Arghyadip Roy

বাঘাযতীনে কুত্সা রটছে জোছনায়

এ মল্লুকেই তোর প্রজাতির রেললাইন
যে গাছে জিয়নকাঠির জন্ম
আর যে পদ্মনাভিতে মধুকৈটভের মেসবাড়ি
তার নিষ্কর মালিকানা
তার স্ত্রীর মাস্কারা
তার উলঙ্গ জানলায় ত্রৈলঙ্গ নারীদের লিপ্তপদ জলকেলি
দেখি আমি
আর্দ্র চুম্বনও ভিনছিলিমে দিনকয়েক শিশ্নশীতল
পরিত্যক্ত কষ্টিউমে
এ পাড়ায় হ্যাঙ্গারে ঝুলতে ভালো
এদেশে ম্যাঙ্গো আলফাংসো
আর এ ছাদে বিবর্জিত ঘুড়িরা মেদনীপুর থেকে আসে,
তাদের আসন্ন মানে হুইস্কি
তাদের বিষণ্ণ মনে ইউরেকা
কবিতার খাতা ও ল্যাপটপের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে
একটা রিক্সা খুব
তার বেনীমাধব স্ক্রুগুলিতে শাড়ি জড়িয়ে যাচ্ছে ওই মেয়েটার
যার জল আনিতে সখী লাগে
তাই কুমীর যমুনানদীতে শ্রোণী পাখনার অভিলাসী
ও মিসিসিপিতে খয়ের পানের পিকে ইন্ডিয়া চেনানো হচ্ছে


শাম্ব

যমুনার পটভূমি ধূসর ছিল
আর যদুবংশে ভ্রমর আপেক্ষিক আর্দ্রতা
অথবা ল্যাপটপ এর গেজেট গুলি শিউরে ছিল বলে
আমার লাটিমে নিষেধাজ্ঞা ছিল
গীটার শোনায়,আমার ঘুড়িতে প্রবেশাজ্ঞা ছিল
বিপ্রতীপ-উনুনে,আমার বিভক্ত-প্রদেশ ছিল
ঝাড়বাতি ও খাঁ-সাহেব পালানোয়
তারপর একদিন পালিয়েছি
দড়ি বেয়ে
ট্রাপিজ পালিয়েছি ট্রাফিক-হাততালিতে
শহরের
এখন পোস্টবক্সে চিঠি আসে তোমার
ঠোঁট আসে তোমার
গা আসে তোমার
কযেকটা পরিযায়ী পাখি এলে ভাবি শাড়ী পাঠিয়েছ,কযেকটা ছারপোকা কামড়ালে ভাবি সংবেদনশীল সরকার তোমাদের
কযেকটা মেঘ এলে ভাবি যদুবংশে মুখেভাত কারো
আর
মারিজুয়ানা-আঙ্গুল মুছে দি
ওই চিঠিটার
হরফের চুল-বরফ মুছে দি
ওই চিঠিটার
রাইটিং প্যাড-দ্রব্যমূল্য মুছে দি
ওই চিঠিটার
আজ যমুনায় বজরা ভাসলে
মনে পড়বে তোমার লাটিমগুলি দেশান্তরী
তোমার মেহেন্দি নিরাকার
তোমার ছাগশিশুর গায়ে পবিত্র গন্ধ বেরোবে
আর আমি দুনিয়াসুদ্ধ আড়াল করে চলেছি
আমার মাতৃভূমি শিল্পবিপ্লব বোঝেনা তাই
ওদেশে ইলমাছের জন্ম নিষিদ্ধ এখনো


