Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu

Ayan Ghosh

বরফকল

কবিতার জন্য কবিতার কথা ভেবে কবিতার খাতা থেকে শূন্যে বেয়ে কিছু বোমা বা
কিছুটা বমি ছুড়ে আচমকাই হেসে উঠবো
বর্জনযোগ্য ধুলোদের মতো চোখে লেগেই অন্ধকারে সংঘর্ষ আমি পালের বিপরীতে
একটু দৃষ্টিকটু অথচ লোভনীয় এইসব শব্দের মতো আমার যাবতীয় জঞ্জাল সশরীরে
বুকের ড্রয়ারে রেখে বরফকলের মোড়ে
বারবার ছুটে আসি আমাদের কুঁজো দেহ নিয়ে







নীল রিহ্যাব


একটি সহজ বল
পায়ে পায়ে এইদিকেই আসছে
খ্যালাটা আমাকে সাবধানতা শেখাচ্ছে
একটি কঠিন জাল
মানুষের ভঙ্গিমায় বিরলবরং প্রকাশ্যে
নীল ও নানান রঙ
গোল করা উচিৎ হবে কিনা ভাবছি

কালো ডায়রির ভেতর নীল হেডলাইন
তার নীচে বিস্তারিত চুমু সংক্রান্ত নথিপত্র
হাওয়ায় উড়ছেটেবিলে পড়ছে
প্রসঙ্গে স্থির পেশেন্ট

এইখানেই দাঁড়িয়ে পড়ুন
প্রায় এসেই গিয়েছি
শিতোচ্ছি
নীল রিহ্যাবের কণ্ঠস্বর চেনা আছে
আমি একটি কালো পাহাড়েরই খোঁজ করছিলাম।




তারপর বাঁ দিক থেকে ডানদিক হয়ে মাঝখানে পৌঁছে গ্যালাম
ক্যানোনা গন্ধটা ঐদিক থেকেই আসছিলো
দেওয়ালের প্রসঙ্গ উঠছিলো
দুটো একটা দেওয়াল যা আমাদের ভেতরে নড়বড়ে শক্ত অথচ ভাঙ্গাচোরা
আমি ফাটলগুলোয় মনযোগ দিয়ে পিঁপড়ের লাইন দেখতে গিয়ে পেয়ে গ্যাছি উঁচু সিঁড়ি
কাঠের সিঁড়ি
অতঃপর পূন্যার্থীদের ক্লিভেজ দর্শন হলো এযাবৎকালে


রোদ ভেদ করে গান ভেঙ্গে পড়ছে
ওটি ঐ অপূর্ব দুর্গন্ধময় মানসিক রুগীটির না?
যাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না কিছুদিন আগেই
তার অসুস্থ চোখ আর তার ঠিক নীচেই একঝাঁক ঝিল
নীল সম্ভবত






শুয়ে শুয়ে পেট-পিঠহাতে-পায়ে জং ধরে গ্যালো
মনে হয় কাঁচ ভেঙে ঘড়ির কাঁটাগুলো বেঁকিয়ে দিই
নিজস্ব বিছানায় গড়াগড়ি বইলুটোপুটি হাওয়ার গতিবেগ থেকে মেঝেতে গড়িয়ে গ্যালাম
চাদর স্থিমিত
আর আঁশমাছেদের একঘেয়ে আঁশআঁশবটি কাঁধে করে এইভাবে কতদিন ঘোরা যায় বলুন

শহরের হিমঘরে প্রতিদিন ব্যাঙাচিরা জন্মান
শাঁখ বেজে ওঠে গোউলুধ্বনি
বিপরীতে মাচাগীতি তাক লেগে যায়
উৎসুক অতিথিরা সেখানেই মধু খেতে যান
সেইদিকে মধুমাস
এইদিকে আঁশ ওড়েভয়াবহ আঁশ

প্রেমিকার স্তনের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে সিমেন্ট হয়ে উঠছি
লিঙ্গে চৈতন্য ও চৈতন্যে লিঙ্গ ক্যানো ফিরে আসছে বারবার
বাজারের আলু,পটল নিমেষে বিকিয়ে গ্যালো
ফলাফল-টলাফল ফুৎকারে উড়িয়েছি
বুধবারের উরুতে বগল কামানো আস্ফালন দেখতে গিয়ে কতবার ফেল মেরে গ্যালাম
এখন উবু হয়ে পচে যাওয়া রসুনের খোসা ছাড়াচ্ছি
শুয়ে শুয়ে পেট-পিঠহাতে-পায়ে জং ধরে গ্যাছে।





