Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS

Ananya Bandyopadhyay


সৎলেখা ১



আমরা দুজনেই রাস্তায় থাকি
রাস্তার এ পারে তার মশারি
ও পারে আমার বিছানা
সরাসরি আমাদের কথা হয় না
একটা কাক আছে
লোকে তাকে অভদ্র বলে
সে মাঝে মাঝে আমাদের চিঠি চালাচালি করে
অভদ্র পূর্ণিমায় এলে
অমাবস্যায় তার দেখা মেলেনা
কখনো ঠিক উল্টো
তখন আমরা চিঠির বদলে
হাত নেড়ে কথা বলি
রাত্রি জাগি
সূর্যের অবস্থান মাপি
পৃথিবী কতটা গোলাকার
এই সব আলোচনা করি
মাঝে মাঝে সোয়েটার বুনেদি একে অপরকে
তারপর ঘাম মুছি
রুমাল শুকিয়ে আকাশে টানাই
আমরা দুজনেই রাস্তায় থাকি
আমরা কখনো সিংহাসন খুঁজি না।





মাত-(শো)-ন্যায়

কখনো যদি সিন্ধুর পর বিন্দু আসে কিমবা ফাগুন ঝড়ে জলাশয় তৈরী হয়, সমস্ত মেঘেরা দল বদল করে মাটিতে হাঁটেচলে, বৃষ্টির বদলে ক্ষরবায়ু ভিজে যায় তখন সেই উল্টো ডিঙার ওপর বসে তুমি মাছ ধরছো, আকাশ বলে কিছু নাই, বাতাস নামের কৌটায় মাছের চারা রাখা, এমন সময় যেই না তোমার বঁশি ফাগুনে গেঁথেছে মৌরি নামের একটা মাছ শুকনো কিছু জলতল বেয়ে উঠে এলো, তুমি ড্যাবা ড্যাবা চোখে তারে চাহিবার লাগিলে, সে হাত ধরি তোমায় ডাকিবার লাগিলো
মাছ ডাকিবার পায়? হাত নাড়ায়? এও সত্য হতি পারে ডিমকুমার তোমার তা জানা ছিলনা।
চলোনা একবার যাই, গিয়া দেখি কি আছে ওই শুকনা জলের নীচে।
জলকাবারি জলকাবারি দুইবার চোখ বুজে বোলতেই, ডিমকুমার আমাকে নিয়ে জলের নীচে। এখন আমরা পৃথিবী থেকে দেড় শতাব্দী দূরে, জলতল থেকে ৫০ আলোকবর্ষ, এইখানে কোনো হিসাব নাই, হিসাবের পূর্বপুরুষ শেরাদ্ধ খেতে গিছে কার জানো। ডিমকুমার কথা কইছেনা, ভাবছে একোন দেশে এলুম মোরা দুজনায়, মৌরি তখন খলত বলত করতে নাগিছে দুলে দুলে বলছে দেখো ওই আমাদের বাসা এই কাদার সাগর পা করলেই তোমরা আমার বাসার দরজা খানা দেখতে পাবে। আমার কাছে দুইজোড়া সিগারেট আছে কি মুশকিল শুকনা জল কিন্তু সিগারেট ধরাই কি করি? জল পড়লেই তো আগুল নিভি যায়, এতো সেই প্রস্তর যুগ থেকে চলছে এখন আমি যদি শুকনা জলে আগুন ধরাই সেইটা একখান এথিকাল গোলোযোগ হবেনি? কি করি?
যাক !!
এখন আমরা কাদার সাগরে কোনো সি-গার্ড তো দেখিনা কোনো লাইট হাউসও নাই তার মানে জলের বহুতলে নিয়ম বাসা বাঁধে নাই,  নিয়ম বলতেই মনে পড়ে যায় একটা তালগাছ তার পাশে চন্দ্রমা ঝোলে, দূর থেকে তারে বড়ো সুন্দর দেখায় মানি চলবার মনচায় কিন্তু ধরিবার গেলেই তালগুলান ঘাড়ে এসে পড়ে।
মৌরি মাছটি ভারি থলবলে, সকল মাছের মতোই ওর গায়েও আঁশটে গন্ধ চড়বড় করে পেটের ভেতর কিজানি কি লুকিয়ে থাকে, আমি মনোযোগ দিয়ে দেখতেও পাচ্ছিনা, যদি মৌরি রাগি যায়? মাছরে রাগায়ে আর কি হইবো? তার এমনি যথেষ্ট কারন আছে আমাদের ওপর রাগিবার। এতোকাল ডিঙায় চড়ি মাছ ধরতুম আর টপাটপ ভাজা করি খাইতুম আমি আর ডিমকুমার। মাছের কচুরী, মাছের ঝাল কত কিছু দিয়ে প্যাট ভরাইছি দুজনে তাইনা মাছের দল রাইগ্যা গিয়া মেঘের সাথে শলা করছে, মেঘ গুলান রাস্তা দিয়ে হাটতাছে আর আমাগ জলতলে নিয়া গেছে। আচ্ছা ওরাও কি আমাদের ভাজা করি খাবে? টক টকা টক মানুষের রেসিপি, দুই একটা বই পড়ে আসলে কাজে দিত, at least একটা conception পাওয়া যেত মাছেদের খাওয়া নিয়ে।