এনট্রপি নগরী

মেঝেতে অনেক চুল পড়ে আছেআহা অনেক তীর্থস্থানের পুণ্য ছড়িয়ে আছে এই সমুদ্রপৃষ্ঠে। কোনো পরাগরেণু এসে তাকে ছুঁয়ে দেয়। কোনো মানবিক পরাগরেণুর ব্যর্থতা ম্যারিনেট করে আমার এই দাক্ষিণাত্য
এভাবেই চলছিল। কোনো ক্লাইম্যাক্স আশা করছি নাতাই আশশ্যাওড়ার জন্ম পিছিয়ে দিচ্ছি। আমি ছেড়ে দিলাম নিজেকে এনট্রপির হাতে। সে এসে বলল একটা দোলনা চাই। দিলাম। পর্যাবৃত্ত ছায়া যুক্ত হলো মেঝেতে। শত্রুতা করার মত একটা বস্তু পাওয়া গেল। যখন আমি দুলছিতখন ও স্থির। যখন ও দুলছেআমি ফুঁসছি। কখনই আমি ওর গতিবেগে দুলব না ঠিক করলাম। তাই আমি নিজেকে সিস্টেমের বাইরে রাখলাম। কিন্তু দোলনাটা দুলবেই। ওর ছায়াতে যাতে মেঝে কোনভাবেই মুগ্ধ না হয় সেই আমার অতলস্পর্শী অভিমান। কিন্তু আমার জায়গাটা কে নেবেডাক পড়ল এনট্রপির। সে বলল ইন্দ্রিয়ের কথা। আমার থেকে আমার ইন্দ্রিয়গুলি আলাদা হবে আর আমি দুলব। অর্থাৎইন্দ্রিয়হীন আমি দর্শক হব আর ইন্দ্রিয় হবে কুশীলব। কিন্তু ইন্দ্রিয়হীন হলে আমার ঘৃণা করার ক্ষমতা লুপ্ত হবে। অতএব পুরো এক্সপেরিমেন্ট উদ্দেশ্যহীন হয়ে পড়বে। কার বাঁশরী বাজে মুলতানি সুরেআর এভাবে ইন্দ্রিয়হীন হয়ে পড়ছি শেষ যমুনা দেখার আগেই। শেষ বজরা ভাসার আগেই আমি জড়িয়ে গেছি নিজের গপ্পে। কিভাবে আমি কন্ট্রোল তুলে দিয়েছি এনট্রপির হাতে। যেখান থেকে এনট্রপি কলম ধরবে সেখান থেকে গল্পের কোনো লিখিত ডকুমেন্ট পাওয়া যাবেনা। তাই ভবিষ্যতে কি হতে পারে সেটা বলে যাওয়া আমার কর্তব্য কিভাবে হোমোসেপিয়েন্স থেকে আমি পদ্মবীজ হয়ে যাব আর এই জাগতিক মেঝে দোলনা এরা উপনিবেশ গড়বে মানবিক সভ্যতায় তার পূর্বাভাস। কোনো এক প্রাচীন সভ্যতার আবিষ্কার করতে গিয়ে কোনো এক ঐতিহাসিক উদ্ধার করছে এই নথি আর দেঁতো হাসি হেসে বলছে, শালা মানুষের বাচ্চাগুলোর কি ইনটিউসান ছিল মাইরি। সমূলে নির্বংশ হয়ে আমরা তখন তেফসলী জমির নেপথ্যে বসবাস করছি






