Dipankar Lal Jha

আয়নার লিঙ্গ নির্ধারণ

তুমি যা খুশি বলতে পারো 
বলতে পারার মধ্যে আমি যা খুশি হয়ে থাকি

তাই ইচ্ছের নাম রাখি 
রাজা 
দু এক পয়সায় কাঙাল রাজার সমস্ত ভিক্ষে কিনে নিলে

আমাদের গল্পের নাম আয়নার লিঙ্গ নির্ধারণ” হয়ে থাকে।


লিপস্টিক

লোকে বলে হাতের পাঁচ আঙ্গুল সমান নয়
কিন্তু আমি তো সবগুলোতেই তোমাকে দেখতে পাই
যেমন আয়নার ঘুম ভাঙে তোমার চুলের শব্দে


তুমি মিথ্যে বলছো
আমার চশমা থেকে রোজ একটা করে কাঁচ খসে পড়লে
আমি কখনই তোমার লিপস্টিক কে দোষ দেই নি।





পাখি সিরিজ ৪
প্রত্যেক ঘরে একটা জানালা থাকে
জানালায় নির্দিষ্ট রোদের ভেতর থাকে ফেরৎ অলি আর গলি
একটা রাস্তা শহর ভাগ করতে জানে
আর তারপর নিজেই শহর হয়ে যায়।

যে পাখি কে কখনো পাখি নাম দেওয়া হয়নি
সে আজো গান গাইতে শেখেনি।



সাঁঝ
সন্ধ্যা নেমে গেলো
সাঁঝবাতি বুঝে নিলো ঘরের কোন
পাশের বাড়ির ধূপের প্রশংসায়
নাক গলাবে না মা

তারপর পায়েসের থেকে ভেসে আসে ঘরের
গন্ধআদানপ্রদানে প্রত্যেক খিদে ছোট ছোট ঘর বানিয়ে রাখে।



পোল
জাল বেঁধে জেলে চলে গেছে কবে
মাছ এখন কি করে ?
তাই জালের ভেতর জাল ফেলে

মাছেরা এখন মানুষ দিব্যি ধরছে।





রোববারের ছাতা

বারবার এই শহরে কেমন মানুষ ঘুরে ঘুরে আসে
খুব জোরে হওয়া হয়, ধুলো ওরে, সূর্য ওড়ে
বৃষ্টি হয়
ছাতা ওড়ে
একে ওপরের ছাতা কুড়োতে কুড়োতে মানুষ
আরো একবার প্রেম করতে শেখে।



দোকানিয়া

চা এর দোকানে বয়স জিজ্ঞেস করতেই পারে এই শহর
কমবয়সী মেয়ের সাইকেলের চেন পরে যায়
আমি দেখি মেঘ করে
বল্টু ছুটে বেড়ায় ন্যাংটো হাতে
চাবুক চিবিয়ে গরুর বাচ্চা বড় হয়
আমি দেখি
দেখার মতন আর কিছু থাকেনা।
আর থাকেনা জন্যই পার্কে দোল খায় বিকেল।



রোজ

রোজ তারের উপর ভেজা কাপড় টাঙ্গায় মানুষ
এটা রোজ হয়
এটা রোজ হয়
যেটা রোজ হয় না সেটার জন্য সূর্য অপেক্ষা করেনা
রোদ এক্ষেত্রে দায়ী নয়।
আর এই জন্যই কেউ কেউ ফড়িং হয়।
ফড়িং কে এক জায়গা থেকে তাড়িয়ে দিলে
সে আবার সেখানেই বসে।
এখন যদি তারের উপর ফড়িং বসে
তাহলে
সেটাই
রোজ বহন করে
রোজ এটাই হয়।
রোজ যেটা হয়
তার মানে সেটা আগে রোজ হতো না।



বেলা

আমরা খুব বেলা বেলা ভাবি
হাতপাখা ঘুরানোর প্রতিবাদ ডেকে আনে বৃষ্টি
রাত করলে আর যাবো না ঘরে
হাট এর পাশে বসে ভেবে নাও শেষ খরিদ্দার আমি
দু টাকা কম দিয়ে সবজি কিনে আনি
হারিকেন টিমটিম করে মা এর বুকে,
যেমন চারকোল ঘনিয়ে আসলে
দিদার হাত কালো হয়
চুপচাপ থাকার প্রবণতাই
আমাকে প্রতিবন্ধী করেছে
ঘরের দরজায় কোনো টিকটিকি থাকে না
কোনো কোনো হাত সারাদিন বাড়ানোই থাকে
কেউ কেউ হাত গুটিয়ে রাখে না।



যদি পায়ে হেঁটে হেঁটে

যদি পায়ে হেঁটে হেঁটে কোথাও যাওয়ার মতো কিছু থাকে, দুদিকে গাছেদের পাহারা, লজ্জায় মুখ লাল গোলাপ, সারাদিন সারা দিলো না আর, মাটি তার বুক থেকে পা সরিয়ে নিতে বলে, গরু লুকিয়ে রাখে যদি রাখাল, দুহাতে আগলে রাখে চাঁদ,

যদি কিছু থাকে
সহজবাক্যে, সহজভাবে, তোমার দিকে তাকিয়ে


থেকে কিছু বলেই উঠতে পারতাম না...


  











দীপঙ্কর লাল ঝা

Dipankar Lal Jha