Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS

Gulshanara Khatun

দুটো-চারটে

.
আমাদের গল্পে টাইম জাম্প থাকে না। ফলে, বলিউডি কায়দায় জামা পালটে মুখ দেখালেই পিড়িং করে মানুষ পালটে পানকৌড়ি হয়ে যাবে না মোটেই।  এই যেমন কুয়োপাড়ে মা বাসন নিয়ে বসতেই, মাথার দিকের জানলাটা খুলে দিয়েছে দিব্য। পাঁচ বাড়ির লোকের বাসন বাসন ডাই করে এনে মা এখন ১ ঘন্টা আপন  মনে গজগজ করতে করতে বাসন মাজবে। দিনের এই সময়টা , এই একটা ঘন্টা তাই দিব্যর কাছে আইরিশ কফির মতো দামি। মফঃস্বল শহরে আইরিশ কফির ধোঁয়া ওঠা মুহুর্তে প্রেমিকার চুলে বিলি কেটে দেবার বিলাসিতা ঢুকল এই তো কদিন হল। তার আগে, মানে বছর ৫ আগেও তো সেই পুরনো নোকিয়ার সেট খুটখুটিয়ে একটা মিসড কল মানে ছাদে আয়। আর দুটো মিসড কল মানে তিস্তার পার। অহনা অবশ্য ভীষণ রেগে যেত।
…একটা ফোন করতেও গায়ে লাগে তোর।
…আমি তো করতেই পারি। পাসে যদি কাকু বা কাকিমা কেউ থাকে?
…একদম মিথ্যে কথা বলবি না। কিপ্টে কোথাকার। আর শোন, ওই ভাঙা সাইকেল ঠেঙিয়ে আমার কলেজের সামনে যাবি না তো? লজ্জা করে আমার।
…বেশ আর যাব না।
…ভীতু, মিথ্যুক।
…’এক আকাশ তারায় ভরা আর রাতের গন্ধ মাখা একটা সন্ধ্যে এনে দেব/ কুড়িয়ে নিতে পারবি তো?’
…অসহ্য লাগে আমার কবিতা শুনতে।
অহনা কিছু না বলে দুদ্দাড় উঠে চলে গেছিল। তিস্তা তখনও শুকিয়ে যায়নি বলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া ভাস্কর চক্রবর্তী আঁকিবুঁকি ভেসে কোথায় যে চলে গেল। দিব্য দৌড়ে, এক সাঁতারে, ছোঁ মেরে…
নাহ। দিব্য পারে না। ভীতু, হেরে যাওয়া দিব্য ভাঙা সাইকেলটা প্রাণপনে চালিয়ে বাড়ি চলে আসত।
মাথার দিকের জানলার ঘুলঘুলিতে টিকটিকির বাসার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সময় কেটে  যায় দিব্যর। ছোটছোট সাদা সাদা ডিম। ছোটবেলায় বাবাই, মিন্টু সবাই টিকটিকির ডিম কাঠিতে পুরে চাঁদ-সূর্য খেলত। দিব্যর কী  যে কষ্ট হত। তখনও সবাই বলত, ‘দিব্যটা এক নম্বরের ভীতু’।
ওই সেবার অনেক রাতে বাবাকে ধরাধরি করে যখন নিয়ে এল সবাই। দিব্য তখন কদমতলা হাইস্কুলে ক্লাস নাইনে পড়ে। ফাইনাল পরীক্ষার আগে লেপের তলায় লুকিয়ে এজরা পাউণ্ড পড়ছিল। ব্রতীন কাকুর বাড়ি থেকে লুকিয়ে এনেছে। দিবয জানত পার্টি মিটিঙে বাবা কুচবিহার গেছে। মায়ের কান্না আর কিসের একটা গোলমাল শুনে দোতলার জানলা দিয়ে মুখে বাড়িয়ে দেখল নিচে কত লোক। টর্চ, লাঠি আর রক্তমাখা বাবা। বড়মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদছে মা। তখনও জেঠুরা আলাদা হয়ে যায়নি। বাবা বলা ভাল, পার্টি-পলিটিক্সে জড়িত দিব্যকে আলাদা করে দেয়নি। ব্রতীন কাকু খুব উত্তেজিত ছিল সেদিন।
‘আপনি দেখবেন বৌদি। এর বদলা আমরা নেব। হৃষিকেশদাকে ছল করে ডেকে ওরা…’
দিব্য দোতলায় দাঁড়িয়ে প্যান্টে হিসি করে ফেলেছিল। রক্তমাখা বাবাকে ছেড়ে ব্রতীনকাকু যদি দোতলায় উঠে আসে। লেপের তলায় যে লুকিয়ে রাখা এজরা পাউন্ড।

