Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS

Preetha RoyChowdhury


আবর্ত                                 

জেলের উঁচু দেওয়ালের বাইরে ঠাঠা রোদে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে পাশ দিয়ে অল্পবয়েসি ছেলেছোকরাদের বারবার ঘুরে তাকানোএপাশ ওপাশের বাড়ির মধ্যে বাটি চালাচালির মাঝে, “এ মেয়েটার বাড়ি কোথায় গো?” ক ঘণ্টা হলো মাঝে মাঝে মোবাইলে চোখ রেখে বুঝে নেওয়া এখান থেকে শ্যেনদৃষ্টিতে দেখতে থাকা তার বৈধ সম্পর্কেরা ফিরে গেল কি না তারা ফিরলেতবেই তার একঝলক দেখা হবার সুযোগদোষী নির্দোষ চেনে না সেশুধু জানে গরাদের ওপারে তার ভোর কয়েক মিনিটের... তারপর আবার সপ্তাহব্যাপী রাত টানা পনেরো দিন হলো তার চোখ বিনিদ্রহিংসে করে সে আকাশকে কেমন একটানা মেঘের অজুহাতে কেঁদে চলেছেচোখ রাঙাবারগায়ে কালি দেবার কেউ নেই তার গোঙানোও অপরাধ তার বৈধ সবের প্রতি সমস্ত কর্তব্য সেরে এই যে ভোর না হতেই ছুটে আসাএ জানলে ছি ছি করবে না বুঝি কেউছি ছি করুক পরোয়া নেইকিন্তু পুড়তে থাকা সেই ছোটবেলার সজনে গাছটা আর দেখতে চায় না সে যখন ককিয়ে উঠেছিলোগাছটাকে মেরো না তোমরাজ্যেঠিমা গাল টিপে বলেছিলোশুঁয়ো পোকা ছেয়ে ফেলেছেওর পুড়ে যাওয়াই মঙ্গল... 

না পুড়ে গেলে যে পাপ উড়ে উড়ে আশেপাশের সবার ঘরদোর ছেয়ে ফেলবেপাপবৈকিকি হবেসবাই যখন জানবেতার সিঁথিতে দুজন এঁকেছে রক্তের আলপথ?

তিন ঘণ্টা হতে চললোএরা ফেরত যায় না কেনমাথা ঘুরছে তার রোদে তাকাতে পারে না আর সামনে ভ্যানওয়ালার পাশে উঠে বসে কিছুক্ষণ অবশেষে... অবশেষে... ছুট ছুট ছুট... নাম অ্যানাউন্স করছে ওরা “ভরসা আছে?”

আছে
বাড়ি থেকে ওরা এসেছিলো
জানিওদের দেখেই আমি বেরিয়ে গেছিলামপাশের রাস্তায় ছিলাম দাঁড়িয়ে...”
এই টানা তিন ঘণ্টা তুমি...!!!!!!”
ভালো আছো তুমি?”
নিজের বরকে দেখতে এসেছোএভাবে অপেক্ষা তাইতাই না বিবি?
কথা দিচ্ছি সামনের সপ্তাহে বাইরে তোমার সামনে দাঁড়াবো” 

#

অন্ধকার অন্ধকার ভোর... বাচ্চা মেয়েটা স্কুল ড্রেস পরে লাফাতে লাফাতে হাজির খড়ের চাল ছাওয়া বারান্দাতে তার কালু আর নরমকে দেখতে রোজকার মতো রক্ত... রক্ত... শুধু রক্ত দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠলো মেয়েটা তার কালুতার নরমকইখাঁচা ভেঙে কালুকে মেরে রেখে গেছে কোন হুলোআর এক কোণে বসে নরম কাঁপছে তিরতির করে আমার আদরের একজোড়া খরগোশের জোড়া ভেঙে দিলে কেন?” ওপরে তাকিয়ে স্কুলের সিস্টারদের শেখানো প্রেয়ারের জিসাসকে অভিমান জানায় সে কেঁদে স্কুলে যায়আর প্রেয়ারের সময় কিছুতেই চোখ বন্ধ করে নাকপাল বুক একাঁধ ওকাঁধ করে না তার হাত শুধু দাঁতে দাঁত চেপে থাকে

পরদিনখাঁচা খুলে ভোরে বের করে আনে নরমের প্রাণহীন শরীর মা বলছিলো জ্যেঠিমাকে, “কি আশ্চর্য বলুন মেজদিএরাও স্বামী স্ত্রীর মতোপ্রেমিক প্রেমিকার মতোই ভালোবাসেবলে নাতোমাকে ছাড়া বাঁচবো নাকিন্তু বাঁচে না... তাই না?”

#

খবর এসেছে জামিন মঞ্জুর হয়নি... খবর আসেনিতার মানুষটার ফেরার তার বৈধতায় সে হীরে পরেসোনায় মোড়ায় নিজেকেঢেলে দেয় সংসারের জন্যতার একমাত্র সন্তানের জন্যতার স্বামীর প্রতি কর্তব্যে তার পাঁক লাগা অবৈধতায় সে পরে থাকে নিউ মার্কেটের বাইরে কেনা স্টেনলেস স্টিলের আংটিপরম বাঁধন এও এক

প্রশ্ন করে সেরাধাকে তোমরা অবৈধ বলো না কেনপাঁক ছেটাও না কেনদ্রৌপদী মেনে নিয়েছিলো পঞ্চস্বামী... মেনে নিয়েছিলোস্বেচ্ছায় যদি পঞ্চস্বামীর স্ত্রী হতোতাকে কি বারনারী বলতে তোমরা?

#

ক্লাস টেনের কম্পালসারি ক্লাস হতো যৌনশিক্ষার খ্রিস্টান সিস্টাররা কনভেন্টের সুশিক্ষা দিতে চেষ্টা করতেন সপ্তাহব্যাপী এই কার্যক্রমে বলতেনকোনো পুরুষের কথা মনে আনলেও অশুচি হয়ে যেতে হয় কেবলমাত্র বিবাহিত স্বামীর স্থান শরীরে বা মনে শুচিতা নিয়ে তখন থেকেই তর্ক করতো বাচ্চা মেয়েটা বকাঝকা কম খায়নি বেখাপ্পা কথা বা যুক্তির জন্য তবু মেয়েটা বড্ড তর্কবাগীশ চুপ করে গেলেও মেনে নেয় না সবকিছু এমনি এমনি তাই কি বেয়াড়া মেয়েটা ভালোবাসে লাগামহীন?

#

কি পেলে আমাকে ভালোবেসেকিছুই তো দিইনি... সামাজিক স্বীকৃতিদেদার টাকাপয়সাগয়নাগাটি... তবে কেন?”

ভালোবাসলে ওসব পেতে হয়জানতাম না তুমি... তোমাকে পেয়েছি আচ্ছাতুমি কেন ভালোবাসলে আমাকেঅবশ্য ভালো তো প্রথমেই বাসোনি প্রথম থেকেই জানতে আমি ঘোরতর সংসারীজানতে দাওনি তুমিও সংসারী খেলতে নেমেছিলেবলো?”

খেলতে নেমে বুঝতে পারিনি কখন সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছি আমার সব অপূর্ণতাকে ভরিয়ে দিয়েছোনিজেকে নিংড়ে ভালোবেসেছো আমায়... হেরে গেছি তোমার ভালোবাসার সামনে দেরি করে ফেলেছি অনেকতবু বুঝেছি তোমাকে জড়িয়ে আমার বাঁচা... থেকো

#

বর্ষার জল পেয়ে বেড়ে উঠছে যুবতী তুলসী উঠোনে... টবে... তাদের ঘরসংসার... ফিরবে কবে?










   পৃথা রায় চৌধুরী

Preetha RoyChowdhury

Popular Posts