Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu

Debasis Biswas

ঘরের অন্ধকারে যা কিছু ভেঙে পরছে
ঘরের অন্ধকারে বুনো হাতিদের শুঁড়ের আওয়াজ
কেন তোমাকে বলা হোলো না খনির গর্ভ কতটা দূর
শীতকাল এলে,
তাঁবু ফেলে শুধু ক্যাম্পফায়ার জ্বালানো উচিত।
প্রতিটি শুকনো কাঠের পুড়ে ওঠার আগে
নামতে চায়নি কোনও জঙ্গল
অথচ আঙুলআঙুলের শিরা থেকে
একমাত্র রক্তের ধ্বনি শোনানো যাচ্ছে না তোমাকে

মাংসপেশিগুলো হাড়ের জামা হিসেবে থাকে
বিজ্ঞান এখানে অন্য কথা বলার পর,
আমি সেই মানুষটিকে খুঁজি

যে রোদের গতিবেগে তছনছ করে--
         মহিষের চর্বি থেকে গলে পরা অন্ধকার

একটা ধনুকের ব্যবহার তুমিও জানার চেষ্টা করো
অতীতে এই নিয়েআদিমদেবতারা যুদ্ধই করে যেত

বাগান তোমাকে কিছুই দেয়নি
অথচ বাগানের ফুলগুলোর কোনও দ্বিধা নেই
ফেটে যাওয়া ছাড়া

পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পক্ষে বাজপাখিকেই চিহ্নিত করা হয়েছে
ডুবে যাওয়ার পর,
রবারের ডানাগুলো একদিন ইরেজার হয়ে যাবে

যা দেখানো হচ্ছে তোমাকে
তুমি তার পতন খেয়াল করছো



জঙ্গল এক চেতনা পূর্বক লেখা
এইসব অন্ধ গুহার মধ্যে প্রবেশ নিষেধ লেখা সত্ত্বেও,
হে উড়ন্ত জঙ্গল তোমাকে খুব মনে পরছে
তোমার শরীরের ক্ষতগুলি এখনও তেমন প্রকট
চোখ খুলে দেখে ফেলেছি এইসব ভয় নির্ভর প্রাকৃতিক দুর্যোগ---
রুটির দোকান থেকে চুরি যাওয়া অক্ষত টেবিল।

প্রকৃত অর্থে আমি কেবলই
          দোকানদারের নোংরা গামছায় গজাতে দেখছি শ্যাওলাপ্রবণ উদ্ভিদ
তার থেকে আরোও দূরে বাঁকা ল্যাম্পপোস্টের গোড়ায় কে যেন বসে আছে
ছোট একটা হাড়ের বাঁশি বেজে চলেছে তার হাতে

কিছু সময়ের জন্যহে জঙ্গল
তোমাকেই হারাতে হবে নিজের থেকে
এইসব দৃশ্যাবলী ও তার মাটি ভেজা ঘাসে
কুড়িয়ে আনতে হবে চিরবেদনার প্রতিভা

রসায়নের থেকে পালিয়ে বাঁচতে হয়েছে
                     উবু হয়ে পরে থাকা কংকালের
সেইই প্রথম মানুষ যে বেক্তিগত হত্যার দায়ে নির্বাসিত
দেহের জটিল মাংসগুলো হাড় থেকে বেড়িয়ে কোথাও হারিয়ে গেছে
কোথায় যায়?
কোথায় তার প্রতিলিপি হয়ে বেঁচে ওঠা জীবনের ভোরের গাছপালা?

গোলাকার দুঃখে মানুষ কখনও একা নয়
উবু হয়ে শুয়ে থাকা কাঠামোয় অন্য আরেকটি কংকাল তোমার দিকে তাকিয়ে আছেজঙ্গল
তুমি তাকে ভেষজ করো
হত্যার জন্য ডুবিয়ে রেখো না অন্ধ গুহায়

একমাত্র তুমিই পারো
কচ্ছপের মন্থর গতিবেগকে সজাগ করতে
তার দৃষ্টিকোণ জটিলতর থেকে ক্রমশ সমুদ্রে মিশেছে
অথচ প্রিয় আলো ফুটে উঠলে অবশ্যই
                                   মোরগ ডেকে উঠবে

রবারের আগুন কেঁপে কেঁপে উঠবে তার মাথায়



বরফের প্রতি
তোমার পা আটকে যাওয়ার পর
কত কথাই না বলে গেল খাদের চিৎকার
যেরকম মৃত গাছের গুঁড়ি থেকে
পোষা শামুকের মাংসলপদ তর তর করে উঠে যাচ্ছে আকাশে

আকাশ কখনও বৃষ্টির অপেক্ষা করে না
শুধু তার নীচে আমাদের স্বার্থপর ভল্লুক চুপচাপ গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে
তখন বরফের প্রতি তুষারের দাপট বোঝা যায়

অথচ ৪ ডিগ্রীর নীচে একটা বাস্তব একুরিয়াম আছে
মাছেদের জনন কৌশল ও তার ভেসে থাকার ইচ্ছে দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিইবা হতে পারে ?

যতবার পা আটকে যাচ্ছে তোমার
ততবার মৃত স্বপ্নের উপর বরফের স্তূপ বেড়েই চলেছে

একটু পরেই বরফের পুতুল হাসতে হাসতে মিশে যাবে তুষারে

এইসব প্রাণীরা পরিচলন বৃষ্টিপাত রোজ দেখে
বৃষ্টির সাথে দৌড়ানো কখনও কি হয়েছে তোমার?
মুখে বরফের আস্তরণ মেখে
আনন্দ সংরক্ষণ করে যে মেঘ
তাকে দেখানো জরুরি বিরাট নীলতিমির জল উদগরণ
ছোট ছোট পাখিদের লাল নীল রক্ত

রাস্তা পেরোলেই বন্দুক নিয়ে শিকারের কি দরকার?
নীচু খাত
হুহু বেগে ধেয়ে আসা জন্তুদের আত্মা
তাদের চামড়া ও মাংসে প্রজাপতি ছোঁয়ানো উচিৎ

একমাত্র বরফের প্রতি মাথা নত করো
তোমার অর্ধেক জীবন বরফ বরফ হয়ে যাবে







  দেবাশিস বিশ্বাস
Debasis Biswas