বাবার মুখাগ্নি করতে যায়নি দিব্য। আগুন দেখলেই কেমন ভয়ভয় করে বলে। জেঠুরা যখন আলাদা হয়ে গেল, মা লোকের বাড়ি বাসন মাজার কাজ নিল। সেবার মায়ের অসুখের সময় অহনাদের বাড়িতেও খবনর দিতে যেতে পারেনি দিব্য, যে মা কয়েকদিন এখন কাজে আসবে না।
দিব্য যে খুব ভীতু।
টিকটিকিটা বাসায় ফিরেছে। দিব্য দেখছিল। জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখছিল। অ্যাম্বুলেন্স বেরিয়ে যাচ্ছে। অহনার মুখটা কি দেখা যাচ্ছে? উহু।
…ডেকেছিস কেন?
…তোকে দেখতে ইচ্ছে করছিল তাই।
…ন্যাকামো করবি না। দামড়া ছেলে, মা লোকের বাড়ি কাজ করে আর ছেলে নাকি ঘরে বসে কবিতা লেখে।
…তোকে খুব মিষ্টি দেখাচ্ছে।
…ভীতু, কাপুরুষ কোথাকার।
শীতের বিকেলে ৪টে বাজলেই তিস্তার পাড় ঝুপ্পুস অন্ধকার। ভোটের রেজাল্টের পর লোকজনও থাকে না। দিব্য অহনার আঙুল ছুঁয়ে কী যেন একটা বলতে গেছিল।
…একদম গায়ে হাত দিবি না। অকর্মা, ভীতু ছেলে কোথাকার।
মুখে রুমাল গুঁজে, হাত বেঁধে অহনাকে দিব্য যখন বাঁধের নিচে নিয়ে গেছিল, সেদিন তিস্তার জলে ভাসছিল নেরুদা আর একটা জেরক্সের পাতায় গালিব টুকরো-টাকরা।
ছিন্নভিন্ন, রক্তমাখা, আধচৈতন্য অহনাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ভাঙা সাইকেলটা লাথি মেরে ফেলে বাড়ি ফিরেছিল দিব্য।
একদিন পাড়ায় পুলিশ এসেছে খুব। অহনা নাকি বোবা হয়ে গেছে সেদিনের পর। ব্রতীন কাকু দুঃখ করে বলছিলেন, ‘বোধহয় ও পার্টির ছেলেরা…’
ইঁদুর মারা বিষে মানুষ মরে বুঝি? কতটা খেলে মরে?
অ্যাম্বুলেন্সটা বেরিয়ে গেল। দিব্য দেখছিল। অহনার মুখটা দেখা যাচ্ছে না কেন?



.
‘একটা ১২০-র প্যাকেট’।
ঘুপচি গলি থেকে বেরিয়ে হিজাবটা খুলে নেয় শিরিন। এই একটা সময় হিজাবটা বস হেব্বি কাজে দেয়। লোকটা শালা প্রত্যেকবার বুকের দিকে জুলজুল করে তাকিয়ে থাকে। বুড়ো ভাম। নে শালা, দেখ। আর দেখে খিচে মর। শিরিনের অবশ্য ভালই লাগে। ছেলে-বুড়ো বুকের দিকে তাকিয়ে থাকলে। কেমন মায়া হয়, হাসিও পায়। আহা রে, একটু হাত দিয়ে টিপেটুপে দেখার ইচ্ছে, তার বদলে শুধু তাকিয়ে দেখো।
গলিতে ঢুকে হিজাবটা খুলে দেয়। গাঁজার ঠেকে মেয়েছেলে দেখে ইতিউতি চাউনিগুল গায়ে নিয়েই ১২০-র পুরিয়াটা কিনে বেরিয়ে আসে শিরিন। শুধু বুড়োর নয়, এই ইতিউতি চাউনিও। হেব্বি লাগে শিরিনের।
অটোর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে মারাত্মক মটকা গরম হয় শিরিনের। আজ অবশ্য মনটা বেশ ভাল। পিছনে ছেলেটা কি দেখতে মাইরি। সাদা শার্টের ফাঁক দিয়ে ঘামে লেপ্টে থাকা লোমগুলো বেরিয়ে আসছে। শিরিনের ইচ্ছে হল বুকে নখ ফুটিয়ে ছেলেটাকে ঠোঁটে, গলায় কামড়ে রক্ত বের করে দিতে। থাক। অত পাত্তা বাল শিরিন আহমেদ কাউকে এ জীবনে দেয়নি। চ
ছেলেটা পাশেই বসেছে। উম্মম। দেখেই বুঝেছি তুমি গুরু চাম্পু মাল। কনুই তুলে শিরিনের বুকে ঠেকিয়ে বসে আছে। নাহ শিরিন কিছু আর বলল না। এমনিতেই পিরিয়ডস চলছে বলে অরিত্র দেখাও করতে চাইছিল না। তার মধ্যে মাল আবার কাল মুম্বই চলে যাচ্ছে। যা শালা। না ঢোকাতে দিলে শিরিনকে মনে ধরে না তোর। যা না, মুম্বই যা, ফেসবুকে স্টপ গ্যাপ মাল আমি তুলে রেখেছি। নিলয় বোস। চার দিন, দিনে-রাতে সেক্স করব।
…৪ নম্বর। খুচরো দেবেন’
বাবার মানিঅর্ডার এসেছে। বাহ, আজ রাতে তাহলে ভাল মদ কেনা যাবে। ইস ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথেই কিনে আনতে পারত। নাহ চান-টান সেরে তাজা হয়ে অপেক্ষা করবে অরিত্রর জন্য। কাল মুম্বই চলে যাচ্ছে বেচারা। তার আগে প্রেমিকার সঙ্গে না শুলে হয়?
‘তোর মনে আছে অরিত্র? কলেজের প্রথম দিকে তুই আমায় চিঠি লিখতিস? আমি তোর হাতে লেখা চিঠিতে তোর গায়ের গন্ধ, ঘাম নেশা ঝিমঝিম ধরার মতো একলা ঘরে নগ্ন হয়ে গায়ে ঘষে ঘষে নিতাম।’
প্রথম্বার অরিত্র সঙ্গে রমণের পর খুব ব্যথা লেগেছিল শিরিনের। অরিত্র ঘেন্নায় নাক তুলে বলেছিল, ‘এঃ। আমার গায়ে রক্ত মেখে গেল। যা যা ধুয়ে য়।’
শিরিন কিছু ব লেনি। তার পর প্রত্যকেবার অরিত্রর মদের পেগে থুতু মিশিয়ে দিত শিরিন। এই তো গাজার পুরিয়া খুলে, ডাস্টবিনে ফেলে রাখা ন্যাপকিনে খানিকটা তামাক ঘষে একটা জয়েণ্ট বানিয়ে রাখবে। বাকিটা তোলা থাক নিলয়ের জন্য।
‘আই লাভ ইওর বুবস। আমি এগুলো নিয়ে চলে যাব।’
‘তোর বাঁড়াটাও হেব্বি পছন্দ আমার। রেখে দিয়ে যা। আমি মাঝেমধ্যে ইনসার্ট করব।’
‘দিস ইজ গ্রস শিরিন। তুই উটকো ফেমিনিস্ট হয়ে যাচ্ছিস দিনদিন। ফাক। ইউ স্প্যেল্ড মাই মুড’।
‘ঊঠিস না। আমার কিছু হয়নি।’
অরিত্র ঠেলে উঠে পড়েছিল। শিরিন একটু মনখারাপের ন্যাকামি করে মনে মনে হাসছিল। শালা, গান্ডু বোঝেই না, আমার বাল কোনওদিনই কিছু হয় না। রক্তমেশা তামাক খেয়ে অরিত্র বাড়ি চলে গেছিল। শিরিন পানু চালিয়ে ভাইব্রেটর লাগানো ডিলডোটা বের করেছিল সেদিন।
রিহার্সালে একদম মন দিতে পারছে না আজ শিরিন। ধুস। সামনে বুধবার শো। অনির্বানদা আসলেই এরম কেন যে হয় প্রতিবার। অনির্বানদাও খুব বিরক্ত হয়ে বেরিয়েই গেছে। সত্যিই তো, নিজেরা ঠিকঠাক প্রস্তুত না হয়ে, ওর মতো একজণ ব্যস্ত মানুষকে ডাকা কেন? শিরিনের কান্না পাচ্ছিল? ধুস। শিরিনের কখনও কান্না পায় না।
একটা নতুন ছেলের সঙ্গে আলাপ হয়েছে হ্যাং-আউটে। কিরম মায়া মায়া করে কথা বলে। ডাক দেয়, শিরিন… শিরিন। শিরিনকে কবিতা লিখে পাঠিয়েছে। সেদিনের শো-এর পরই নাকি ওকে খুঁজে বের করেছে এখানে। ফেসবুকে কত লোকের ভিড়। তাই এখানে, নিভৃতে। আজকাল সব সময় ফোনটা ঘেঁটে দেখে শিরিন। পিংপিং। ওই এল বুঝি? নাহ। ঋজু। পিংপিং। কে? ওহ, এবার দিয়ার মেসেজ। ছেলেটা নাম বলে না, শিরিন তাই নাম দিয়েছে ‘সেই ছেলেটা’।
রাত বাড়ল। এখনও সেই চেনা পিংপিংটা যে কেন এল না? শিরিন নিজে মেসেজ করবে? মোটেই না। বয়েই গেছে। আচ্ছা নেটওয়র্কে প্রবলেম না তো? ফেসবুকটাই খোলা যাক। আহা রাত বাড়লে নিশকালো সময়ে আলাউদ্দিন বড়ো কেঁদে-মিশে যান। নাহ আলাউদ্দিনের এই বিখ্যাত পিসটা শেয়ার করা যাক ফেসবুকে। ওপর লিখল, ‘ইয়াদ পিয়া কি আয়ি।’
ওদিকে অন্য সেট-আপে নতুন সেট তৈরি হল। মুম্বইয়ের হোটেলরুমটা চমৎকার। ফেসবুকে শিরিন আহমেদের আপডেট দেখে হেসে বলল, ‘পাগলি।’ নতুন সিমটা কোথায় গেল? এই তো। হ্যাং আউট খুলছে না কেন?
পিংপিং
‘শিরিন… শিরিন…’







ব্যবহারিক চিত্রনাট্য

টিস্যু পেপারের বাণ্ডিলটা মা লুকিয়ে রাখবেই। সূর্য বহুবার চুরি করে পড়ার টেবলের ড্রয়ারে রাখে। মা ঠিক ফাঁক বুঝে বের করে নেবে। ধুত্তেরি। আবার সেই খবরের কাগজ দিয়ে মোছো। কী  যে খড়খড় করে। নাহ। পাওয়া গেছে। বাবার কেস ডায়েরির পাতা ছিঁড়ে অন্তত চাদরটা পরিষ্কার করে দেওয়া যাক। উম্মম, অ্যাই অ্যাই হয়ে গেছে। সূর্য মাঝেমধ্যে ভাবে ইজাকুলেশনের পর স্পার্ম জমিয়ে বোতলে পুরে রাখবে। তারপর শক্ত হয়ে গেলে চিনি ছড়িয়ে বাবাকে খেতে দেবে। নে বাল। তোর পয়সাই খাই, তোর মুখেই মুতি। না মানে, ওই আর কি। এখন শালা লালবাজারের কেস ডায়েরি লেখার পাতায় ল্যাটপ্যাট করছে মাল। রুম্পিদি থাকলে ওটাই চেটে চেটে খেত। বাবার কথা ভেবে হেব্বি হাসি পায় সূর্যর। বুড়ো ভাম, ঠিক করে দাঁড়ায় না। ধরে এনেছে ডবকা মাগি। সূর্যরই লাভ। দিনে রুম্পি, আর রাতে মা। হিহি। বেচারা সূর্যর বাবা।

সূর্যদের বাড়িটা একদম ঈশাণ কোন ঘেঁষে বানানো। দাদাই নাকি কোন এক ফ্রেঞ্চ আর্কিটেক্টকে দিয়ে বানিয়েছিল সাধ করে। বুড়ো শেষ বয়সে বীর্য মাথায় উঠে মরে গেছিল। মরার আগে অবধি রান্নার কাজের লোকের সঙ্গে ফস্টিনস্টি। বুড়োর হাত-পা বাতে অকেজো ছিল নাকি। মালতীদি দিনে রান্নাঘরে খুন্তি নাড়ত আর রাতে বুড়োকে নেড়েচেড়ে দিত। জানলার কার্নিশে বসে সূর্য ভাবে, কী চোদনখোর ফ্যামিলি শালা আমার। হ্যাঁ? সব সব কটা শালা এক সে বড় কর এক হারামি। সূর্য মাঝেমধ্যে ভাবে, বড় হয়ে  যখন নভেলটা ফাইনালি লিখে ফেলবে, তখন কোনটা রাখবে, আর কোনটা বাদ দেবে। সব ভুলভাল। যেমন সূর্য নিজেই কি বিশাল একটা ভুলভাল। জন্ম থেকে বড় হওয়া, সব ভুলচুক। আরও একটু ছোটবেলায় সূর্য যখন কথা বলতে শেখেনি, তখন থেকে শিখে গেছিল সে ভুলভাল। নানা, সূর্যর ছোটবেলা মানে খুব বেশি ছোটবেলা নয়। পাশের বাড়ির জিকো, তাতাই, পিকুরা যখন খই ফোটাচ্ছে, তখনও সূর্য ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকত। বু-বু করে কিসব যেন বলে ফেলার চেষ্টা করেই বুঝত, নাহ হচ্ছে না। বাবা রাতে বাড়ি ফিরে মা-কে খিস্তাতো।

 তখনই বলেছিলাম, শালা কাটিয়ে দাও। তা না, উনি মা হবেন।
- তোমাকেও তো বারবার কন্ডোম ইউজ করতে ইনসিস্ট করতাম। একটা প্রাণ এল শরীরে। মেরে       ফেলব?
- চুউউউউপ নেকিচুদি। প্রাণ এল। ডাক্তার পইপই করে বারণ করেছিল সিগারেট না খেতে।
 ভদ্রভাষায় কথা বল।
- এক চড়ে দাঁত ফেলে দেব। শালা মিথ্যুক। হ্যাণ্ডিক্যাপড মালা শালা। প্যাডেড ব্রা পরে বুক নাচিয়ে     ঘুরে বেড়াতে তো দিন রাত। এই ভাস্কর মুখার্জি, রামগান্ডূ বিয়েটা দয়া করে না করলে তোমার মতো   মাইহীন হ্যান্ডিক্যাপডকে কে বিয়ে করত? শালা মাল পয়দা করল তাও অ্যাবনরমাল। বাঁড়া, ৬ বছর   বয়স কথা ফোটেনা। কষ দিয়ে লাল গড়ায়।
- একদম বাজে কথা বলবে না। তোমাদের পরিবারটাই নষ্ট। যেমন তোমার বাবা, তেমনি তুমি।
  অসভ্য, দুশ্চরিত্র।
- উহহহ। উনি এলেন সতী। অফিস পার্টিতে বেলেল্লাবাজির বহর দেব?
- যা করি। আমার বাবার টাকায় করি। রুথলেস ব্রুট। লোভী কোথাকার। বিয়েটা করেছিলে তো টাকা
  দেখেই।

সূর্য আর কিছু শুনত না। শুধু বুঝে গেছিল সে একটা ভুলভাল। বাবা কণ্ডোম কিনে মা-কে লাগালেই এই ভুলটা আর হত না।

তারপর থেকে তো সূর্যর সবটাই ভুলভাল। এই যেমন সূর্যর স্কুলটা।  না না। এটা স্কুলও না। এটাকে সেন্টার বলে। সেন্টার। সূর্যর মতো বু-বু, গ্যাঁজলা বেরনো সব আসে এখানে। সূর্য জানে না,  ওরাও ভুলভাল কি না। রিকি, বিতান, দীপ্তেন্দু সবাই সব ভুলভাল ভেবে সূর্যর খুব মজা পায়।

সেন্টারে আসার পর ঠিকঠাকগুলো সূর্য পড়ে নিতে শিখেছে। এই যেমন দোতলায় আঁকার ক্লাসে যাবার সময় দারোয়ান নটবরদা কাকে হেসে হেসে বলছিল, মাগী বগলকাটা ব্লাউজ পরে ধিংগিপানা করবে আবার সতীচোদানো। সূর্য জানে, বাবা মা-কে যা সব বলে সব ঠিকঠাক। সূর্য মোটমাট বুঝে গেছে, চারপাশে ওর মতো ভুল, বাবার মতো ঠিক সবাই একটা জিনিস নিয়ে কালচার করছে। সে হল চোদানো। সূর্য বেশ টুকটুক ফর্সা কিনা। বেশ লম্বা মতো কিনা। বেশ বুকে-গায়ে লোম নিয়ে মনোহর কিনা। তাই যেদিন সেন্টার থেকে ফিরে মা সূর্যকে ঠিকঠাক শেখাতে শুরু করল ওর সবগুলো মনখারাপ বেমালুম হাওয়া। আগে যেমন তলপেটের নিচটা সুড়সুড় করলে সূর্য কী  যে ভয় পেত। এক একদিন তো সকালে প্যান্টে সাদা সাদা ফেনা, ক্রিম। শীলামাসি একদিন চিৎকার করে বলল,

- বউদি, দামড়া ছেলের এসব কাচবুনি। ম্যাগো কি কেলেংকারি। ছেলের মুখে কথা আসে না। নুলো খ্যাপা। তার ভিমরতি কম না।

শীলা মাসির ব্যাগে সূর্য একদিন আরশোলা ভরে দিয়েছিল।

ওইদিন থেকে অবশ্য সব ভুল-টুল সেরে সূর্য এখন স্মার্ট বয়। একদিন রাতে মা সূর্যর প্যাণ্ট খুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। সেন্টারে সেদিন নাকি কিসব কাউন্সেলিং হয়েছে। নটবর বলছিল, সূর্য শুনেছে। ‘ওই শুরু হল কেলাস। নুলোরা ধন খিচবে, মা-বাপে তাই কেলাস করছে। মা গিয়ে মাল ফেলা শেখাবে বাড়িতে। হি হি।’ সূর্য বাড়ি এসে বুঝেছিল তলপেটের নিচের হিসি যন্ত্রটাকে ধন বলে। সেই রাতেই তো মায়ের হাতে সাদা, সাদা- ফেনা, ফেনা ক্রিম। মা খুব কাদছিল। আর সূর্য প্রাণপনে ‘আহ আহ’ করে চিৎকার করেছিল। না না, বু-বু কান্নার চিৎকার নয়। কি যে এক ভাললাগার চিৎকার। মা না থাকলে রুম্পিদি যখন বাড়ি আসে, তখন বাবার ঘর থেকে ওরম চিৎকার শোনা যায়।

সেসব কোন ছোটবেলা চলে গেছে। সূর্য মাল ফেলা জানে। সূর্য জানে মেয়েদের বুক। সূর্য জানে মা এখন আর কাঁদে না। মা-ও ওর মতো আনন্দের চিৎকার করে। সূর্য জানে, এই যাকে বাবা বলে অ্যাব-নরমাল, যাকে শীলা মাসি বলে নুলো। তাকে সেন্টারে মিসরা বলে অটিজম।

সূর্য এখন পাক্কা ঠিকঠাক। একদিন, সেদিন রুম্পিদি যখন বাবা না থাকতে এসেছিল। সূর্য সেদিন জানলার কাঁচ সরিয়ে আকাশ দেখছিল। ফেনা ফেনা মেঘ ঘুরে বেড়ায়। আর নীলটা বাবাহ। এই নীল একশোটা রং মিক্স করেও আসে না। সূর্য শার্সি সরিয়ে শালিখ আর চড়াই-এর ঝগড়া দেখতে দেখতে ‘সঞ্চয়িতা’-র কবিতা পড়ছিল। রুম্পিদি ঘরে ঢুকেই সূর্যকে জড়িয়ে ধরে একশা। হাঁসফাঁস সূর্য সেদিন কি যেন করতে করতে রুম্পিদির গলায় কামড়ে দেয়। ঘড়ঘড় গলায় রুম্পিদি বলেছিল,

- জানতাম। জানতাম আমি। বাবা শালা ভাম। ছেলে নুলো হলে কী হবে? শালা পুরুষ মানুষের
  চুলকানি? আমাদের ভিতরে আগুন জ্বলে না না? উফফ সূর্য এই দেখ।
- কী ওগুলো?
- এই নে ধরে দেখ। খা খা। খাবি?

সূর্যর মনেই ছিল না শেষ কবে মায়ের দুদু খেয়েছে। রুম্পিদি আর সূর্য অনেকক্ষণ চিৎকার করেছিল ঘরে মধ্যে। সেই ভাললাগার চিৎকারটা। সূর্য এখন সব ঠিকঠাক কিনা। সূর্য এখন সব একা একা পারে কিনা।

