালোবাসা (দশ দু গুনে কুড়ি)

রবিবার ইস্কুল গাছের তলায় বসে থাকে একা যে
জানোনি দেখে তাকে কতদিন তুমি ভালো থেকেছিলে

আমার ভেতর বালক কে না ভালবাসলে কেবল পুরুষ নিয়ে কি করবে?বালিকা তোমাকে ভালোবাসি

আমার ইশকুল জামা আজও যায় তোমার কাছে। আমি তাকে আটকাতে পারি নি...

আমি পাগলের মতো হেঁটে গেছি একটা সাদা খাতা দিয়ে, পায়ে কালি

তোমাকে কেবল একদিন দেখিনি।


একটি সকালে আমার শৈশব মায়ের সাথে মামাবাড়ি চলে গেলে আমি হঠাৎ একা হয়ে যাই

আঘাতে আঘাত দিতে পারিনি, আহত হয়েছি
তবু শিকারি সভ্যতায় আমি বন্য প্রেমের আগুন


যত দূরে যাই
লেগে থাকা ভালোবাসা বোধে টান বাড়ে,
 ব্যথা লাগে

ভালোবাসার মানুষটির থেকে একদিন বড় হয়ে যায় তাকে ভালোবাসার বোধ।


ভালোবাসি কারণ তুমি মনের মত নও
হয়ত সে কারণে নিজেকেও ভালোবাসি






রোহিণীর সাথে, এই ত্রিশ বত্রিশ বছরে... 





কাল রাতে লম্পট বৃষ্টিটা পড়লে বুঝলাম
প্রেমের দালালটা আবার ধরবে ধরবে করছে, টাকা চাইবে
চাঁদের জ্বর প্রায় একশো এক, জ্যোৎস্নার ঘরে বাবু নেই
আমি কাল রাতের ঐ নীল শাড়ি পড়া মেয়েটির কাছে আশ্রয় চাইবো, ডাকবো রোহিণী, বেঁচে যাবো।


ভালোবাসা নয়, ভালোবাসার আত্মারাই সবথেকে সহজে ভালোবাসে
এসব বুঝে আমি প্রেমিকের আত্মাটা নিয়ে খানিক নাড়াচাড়া করেছি কাল দুপুরে
আমার পুরনো জীবনকে এখন ট্রাঙ্ক থেকে বার করে নিয়ে আসতে হবে
হৃদয়কে বৃষ্টি ভেজানোর কোনও উপায় জানা আছে কি এ দেশের আইন-ব্যবস্থার?

স্নানের ঘরে বুঝি নিজের থেকেও আমি অন্যের হয়ে ভুল করে ফেলেছি বেশি
আমার ভেতরের বুড়ো গাছটা এখনো কারো কাছে মাথা নিচু করতে শেখেনি
ওগো সবেদা-মেয়ে তোমার জামার বোতাম গুলো লাগিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেবে আমার শব্দদের?
চলো একবার মৃত্যুর অনিবার্যতা থেকে বেড়িয়ে আসি, বোলপুর যাই ।

ঠোঁটের উপর নিঃশব্দতা এসে বাসা বেঁধেছে...
কবিতা লিখতে আজকাল নাকি হেলমেট লাগে কলকাতায়?
আজ আর সিগারেট নয়, দুটো কবিতার মধ্যে টাঙিয়ে রাখবো নীল জামা
কানে কানে বলে যাবো রোহিণীকে, মানুষ পোড়ার কোনও গন্ধ হয় না
ওকে বোঝাবো যে ত্রিশ বত্রিশ বছর ধরে আদতে আমি একটা লটারিতে পাওয়া দুপুরের আত্মজীবনী লিখছি


লিখছি... লিখছি... লিখেই যাচ্ছি, ধ্যাত...




দীপ শেখর

Deep Sekhar

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS