Shuvro Chattopadhyay

কবিতার শব্দ


শব্দ ছাড়া আমাদের বাক্য গঠনের উপায় নেই। বাক্য গঠন করতে না পারলে কবিতা লিখব কী ভাবে? তাই, কবিতা কী, সেটা জানা না গেলেও তা যখন কেউ লিখে ফেলেন তখন তাঁর বাক্য গঠন ছাড়া উপায় থাকেনা। কবিরা তাই শব্দ ছাড়া চলতে পারেন না এক পা-ও। শব্দের কথা এলে তাঁর অর্থের কথাও চলে আসে। সবাই জানে যে প্রকাশ করার ক্ষমতা সব চাইতে বেশি সুরের আর তারপরেই ছবির। শব্দ এই প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্চ মেডেল পেয়েছে আর সেটা নিয়ে সে বেশ সুখী। কারণ, সুর আর ছবি দিয়েও শেষ অবধি সব বোঝানো যায় নি এবং ব্যক্ত করা যায় নি। সুরের ধ্বনি আর ছবির ‘ইমেজ’ --- এই দুটো মৌলিক উপাদান আত্মসাৎ করে ভাবপ্রকাশের জানলাটাকে অসীম পর্যন্ত খুলে ফেলেছে।
শব্দের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন কবিরা। অনেকদিন পর্যন্ত কবিতায় শব্দ আর সুর হাত ধরাধরি করে চলেছে। একালে এসে কবিরা চেয়েছেন সুরের সংক্রমণ থেকে শব্দকে মুক্তি দিতে। কারণ সুর থাকলে শব্দের অর্থটা নির্দিষ্ট দিকে চলে যায়। সুরটা আসে ছন্দ থেকে। বাংলায় রোমান্টিক কবিতা লিখতে গেলে অক্ষরবৃত্তের গড়ানো চলন বেশ খাপ খেয়ে যায়। সেটার প্রতি লাইনে মাত্রা যত বাড়ে ততই আলস্যের পরিবেশ তৈরী হয়। কারণহীন মন খারাপের ভাবটা সেই পরিবেশে ফোটাতে সুবিধে হয়। কিন্তু একালে এই নীতি ঘোষণা করে বর্জন করে দেওয়া হয়েছে। এক কথায়, ছন্দ ছাড়া কবিতা চর্চাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন একালের কবিরা এবং এর একমাত্র কারণ শব্দকে যে কোনও রকম অনুঘটক থেকে মুক্ত করা। শব্দ এবং তার অর্থের কোনও অনিবার্য সম্পর্ক অমান্য করাটা একালের কবিতার অন্যতম লক্ষ্য। এ বিষয়ে হরেক তত্ত্ব এবং আলোচনা আছে।
একদা ছন্দ ছাড়া কবিতা লেখা যেত না। এখন ছন্দকে সচেতনভাবে দূরে সরিয়ে কবিতা লেখার ভাবনা মান্যতা পাচ্ছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। কিন্ত, তার অর্থ এই নয় যে কবিতামাত্রই ছন্দোহীন। কবিতার সংজ্ঞা যখন জানা যায় নি তখন তার রূপনির্মাণের প্রশ্নে এক তরফা কোনও মত কবিরা মেনে নেবেন কেন?
কিন্তু ছন্দকে সরিয়ে রাখতে পারলেও কবিরা অলংকারকে সরাতে পারেন না। কারণ অলংকার হলো সেই কৌশল যা শব্দকে তার প্রথাগত অর্থের বাইরে অন্য কোনো অর্থে নিয়ে যেতে পারে। অলংকার দুই রকম। শব্দালংকার আর অর্থালংকয়ার। দ্বিতীয় প্রকার অলংকারটিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কোনও কবি নিরাভরণ কবিতা লিখে চলেছেন, এটা সম্ভব নয়। দরকারও নেই। একটা নমুনা পেশ করছি। কবির নাম বলব না।
র‍্যাকেটে তোমার উলেনা বাগান
প্রতিটি মোমবাতির ওপাড় থেকে ডাক দিচ্ছে বিস্ফোরণ।

লাইন দুটিতে যত শব্দ আছে তার একটা বাদে সবগুলোর অর্থই জানি। ‘উলেনা’ নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছিল। উলেন নির্ঘাত কোনও ফল-ফুল-সব্জির নাম নয়। মনে হলো ‘উল’ শব্দটির সঙ্গে এর কোনও আত্মীয়তা আছে। তবে কি ‘উলের বাগান’? তাই যদি হয় তো ‘উল’কে ‘উলেনা’ বলার খামোকা কী মানে? এর চাইতে ধরে নেওয়া যাক কোনও একধরনের বাগান এবং সেই বাগানের অবস্থায় র‍্যাকেটে। মনে হলো টেনিস বা ব্যাডমিন্টন খেলার র‍্যাকেটের কথাই বলতে চেয়েছেন কবি। এটা যদি একটা ‘ইমেজারি’ হয় তবে ছবিটা দাঁড়াচ্ছে হয় ‘র‍্যাকেটের ওপর একটা অজানা বাগান’ কিংবা ‘র‍্যাকেট-এর আকারে তৈরী একটা অজানা বাগান’। যে বাগানই হোক, সেটা হলো ‘তোমার’। তাহলে এটা কি প্রেমের ইঙ্গিত নাকি ভাঙা প্রেমের স্মৃতি?
পরের লাইনটা আরো জটিল করে দিচ্ছে সব কিছু। মনে হচ্ছে যে কবি ডিনামাইটের সলতের সামনে মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। মনে হয়ে তিনি আত্মহত্যা করতে চাইছেন কিন্তু পারছেন না। এটা হতেই পারে। ‘উলেন বাগান’ বোধহয় সেই পার্কটার নাম যেখানে তিনি প্রেম করতেন। কিন্তু ব্যাপারটা অত সহজ নয় বলেই আমার ধারনা। কষ্ট করে আমি যা বুঝলাম তা এমন কিছু কথা নয় যে এত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলতে হবে। নিশ্চই আমি ধরতে পারিনি। কারণ আমি শব্দগুলোকে প্রায় আভিধানিক অর্থেই গ্রহণ করেছি গোড়াতে। বস্তুতঃ শব্দগুলো আমার মধ্যে একটা প্রতিক্রিয়া তৈরী করে দিয়ে যাচ্ছে। অর্থ ভুলে গিয়ে কেবল পড়ে গেলে যে অনুভূতিটা হবে সেটাই ঠিক। কথাটা তাত্ত্বিকভাবে বলা যায়, কিন্তু বাস্তবে অর্থ ভুলে গিয়ে পড়ার অর্থ কী? র‍্যাকেট শব্দের অর্থ ভুলে গেলাম। ধরে নিলাম ‘র‍্যাকেট’-এর কোনও নির্দিষ্ট অর্থ নেই। যে কোনও সময় যে কোনও অর্থ হতে পারে। যে পাঠক র‍্যাকেট বলতে যা বুঝবেন র‍্যাকেট হলো ঠিক তাই। তবে ‘র‍্যাকেট’ শব্দটা লেখার কী দরকার ছিল? কবির কি কোনও উদ্দেশ্য ছিল ‘র‍্যাকেট’-এর পেছনে? তাই যদি হয় তবে সেই শব্দের মাধ্যমে তিনি নির্ঘাত কিছু একটা বলতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু কবিকে জিগ্যেস করায় তিনি বলেছিলেন , ‘কেন লিখেছি, জানিনা।’
আমার মনে হলো শব্দগুলো পর পর ভাবতে তাঁর ভালো লেগেছিল বলেই লিখেছেন। হয় তো এর পেছনে কোনও অবচেতন কারণ আছে। কে জানি ইংরেজিতে বলেছিলেন যে কবিতা হলো সেরা শব্দের সেরা সজ্জা। একালে সেটা একটু বদলে হয় তো হয়েছে ‘প্রিয় শব্দের প্রিয় সজ্জা’। সেই সজ্জার কারণ জানতে গেলে মনোবিজ্ঞানের সাহায্য নিতে হবে। কবির সঙ্গে আলোচনা করে বোঝার চেষ্টা করতে হবে যে তিনি উলেনা বাগান কেন বললেন? বিস্ফোরণ মানে কি বীর্যপাত?
এটা সম্ভব। শুধু সমস্যা হলো এ ভাবে বছরে এক আধটার বেশি কবিতা উপভোগের সময় থাকবে না। কবিরও উচিত  তবে এভাবে বছরে দু-তিনটের বেশি কবিতা না লেখা।
বিষয়টা ভাববার বটে।



কবিতার শব্দঃ দুই

 র‍্যাকেটে তোমার উলেনা বাগান
 প্রতিটি মোমবাতির ওপাড় থেকে ডাক দিচ্ছে বিস্ফোরণ।

এই কবিতাটি উল্লেখ করে আগের পর্বে জানিয়েছিলাম যে, এর রসোদ্ধার বা মর্মোদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগছে। ফলে এই ধরনের কবিতা বছরে দু-তিনটের বেশি কোনও কবির লেখা উচিত নয়। কিন্তু বিশ্লেষণের যে রীতি মেনে এই সিদ্ধান্তে এসেছিলাম, সে রীতি এখন তামাদি হয়ে গেছে বলে অনেকে মনে করেন। কবিতাটিকে পড়তে হবে ভিন্ন ধারনা ও রীতিতে। সোজা কথায়, কবিতা সম্পর্কে লালিত সব রকম ধারনাকে ‘মিথজ্ঞানে’ উড়িয়ে দিয়ে পড়তে পারলেই উক্ত কবিতা পড়ামাত্রই তুরীয় আনন্দলাভ সম্ভবপর। কারণ কবিতা হলো ‘বিমূর্ত’।

এবার ‘বিমূর্ত’ শব্দটি নিয়ে ভাবা যাক। এটা ইংরিজি এবস্ট্রাক্ট শব্দের সঙ্গে মেলে। যার মূর্তি বা স্ট্রাকচার হয় না, তাইই বিমূর্ত। প্রেমিকার মূর্তি গড়া যায়, কারণ তাঁকে চোখ দিয়ে দেখা গেছে। অথচ ‘প্রেম’ –এর আকার কেমন, তা বলা যায় না। ভারতীয় দর্শনে অবশ্য ‘রূপ’ শব্দটি জনপ্রিয়। ইংরেজি ‘ফর্ম’ আর ‘রূপ’ একই ব্যাপার। একে ‘আকার’ শব্দ দিয়েও বোঝান যায়। রূপ অথবা মূর্তি হতে পারে এমন সব কিছুই ‘মূর্ত’। বোঝাই যাচ্ছে যে, যা মূর্ত তা চোখ নামক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। আকার নেই এমন জিনিস হলো ‘বিমূর্ত’। তাই, কবি নিজে মূর্ত হলে কবিতা বিমূর্ত। লেখার পর সেটা একটা আকার পাচ্ছে বলে দৃশ্যমান উক্ত দুটি লাইন আসলে কবিতার রূপ। সংক্ষেপে এটাকে আমরা কবিতা বলছি। যেহেতু অক্ষরের আকার আছে তাই তার মাধ্যমে কবিতাটি রূপলাভ করছে।

 সুতরাং কবিতামাত্রই বিমূর্ত, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

যা বিমূর্ত তাঁকে রূপদান করার জন্য মানুষের চেষ্টার অন্ত নেই। এক্ষেত্রে তাঁর হাতে আছে তিনটি মাধ্যম। সুর, রঙ আর ভাষা। এই ত্রয়ীর মধ্যে সুরের ক্ষমতা সব চাইতে বেশি, তারপরেই রঙ বা ছবি। বেচার শব্দ বা তা দিয়ে গড়ে ভাষার ক্ষমতা, বিমূর্তকে প্রকাশের ক্ষেত্রে, টেনেটুনে পাস মার্ক পাচ্ছে। কবিরা হয় তো রেগে যাবেন, কিন্তু বিমূর্ত ভাবনা প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষা যে সব চাইতে দুর্বল তা বহু ভূয়োদর্শী মানুষ স্বীকার করেছেন। আমি তাঁদের সঙ্গে সহমত।

কিন্তু সুর আর রঙ শক্তিমান  হলেও সম্পূর্ণ নয়। অন্যদিকে মানুষের ভাব বিনিময়ের মূল মাধ্যম হলো ভাষা। গাইতে বা আঁকতে না পারলেও মানুষের দিব্যি চলে যায়, কিন্তু কথা বলতে না পারলে সমস্যা। জীবনে যে ভাষার এত গুরুত্ব, তা দিয়ে বিমূর্তকে প্রকাশ করার ইচ্ছেটা তাই স্বাভাবিক। ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত বিমূর্ত ভাবনার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো কবিতা। অলংকার নামক বিষয়টার দরকার হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটা উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছিলেন যে, প্রেমিকাকে দেখার আকুলতা ও ব্যগ্রতা বোঝাতে মহাজন পদকর্তা লিখেছিলেন ‘দেখিবারে আঁখি পাখি ধায়’। প্রেমিকের চোখ পাখির মত উড়ে যায় প্রেমিকার দিকে --- এটা পড়লেই সেই আকুলতা ও ব্যগ্রতার আভাষ আমরা অনুভব করতে পারি যেন।

এজন্যই অলংকারের দরকার। ‘আঁখি পাখি’ হলো ‘আঁখি রূপ পাখি’। শাস্ত্রে এই অলংকারের নাম রূপকালংকার। উপমাও একটা অলংকার। পূর্ণিমার চাঁদকে রুটির সঙ্গে তুলনা করাও অলংকার। সংস্কৃত আলকাংরিকগণ বহু-বিচিত্র অলংকারের নমুনা সংস্কৃত রচনা থেকে খুঁজে বের করেছেন। বিজয় দে-র একটা কবিতাংশ তুলে দিচ্ছিঃ

 নদী আর ঘন ঘন টয়লেটে যাচ্ছে না; বৃক্ষ শিস্‌ দিচ্ছে
 বকাটে ছেলেদের মত; আর পাহাড়
 একটা পাজামা পরেই নেমে আসছে
 গল্পের দিকে

সংস্কৃত আলংকারিকরা বলবেন যে, দেখুন, বিজয় দে রচিত উক্ত কবিতাংশ অপূর্ব হয়েছে অলংকারের গুণে। নদীর টয়েলেটে যাওয়া এবং বৃক্ষের শিস্‌ দেওয়া --- দুটোই উৎপ্রেক্ষা অলংকার। পাহাড়ের পাজামা পরে নেমে আসাটাও তাই। আর বকাটে ছেলেদের তুলনাটা যে একটা উপমা, তা বলাই বাহুল্য।

অবশ্য এটা ভাবার কারণ নেই যে ‘অলংকারই হলো কবিতার আত্মা’। কিন্তু একালের কবিতাতেও অলংকার কোনও বিঘ্ন সৃষ্টি করেনা। কবিও অলংকার সৃষ্টি করবেন ভেবে লেখেন না। সেটা তাঁর অজান্তেই চলে আসে। অলংকার থাকবেই, এমন কোনও কথা নেই। কিন্তু অলংকার বর্জন করে কবিতা লেখার চেষ্টা করা মানে যেচে একটা চাপ নেওয়া।

তবে, অলংকার তখনই বিচার করা যায় যখন শব্দ এবং তার অর্থের সম্পর্কটা স্বীকার করি। বিজয়বাবুর কবিতায় ‘বৃক্ষ’ আর ‘শিস্‌’ শব্দ দুটির অর্থ স্বীকৃত অর্থে গ্রহণ করলেই ‘বৃক্ষ শিস্‌ দিচ্ছে’ অংশটি অলংকারের আওতায় পড়ে। একটু খোলসা করে বলি। বৃক্ষকে তিনি পাখি বা মানুষের সঙ্গে তুলনা করছেন। ‘উপমেয়’ বা যাকে তুলনা করা হচ্ছে তা হলো বৃক্ষ। একে তুলনা করা হচ্ছে, ধরে নিচ্ছি, কোনও পাখির সঙ্গে। তাই সেই ‘পাখিটা’ হলো ‘উপমান’। শিস্‌ উপমানের ধর্ম। তা যদি স্বাভাবিকভাবে বৃক্ষের ধর্ম হত, তবে ব্যাপারটা হত উপমা। ‘মেঘের মত কালো চুল’ হলো উপমা। কারণ, ‘কালো’ ধর্মটা মেঘ আর ‘চুল’ --- দুটোর মধ্যেই পাওয়া যায়। অথচ, ‘শিস্‌’ ধর্মটা বৃক্ষের থাকতে পারেনা। তাই ‘শিস্‌’ ধর্মটির দ্বারা উপমান আর উপমেয়কে মেলাতে গিয়ে বিজয় যেটা করেছেন তাঁকে ‘উৎকট উপমা’ বা ‘উৎপ্রেক্ষা’ অলংকার বলে। অবশ্য, ‘উৎকট’ অর্থে খারাপ কিছু বুঝলে ভুল হবে। অতীতে এই শব্দটা ‘সাধারণ নয়’ --- এমন একটা অর্থেই ব্যবহৃত হত। এক বস্তুর গুণ ভিন্ন জাতীয় বস্তুতে আরোপ করাটাও অলংকার।

যে অলংকারগুলোর কথা উল্লেখ করলাম, সে সবই অর্থালংকার। পাঠক কী অর্থে বিজয়বাবুর লাইনগুলিকে ধরছেন, তার ওপরেই নির্ভর করবে অলংকারের নাম। ফলে, যেটা আমার মনে হচ্ছে উৎপ্রেক্ষা, তা আপনার কাছে ‘সন্দেহ’ বা ‘ভ্রান্তিমান’ হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই জিনিস আগে হত না। আধুনিক কবিতা একাধিক মাত্রা তৈরী করতে পারে বলেই পাঠকভেদে ‘অলংকারান্তর’ ঘটা সম্ভব।

শব্দ এবং তার অর্থের সাধারণ সম্পর্ককে স্বীকার করে নিলে অলংকার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি কেউ কেউ দাবী করছেন যে এই সম্পর্ক আসলে এক ধরনের সংস্কার। এই সংস্কার ভাঙতে না পারলে কবিতা বোঝা যাবে না। ‘চিন্তা পদ্ধতি’ বা ‘থট প্রসেস’ আমাদের মনে অবিরাম চলছে। কবিতা এখন যা লেখা হচ্ছে তা চিন্তার বিভিন্ন পদ্ধতির সজ্জা। পর পর থট প্রসেস লেখা হচ্ছে। প্রসেসগুলির মাঝে থাকছে ব্যবধান। এটা মাথায় রেখে সেই কবিতাটা পড়লে এত পরিশ্রম করতে হত না।

এইবার ‘র‍্যাকেটে তোমার উলেনা বাগান’ বাক্যটিকে একটা থট প্রসেস ভাবতে শুরু করলাম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন পদ্ধতিতে চিন্তা করলে র‍্যাকেটের মধ্যে উলেনা বাগানের উপস্থিতি ভাবা যায়? মন কোন পদ্ধতিতে চিন্তা করবে, তা সেই মনের স্বাধীনতা। রামের থট প্রসেস ভাষায় প্রকাশ করার পর শ্যাম যদি সেই ‘প্রসেস’ ধরতেই না পারে তবে তাঁর মগজ প্রসেসিং করবে কী ভাবে? বিজয় দে-এর লাইনগুলিও থট প্রসেসের সম্মিলন। কিন্তু তাঁর ‘প্রসেস’ ধরা যাচ্ছে কেন না তিনি শব্দ আর অর্থের সম্পর্ক মোটামুটি মেনে নিয়ে লিখেছেন। চিন্তার পদ্ধতিতে যদি শব্দের অর্থকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দেওয়া হয়, তবে ব্যাপারটা হয়ে ওঠে প্রহেলিকা।

 কিন্তু কবিতা তো প্রহেলিকা নয়।







  শুভ্র চট্টোপাধ্যায়

Shuvro Chattopadhyay

(ছবিটি ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি কোথাও তোলা তাই এমন উঠেছে)