Rinku Karmakar Choudhury

রুটিন
বৃষ্টি নামলে তথাকথিত মলিনরা
সবুজ রাজ্য পায়।
পায়ে পায়ে হেঁটে যাওয়া যান্ত্রিক গোলোযোগ
শুধুই ভাবতে শিখিয়েছে
দিন পাল্টালে
বদলে যায় 
বিবর্তনের সংজ্ঞা।
প্রতিরাতে যে ঝড়
জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে
মেহেদী হাসানের গজলের মত -
মোহময় টান দেয় আমাকে
তার জন্য রেখে দিচ্ছি সূর্যাস্ত ভোর।

কপট কৌতুহলে জেগে উঠে ঘুমিয়ে
পড়ুক অদৃশ্য কথোপকথনরা।
রোজ রাতে নতুন করে বানিয়ে নিই
হেরে যাওয়া হিসেবের লিস্টি।
উপুড় হয়ে পড়ে আছে কলমের ঢাকনা
,প্যাডের
কাগজ আর খসখসে আঙুলের দাগ।
এদের জন্য বিছিয়ে রাখা থাক
গালিচার আরাম নরম রোদস্নান ঘরে।

চলে যাওয়ার আগে 
চিৎকার করে জাগিয়ে দিয়ে যাব পৃথিবীকে
শুধুমাত্র একদিনের জন্য যদি
আমাকে সম্রাজ্ঞী ভাবো।
আমাকেও যদি একবার মানদন্ড হাতে তুলে দাও।



খরস্রোতা
ওই পাহাড়টার নাম কি
ওর নীচেই তো গড়ে উঠেছিল চেনা সামুদ্রিক রেখা
,
বাসস্থান কিম্বা জনপদ।
কয়েক কোটি বছর আগে জন্ম নিলে
এখানেই গড়ে তুলতাম বসত।
আগুনজ্বলানো সন্ধ্যেবেলায়
লিখে ফেলতাম একপশলা কবিতা
বা দুদাগের ছবি।
ওইখানটায় নদী বইত
নদী মানে গোশলখানার মত
সরীসৃপ অনুভূতি নয়।
নদী মানে হেলে যাওয়া বাঁকগুলোয়
জেগে থাকা নারীত্ব।
পুষে রাখা স্বচ্ছ চেতনায়
,
উন্মুখ হয়ে উঠছে শরীর।
জাগিয়ে দিচ্ছে আহবান।
ছু্ঁয়ে দিচ্ছে খরস্রোতা
অবিরাম বৃষ্টিতে
,
বিতর্কিত বিভঙ্গে।

আজ শুধুই জিতব বলেই
নদীর কাছে কথা রেখে আসি।

রিংকু কর্মকার চৌধুরী

Rinku Karmakar Choudhury