ইশ
এতোকিছুর মাঝে তাকেই দেখিনাই এতক্ষন ব্যাটা ডিমকুমার থ হয়ে আছে, কিছুই কয়না, ওর ঠোঁট গুলায় যানো কেউ তুলসীপাতা রাখি গেছে ওই মরে যাওয়ার পর যেমন চোখের ঊপর রাখে যাতে মরা মানুষটা আবার জ্যান্ত হয়ে গিয়ে পপুলেশান না বাড়ায় তেমনি ওর ঠোঁটেও তুলসী পাতা রাখা ও আর ঠোঁট খুলবেনা কথাও কইবেনা no sound pollution
ওহ এই কাদার সাগরটাতো বড্ডো খলবলা, আমাদের ওই খানে কাদার ভিতর ঢুকি যাওয়া যায় আর এইখানে কাদা পার করি নাকি আমরা একটা বাড়িতে পৌছাবো।
সত্যিইতো একোন বাড়ি? সেখানে গিয়া কি কোনো নিঃশব্দের সাথে আমাদের আলাপ হবে? নিঃশব্দ নিশ্চই মাথায় মুকুট পরে?
ভয় পাবেন না দাদা এ নিঃশব্দ সে সে নিঃশব্দ নয় যাকে আপনারা ধরতে চান, নিঃশব্দ হলো এইখানকার এক বিশেষ মাছ, তলে নামার সময় মৌরি বলেছিলো।
তা যাহোক
অবশেষে আমরা সাগর পাড়ায়ে মৌরির দরজার সামনে, এতোক্ষনে বিষয়টা clear হইলো, মাছের নাম মৌরি শুনে শেষ পাতের কথা মনে পড়ছিলো, ঘন ঘন ঢেঁকুর তোল্বার ইচ্ছা জাগছিলো, এই মাছের নাম মৌরি কেন? ওর সমস্ত বাড়িটা মৌরি দিয়ে বানানো, বেচারা মাছেরা নিজেদের সাথে খাওয়ার থালার সম্পর্ক আলাদা করতে পাড়ে নাই একেই বলে যুগযুগ ধরে চলে আসা...
যাক গে!!
দরজার সামনে দাঁড়াতেই মৌরি বললো দাঁড়াও আগের নিজেদের গায়ের কাটা গুলা ঝারি ফেলো, আমি বললাম আমদের গায়ে কাটা আছে নাকি? সে বললো আছে তোমরা দেখতে পাচ্ছনা, ওই খানে কিছু শুকনা জল রাখা ওই দিয়ে নাহায়ে নাও। কেসটা হলোকি আমাদের গায়ে যতো দুশ্চিতা সব ঘাম দিয়ে বে হয়, লব হয়ে বেরোয় মাছেরা লব সহ্য করতে পারে না তাই এই স্নান।
ঘর দিয়ে ঢুকতেই দেখলাম হলুদের পাহাড় পৃথিবী থেকে হলুদ সরাবে বলে ওরা অনেক আগেই যোগ করেছিলো আমরা মন দি নাই কয়লা নিয়ে ব্যাস্ত ছিলাম। এখন সমস্ত হলুদই এইখানে থাকে
এরপর একেএকে আলাপ হইলো সেই সমস্ত উপকরণের সাথে যা দিয়ে মাছ রান্না করা যায় এমনকি কাটকোট্টা বঁটিও ছিলেন সেই দলে, হায়রে পৃথিবীবাসী তোমরা ভুখমারি তে নাইতো তোমাগো জন্যে মন কেমন করে।
হলুদ লব পাহাড় cross করে সোজা একটা সিঁড়ি চলে গেছে, এইখানকার সিঁড়ি গুলানও কেমন জানো কথা কয়, নড়িচড়ি পারে, আমাদের ওখানের সিঁড়ি গুলানও নড়ে কিন্তু নির্দেশানুসারে এই সিঁড়ি গুলানের কোনো নির্দেশ নাই ওগো কেউ নির্দেশ দেয়না ওরা যখন যেমন তখন তেমনই চলে বলা যায় ওইখানি ওদের মন্ত্র।
কোনো মতে সিড়ির যেমন তেমন ঘুচায়ে ওপরে উঠি আসলাম, ডানদিক বামদিক বলিতো কিছু নাই যেদিক খুশি ঢুকি পড়লেই তোমার ঘর হই যাবে। আমি আর ডিমকুমার যে ঘরটা নিলাম সেইখান থেকে জলতলের খানিক যাতায়াত দেখা যায়। এখনো কোনো বড়ো সড়ক হয় নাই কয়েকটা তার লড়বড় করতেছে হয়তো ওই খানেই একটা বিরিজ হবে।
মনে মনে বলি দেখো বিরিজ জানো ভাঙ্গি না পড়ে। তারপর মনে হয় ইরা তো মাছের দল ইদের নিশ্চই বেশি ক্ষুধা নাই, বাড়িতে যে aquarium আছে সেখানে দিনে দুবার পিঁপড়ের মতো দুটো গুলি দিতে হয় তাতেই মাছের ক্ষুধা মেটে এরা নিশ্চই তার থেকে আলাদা কিছু নয়।
এখানে এসে বিপত্তি ঘটবে না কোনো পত্নী জুটবে তা জানিনা তবে যেটা জুটবেনা তা হলো জামাকাপড়। কি ঝামেলা  শুকনো জলেও তো সুতির কাপড় বেশি পরা যাবেনা, জলের ধম্ম কাপড় পচায়, কিছুদিন আগে ঘর মুছে কাপড়টাকে বালতি থেকে বে করি নাই কি পচা গন্ধটাই না হয়েছিলো। মেরেছে আমার গা দিয়েও কি ওই রকম পচা গন্ধ বের হবে নাকি? ডিমকুমারের তো সে সকল বালাই নাই ও কবেই জামা কাপড় পড়া ত্যাগ করেছে, বাড়ি থেকেও বেরোয় না কেউ ওকে accuse ও করেনা। কিন্তু আমি এখন কি করি? কি ছেড়ে কি পরি? ভাবতে ভাবতেই পা ওয়ালা একটা মাছ এসে হাজির, ‘ওইযে চেয়ারে কিছু আঁশ রাখা ওই গুলাই গাইথ্যা নেন গায়ে, আরাম পাবেন’ বলেই সে হাওয়া।  মাছেদের দেশেও কি টেলিপ্যাথি সম্ভব? হতেও পারে, ওদের তো আর টেলিফোন নাই।
এই মাছটার শুধু পা আছে হাত নাই, মৌরির হাত ছিলো পা নাই, মাছের সম্পূর্ণ মানবিক বিবর্তন সম্ভব নয় বিজ্ঞান বলেওতো একটা বস্তু হয় নইলে আর কেনো ঘটা করে life science এ কত পেলে? physical science কেমন লাগে এইসব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়?
মাছের আঁশ পরে আছি, নিজের মৎস্য সুলভ বিবর্তনে খুশি হবো না কান্নাকাটি করবো সেটাও বুঝতে পারছিনা, আমার কি নিজের অর্ধলুপ্ত মানব সত্ত্বার জন্য সাময়িক শোক জ্ঞাপন করা উচিত?
আজ রাত্তিরটা পেরোলেই কাল নিঃশব্দের সাক্ষা, একটা ভারী ভরকম নিঃশব্দ আমার আর ডিমকুমারের সামনে, আচ্ছা নিঃশব্দ মানে কি কোনো যন্ত্র নাকি শুন্য একটা ঘরে রাতা প্যাচানো একটা মানুষ যে হয়তো কখনো ডিমকুমারের মতোই ঠোঁটে তুলসী পাতা গুঁজেছিলো আর খুলতে পারে নাই কি জানি তবে মৌরির কাছে যা শুছি তা থেকে মনে হয় নিঃশব্দ ব্যাপারটা এইখানকার রাজা, এখন রাজ্য না তুলেও তো এরা একটা রাজ্যই তুলছে , রাজ্যে রাজা থাকবেনা? রাজা মুকুট পবেনা তা আবার হয় নাকি? আমি বাবা বড্ডো মানুষ এই সবের বাইরে ভাবতে পারিনে।
এখন আমার একটাই লক্ষ নিঃশব্দ খোঁজা, শুনেছি আমাদের সাথে এই মৌরি বাড়িতেই সে থাকে, তবে তার উপস্তিতির জানান এখনো পাই নাই। অধিক কৌতূহলে মানুষ মরে সে নিয়ম আমার জন্য কতোটা লাঘব জানিনা। গায়ে মাছের আঁশ পড়ে অর্ধ মছলি তো হয়েই গেছে। এখন ঘুমাই।
চলো
চলো ডিমকুমার, ওহ বড্ডো দেরি করে দিলে। অবিশ্যি এখানে ঘড়ি নাই সময়ের কোনো বালাই নাই, কেউ কারু থিকে সময় ধার করে নাই, কেউ কারুকে সময় দিতেও চায় নাই। চলো চলো নিঃশব্দে যাই নিঃশব্দ হয়ে যাই।
একটা প্রবল অন্ধকার বাসা বাঁধছে
ওহ বড্ডো ধুলো ঘরটাতে
কোথায় ডিমকুমার কোথায় তুমি?
প্রবল অন্ধকার প্রবল তার অন্ধকার
কত সময় কাটি গেলো জানিনা।
পৃথিবীর ওপর কি ঘটি গেলো জানিনা।
শব্দ শব্দ
কেবল একটা শব্দ
নিঃশব্দ তুমি কোথায়
!!!!!!!!!!