(১)
পোষ্টমর্টেম
একটা গতিহীন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি আমি। কেউ নড়তে চাইছেনা। বাসগুলো স্থির দাঁড়িয়ে আছে। স্থবির হয়ে আছে গতজন্মের রুমাল। ইলেকট্রিকের তারে ধ্যানস্থ হওয়া কাক কোনো মেনকার প্রতীক্ষারত নয়। কোনো ক্যাফের ভেতরে বসে থাকা মানবীর প্রতিবিম্বতেও উপচে পরছেনা মেয়োনিস। যেন মনে হচ্ছে দূরে কোনো আততায়ী টার্গেট সেট করেছে। সবাই মর্তুকাম। সবাই সেই আততায়ীর সহজ শিকার হতে চায়। সবাই চায় হাসপাতালে কান্নার রোল উঠুক। অগুনতি আত্মীয় প্রজাতি কেঁদে উঠুক হাসপাতালের লোহার বিছানার নিচে বসেকেউ মাথা ঠুকুক তার পাশে মলিন হওয়া হলুদ দেয়ালে যেখানে নাইট শিফটের নার্স শেফালির জন্য ভালবাসার কথা লেখা থাকে অথচসেই চিঠি শেফালি পড়ার আগের প্রহরেই মৃত্যু ঘটে লেখকের। শেফালিগুলে রাখা হরলিক্স কমোডের অন্ধকারে ফেলে দেয়। আর ফেলে দেয় স্বচ্ছ শাড়ির আড়ালে ভাস্মর হয়ে থাকা অন্তর্বাস। সেটার আর কোনো উপযোগিতা ছিলনা তার কাছে
হাসপাতালের আশেপাশের বাড়িগুলো হতাশার প্যাসিভ স্মোকিংএ বেঁচে থাকে। মানিপ্ল্যান্টগুলোকে দেখে মনে হয় উদ্বায়ী। ওরা এখুনি বাষ্পীভূত হয়ে যেতে চায় অথচ ওদের প্রেসার কুকারের সিটি শুনিয়ে ভুলিয়ে রাখা হয়। সিটি শুনতে পেলে ওদের নেশা জাগে। কোনো এক ভোরের লোকালে শহর পাল্টে ফেলা কাজের মাসী যার তৃতীয় মেয়ের বর পাতা খায় বলে মেয়ে কাল রাতেই শাঁখা-সিঁদুর সমেত পালিয়ে এসেছেসে এগিয়ে আসে ওই গাছগুলোর দিকে। এক ডেকচি গরম ডাল ঢেলে দেয় গাছের গোড়ায়। গাছেরা হাসেডানা মেলেএ পৃথিবীর প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া দেখবার মত নেশা হয় তাদের। এভাবে কোনদিনই পালানো হয়না তাদের। গাছের গোড়ায় গরম ডাল ঢালার কিছুক্ষণ পরে বেডরুম থেকে বেরিয়ে আসে এক সাদা পাজামা পরা পুরুষ। গাছের সামনে বসে সে সেতার বাজাতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে সেও নেশাগ্রস্ত হয়। নেশাগ্রস্ত একটি গাছের ছায়ায় বসে নেশার মিথোজীবিতা পালন করে একটি মানুষ। কোনো একদিন কাজের মাসী এসে কলিং বেল বাজায় খুব,কেও খোলে না দরজা। পাড়াপড়শী দরজা ভাঙলে দেখা যায় মানিপ্ল্যান্টেরা উধাও। বিছানাতে পড়ে আছে পুরুষের মৃতদেহ। পুরুষের গলায় দুটি সবুজ হাতের ছাপ স্পষ্ট। পোস্টমর্টেমে জানা গেলক্লোরোফিল ওভারডোজ।




(২)
বিষমবাহু
একটি পিয়ানো বাজানো মেয়ে। ধরে নেওয়া যাক তার নাম জুঁই। আর দুই ভদ্রলোক। এক ভদ্রলোক বিপত্নীক। এক ভদ্রলোক অবাবাহিত তাই নিজেকে তরুণ ভাবেন এখনো। প্রথম লোকটির একটি কন্যাসন্তান। জুঁই তাকে পিয়ানো শেখায়। জুঁই এর মা থাকে মফস্বলে। প্রত্যকে সপ্তাহান্তে জুঁই বাড়ি যায়। আর সপ্তাহটা কাটায় একটি পিয়ানো-অধ্যুষিত ঘরে। সে ঘরের বাসী কোনো ঘড়ি। সে ঘরের ত্রিকোণমিতি ফুলদানি। সে ঘরে বসবাস করে তিনটি মানুষ। যাদের প্রত্যেকের অস্তিত্ব অন্য একজনের সাথে জড়িত। এই দুইটি দুইমানুষ মিলে তৈরী হলো একটি তিনমানুষ।
সমস্যা হলো এই তিনটি শীর্ষবিন্দুর একটিকে নিয়ে। যার ঈশান কোণে তৈরী হচ্ছিল আরেকটি দুইমানুষ সম্পর্কের খেঁজুর গাছের স্বপ্নময়তা। অপরপ্রান্তে দুটি দুইমানুষ সম্পর্কের যে দুটি শীর্ষবিন্দু আলাদা ছিল,তারাও একটি নতুন দুইমানুষ সম্পর্ক তৈরী করতে ইচ্ছুক হচ্ছিল। অর্থাৎ মোটের উপর একটি ত্রিভুজ এবং তার একটি শীর্ষবিন্দুতে তৈরী হলো আরেকটি চতুর্থ বাহুর সম্ভাবনা।
সপ্তাহের শেষ। যখন ত্রিকোণমিতি ফুলদানির ফুলেরা আবদার করছিল মফস্বল দেখবার। সেখানে নাকি মুরগি লড়াই হয়,সেখানে নাকি কেউ হসন্ত বলতে পারেনাসেখানে নাকি দেয়াল জুড়ে সিঁদুর ও আলতার বিজ্ঞাপন। অথচ একটি রহস্যময় লোক পিছু করে জুঁইয়ের। একটি ট্যাক্সির পেছনে আরেকটি ট্যাক্সি। একটি হাস্নুহানার ঝোপের আড়ালে একটি রিভলবারের গন্ধ। ওদিকে একটি দুইমানুষ সম্পর্ক বিবাহ চায়। আরেকটি চায় সম্ভোগ। তার মাঝে জেড এক্সিস থেকে রিভলবারের গন্ধ ভেসে আসছে। এভাবে একটি জ্যামিতির অঙ্ক তৈরী হলো। একটি সরলরেখার ডাক পড়ল রহস্য সমাধানে। সরলরেখা সরলরেখা হলেও মাঝে মাঝে তার শীর্ষবিন্দুগুলি একক অস্তিত্বে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে সরলরেখার ঘাড়ে। সরলরেখা ক্লু খোঁজে। গরম স্যুপের ঢাকনার ভেতরে লুকিয়ে থাকে ক্লু। আরো এক নতুন দুইমানুষ তৈরী হবার আগে কামড় বসে বাষ্প হয়ে আসা খিদের ঘরে জমতে থাকা কাটলেটে। ক্লু এর কিছুটা অংশ আটকে থাকে দাঁতের খাঁজে। আর কিছুটা ক্লু আটকে থাকে হাইওয়ের ধারে যেখানে দ্বিতীয় পুরুষ সম্ভোগের বিতংস সাজিয়ে বসে থাকে। বহুভুজেরা পরষ্পরকে সন্দেহ করে। টুপ করে নতুন ক্লু ডুবে যায় লালদীঘির রুইমাছের পেটে।
**Inspired by: "The Adventure of the Solitary Cyclist",

a short story by Arthur Conan Doyle



(৩)
একটি জ্যোতির্ময় শিশু আসে
ফাতিমা বিবির ছেলে হঠাৎ লটারি জিতে গেছে। কোনো এক গলাবন্ধ সোয়েটার বোনার স্বপ্ন দেখা ভোরে ছেলে বাড়ি ফিরে এলো। ইঁটের রাস্তা ধরে ধরে সাইকেল এগিয়ে আসে অসংলগ্ন ছায়াপথের লোকাসের মতো। একটি মুরগি লবেজান হয়ে আড়াআড়ি রাস্তা পার করে। এক অসূর্যম্পশ্যা শিশু টায়ার পেটানোর দৃশ্যকল্প ভাবতে ভাবতে ভোটের আগে রাতারাতি বানানো কোনো নালায় হাগতে বসে। ফজরের নামাজের মাজুলি নগরীর এক চক্কর শেষ হবার হিসেব সেই আবহমান গাঁট গোনার মধ্যগগনে। প্রথম বৃষ্টিপাতের ছাঁট এলো দেওয়ালে। ফাতিমা বিবি ছেলের মুখ আন্দাজ করে উঠতে পারেনা সূর্যের বেশ্যাখানা তখনো খোলেনি বলে। তার ভয় হয়। কোনো নির্লিপ্ত ঘোড়ার আস্তাবলে কুমারী মায়ের প্রসবযন্ত্রণার মতো ভয় হয় তার। ছেলেকে অজাতশত্রু খাটে বসতে বলে সে শরবত বানাতে যায়। ভাবে এই টাকা ঘরে রাখা যাবেনা। কারণ তার ছেলেকে সে হাড়ে হাড়ে চেনে। সে জানে এই যে এখন যে ছেলে বালিশে মাথা রেখে দু মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে যাবেযাকে দেখে মনে হবে সে কোনো দূরগামী ট্রেনের জেনারেল কম্পার্টমেন্টে চড়ে অন্য এক শহরের পাততাড়ি গুটিয়ে মায়ের কাছে চলে এসেছে। আসলে সে আসক্তআসলে সে চোরআসলে সে এক পরিত্যক্ত ফুড কর্পোরেশনের অফিস ঘরে বসে এক অজানা রঙের রাংতায় অগ্নিসংযোগ করে। রাতের পর রাত তার বাড়ি ফেরা হয়নাউধাও হয় এক একটি খানদানী নিশানী। ফাতিমা বিবি ছেলের কর্মস্থল সম্বন্ধে অবগত নয়। তবু স্বপ্ন আসে। একটা পরিত্যক্ত ঘর। ঘরময় ধুলো,মাকড়সার জালআকন্দ ফুলের গন্ধ। একটা শুঁয়োপোকা ঢুকে যাচ্ছে অতিকায় এক বিড়ির ভেতর। একটা বাদুড় ঝুলছিলো সিলিঙে। তার স্তনবৃন্তে হাজার হাজার রুপোলি মাছি বসে আছে। কয়েকটা ছোট ছোট প্লাস্টিকের কাপ,তার ভেতরে শুয়ে আছে এক একটা এক আঙ্গুল লম্বা মানুষ। প্রত্যেকেরই মাথায় ফেজ,সেই কাপের মেঝেতে বসে দিনভর নামাজ পড়ার শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাদের। তারা কোরান বহির্ভূত কোনোশব্দ উচ্চারণ করার ক্ষমতা হারিয়েছে। হঠাৎ পুরোনো কাঠের জানলার অলিন্দ অতিক্রম করে তার ছেলে প্রবেশ করে। ঘরের মধ্যে রাখা টেবিলটায় রাখা ছিল অনেক ফাইল। তার ভেতর অনেকগুলি ঘর। সেরকমই কোনো একটা ঘরে সে ঢুকে যায় আর আসে এক আত্মঘাতী গন্ধ। আকন্দ ফুলগুলি পাঁপড়ি খুলে দেয়। ঐ গন্ধ বিষ্ফোরণকে শুষে নিয়ে তারা একটু একটু করে গন্ধ মিশিয়ে দেয় বাতাসে।

ফাতিমা বিবি বুঝতে পারেনা কি করা উচিত। কখনো ভাবে একটা অটো রিক্সা কিনে দিক ছেলেকে। আর তার আয়নায় রেখে দিক একটি অন্তর্গামী হুরের সম্ভাবনা। একটি রাতের পাঁচিলে যখন ঘুমিয়ে যায় গোটা মফস্বলতখন সেই হুর জ্যান্ত হয়ে ওঠে। পর্যাবৃত্ত ছুঁচে অভ্যস্ত শরীর আস্তে আস্তে ছুঁয়ে যায় হুরের শীতলতম কাফন। একটি শহর যখন ভোরের প্রথম লোকাল ট্রেনে কিশোরকণ্ঠী হবার গানগুলি সবুজ কালিতে দাগ দেয়একটি পুরুষ ধীরে ধীরে কোনো পাললিক শিলার মূর্ধন্য স্তরে গিয়ে হুরের প্রতি আস্থা হারায়। এমতাবস্থায় ছাগলের পিঠে চেপে একটি জ্যোতির্ময় শিশু আসে কিন্তু ইউ এস বি চার্জারের নিষ্প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে সে ছাগলটিকে অমরত্বের গুনাগুন প্রদান করে জান্নাত-উল-ফিরদৌস এ পাঠিয়ে দেয়।




কত বিমর্ষ লোহা

অনেকদিন লেখায় না থাকাটা অনেকটা শীতের না-স্নান বিলাসের মত। অথবা সদ্য বাবা হবার পর পৌরুষত্ব প্রমাণের প্রয়োজনহীনতার মত।সমস্যাটা হয় আকস্মিক লিফট বন্ধ হয়ে যাওয়াতে। তার না থাকে মাথার উপর মানুষের আনাগোনানা থাকে ফানুসের ত্বরণ ও মন্দনের স্বয়ম্বর সভা। আকাশের কোনো এক মন্দাকিনী উচ্চতায় অলকনন্দা সেনাবাহিনী অস্তমিত হয়। ভিসুভিয়াসের পাদদেশে পিঁচুটি চোখে আসে স্নেহের মিসিসিপি। মহম্মদের আদেশনামা নিয়ে উপস্থিত হয় সবুজ সোনাব্যাঙ। বর্ষা আসবে এমন জনশ্রুতি শোনা যায় বীজাণুদের রোয়াকে। কেউ কেউ অতিরিক্ত চোখ ধার দেয় অন্য বীজাণুদের। শ্যাওলা পড়ে প্রকৃতিতে।
কত বিমর্ষ লোহা তরল হবার ভয়ে শীতঘুমে যাবার প্রস্তুতি নেয়। কোনো বিপরীতধর্মী ঋতু উছলে ওঠে আর কেউ তাকে বন্দী করে ফেলে আগুনের ব্যবহার না জানা মানুষের টেস্ট টিউবে। এভাবে এক তেজস্ক্রিয়তা ছেয়ে যায় ঘোমটা জুড়ে। প্রত্যেকসকালে সিঁদুরের জন্ম হয়। প্রত্যেক রাতে কোনো নারী মাথা পেতে বসে থাকে নিচু হ্রদের পাদপ্রান্তে। একটি মাছ এসে সিঁদুর খেয়ে যায়। একটি নারী ও একটি মাছের এহেন সম্পর্কের কথা রাষ্ট্র হয়ে যায় জলপথে। ভারত মহাসাগরের মৎস্যকন্যা প্রজাতি ভাবতে পারেনি দীর্ঘদিনের এইসব অনাবিষ্কৃত পান্ডুলিপির ভেতর থেকে চিনির কৌটো খুঁজে নেবে কোনো বিকারহীন হার্মাদ কোরাল।
যেসব নাজুক শামুক শুয়ে থাকে ডাইনিং টেবিলের নিচে তাদের মানুষ গবাদি পশুর মর্যাদা দিল। গভীর গ্লাসে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয় ভাতের কণাগুলি। ক্যালকুলাস জানা ছেলেটি বই মেখে ফেলে সাবানের সাথে। দেওয়ালে তার নগ্নতা পর্যবেক্ষণ করে কোনো স্থূল আতস কাচ। যে ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ সেগুলো লাগিয়েছিল জনঘনত্বহীন দেওয়ালে তাদের সমাধিস্থ করা হয়েছে। কয়েকটি মানুষ মেরেছিল বলে তাদের নাকি বেহেস্ত জুটবেনা। একটি মটর গাছ চুমু খাচ্ছিল প্রকাশ্যে। তাকে ড্রেন রং করার শাস্তি দেওয়া হলো যাতে দৃশ্যদূষণ না ঘটে।



একটি পায়রা ও একজন মহাপুরুষ

একটি পায়রা ও একজন মহাপুরুষের কথা। একটি পায়রাখয়েরি ছোপের আকাশ আটকে থাকা তার ডানাগুলি। একজন মহাপুরুষ,যিনি দিনের পর দিনকাটিয়ে দিচ্ছেনশহরের একটি অখ্যাত হোটেলে। যিনি যন্ত্রের মত এক্সপেরিমেন্ট করছেন তার অজ্ঞাতনামা ল্যাবেযিনি সমস্ত পৃথিবীতে নিখরচায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবার স্বপ্ন দেখেন। যার রাতঘুমে ভিড় করে একটা ট্রাফিক সিগন্যাল। দুপাশ থেকে হাজারো ইলেক্ট্রনের আনাগোনা। কখনো লাল হয় সিগন্যালতিরিশ সেকেন্ডের জন্য গতিরোধ হয় অসমাপিকা ইলেকট্রনগুলির। পারাপার হয় কিছু উদাসীন নিউট্রন কণা।যাদের না থাকে বাড়ি ফেরার তাড়া,না থাকে নারীর ভালবাসানিস্তড়িত ভাবে ঘুরে বেড়ায় তারাকারো কোনো স্থায়ী ঠিকানা অথবা স্থায়ী ভালবাসা থাকেনা। ভালবাসার স্থায়িত্ব অথবা একমুখীতা তখনো আবিষ্কৃত হয়নি। ভালবাসা ছিল তরল। কখনো কোনো রাতের নিস্তব্ধ নিভে আসা ব্রীজে কোনো পাগলী ভেসে যেত মুখস্থ না করা জ্যোৎস্নাতে। কখনো মৃগেল মাছের পুকুরেরমৎস্যকন্যাএসে কড়া নেড়ে যেত কোনো গৃহস্থের দরজার শেকলে
মহাপুরুষের কথা। একটি মহাপুরুষ। যিনি কখনো কোনো নারীর ব্লাউজে ভালবাসার গন্ধ পাননি। একটি মহাপুরুষ,যিনি হাজারো নগ্ন দেহের ভিতর একটি পিপেট ও একটি ব্যুরেটে মনোনিবেশ করেছেন। যিনি চাইছেন পৃথিবীটাকে বদলে দিতে,উপচিয়মান যৌনথলির ভার যার বেডশিট বহন করেছে আর করেছে ওই আর্দালিরা। এমন বীতকাম পুরুষ তারা কেউই দেখেনি। এর মধ্যে ভাস্মর হয়ে থাকা একটি পায়রা। যাকে মন দিয়ে ডাকলে সে এসে যায় কোনো তুষারাবৃত জানলায়। যার হৃদযন্ত্রে রাখা থাকে তেজস্ক্রিয় কোনো চেতনা। একটি পুরুষ সেখানে প্রবেশ করতে পারে। একটি পুরুষ ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটায় সেই পায়রার সাথে। কেউ কারো ভাষা বোঝেনা,কেউ বোঝেনা কারো অবচেতনের অংশটুকু। রাত বাড়লে পায়রা চলে যায়। পুরুষ বাধা দেয়না। একটি পায়রা একটি পুরুষের প্রেরণা হয়ে আসে। এভাবে ভালবাসার উদাহরণ তৈরী হয়। যে উদাহরণ দিলে পারভার্ট হয়ে ওঠে টেক্সটবুক। যে উদাহরণ দিলে সাইটেশন এর অভাব ঘটে। সেই পায়রার সাথে কোনো চাঁদের আলোয় বিদ্যুতহীন এক ইউটোপিয়ায় মিশে যাবে একটি মহাপুরুষ। কয়েকটি ইলেকট্রন তাদের মৃতদেহ বয়ে নিয়ে যাবে। অবশ্য পায়রার কোনো উইকিপিডিয়া লেখা হবেনা। মহাপুরুষের কফিন দ্রবীভূত হবে কোনো আয়তক্ষেত্রাকার মাটির গহ্বরে।

“I have been feeding pigeons, thousands of them for years. But there was one, a beautiful bird, pure white with light grey tips on its wings; that one was different. It was a female. I had only to wish and call her and she would come flying to me. I loved that pigeon as a man loves a woman, and she loved me. As long as I had her, there was a purpose to my life.”
~Nikola Tesla



একটি রবীন্দ্রসন্ধ্যার কথা

একটি রবীন্দ্রসন্ধ্যার কথা বলা যাক। একটি সন্ধ্যাতেফসলী একঅডিটরিয়াম ও বহুমাত্রিক অডিয়েন্স। পর্ণমোচী উদ্ভিদের পাতা ও পর্ণরুচি মানুষের উপবৃদ্ধি ঝরানোর দিন। জমজমাট ছিল সভাগৃহ। তার ডান অলিন্দে ছিল ছাপোষা পায়রাবাম নিলয়ে ছিল কেচ্ছাপ্রবণ গ্রীনরুম। যেখানে বিদেশ-গিয়ে-ভুলে-গেছ টাইপ প্রেমিকা ও বাদ্যযন্ত্রে-অ্যাসিড-ভরা-থাকে জাতীয় অল্টারনেটিভ রক সঙ্গীতশিল্পীর দৃষ্টি বিনিময় প্রতিবন্ধকতাময় হয়ে ওঠে।


আর থাকে পৌনঃপুনিক প্রবেশ পরমহংসের। যাকে প্রত্যেক প্রহরে পাঞ্জাবী বদলাতে হয়প্রত্যেক নারীতে বদলাতে হয় আতরের ব্র্যান্ড। মুশকিলটা হলোপ্রত্যেক নারীও পরষ্পরের গন্ধ সম্বন্ধে এমনটি অবগত যে স্বrapধন্য ডিরেক্টর কিউ থাকলে অনায়াসে জাবৃস্কি পয়েন্টএর অর্জির দৃশ্যটা রিক্রিয়েট করে ফেলতে পারতেন। অবশ্যই পরমহংসেরসাথে ছিল তার পরিবার। যে পরিবারের ঠাকুরদা স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধীর কোলে শুয়ে রূপার চামচে দুধ খেয়েছেনযে পরিবারের বাবা বৃহল্লাঙ্গুল ছদ্মনামে ফানন্দহাট পত্রিকায় প্রত্যেক বেস্পতিবার কলাম লিখে ডলার দেশে পেনীমাধব হয়েছেনযে পরিবারের মা ৪০ বছর বয়সে সবচেয়ে বেশিবার মাগো-আমায়-ছুটি -দিতে-বল আবৃত্তি করে লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে নাম তুলে ফেলেছেন এমনকি যে পরিবারের ছেলে অর্বাচীন বয়সেই এমন ভিয়োলিন বাজায় যে দর্শক ছ্যার ছ্যার করে কেঁদে ফেলে। অবশ্য সমস্ত দর্শক কাঁদতে পারেনা। তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা ও প্রত্যুত্পতিমন্নতার মাঝামঝি কিছু প্রতিষ্ঠানবিরোধী চেয়ারে বসে মাইরি-অনুষ্ঠান-কখন-শেষ-হবে-হেবি-খিদে-পেয়েছে মূলক হাংরি জেনেরাসনের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ও এ.সি র তাপমাত্রার একটা ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক আছে। মধ্যযুগীয় গিলোটিন যন্ত্র ব্যান হবার পর থেকে এহেন বেশি-ট্যাফো-করলে-পেটে-ঢুকিয়ে-দেব অস্ত্রগুলি প্রতিষ্ঠান বিরোধী লোকজনদের ভয় দেখানোর কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ওদিকে বুদ্ধ আটকে থাকেন ট্র্যাফিক জ্যামে। মাহী গিলের ব্লাউজ ছেঁড়ার দৃশ্য দেখিয়ে বাঙালির প্রাণের ভিলেন বিপ্লব চ্যাটার্জির পুণর্জন্ম ঘটানো হয়। অনড় থাকে রবীন্দ্রজয়ন্তী রবীন্দ্রজয়ন্তীতে। পরবর্তী স্টেশনের ঘোষণার মত স্থবির হতে হতে বাবু-এই-দুমাস-হলো-শিখছেআমরা-সেন্টু-কোটা-নাচের-জন্য-কস্টিউম-লাগে-নাগীতবিতান-থেকে-টুকে-এ ফোর-কাগজে-দেখে-দেখে-গান-করি সন্ধ্যে রাত্রে এসে গড়ায়। বিষণ্ণতা লেগে থাকে আলু পোস্তের নুন-কেন-কম-হলো আক্ষেপে। বেগুনী সার্বজনীন হবার আনন্দে পরের ব্যাচের উদ্বেল স্বাদকোরকে বিলীন হয়। শেষ ব্যাচে এসে শিথিল হয় নিয়ম। যে বৃদ্ধ পরের বছর অবসর নেবেসে বেশি বেশি করে লেগপিস পরিবেশন করে। তার কাছে ছোট-মেয়েটা যার অনেক দূরে বিয়ে হলো তার বরযাত্রীর সাথে এই আমরা-সবাই-রাজা ভলেন্টিয়ারদের কোনো প্রভেদ ছিলনা।


অর্ঘ্যদীপ রায়
Arghyadip Roy