তারপরেও মাঝেমধ্যে কান্না-কান্না মনখারাপ হয় সূর্যর। বেশ বুকে চাপ পড়ে। তখন রবি ঠাকুর ভাল্লাগে না। রং-এর প্যালেট উহু। তখন মায়ের গায়ে মুখ ঘেঁষে শুয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। মা এখন আর ওভাবে শোয়ই না। রাতে এলে কিরম যেন একটা করে। মা জানে, সূর্য এখন একা একা হিসির ওটা একা একা নাড়িয়ে ক্রিম বের করতে পারে। সূর্য জানে ওটাকে মাস্টারবেশন বলে। ইজাকুলেট করে টিস্যু দিয়ে মুছরে সূর্য জানে। তবু মা ইচ্ছে করে টিস্যু লুকিয়ে রাখে। সেদিন যেদিন রুম্পিদিকে মা ধরে ফেলে সূর্যর ঘরে সেদিনের পর। সেদিনের পর রাত্তিরবেলা মা-ও কেমন পালটে গেল। রুম্পিদির মতো মা-ও বলে ‘খা-খা’। ‘ধর- ধর’। সূর্যর ইচ্ছা না করলেও মা সূর্যকে জোর করে মায়ের হিসির গন্ধওয়ালা জায়গাটায় জিভ দিয়ে চেটে দিতে বলে। ইশ। কি যে নোংরা। আর রুম্পিদিরটা নোংরা কিন্তু কেমন নোনতা, স্বাদওয়াল। সূর্যর যে একদম ভাল লাগে না।

মনখারাপটা যেন আজ আর  কাটতেই চাইছে না। জিকোর মামাতো দিদি এল না সেদিন? নন্দিনী দি? জিকোর সঙ্গে এসেছিল এ ঘরে। সূর্যর আঁকা ছবি দেখে সারা ঘরে নেচে নেচে ছবি তুলে নিয়ে গেছে। সূর্য শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছিল। কি যে সুন্দর গন্ধে ভরে গেল ঘরে। চুড়ি পরেছে হাতভর্তি। আর সূর্যর মাথার চুল ঘেঁটে দিয়ে বলেছে ‘হ্যাণ্ডসাম ড্যুড’। তারপর মায়ের সঙ্গে জিকোর মায়ের কি ঝগড়া। সূর্যর বাবা আর দাদু কিনা চোদনখোর। সূর্যর মা কিনা এসকর্ট। সূর্য কিনা অ্যাবনরমাল অথচ অসভ্য। তাই সূর্যর ভুলভাল। একটু ঠিকের মধ্যেও ভুলভাল। সূর্য জানলা দিয়ে নিচে দেখছিল। গাড়ির গেট খুলে ওপরের দিকে তাকিয়ে নন্দিনীদি জিকোর মা-কে বলছে,

- একটা অ্যাবনরমাল ছেলে, কেউ বলবে এত পারভার্ট?
- বংশটাই খারাপ। শীলার মুখে শুনি তো। বাবা
   ঘরে মেয়ে ঢোকায়। সে মেয়ে ছেলের ঘরেও ঢোকে।আবার মা-ছেলে মিলেও নাকি…

ইশ, মাগো শব্দ আর গাড়িটা মিলিয়ে যেতেই সূর্য সঞ্চয়িতা খুলে বসেছে। সূর্যর সেদিনও নন্দিনীকে ডেকে বলতে ইচ্ছা করছিল,  ‘নন্দিনী আমার ভাল নাম রঞ্জন।’


রুম্পিদি এসেছে। সূর্য এখন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পড়তে শিখে গেছে।





ছিন্নমূল

বিড়ির আগুন পড়ে পড়ে টি-শার্টময় ইতিউতি ফুটো। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, ইঁদুরে, আরশোলায় কেটেছে। অবশ্য এসব নিয়ে রিজুর ন্যাকামিও ছিল না কোনওদিন, আর মনখারাপ তো নয়ই। এমনিতে আঁতেল-ছাপ জামাপত্তর। হলদে টি-শার্টে কয়েক লাইন সুমন চেয়ে আছে। অথবা গেলবার পৃথ্বীর এনে দেওয়া বাংলাদেশের জামাটাও আদর করেই গায়ে চড়ায়। বুকে-পেটে বিড়ির ফুটো নিয়ে রিজুকে ভিখিরি-কাটিং না দেখালেও, ব্যর্থ কবির জম্পেশ লুক দেয়। রিজু যদিও কবিতা লেখেনি কখনও। উঁহু, একবার, ক্লাস সেভেন, যা নাকি হেভেন, তখন লিখেছিল। হিন্দি ক্লাসের সাবরি মিসকে দেখে। ‘সাবরি মিসের বিশাল বুক/ তাকিয়ে থাকতে বিশাল সুখ/ বুকের মাঝে খাঁজ/ হরেক রকম সাজ’। প্রিন্সিপ্যাল আর বাবার  যৌথ ক্যাল-সহ ক্লাসের হারামি পাবলিকের অকথ্য প্যাঁক মিলিয়ে, হেভেন সেভেন হেল হয়ে গেছিল। তারপর তো টিসি। ইংরাজি মিডিয়ম থেকে সোজা তীর্থপতি। তারপর আর ৩০ বছর কবিতা লেখেনি রিজু। রাদার, কিছুই করেনি। ছবিও আঁকেনি, তবলা শেখেনি, গীটার বাজায়নি, কলেজে লিটল ম্যাগ করেনি। অ্যাস্ট্রো ফিজিক্স পড়ার চোরা বাসনা লুকিয়ে রাখতে রাখতে ছোড়দাদুর চিলছাদের ঘরে মাঝেমধ্যে নানা যন্ত্রপাতি বানিয়ে তারা-টারা দেখত। সে রিজুর গুপ্তরোগ। লোকাল ট্রেনে ডিকে লোধের অ্যাড দেখে নিজের মত নাম নিয়ে নিয়েছে। গুপ্তরোগের চিকিৎসা নেই। কাজকম্ম কিছু জুটলে-মুটলে ওই রাত-বিরতে জয়েণ্টে শেষ টান দিয়ে হয়তো আকাশের গায়ে কান পাতা। রিজু নিজেকে আজকাল মেঘ-টেঘ ভাবে। ফুটো হয়ে বৃষ্টি পড়ে। ফুটো জামা চুইয়ে যেমন ঘাম।