আমি এখন এখানেই থাকি। ডিমকুমারের সাথে দেখা হয় হাটতে চলতে। সে এখনো ঠোঁট থেকে তূলসীপাতা তোলে নাই। শুনেছি তার চিকিসা চলছে। জলতল বড়ো হয়েছে, এখানে মাঝে মাঝে কোলাহল শোনা যায়, কিছু ডানাওয়ালা মাছ কি যেন একটা নিয়ে আসে, সেটা দিয়ে আগুন ছোটায়, বস্তুটাকে আগেও কোথাও দেখেছি, পৃথিবীতে মনে হয়, আমার আর পৃথিবী যাওয়া হয়নি, নিঃশব্দের সাথেও দেখা হলো না, সেইদিনের ঘটনা বিশেষ কিছু মনে নাই, কেবল শব্দ কেবল শব্দ, বড়ো মাথা ধরে যায় আমার মনে করিনা।
এখানে একটা কাজ জুটিয়েছি ‘না রাজ্য’ জলতলে জীবিকারাও না হয়ে গেছে। তবুও মরচে পড়ার ভয়ে আমি রোজ সকালে এইখানকার সুড়ঙ্গ পর্যবেক্ষণ করি দেখি কোথাও কেউ হলুদ লবনের সন্ধান করতে আসছে কিনা? গাছের  গায়ে যে ইশকুল গজিয়েছে সেইখানকার বাচ্চা গুলা আলো দিয়ে ছবি আঁকছে কিনা?