কালোবাজার
জল্পিত অক্ষরে বই ঝাপা হলে
করমচা প্রত্যাশায় কালসদৃশ
নিয়ম মাফিক বৈশাখী চলে গ্যালে এরপর
জীবন্ত মশার ডানা ছিড়ে প্রতিশোধ স্পৃহা একটি হোমমেড
চিকিৎসা



নিস্তব্ধ ও লোমশ কাউকে
সেবারে বেহালা বাজাতে গিয়ে কিছুক্ষণ
ট্রেন মিস্ করে গ্যাছিলাম
দু'দিন পর শহরে ফিরেছি যখন
দেখেছি খালপাড়ের মানচিত্র আবছা হয়ে উল্টে আছে
আর ঘাসেরা কবিতা হয়ে স্লোগান দিচ্ছিলো



মুল্যবৃদ্ধি
মূলকর্মে দাঁত বসালে
পায়খানা কম পায়
লাইসেন্সবিহীন ঝুলঝাড়ু নিয়ে পদ্য লিখতে বসি
নিজেকে প্রশ্ন করি, 'রান্না কি হলো' ?
রেডিওতে সংবাদ শোনা যায়.....
'ভ্রষ্টার ক্লিটোরিসের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি'



প্রিয়তমার প্রিয় সাবান
প্রিয়তমা কোনো দূর্বল আত্মার মেডিসিন হতে পারতো
যারা ভীততারা যত্নে যত্নে আরো ভীত হয়ে ওঠে
আমাদের কাগজের রঙ নেইশুয়ে থাকে হরফবাগান
প্রিয়তমা হতে পারে প্রসাধনী সাবান
কতদিন সাবান মাখিনি !



উৎসর্গ : ইংরেজি বর্ণমালার চতুর্থ বর্ণ ও অনভিজ্ঞ ধুম্রসমষ্টিদের

বাদামী চিনির কাছে আনন্দ প্রকাশ য্যনো নববধূ এইসবে ঘোমটা তুলেছে


বসে থাকা মানে বুঝি ভোর হয়ে যাওয়া
ভোর কাকে বলে?
ভোর
ভোর কাকে বলে?
অজস্র মুখ এবং হরেক চশমা


তৃতীয় দিন সম্পর্কে আর কিই বা বলবো
যখন দ্বিতীয় দিন সম্বন্ধেই এখনও কোনো ধারণা তৈরি হচ্ছে না
তৃতীয় দিন সম্পর্কে আর কি বলবো
যখন দ্বিতীয় দিন সম্পর্কে এখনও কোনো ধারণাই তৈরি করা যাচ্ছে না
এবং তুমি ডুপ্লিকেট চাবিগুলো স্বতন্ত্রভাবে হারাচ্ছো
ফলত সর্দি গড়িয়ে পড়ছে


বাড়ি থেকে বেড়োনোর আগে একটা ঐতিহাসিক ভুল হয়ে গেলো
এবং এখন এমনকি রুমালের পরিবর্তে কিছু পাওয়ার কথা নয়


একদল প্যারাসিটামল রাত ঝুপ করে পার হয়
স্পর্শকাতর ঊরুসন্ধি
বেদনাকাতর লাইমলাইট
ছাদ মানে অমরত্ব ও নিয়মিত


আগেই বলেছিলাম ভৌতবিজ্ঞান ধার করো
যতসব হাস্যকর লরেল্
উপনিবেশ সংক্রান্ত আলোচনার জন্যে তোমাকে ঘুম থেকে তোলা হয়নি
যা কিছু উচিৎ ও দরকারি
দলাপাকানো থুতু
এবং ব্যাংক ডাকাতির উল্লাস !


হে পান্থদেব, কিসের জন্য আপনি এত কারণীভূত? ঈহিত?

এরপর দূর্ভাগ্যবশত টস্ হলো
এবং আমরা হেরে গ্যালাম
দু'টো পয়তাল্লিশের ট্রেন ছাড়ছে
আমাদের জায়গা ছেড়ে দিতে হলো

জানলাটা একটু ছেড়ে বসুন
আমাদেরকে কিছু দেখতে দিন
বৃষ্টির বিকেলে আপনাকে তরুণ দ্যাখাচ্ছে
জানলাটা ছেড়ে দিন
রোদ ঢুকছে

আমাকে বিশ্বাস করছেন না ক্যানো?
দেশলাই বাক্সগুলো আমাকে প্রেমিকার মতো কাঁদালো
এখন আমরা সবাই বৃদ্ধ লোকটিকে দেখছি
যে এসব ঘটনা আগেও দেখেছে
শুনছি কিভাবে ও অ্যাক্সিডেন্টের খবরগুলো রপ্ত করেছে
এখন য্যামন তাকে ছুঁড়ে ফ্যালা হবে
বাতিল নাটকের অংশবিশেষের মতো

