Anindita Bhowmick

প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে…

(১)
বৃষ্টি নামছে খুব 
জলের থই থই সমস্ত অভিমান জুড়ে
নির্বাক শুধুই বকুল ঝরার আয়োজন
তুমিও কি ভালোলাগা ছিলে নিজস্ব শহরে
অথবা কিছুটা সময় সিক্ত লিখেছ
মাটিকে দিয়েছ গাঢ়তম শস্যের মেঘ
বৃষ্টি তো একা নতুন পায়ের ছাপ
যেটুকু রেখেছ স্নানের বিকেল হয়ে
চোখ যা নিবিড় জড়ায়
যেরকম ভুল হয় অবাধ্য ডাক
তার কাছে ফেরো
কপালে ছুঁয়ে থাকো   
ওই অঝোর তো আর কয়েকটা দিন
তোমার কাছে এই নিবেদন উদাস করে রাখো



(২)  

আর ঠিক এইখানে
কাঠের এই ভাঙা সেতুর কাছে
আমাদের বেলা বাড়ছে

টলটল করছে ওইটুকু হাতধরা
যেভাবে গুটিয়ে রাখা স্পর্শ
পাখনার থেকে দূরে দূরে কোথাও
এখনও গোধূলির কথা বলে

আমি এই হারিয়ে যাওয়ার গল্পে
পাড়ায় পাড়ায় ঢুকি
মাঙ্গলিক জল বিছিয়ে দিই উঠোনে

স্নানের ভেতর জড়াও
ছুঁয়েই থাকোতীব্র

একবার তোমাকে আমার নামে ডাকি



(৩)

আবহাওয়া ছিটিয়ে দিচ্ছি তোমাকে
তোমাকে খুলে দিচ্ছি ছায়ার উথাল
আর এই আমাদের কলমি শাকের দুপুর
পায়ের পাতায় শস্য বেজে ওঠা

নেমে আসছি কতদিন স্নানভেজা চোখে
আঙুলের ফাঁকে রাখছি বিতর্কিত হাত

ফেরো গো সম্পর্ক এবার ভুল ঠিকানায় এসো

যে আকাশ ওড়াউড়ি
ও জীবন তো কয়েক মিনিট!

আমাদের দেরি হয়ে যায়

শুধু দেরি হয়ে যায়... অনন্তকাল



সংলাপ
আবহাওয়া গড়িয়ে যাচ্ছে সংলাপের দিকে

সহজ আলোয় চোখ রাখাই যখন
অনায়াস হয়ে উঠছে
তুমি বই আর জন্মান্তরের ফাঁকা জায়গায়
নির্বিকার লিখে যাচ্ছ
আলো-ছায়া অক্ষর

পরিধি বরাবর বিচ্যুতি

ভারসাম্যের দিকে ঝুঁকে আসছে নিঝুম/

চোখের পাতায় মানিয়ে নেওয়া
এই নিরিবিলি
বাতিল না-হওয়া সোহাগ




মাঙ্গলিক   
এখানে নেমে আসছি ধানফুলের কাছে
আর তুমি মেঘলা ফেলে দিচ্ছ
পুরনো হয়ে উঠছ
চাবাগানের ভেতর অনেকটা জুড়ে

প্রতিটা মুলতুবীর গায়ে
চিহ্ন ঝুলছে না
হাঁটছি শুধু
বিষন্ন একটা দরজার নামে

ঠান্ডা আয়ুরেখা ছুঁয়ে
তোমাকে ভালবাসছি গো ভাতের ফুল

নুন-লংকা সাজিয়ে দিচ্ছি
পূর্বজন্ম মেখে
ছিটে-ফোঁটা মা গন্ধের পাতে




 নববিবাহিত
কেউ ক্ষমা হচ্ছে না
বাৎসরিক শুধু দু -চারটে ডাকঘর

ওপারে শিকড় নেমে এলে       
সারারাত মেঘলা জমিয়ে রাখছ
দস্তানা থেকে মুছে যাচ্ছেআঙুল

কিভাবে বেছে নেবে দূরপাল্লা?
বুকপকেটে যখন আটকে থাকছে ঘুড়ি
আর জলের দিকে
ঝলসে উঠছি না...কিছুতেই









   অনিন্দিতা ভৌমিক

Anindita Bhowmick