নিয়ম না থাকারও তো একটা নিয়ম হয়, সেইটাও তো রক্ষা করতে হবে বলো?




ব্যাটারি তলের কথা
ব্যাটারি তলে
যে দেশ পড়ে থাকে
আমরা প্রতি নিয়তে তার চার্জার হই
একটু দুলে দুলে বসি তার চারপাশে
সে কেঁদে উঠবে এই ভয়ে
মাঝে মাঝে পাখা বোলাতে থাকি

ক বলে,
সকালের ডাল পোড়ার মতো
এবেলাও কিছু পোড়া জুটবে নিশ্চই
রোদ্দুরের সাথে ছাইপাঁশ পুড়ে গেলে
যে গল্প পাওয়া যায়
তা দিয়ে আমাদের প্রেম ঘটে বটে
কিন্তু বেচারা দেশ ওকে কে লাগাম দেয়?

এই শুনে খ বলে ওঠে,
ব্যাটারি থেকে বের করে এনে ওকে ফ্রিজেই রাখবো ভাবছি
দু কদম হাটলেই ওর পা মচকে যায়
লড়বড়ে বেচারার চারখানি হাত পা
একটু আলতো জুড়াক
ফিরিজের সাথে ঠান্ডা হাওয়ায় পুড়াক
দেখো যেন ব্যথা ট্যথা না পায়

কেউ তো আবার গ গ করে,
এই যে আমরা প্রতিদিন দেশ দেশ খেলি
দেশের ভেতর আলুসেদ্ধ গুঁজে দি
ওর নিশ্বাসে বায়ু চাই না বোলেরো তা ঠিক করি
ব্যাটারির মতো ওর low হয়ে পড়াকে
চার্জারের দোষ ভাবি
এসবে কি জ্বালাটাই না জ্বলে ওঠে
একটা সমস্ত হারিকেন দা দা করে
দেওয়ালে জাপ্টে পড়ে
দেশ বাবুর স্যুট টাই নিলাম হয়েছে কবে

এই শুনে সকলে মিলে হামাগুড়ি দেয়
দেওয়াল ঘড়ির পাশে ঘর বাড়ি ঝোলায়
সেই ফাঁকে ফিসফিসিয়ে আমি বলে যাই
কাছে এসো, শোনো শোনো

‘এতো রাগারাগি করে কিই বা করেছো উদ্ধার?
চশমা নিয়েই তো খোঁজাখুঁজি বারবার
যাও যাও লুডো পেটাও
দেশ টেশ সব বড়োলোকি কারবার




এবার শেষ করতে হবে
একটা সমস্ত দেশ পার করলে
যেভাবে গোটা গোটা অক্ষর ফিরে আসে
সারি সারি মাথা গুলো
ধু ধু কোয়াশার মতো হয়
তেমন দুটো মাথা খুঁজে পেলে
আমি সমস্ত শেষ করে দেবো
জানো পাখির পায়ের ভেতর 
আমি পাখা গজাতে দেখেছি বহুবার
কখনো জিজ্ঞেস করিনি
পাখি তোমার পাও ওড়ে?
অন্ধকারে
যখন সব গাছ ঘুমায়...
পাখি, আমায় উত্তর দিলে
আমি সমস্ত শেষ করে দেবো
হয়তো নতুন কোনো নীলে
ধরা দেবে আমারও হাত পা
কারোর ঘোমটা দেখে আমিও নিদ্রা যাবো
এমন বৃষ্টি দিও বলো হরি বলে
যেন শ্মশান না পোড়াতে হয়
তার আগেই বিদ্যুতের ঝলক এসে
তোমায় পুড়িয়ে যায়
বিছানার ভেতর শ্মশান ক্ষেত হলে
আমি সমস্ত শেষ করে দেবো

যেদিন সমস্তের ভেতর আরও কিছু গাছ হলদেটে হবে
সেদিন আমাকে ডেকো
আমি আবার ফাঁসির হাড়িকাঠে
ওজন মাপিয়ে নেবো 
যদি শ্যাওলা রমনী এসে
আমায় বসন পরায়
হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখে আমার হারগো
লোভেরা পার করে যায় পৃথিবীর ছায়াপথ 
আর প্রতি বৃষ্টিতে
একটা করে হাড়ি উপহার পায়
Below poverty line
আমায় ডাক দিও
আমি নিশ্চিত করে বলে দিতে পারি
সেদিন আর গৃহস্থের সকল ফুরোবেনা
আমি আর শেষের দিকে এগোবো না
বরং
এগোনোর দিকে আমরা সবাই
আরও একপা এগিয়ে যাবো।








   অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়
Ananya Bandyopadhyay 

Popular Posts