                                    দৃশ্য থেকে দৃশ্যবদল। মানুষ যা ভাবে তা হয়না কখনও। অস্তিত্বের সংকট প্রবল আকার নিতে অপারগ নয়। বদল যখন সুনিশ্চিত, স্পর্ধা যখন তুঙ্গে, আত্মবিশ্বাস যদি হয় গগনচুম্বী.. স্রেফ কেতা নিয়ে ঘোড়াটা চালানো বাকি, তখন অহেতুক ট্রিগার নিয়ে 'ভালো' সাজার কোনো নির্দিষ্ট কারণ আমি খুঁজে পাইনা। তবু মানুষ ভাবে। অস্তিত্ব নিয়ে ভাবে। আশপাশের কথা ভাবে.. পেটের কথাও ভাবে।
আর বিবেকের কথা ভাবতে ভাবতে ফের দৃশ্যবদল।
এক দৃশ্য থেকে অন্যত্র। চলচ্চিত্রের মতো। কারণ একটি খাঁটি চলচ্চিত্র হলো অনেকগুলি বাস্তব প্লট। আর কিছু খাঁটি বাস্তবতা বা ঘটমান অথবা ঘটে যাওয়া ঘটনা কখনও হয়ে ওঠে কিছু সত্যিকারের চলচ্চিত্র। কখনও একেকটি কবিতাই হয়ে ওঠে চলচ্চিত্র। আবার কখনও কোনো চলচ্চিত্রের একেকটি শট্ হয়ে ওঠে কবিতা। এখানে শিল্পমাধ্যমগুলি একে অপরের সাথে অবিচ্ছিন্ন।
তবু দৃশ্যবদল হয়। হাত বদল ঘটে। চেহারা পাল্টে যায়। এবং রং'ও যথেষ্টই পরিবর্তনশীল। মানুষ অত্যন্ত ধূর্ত ও প্রবল বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী হলেও কোনো কোনো সময় দৃশ্য থাকে হাতের বাইরে। হয়তো দৃশ্যের পরিধি দ্বিগুণ। অথবা পরিধিহীন। তাই দৃশ্যান্তর ঘটানো খুব সহজ নয়। পরিস্থিতি ও সময় সবকিছু ভালো এবং সবকিছু গোলমাল করার ক্ষমতা রাখে।
আজকে যদি ভাবা যায় একটা সহজ সুলভ দৃশ্যের কথা। কালকে তার ঠিক বিপরীতটা ঘটতেই পারে। এর উল্টোটাও হয়। সবই স্বাভাবিকভাবে, স্বাভাবিক নিয়মে।
তবে মানুষ সাধারণত অলস ও ধৈর্য্য হারিয়ে ফ্যালায় পারদর্শী হয়ে থাকেন। ফলস্বরূপ মুখে রজনীগন্ধা, পায়ের নিচে দুনিয়া সুলভ ট্যাগলাইনের টুকরো জোগাড় করে বাজারে বিলোতে থাকেন অথবা জামার আরও দুটো বোতাম খুলে দ্যান। অথবা পাখার গতিবেগ বাড়িয়ে দ্যান। আর ক্যামেরা হরবখত প্যান করতে থাকে। ক্রমাগত ক্রমাগত প্যান করতে থাকে। ফ্রেমের একপাশে মাছিরা বিরক্ত করে।   দৃশ্যান্তের আগেই মানুষ অন্য দৃশ্য নিয়ে ভাবতে বসে। এখানে দৃশ্যান্তর ঘটে।

এই সান্ধ্যবাসর আসলে আমার জন্য নয়
আমার অববাহিকার চারপাশে কোনো শৃঙ্খল নেই
কোনো মৃত্যু যদি থেকে থাকে ঠিকঠাক
একটা সঠিক মৃত্যুর কথা জলের ছায়াতে আলোর ছায়াতে
দেওয়ালে দেওয়ালে নৃত্যে
চাঁদের আলোতে সালা ডোপ মেরে নেবো ভাবি
কি করবো আর
বিদ্যুৎ'এর খুঁটির নিচে সমতল ও জমা জল
কবরের ডানদিকে কাত হয়ে শুয়েছিলাম
কাছ থেকে খুব কাছে যানবাহনের তলায়
তাহারা আমাকে জড়িয়ে ধরতে চাইছে
আমার মাথার উপর কোনো জ্যোতিচিহ্ন নেই

খালি মেঘ আকাশ মেঘ আকাশ বন্ বন্ বন্


   


অয়ন ঘোষ


Ayan Ghosh