দক্ষিণ কলকাতার পুরনো পাড়ার দাবি নিয়ে মারামারি হয়ে যেতে পারে কোনওদিন। সাদার্ন, পাম অ্যাভিনিউ-এর মতো অঞ্চলগুলোর উন্নাসিকতাকে হিংসে করে মরে গেল যাদবপুর পরবর্তী কলোনি। ‘আরে বাল সরকার জমি না দিলে তো বাংলাদেশের দোতলা পুকুরে ডুবে মরতি। অথচ এখনও আমাগো দ্যাশের ন্যাকাকান্না গেল না।’ কপচিয়ে লাভ নেই। ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছে রিজুরাও বাঙাল। কুদঘাট পাড়ার এখানে সকলেই নাকি তাই। রিজু কোনওদিন বাংলাদেশ যায়নি। চিটাগাং নিয়ে কোনও ফ্যান্তাফ্যাচাং সেন্টুও নেই। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান নিয়ে হাতাহাতিতেও সে নেই। দাদুর বাপ বাংলাদেশের দোতলা পুকুর ছেড়ে এখানে নাকি কলার ভেলায় ভাসছিল গণ্ডা ছেলেপুলে নিয়ে। তারপর তো দাদু নিজের আমল থেকে প্রাসাদ বানিয়েছে। শিশু উদ্যান ক্লাবের পাশের মাঠটাই দাদুর নামে করা। বুড়ো সারাজীবন সিপিএম আর বাজার করা ছাড়া পাড়ায় মাঠের নাম পাওয়ার মত কিছু করেছে রিজুর মনে পড়ে না। সে যাকগে। বাঙাল বলে নিজের আতাক্যালানে পচপচানি না থাকলেও, দিব্যানি যখন বলেছিল, ‘bloody refugee’, গায়ে লেগেছিল রিজুর।

বিকেল গড়াতেই বুড়োগুলোর ঠেক নির্মলের দোকানে। দাদুও আসত। রিজু দেখে আসতে-যেতে। হট প্যাণ্ট পরা মেয়ে দেখে আড়চাউনি, বৌদিদের কোমর, জোড়াজুড়ি দেখে ফিসফাস কিছুরই কমতি নেই। রিজু গাল দেয় মনে মনে, ‘শালা বুড়ো চোদা’। রিজুকে অবশ্য কেউ চেয়েচিন্তে দেখে না। থোবড়টা ভাল বলে কলেজে প্রথম দিকে তাও মেয়ে-টেয়ে পটত। অনার্স কেটে পাস হবার পর সেসবও গন। দত্ত বাড়ির ছেলে বলে এখনও পাড়ায় আওয়াজ খায় না বটে, কিন্তু ওই যে কেউ আর দেখে না। রিজু অবশ্য এসবে আছে ভাল। কেউ বেশি গা করলেই, ঝাঁট জ্বলে ওর। এমনকি মা-বাপ নিয়েও বিশেষ ভাবসাব নেই। মুখে  যুবক সৌমিত্রের আদল আছে বলেই বোধহয় ফিজিক্স পাস ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়ে মিডিয়া হাউজে চাকরিটা জুটে গেছিল। ঝলমলে বাড়ি আর তার ঝলমলে রং। ফিটফাট, চকচকে গাল, INC.5, কিং সাইজ সিগারেট আর এন্তার গরিব লোককে খিস্তানোর সিরিয়াল চলছে। রিজুর বস(নি) যাকে বকে মোমপালিশ। প্রতিদিন বাড়ি ফিরে দেওয়ালে স্পার্মের গ্রাফিতি। কলেজে, পাড়ায় দু-একটা প্রেম, শোয়াশুয়ি সবই হয়েছে। কিন্তু ওই দত্ত প্রাসাদের প্রসাদে। গান নেই, কবিতা নেই, ডিগ্রি নেই, তাই আবার ফুটো জামায় অত চাঁদের স্বপ্ন কেউ বেশিদিন দেখে না। তবে এই বসনি একেবারে টরেটক্কা। আধ হাত কোমর। শাড়ি নেমে খুলে পড়ে যায় আর কি। রিজু ফ্লোর সামলায় আর কাঁচ পেরিয়ে কোমর দেখে। তা চাকরির হিসেবে ফুটো জামা বদলে শার্ট-প্যাণ্ট ভালই গুজত। আর ভদ্রবাড়ির নিয়মানুসারে চান-টানে বিশেষ ফাঁকি দেয়নি রিজু। বসনির কেবিন থেকে গাড়ি উতরে সাউথ সিটির ফ্ল্যাটের ডুবো নরম বিছানায় সেধোঁতে বেশিদিন সময়ও লাগেনি। তবে ওই যে, রিজুর শেষটা শেষ হতে গিয়েও টসকে যায়। ড্রাইভারের কাঁধে হাত আর টানবি বিড়ি? এ দেশে বাল প্রজন্ম পেরিয়েও কলোনির লোক উদবাস্তু, কাজের লোককে দয়া করে সরবৎ খেতে দিই মানে কি ছোটলোককে মাথায় তুলে নাচব নাকি? ক্লাস ইজ ক্লাস। ব্যস আর কি! ড্রাইভার টিকে গেল। ‘দূর বাল। রাখুন তো বুকনি। বেশ করেছি ছোটলোকের সঙ্গে বিড়ি ফুঁকেছি। আপনার মতো বেঁড়ে খানকির সঙ্গেও তো শুয়েছি’ বলে রিজু কফিনে পেরেক পুঁতে দিল আর কি। রাগ কমতে আফসোস হয়নি তা নয়। শালা দিনরাত বাড়ির লোক অকর্মার ডিম বলে খিস্তাচ্ছে। এদিকে থোক মাইনে, মোমপালিশ বসনি, এসি-টেসি ছেড়ে, নাও বাল এবার নিজেরটা ছিঁড়ে তাল পাকাও।

পৃথ্বীর সঙ্গে বন্ধুত্বটা পাড়ার সূত্রেই। আগে রিজু চিনতা না ওকে। নতুন ফ্ল্যাটে এসেছে পৃথ্বীরা বছর ৫। রিজু দেখেও দেখেনি। একদিন মাঝরাতে রিজু নির্মলের বন্ধ দোকানে বসে তামাক জয়েণ্ট রোল করছে, পাশে একটা গাড়ি এসে থামল। সে কি বাওয়াল। একটা আধ বুড়ি কাকিমা পৃথ্বীকে প্রায় মারতে মারতে গাড়ি থেকে নামিয়ে হুশশশ। রিজুর এসব বাওয়াল পোষায় না। কুত্তায় খেয়ে ফেলবে তাই পৃথ্বীকে ফ্ল্যাটে তুলে দিয়ে এসেছিল। পরদিন নির্মলের ঠেকেই সেই যে হাত মিলল, সে মিলনের বর্ষপূর্তি হয়েছে। পৃথ্বীর সঙ্গে গতরে খাটে রিজু। বিষয় গতরে খাটাই। পৃথ্বীর বাপের প্রচুর পয়সা। সে পয়সা খাবার লোক কেউ নেই। যেমন রিজুর দাদুর হেবি পয়সা ছিল। কিন্তু ৮-১০টা পয়দা করে সব চুদে দিয়েছে। তা পৃথ্বীর বাপ মরতে মা বিদেশ চলে গেছে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে। পৃথ্বী ডকুমেণ্টারি ফিল্ম বানায় শ্যাওলা, বানরের লেজের দুলুনি, সাপের লুড়লুড়ি মার্কা হাঁটা-চলা নিয়ে। বাপের পয়সায় লোক ডেকে দেখায় আর ফেসবুকে দেয়। রিজু লাইক করে। আর হ্যাঁ মাসে ১০ দিন গায়ে খাটার জন্য ১৫০০০ টাকা। এতে রিজুর তামাক, খানিক মদ আর মার্কেজ কেনার পয়সা উঠে যায়। বেশি কিছু না। কণ্ডোমের পয়সা পৃথ্বীই দেয়। রিজু দুটো রাবারের বল বুকে লাগিয়ে ঘর অন্ধকার করে খানিক নাচে। পৃথ্বীর প্রাথমিক পর্যায়ের টেপাটেপি হয়ে গেলে রিজুকে বেশ করে চুমু খায়। গা গুলিয়ে উঠলে রিজু মনে মনে কুন্দেরা ভাবে। তারপর কখনও কাঠের বেলনি, বা লোহার রড দিয়ে রিজু পৃথ্বীকে গোঙানির সুযোগ করে দিয়ে বাড়ি চলে আসে। রক্ত বেরনো মাস্ট। ব্লাডি অ্যাফেয়ার ছাড়া পৃথ্বী এক পয়সা ছাড়ে না।



মাসে দশটা দিন গুপ্তরোগের সঙ্গে রিজুর কারবার। হাতের রক্ত মোছার ন্যাকড়ার জন্য মেয়েদের স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনে এক প্যাকেট করে। বেশ নরম  নরম, বেড়ালের পাশবালিশের মতো। কান্না পায় না রিজুর। জয়েন্টের ধোঁয়া চোখে ঢুকলে জল বেরবে না? গুপ্তঘরে মার্কেজগুলো পরপর সাজানো। দিব্যানিই প্রথম love in the time of cholera গিফট করেছিল। এমন খানকি ভিতরে লেখা, ‘to my refuge florentino.’ না মনখারাপ করে না রিজু। ফ্লোরিডায় কি এখন রাত? ঘটিরা কি কষ্ট পায় না? রিজু খুব ছোটবেলায় একটা পেরিস্কোপ বানিয়েছিল। রিনরিন চুড়ির টুকরোর রাগ-রাগিনী আর কত রং! ফ্লোরিডায় পেরিস্কোপের রামধনু দেখা যায়?







  গুলশনারা খাতুন

Gulshanara Khatun

Popular Posts